Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Wednesday, February 27, 2013

Text books will be written following the indigenous peoples own culture: Nahid

Ragini Mali,February 26, 2013, 8:44 pm


 

Education minister Nurul Islam Nahid on Tuesday said at the directives of the National Curriculum and Text Book Board (NCTB), the text books will be written following the indigenous peoples own culture and customs.
He said during the session  2014, books for the  pre-primary level students   will be published in Chakma, Sadri, Marma, Kakborak and Mandi, allowing the ethnic children  study in their own language.
He  was addressing a two- day long exchange meeting on "Analysis about the situation of the primary education based on mother language in the government and non government institutions and fixing up what to do," jointly organised by NCIP, MLE Forum, Campaign for Popular Education, Caritas and Research and Development Centre (RDC) at the Centre on Integrated Rural Development for Asia and Pacific (CIRDAP) auditorium.  
About the delay on using the Santal language, he said, it was due to   controversy on  the letters of the Santal language, the publication of books in Santal language was put on hold.
There is a controversy whether the books in Santal language should use the Roman or Bangla scripts.
Nurul Islam Nahid further said, "if children are not given their medium of study in mother tongue, we would not be able to reduce the number of school  drop outs." 
Emphasising on the importance of global education, the minister also said,  to face the challenges of twenty first century, the children be must prepared right now to compete themselves globally.


Share:

আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা দান

গৌরব জি. পাথাং
ফেব্রুয়ারি হলো ভাষার মাস। বাঙালী একমাত্র জাতি, যে জাতি ভাষার জন্য লড়াই করেছে এবং জীবন উৎসর্গ করেছে। তাই সেই সংগ্রামকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ইউনেস্কো ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ নবেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় । এই দিনটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের এবং আনন্দের দিন। কারণ বাংলাদেশে প্রায় ৪৫টির অধিক ভাষা আছে। সেসব ভাষায় মানুষ কথা বলে। এ ভাষাগুলো বাংলাদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তবে হতাশার কথা হলো, অদ্যাবধি এই ভাষাগুলো জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় পাঠ্যপুস্তকে স্থান পায়নি। এ ভাষাগুলো ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর শিশু শিক্ষার বাহন হয়ে ওঠেনি। স্বাধীনতা আন্দোলন এবং ভাষা আন্দোলনের এতদিন পরেও তাদের ভাষাগুলো শিক্ষার বাহন এবং তাদের কৃষ্টি সংস্কতিগুলো শিক্ষার উপকরণ হয়ে ওঠেনি। তাই মাতৃভাষার শিশু শিক্ষা দানের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। মাতৃভাষা হলো শিশু শিক্ষার প্রধান বাহন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রারম্ভেই শিশুকে রাষ্টীয় ভাষার পাশাপাশি মাতৃভাষায় কথা বলতে, লিখতে ও বুঝতে সক্ষম করা তোলা হয়। মাতৃভাষা ব্যতীত কোন শিশুই শিক্ষার প্রকৃত রস আস্বাদন করতে পারে না। মাতৃভাষাকে সেই জন্য মাতৃস্তনের সঙ্গে তুলনা করা হয়। মাতৃস্তন ব্যতীত যেমন একটি শিশু পরিপূর্ণ পুষ্টি ও সুষম বৃদ্ধি লাভ করে না, তেমনি মাতৃভাষা ব্যতীত কোন শিশু শিক্ষার প্রকৃত রস পায় না। তাই অনেকে অকালেই ঝরে যায়। মাতৃভাষায় শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় শহর, গ্রাম ও দুর্গম এলাকার শিশুরা অনেক সমস্যার মধ্যে পড়ে। তার মধ্যে দুটি সমস্যা উল্লেখযোগ্য।
প্রথম সমস্যা হলো নিজের মাতৃভাষা বা জাতিগত ভাষা ভুলে যাওয়া। কিছু কিছু এলাকার শিশুরা নিজের মাতৃভাষাই ভুলে যাচ্ছে। এই শিশুরা হলো যারা অন্য জাতি-গোষ্ঠীর লোকের সঙ্গে বেশি চলাফেরা করে, যারা শহরে থেকে লেখাপড়া করে; যাদের বাবা-মা চাকরি করতে গিয়ে শহরে থাকে। যারা শিশুদের সঙ্গে মাতৃভাষায় কথা বলে না এবং শিশুদেরকেও উৎসাহ দেয় না। আজ আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে কোন দ্বিধা নেই। আমি যখন টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানার কয়েকটি গ্রাম ঘুরেছি এবং ময়মনসিংহের কয়েকটি গ্রামে থেকেছি, তখন সেই করুণ পরিস্থিতি উপলব্ধি করেছি। মধুপুরের জলছত্র, পিরোজপুর, জাঙ্গালিয়া, মাগন্তীনগর, চাপাইদ এবং ময়মনসিংহের ঢাকুয়া, হুগলা এসব গ্রামের গারো উপজাতির ছোট শিশুরা নিজেদের মধ্যেও মাতৃভাষায় কথা বলে না। আমি দেখেছি মাতৃভাষায় তাদের কি দৈন্য! গ্রামে গিয়ে গারো ভাষায় যখন প্রশ্ন করতাম নাংনি বিমুং মো? নাম্মে দং-ঙা? (তোমার নাম কি? ভাল আছ?) তখন তারা কিছুই বলত না। আর আমি যদি বাংলায় প্রশ্ন করতাম তবে উত্তর পেতাম। সেই অবস্থা শুধু গ্রামে নয়, শহরেও বিদ্যমান। মা-বাবার উচ্চাকাক্সক্ষার কারণে শিশুরা মাতৃভাষা চর্চা করার সুযোগ পায় না। বাবা-মা চান শিশুরা শুধু যেন বাংলা কিংবা ইংরেজি শেখে। তারা তাতে গর্ববোধ করেন। তাই শিশুরা মাতৃভাষার রস আস্বাদন করতে পারে না।
দ্বিতীয় সমস্যা হলো সিলেট, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় শিশুরা বাংলা ভাষা জানে না। তাতে স্কুলে গেলে তারা স্বাভাবিক হতে পারে না। স্কুলের পরিবেশ তাদের কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়। তারা হয়ে যায় ডাঙায় তোলা মাছের মতো। শিশুরা ঘরে যে ভাষা পায়, স্কুলে সে ভাষা পায় না। তাই তাদের নিকট বাংলা ভাষায় শিক্ষাগ্রহণ করা কঠিন হয়ে যায়। মৌলভীবাজার জেলার কয়েকটি খাসিয়া পুঞ্জিতে গিয়ে সেই অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। খাসিয়াদের আবাস্থল সাধারণত লোকালয় থেকে অনেক দূরে দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় হয়ে থাকে। পান চাষের সুবিধার জন্যই তাদের এত দূরে গিয়ে বসবাস করতে হয়। লোকালয় থেকে অনেক দূরে বলে তারা অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীর সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ পায় না। সে জন্য তারা বাংলা ভাষায় এতটা পারদর্শী নয়। এই পরিবেশে একজন খাসিয়া শিশু কিভাবে মাতৃভাষা ব্যতীত অন্য ভাষায় শিক্ষা লাভ করবে? কিভাবে শিক্ষার রস আস্বাদন করবে? তাই সেখানে প্রয়োজন বাংলা ভাষার পাশাপাশি মাতৃভাষার শিক্ষা দান করা। তাতে শিশুরা আরও বেশি জ্ঞানার্জন করতে পারবে। সে কারণেই হয়তো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “আগে চাই মাতৃভাষার গাঁথুনি...”।
আমাদের দেশে আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাতৃভাষার শিশুশিক্ষার জন্য নির্দিষ্ট পাঠ্যপুস্তক নেই, পাঠ্যক্রম নেই, তাদের শিক্ষার উপকরণ ও বিষয়াদি তাদের জীবন থেকে আলাদা। আদিবাসী শিশুশিক্ষার উপকরণের সঙ্গে শিশুর বাস্তবতার সামঞ্জস্য না থাকার কারণে শিক্ষার বিষয়বস্তু তাদের নিকট সহজবোধ্য হয় না। উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, একজন বাঙালীর শিশু বাউল ও একতারার বর্ণনা যত সহজে দিতে পারবে একজন আদিবাসী শিশু তা সহজে পারবে না। তার চেয়ে একজন গারো শিশুর কাছে তার কৃষ্টি সংস্কৃতির রাং, দামা, দকমান্দার বর্ণনা দেয়া অনেক সহজ।
বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থা যেমন ইউনেস্কো, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা প্রভৃতি মাতৃভাষার খুবই জোর দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার অনুচ্ছেদ ২৩ এর ১ ও ২-এ বলা হয়েছে যে, “সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর শিশুদেরকে তাদের মাতৃভাষায় পড়া ও লেখার জন্য শিক্ষাদান করতে হবে কিংবা যেখানে এটা সম্ভব নয়, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ভাষাতেই সে শিক্ষা দিতে প্রদান করতে হবে।” আরও লেখা আছে যে, “মাতৃভাষা বা স্থানীয় ভাষা থেকে জাতীয় ভাষা কিংবা দেশের অফিসিয়াল ভাষার ক্রমান্বয়ে উত্তরণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।” কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “কোন শিক্ষাকে স্থায়ী করিতে হইলে, ব্যাপক করিত হইলে তাহাকে চিরপরিচিত মাতৃভাষায় বিগলিত করিয়া দিতে হয়।” আমরা মাতৃভাষা ব্যতীত অনেক কিছুই লাভ করতে পারি, কিন্তু সে লাভ ভাষাকে পূর্ণতা দেবে না। আমরা চিন্তা করতে পারি, কিন্তু সে চিন্তার বাইরে আমাদের ভাষা পড়ে থাকবে। তাই একজন বাঙালীকে তার বাংলা ভাষা, একজন গারোকে তার আচিক ভাষা, একজন চাকমাকে তার ককবরক কিংবা সাঁওতাল, উঁরাও, খাসিয়া, ত্রিপুরা তাদেরকেও তাদের নিজস্ব ভাষা শিখতে দেয়া উচিত।
আমরা যারা আদিবাসী আমাদেরও মাতৃভাষা শিক্ষা, অনুশীলনী ও সমৃদ্ধির জন্য নিজেদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। মাতৃভাষা উৎকর্ষের জন্য নিজেদের মধ্যেই ভাষাবিদ ও গবেষক হতে হবে, ভাষার সমৃদ্ধির জন্য একাডেমী বই, অভিধান ইত্যাদি প্রস্তুত করা দরকার। সে জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবারের পিতা-মাতা ও পরিবারের মধ্যে শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। পরিবারে মাতৃভাষায় কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তবেই মাতৃভাষা সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।
সবশেষে ডা. লুৎফর রহমানের কথা দিয়ে লেখা সমাপ্ত করতে চাই। তিনি বলেছেন, “শিশু বয়স হইতে কত সুখ ও দুঃখের কথা, কত স্নেহ মায়ার প্রকাশ, কত প্রার্থনা, কত পরিচিত প্রাণ, কত হাসি, কত হারানো কণ্ঠস্বর সে ভাষার সহিত জড়াইয়া আছে, তাহা কি ভোলা যায়? তাহা ভুলিলে আমার যে আর কিছুই থাকে না। আমি ভিখারি হইতে পারি, দুঃখ আশ্রয়ে কঠিনভারে চূর্ণ হইতে আপত্তি নাই। আমি মাতৃহারা অনাথ বালক হইতে পারিব কিন্তু আমার শেষ সম্বল মাতৃভাষাকে ত্যাগ করিতে পারি না। আমার ভাষা চুরি করিয়া আমার সর্বস্ব হরণ করিও না।” তার এই কথা যেন আজ আমাদের প্রাণের কথা। আমরা যে ভাষায় কথা বলি, যে ভাষায় সুখ-দুঃখ প্রকাশ করি, গান করি, নাচ করি সে ভাষায় কেন লেখাপড়া করতে পারব না? তাই আজ তার মতো আমরাও বলতে চাই, আমাদেরকে আমাদের মাতৃভাষা থেকে বঞ্চিত করবেন না। আমাদের মাতৃভাষা হরণ করবেন না।
Source: http://oldsite.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=13&dd=2013-02-26&ni=126862
Share:

Tuesday, February 26, 2013

বাংলা ভাষা

বাংলা দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বপ্রান্তের একটি ইন্দো-আর্য ভাষাসংস্কৃত, পালিপ্রাকৃত ভাষার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে।
বাংলা দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বে অবস্থিত বঙ্গ বা বাংলা নামক অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষা। এ অঞ্চলটি বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে গঠিত। এছাড়াও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও বাংলা ভাষাতে কথা বলে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের মাতৃভাষা বাংলা বিশ্বের বহুল প্রচলিত ভাষাগুলোর মধ্যে একটি (ভাষাভাষীর সংখ্যানুসারে এর অবস্থান চতুর্থ থেকে সপ্তমের মধ্যে [২])। বাংলা বাংলাদেশের প্রধান ভাষা; ভারতে বাংলা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কথিত ভাষা [৩][৪]অসমীয়া ও বাংলা ভৌগলিকভাবে সবচেয়ে পূর্বে অবস্থিত ইন্দো-ইরানীয় ভাষা


ইতিহাস

খ্রিস্টীয় প্রথম সহস্রাদের শেষ প্রান্তে এসে মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষাগুলোর বিভিন্ন অপভ্রংশ থেকে যে আধুনিক ভারতীয় ভাষাগুলোর উদ্ভব ঘটে, তাদের মধ্যে বাংলা একটি [৫]। কোন কোন ভাষাবিদ তারও অনেক আগে, ৫০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে, বাংলার জন্ম হয় বলে মত পোষণ করেন। [৬] তবে এ ভাষাটি তখন পর্যন্ত কোন সুস্থির রূপ ধারণ করেনি; সে সময় এর বিভিন্ন লিখিত ও ঔপভাষিক রূপ পাশাপাশি বিদ্যমান ছিল। যেমন, ধারণা করা হয় ৬ষ্ঠ শতাব্দীর দিকে মাগধি অপভ্রংশ থেকে মাগধি অবহট্‌ঠের উদ্ভব ঘটে। এই অবহট্‌ঠ ও বাংলা কিছু সময় ধরে সহাবস্থান করছিল। [৭]
বাংলা ভাষার ইতিহাসকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়:[৫]
  1. প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০ খ্রিস্টাব্দ – ১৪০০ খ্রিস্টাব্দ) — লিখিত নিদর্শনের মধ্যে আছে চর্যাপদ, ভক্তিমূলক গান; আমি, তুমি, ইত্যাদি সর্বনামের আবির্ভাব; ক্রিয়াবিভক্তি -ইলা, -ইবা, ইত্যাদি। ওড়িয়াঅসমীয়া এই পর্বে বাংলা থেকে আলাদা হয়ে যায়।
  2. মধ্য বাংলা (১৪০০–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ) — এ সময়কার গুরুত্বপূর্ণ লিখিত নিদর্শন চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন; শব্দের শেষে “অ” ধ্বনির বিলোপ; যৌগিক ক্রিয়ার প্রচলন; ফার্সি প্রভাব। কোন কোন ভাষাবিদ এই যুগকে আদি ও অন্ত্য এই দুই ভাগে ভাগ করেন।
  3. আধুনিক বাংলা (১৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে) — ক্রিয়া ও সর্বনামের সংক্ষেপন (যেমন তাহারতার; করিয়াছিলকরেছিল)।
বাংলা ভাষা ঐতিহাসিকভাবে পালির সাথে বেশি সম্পর্কিত হলেও মধ্য বাংলায় (চৈতন্য যুগে) ও বাংলা সাহিত্যের আধুনিক রনেসঁসের সময় বাংলার ওপর সংস্কৃত ভাষার প্রভাব বৃদ্ধি পায়। দক্ষিণ এশিয়ার আধুনিক ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগুলোর মধ্যে বাংলা ও মারাঠির শব্দভাণ্ডারে প্রচুর সংস্কৃত শব্দ রয়েছে; অন্যদিকে হিন্দি ও অন্যান্য ভাষাগুলো আরবি ও ফার্সি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।
বাংলা ভাষা রক্ষার জন্য আন্দোলনকারীদের স্মরণে নির্মিত ঢাকা-র শহীদ মিনার
১৮শ শতকের পূর্বে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পর্তুগিজ মিশনারি পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ Vocabolario em idioma Bengalla, e Portuguez dividido em duas partes নামে বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান ও ব্যাকরণ রচনা করেন; ১৭৩৪ থেকে ১৭৪২ সাল পর্যন্ত ভাওয়ালে কর্মরত অবস্থায় তিনি এটি লিখেছিলেন। [৮] ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হালহেড নামের এক ইংরেজ প্রাচ্যবিদ বাংলার একটি আধুনিক ব্যাকরণ লেখেন, (A Grammar of the Bengal Language (১৭৭৮)) যেটি ছাপাখানার হরফ (type) ব্যবহার করে প্রকাশিত সর্বপ্রথম বাংলা গ্রন্থ। [১] বাঙালিদের মধ্যে রাজা রামমোহন রায় ছিলেন প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা; তাঁর গ্রন্থের নাম "Grammar of the Bengali Language" (১৮৩২)। এ সময়ে ক্রমশ সাধুভাষা থেকে সহজতর চলিতভাষার প্রচলন বাড়তে থাকে।.[৯]
১৯৫১–৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (এখনকার বাংলাদেশে) সংঘটিত "ভাষা আন্দোলনের" ভিত্তি ছিল বাংলা ভাষা। [১০] পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাংলাভাষী হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র উর্দু ভাষাকেই সাংবিধানিক ভাবে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এর প্রতিবাদে শুরু হয় ভাষা আন্দোলন।

ভৌগোলিক বিস্তার

মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার ভৌগোলিক বিস্তার
বাংলা দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বভাগের বঙ্গ বা বাংলা নামের অঞ্চলের লোকদের মাতৃভাষা। এ অঞ্চলটি বর্তমানে ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের সমন্বয়ে গঠিত। বাংলাদেশের প্রায় ৯৮% মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। [১১] এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও পাশ্চাত্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাভাষী বাস করেন।

সরকারি মর্যাদা

বাংলা দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্র বাংলাদেশের একমাত্র স্বীকৃত রাষ্ট্রভাষা। এছাড়াও ভারতীয় সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ২৩টি সরকারি ভাষার মধ্যে বাংলা অন্যতম।[৩] ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরা রাজ্যের সরকারি ভাষা হল বাংলা[১২] এবং আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকার তিন জেলা কাছাড়, করিমগঞ্জহাইলাকান্দিতে স্বীকৃত সরকারি ভাষা হল বাংলা।[১৩] এছাড়াও বাংলা ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম প্রধান স্বীকৃত ভাষা।[১৪][১৫]

ধ্বনিব্যবস্থা

মূল নিবন্ধ: বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব

নমুনা


বাংলা ইউনিকোড

বাংলা ইউনিকোড U+0980 থেকে U+09FF পর্যন্ত আছে...
বাংলা
Unicode.org chart (PDF)
 0123456789ABCDEF
U+098x    
U+099x  
U+09Ax 
U+09Bx      ি
U+09Cx     
U+09Dx            
U+09Ex  
U+09Fx  

উৎস:http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE_%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE
Share:

বাংলা লিপি

বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপি পরিবারের অন্তর্গত একটি আবুগিদা লিপি৷ বাংলা লিপি বাংলা, অসমীয়া, মণিপুরিসিলেটি ভাষায় ব্যবহৃত হয়৷ দেবনাগরী লিপির সাথে বাংলা লিপির অনেক মিল রয়েছে, তবে বাংলা লিপির গঠন তুলনামূলকভাবে কম আয়তাকার ও বেশী সর্পিল৷ বাংলা লিপি দেবনাগরী লিপির পূর্বসূরী নাগরী লিপি থেকে উদ্ভূত হয়েছে বলে মনে করা হয়৷ ১৭৭৮ সালে অক্ষরস্থাপক চার্ল্‌স্ উইলকিন্‌স্ লিপিটির আধুনিক রূপ সর্বপ্রথম নিয়মাবদ্ধ করেন৷ অসমীয়া ও অন্যান্য ভাষায় বাংলা লিপির যে সংস্করণগুলো ব্যবহৃত হয়, সেগুলোতে কিছু ছোটখাটো পার্থক্য রয়েছে৷ যেমন: (বাংলা র; অসমীয়া ৰ) এবং (অসমীয়া ৱ; কোন বাংলা প্রতিলিপি নেই)৷


বাংলা চিহ্ন

] স্বরবর্ণ

বাংলা লিপিতে বর্তমানে ১১টি স্বরবর্ণ আছে যা ৭টি প্রধান স্বর উচ্চারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
মূলত প্রাকৃত থেকে বাংলা বর্ণমালার সৃষ্টি হয়েছে। এই বর্ণমালায় বর্তমানে মোট ৪৯ টি বর্ণ রয়েছে।

বাংলা ভাষার প্রথম বর্ণ।এটি নঞ্‌ অব্যয়ের রূপান্তর ঘটে ন=অ হয়েছে। বাংলা ভাষায় অব্যয় এবং উপসর্গ এই দুটি রূপে ব্যবহৃত হয়।

অ এর ব্যবহার

চর্যাপদ এবং মধ্যযুগীয় কিছু রচনায় এর ভিন্ন রূপ লক্ষ্যনীয়। মধ্যবাংলায় পূর্ণতা অর্থে ব্যবহৃত হত। যেমন: অকুমারী= পূর্ণ কুমারী। তবে কালের প্রবাহমাত্রায় শব্দের শুরুতে বসে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে থাকে। বর্তমানে চলিত ভাষায় উপসর্গ শব্দের শুরুতে বসে-বিরোধ, অপ্রশস্ততা, অল্পতা, অভাব, অন্যত্ব এবং সাদৃশ্য এই ছয়টি অর্থ প্রকাশ করে থাকে।

মধ্যযুগীয় লিপিতে অ

অ এর চর্যপদীয় রূপ

স্বরবর্ণ
অক্ষরস্বরচিহ্ন [kɔ] (ক)ইংরেজিতে যেভাবে লেখা হয়IPA
(none)kô and kokɔ and ko
কাkaka
কিkiki
কীkiki
কুkuku
কূkuku
কৃkrikri
কেkê and kekæ and ke
কৈkoikoj
কোkoko
কৌkoukow

Modifiers

Other modifier symbols
চিহ্ন [kɔ] (ক) এর সাথেনামকাজইংরেজি অক্ষরেIPA
ক্হসন্তঅ-স্বর উচ্চারিত হয় না-[k]
কৎখণ্ড তত্‌ এর আরেকটি রূপt[kɔt]
কংঅনুস্বরঙ এর আরেকটি রূপņ[kɔŋ]
কঃবিসর্গহ্‌ এর আরেকটি রূপ :[kɔh] / [kɔ]
কঁচন্দ্রবিন্দুসানুনাসিক স্বরñ[kɲ]

অন্যান্য ইন্ডিক ভাষার হসন্ত, অনুঃস্বর, বিসর্গ, চন্দ্রবিন্দু এর সাথে তুলনীয়।

ব্যঞ্জনবর্ণ

ব্যঞ্জনবর্ণ
অক্ষরইংরেজিতে নামইংরেজিতে যেভাবে লেখা হয়IPA
BengaliScriptKo.svgkk
khôkhkh
gg
ghôghgɦ
ungô, umôņŋ
chôch
chhôchhh
borgio jô
(burgijjô)
j
jhôjhɦ
ingô, niônɲ
ţôţʈ
ţhôţhʈh
đôđɖ
đhôđhɖɦ
murdhonno nô
(moddhennô)
nn
t
thôthh
d
dhôdhɦ
donto nô
(dontennô)
nn
pp
phôphph
bb
bhôbhbɦ
mm
ôntostho jô
(ontostejô)
j
bôe shunno rôrɾ
ll
talobbo shô
(taleboshshô)
sh and sʃ/s
murdhonno shôshʃ
donto shô
(donteshshô)
sh and sʃ/s
hh
য়ôntostho ô
(ontosteô)
e and -e/-
ড়đôe shunno ŗôŗɽ
ঢ়đhôe shunno ŗôŗhɽ

সংখ্যা

সংখ্যা
ইংরেজি সংখ্যা0123456789
বাংলা সংখ্যা
বাংলা নামshunnoêkduitincharpañchchhôeshatnôe
শূন্যএকদুইতিনচারপাঁচছয়সাতআটনয়
অসমীয়া নামxuinnoekduitinisaripassôyxatath

বাংলা সংযুক্তাক্ষর

বাংলা ভাষায় অনেক সময় কয়েকটি ব্যঞ্জনবর্ণ মিলে সংযুক্তাক্ষরের সৃষ্টি করে৷ নিচে কম্পিউটারে ইউনিকোড বাংলা ফন্টে লিখিত এমন কয়েকটি সংযুক্তাক্ষরের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে৷ এই তালিকাটি সম্ভবত অপেক্ষাকৃত জটিল অক্ষর type করার ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে৷
  • র + ‍্য + া + প + ি + ড - র‌্যাপিড (ইংরেজি থেকে আসা শব্দ)
  • স + ং + খ + ‍্য + া – সংখ্যা
  • ক + ্ + ষ + ত + ্ + র + ি + য় – ক্ষত্রিয়
  • ত + ৃ + ষ + ্ + ণ + া – তৃষ্ণা
  • আ + শ + ্ + চ + র + ্ + য – আশ্চর্য
  • ন + ি + ক + ু + ঞ + ্ + জ – নিকুঞ্জ
  • জ + ্ + ঞ + া + ন – জ্ঞান
  • ব + ি + দ + ‍্য + ু + ৎ – বিদ্যুৎ
  • ত + ী + ক + ্ + ষ + ্ + ণ - তীক্ষ্ণ
  • ব + ৃ + ষ + ্ + ট + ি - বৃষ্টি
  • চ + ন + ্ + দ + ্ + র + ক + া + ন + ্ + ত – চন্দ্রকান্ত
  • স + ঞ + ্ + চ + ি + ত – সঞ্চিত
  • স + ু + স + ্ + থ - সুস্থ
  • ব + ি + স + ্ + ম + ি + ত – বিস্মিত
  • স + ঞ + ্ + জ + য় – সঞ্জয়
  • উ + ত + ্ + থ + ্ + া + ন – উত্থান
  • উ + ত + ্ + ত + র + া – উত্তরা
  • স + ৌ + ম + ‍্য – সৌম্য
  • প + ্ + র + শ + ্ + ন + চ + ি + হ + ্ + ন – প্রশ্নচিহ্ন
  • অ + প + র + া + হ + ্ + ণ - অপরাহ্ণ
  • জ + ‍্য + ৈ + ষ + ্ + ঠ – জ্যৈষ্ঠ
  • আ + ম + ন + ্ + ত + ্ + র + ণ – আমন্ত্রণ
  • ভ + ্ + র + ূ + ক + ু + ট + ি – ভ্রূকুটি
  • প + দ + ্ + ধ + ত + ি – পদ্ধতি
  • স + ্ + ম + ৃ + ত + ি - স্মৃতি


ইউনিকোডে বাংলা লিপির অবস্থান U+0980 ... U+09FF পর্যন্ত।
  0123456789ABCDEF
980 
990 
9A0 
9B0 ি
9C0 
9D0 ড়ঢ়য়
9E0 
9F0 ৿
উৎস: http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE_%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE


Share:

বাংলা বর্ণমালার ইতিহাস

প্রাকৃতের বাতাবরণে সংস্কৃতভাষার গর্ভে বাংলাভাষার জন্ম। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলাভাষার, বিশেষত বাংলা গদ্যের বিকাশের ক্ষেত্রে প্রধান পুরুষ ও অগ্রণী ব্যক্তিত্ব। তিনিই প্রথম বাংলাভাষার পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ লিখেছেন, যা মূলত সংস্কৃত ব্যাকরণেরই প্রসারণ হলেও আজ অব্ধি বাংলাভাষার ব্যাকরণ এই আদলের মধ্যেই রয়েছে।
  • মদনমোহন তর্কালঙ্কারের শিশুশিক্ষা প্রথম ভাগের ১৬টি স্বরবর্ণ
  • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগের ১৬টি থেকে কমিয়ে ১২টি স্বরবর্ণ
  • মদনমোহন তর্কালঙ্কারের শিশুশিক্ষা প্রথম ভাগের ৩৪টি ব্যাঞ্জনবর্ণ ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগে নির্দেশিত ৪০টি ব্যাঞ্জনবর্ণ

বিদ্যাসাগরের বর্ণ পরিচয়

বাঙালির শিক্ষা-দীক্ষার পটভূমি বিচার করলেই বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয়ের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠবে। মুকুন্দরামের চন্ডীমঙ্গল কাব্যে বর্ণিত শ্রীমন্তের শিক্ষারম্ভ থেকে আমরা অন্তত ষোড়শ শতকের বাংলায় শিশুর শিক্ষার সূচনাপর্বের একটা চিত্র পেয়ে যাই। পাঁচ বছরের শিশুকে গুরুর পাঠশালায় হাতেখড়ি দেওয়া হতো এবং সেখানে এই শিশু শিক্ষার্থী গুরুর কাছে মুখে মুখে এবং হাতে লেখা পুথি থেকে ভাষা, নীতি এবং জমিজমা ও ব্যবসা সংক্রান্ত হিসাব- নিকাশ, বাক্য, শ্লোক ইত্যাদি পড়ত, মূলত মুখস্থ করত। মুদ্রণযন্ত্র স্থাপিত হওয়ার পর প্রথম একটি বাধা ছিল পাশ্চাত্যের যন্ত্রে মুদ্রিত গ্রন্থপাঠে জাত যাবে-এ রকম কুসংস্কার। অন্যদিকে দেখা যায়, রাধাকান্ত দেব রচিত বাঙ্গালা শিক্ষাগ্রন্থ (১৮২১) বইটিতে বর্ণমালা, ব্যাকরণ, ইতিহাস, ভূগোল, গণিত ইত্যাদি বিষয়ের সমাবেশ ঘটেছে ও বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৮! যে কারো ক্ষেত্রে-শিশু বা বৃদ্ধ-শিক্ষাজীবন শুরু করার জন্য এ রকম ঢাউস ও গুরুগম্ভীর বইকে উপযুক্ত ভাবার কোনো উপায় নেই।
বিদ্যাসাগরের আগে বর্ণমালা শেখার যেসব বই রচিত ও প্রকাশিত হয়েছিল তার অধিকাংশই বস্তুতপক্ষে শিশুর বাংলা প্রথম পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। শ্রীরামপুর মিশনের লিপিধারা (১৮১৫), জ্ঞানারুণোদয় (১৮২০), রামমোহন রায়ের গৌড়ীয় ব্যাকরণ (১৮৩৩), শিশুবোধক, বঙ্গবর্ণমালা (১৮৩৫), রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের শিশুসেবধি, বর্ণমালা (১৮৪০), কলিকাতা স্কুল বকু সোসাইটির বর্ণমালা প্রথম ভাগ (১৮৫৩), ও দ্বিতীয় ভাগ (১৮৫৪) এবং হ্যালহেডের এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজসহ (১৭৬৮) অন্যান্য বইয়ের মধ্যে বিদ্যাসাগরের পূর্ববর্তী বাংলাভাষা শিক্ষার প্রথম পাঠ হিসেবে সর্বাগ্রে নাম করতে হবে বিদ্যাসাগরেরই সুহৃদ পন্ডিত মদনমোহন তর্কালঙ্কারের শিশুশিক্ষা প্রথম ভাগ (১৮৪৯) বইটির। শিশুর প্রথম পাঠ হিসেবে এটি উল্লেখযোগ্য বই।
ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ায় বাংলা প্রাইমার লেখায় যে জোয়ার এসেছিল তার কারণ ঔপনিবেশিক ইংরেজ সরকার তাদেরই প্রয়োজনে একটি শিক্ষিত শ্রেণী গড়ে তুলতে চেয়েছিল। শাসনকাজের প্রয়োজনে শাসিত প্রজাদের মধ্যে যেমন ইংরেজি জানা একটা শ্রেণীর প্রয়োজন তেমনি শাসক ইংরেজ ও প্রজাকুলের এই শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যে স্থানীয় অর্থাৎ বাংলাভাষা চর্চারও প্রয়োজনীয়তা ছিল। বস্তুত ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞানার্জন ও তা চর্চার কোনো বিকল্প ছিল না। এ কাজে মাতৃভাষার চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছিল।
ওই সময় শিক্ষা বিস্তার, স্কুল প্রতিষ্ঠা, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও প্রকাশের জন্য অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। আমরা জানি শিক্ষা নিয়ে এ সময় অনেক কমিশনও গঠিত হয়, যারা জরিপ চালিয়ে প্রকৃত অবস্থা জেনে করণীয় নির্ধারণ করতে চেয়েছে। এসব প্রতিবেদনে শিক্ষা বিস্তারে অগ্রগতির অন্তরায় হিসেবে প্রায়ই পাঠ্যবইয়ের অভাবের কথা বলা হয়। ১৮৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন সংবাদ পূর্ণচন্দ্রোদয়-এর সম্পাদকীয়তে লেখা হয়
"গভর্নমেন্টের যে কয়টা পাঠশালা আছে তাহাতে বাংলাভাষা শিক্ষা দিবার শৃঙ্খলামাত্র নাই।---ভাষা শিক্ষার নিমিত্ত কেবল বর্ণমালা, নীতিকথা ইত্যাদি দুই-তিনখানি পুস্তক ভিন্ন অন্য পুস্তক পাঠ হয় না, তাহাতে ভাষার সম্যক জ্ঞান বৃদ্ধির কেমন সম্ভাবনা পাঠকবর্গ বুঝিতে পারিবেন।"
আবার বিভিন্ন সরকারি প্রতিবেদনে উপযুক্ত পাঠ্যবইয়ের অভাবে স্কুলে ছাত্রসংখ্যা কমে যাওয়ার কথাও উল্লিখিত হতে দেখা যায়। সব মিলিয়ে ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে একটা ভালো বাংলা প্রাইমারের চাহিদা তৈরি হয়। ঠিক এই সময় বিদ্যাসাগর বর্ণপরিচয় রচনা ও প্রকাশ করেন।
শিশুদের জন্য বর্ণপরিচয় রচনার গোড়ায়ই এসে পড়ে বর্ণমালার কথা। আমরা জানি ব্রাহ্মীলিপি থেকেই বিবর্তিত হয়ে বাংলা বর্ণমালার উদ্ভব হয়েছে। এ বিবর্তন প্রক্রিয়া চলেছে তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে। তবে বলা যেতে পারে, বিদ্যাসাগরের হাতেই বাংলা বর্ণমালার যথাযথ উন্নতি হয়েছে, যে মৌলিক উন্নয়নের পর পরবর্তী সার্ধশতবছরে মাত্র কিছু সংস্কারমূলক কাজ হয়েছে। তাঁকে প্রথমত বর্ণমালার প্রকৃতি ও সংখ্যা নির্ধারণ করতে হয়েছে। ১৭৬৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হ্যালহেডের বইয়ে স্বরবর্ণের সংখ্যা ছিল ১৬। পরবর্তী প্রায় ১০০ বছর মদনমোহনের শিশুশিক্ষা প্রথম ভাগ (প্রকাশকাল ১৮৪৯) পর্যন্ত স্বরবর্ণের সংখ্যা ১৬টিই ছিল। এগুলো হলো অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, ঋৃ, ৯, ৯৯, এ, ঐ, ও, ঔ, অ০, অঃ। বিদ্যাসাগর এই সংখ্যা কমিয়ে ১২তে নামালেন। তিনি ভূমিকায় লিখলেন
"বহূকালাবধি বর্ণমালা ষোল স্বর ও চৌত্রিশ ব্যঞ্জন এই পঞ্চাশ অক্ষরে পরিগণিত ছিল। কিন্তু বাঙ্গালা ভাষায় দীর্ঘ ঋৃ-কার ও দীর্ঘ ৯৯ কারের প্রয়োজন নাই। এই নিমিত্ত ঐ দুই বর্ণ পরিত্যক্ত হইয়াছে। আর সবিশেষ অনুধাবন করিয়া দেখিলে অনুস্বার ও বিসর্গ স্বরবর্ণ মধ্যে পরিগণিত হইতে পারে না। এই নিমিত্ত ঐ দুই বর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ মধ্যে পঠিত হইয়াছে।"
বিদ্যাসাগরের এই মৌলিক সংস্কারের ১২৫ বছর পর স্বরবর্ণে মাত্র আর একটি সংস্কার ঘটেছে, তাহলো ৯ বর্ণটি বাদ দেওয়া। এখন স্বরবর্ণ ১১টি। ব্যঞ্জনবর্ণ ছিল ৩৪টি। বিদ্যাসাগর তাতে নতুনভাবে ছয়টি বর্ণ যুক্ত করেন। আগেই বলেছি, অনুস্বার ও বিসর্গকে স্বরবর্ণ থেকে তিনি ব্যঞ্জনবর্ণে নিয়ে এসেছিলেন। তা ছাড়া বিদ্যাসাগর দেখলেন, ‘বাঙ্গালা ভাষায় একারের ত, ত্ এই দ্বিবিধ কলেবর প্রচলিত আছে।’ তাই এটিকেও ব্যঞ্জনবর্ণে যুক্ত করেছেন। আর ক্ষ যেহেতু ক ও ষ মিলে হয়
"সুতরাং উহা সংযুক্তবর্ণ, এ জন্য অসংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ গণনাস্থলে পরিত্যক্ত হইয়াছে।" এভাবে তাঁর হাতে ব্যঞ্জনবর্ণ হলো ৪০টি।
আজকের দিনে বর্ণক্রমিক ভাষাশিক্ষার পরিবর্তে বাক্যক্রমিক পদ্ধতি চালু হয়েছে। শিশুর ভাষা শেখার যে স্বাভাবিক পদ্ধতি তার ওপর ভিত্তি করেই দেশে-বিদেশে এ পদ্ধতি গৃহীত হয়েছে। শতাধিক বছরব্যাপী শিশুর প্রথম পাঠ হিসেবে এ বইটি প্রায় একচ্ছত্র প্রাধান্য বজায় রেখেছে। এর পাশাপাশি মদনমোহন তর্কালঙ্কারের শিশুশিক্ষা প্রথম ভাগ এবং আরো পরে রামসুন্দর বসাকের বাল্যশিক্ষা বাঙালি বাড়িতে শিশুদের প্রথম পাঠের বই হিসেবে বহূকাল প্রচলিত ছিল। বলা যায় ভাষাশিক্ষার নতুন কালে প্রবেশ করে আমরা বর্ণপরিচয়ের কালকে পেছনে ফেলে এসেছি।
আধুনিক বাঙালি মানসের অগ্রদূত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হলো বর্ণপরিচয় রচনা-শিক্ষিত আধুনিক বাঙালি জাতি বিনির্মাণে এ বই তার প্রথম মানসপুষ্টির যোগান দিয়েছে।
উৎস:http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE_%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8
Share:
Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo