Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Sunday, December 27, 2015

আদিবাসী ভূমি আইন; আমলা ও বিশেষ পোশাকধারীদের বাধা বললেন রাশেদ খান মেনন

আচিক নিউজ ডেস্ক: আদিবাসীদের ভূমি আইন প্রণয়নের পথে আমলা ও বিশেষ পোশাকধারীদেরকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত কেরছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। গতকাল ২৩ অক্টোবর রাজধানীর নটরডেম কলেজ অডিটরিয়ামে গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত নবীন বরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তিনি গারো শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি জানি ভূমি আইনটি তোমাদের কাছে খুব স্পর্শকাতর বিষয়। আইনটি যে কতবার সংসদে উঠছে-নামছে এবং কতবার যাচাই-বাছাই করার জন্য পাঠানো হচ্ছে এর কোনো সীমা-পরিসীমা নাই।’ তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা নিজেরাই অবাক হয়ে যাই, যেখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত খোদ প্রধানমন্ত্রী নিচ্ছেন, খোদ মন্ত্রী নিচ্ছেন, খোদ নেতৃবৃন্দ দিচ্ছেন সেখানে কয়েকজন আমলা, কয়েকজন পোশাকধারী ব্যক্তি সমাধানের পথকে রুদ্ধ করে ফেলছেন।’
‘অধিকার আদায়ে বাধাবিঘ্ন পেরোতে হবে’ জানিয়ে রাশেদ খান মেনন গারো শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘অধিকার আদায় খুব সহজ পথে হবে তা ভাবলে হবে না। শান্তিপূর্ণভাবে, ঐক্যবদ্ধভাবে, বাঙালী-আদিবাসী এক হয়ে অধিকার আদায় করতে হবে।’
২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশেদ খান মেননকে আহ্বায়ক করে ১১ সংসদ সদস্যকে নিয়ে আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠন করা হয়েছিল। বিষয়টি উল্লেখ মন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে আদিবাসী ককাসের মাধ্যমে আমরা আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আনন্দের সংবাদ হচ্ছে, ইতোমধ্যে আদিবাসী অধিকার আইন পঠিত হয়েছে। শীঘ্রই বেসরকারি বিল হিসেবে এটি সংসদে যাবে। এটি সংসদে আলোচিত হলে ও গৃহীত হলে বড় পরিবর্তন আসবে।’ এর আগেও, ২০১৩ সালের ২২ জুলাই আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় ‘আদিবাসী অধিকার আইন’ বিল আকারে পরের সংসদীয় অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় সে প্রক্রিয়া থেমে গিয়েছিল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজীব মীর বলেন, ‘যে বৃহৎ বাঙালী জাতিগোষ্ঠীতে আমরা বসবাস করছি, সেখানে আমরা প্রতিনিয়তই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিকে এড়িয়ে যাই। কিন্তু এর বাইরে এসে তাদের প্রাপ্য অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে দ্রিঞ্জা চাম্বুগংকে সভাপতি, টনি চিরানকে সাধারণ সম্পাদক, বিবাল মানকিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে গারো স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর শাখার তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি দ্রিঞ্জা চাম্বুগং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

Source: http://www.achiknews24.com/%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%80-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%A0%E0%A6%A8/%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%80-%E0%A6%AD%E0%A7%82%E0%A6%AE%E0%A6%BF-%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A6%BF/
Share:

জীবন যুদ্ধে বিজয়ী আদিবাসী নারী পিরিনা

বাংলাদেশের যেসব জেলায় আদিবাসী জনগণের বসবাস বেশি এমনি একটি উত্তরের আদিবাসী অধ্যাসিত জেলা হলো দিনাজপুর। দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলাধীন ছোট একটি আদিবাসী গ্রাম ডারকামারীতে দারিদ্র সীমার মধ্যে বসবাস করত রাবণ মুর্মু ও লুগিনা সরেন।
এই দম্পতির ঘরে দুই সন্তানের পরে ২০/০৩/১৯৯৬ ইং তারিখে তৃতীয় সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করে পিরিনা মুর্মু। এরপর আরও দুইটি সন্তান পরপর জন্ম নেয় রাবণ-লুগিনার ঘরে। অভাব অনটন যাদের নিত্যদিনের সঙ্গী তাই কখনও অর্ধাহারে আবার কখনও অনাহারে দিনতিপাত করিতে থাকে পিরিনা মুর্মু। পিরিনা লেখাপড়া শুরু করে ব্র্যাক স্কুলে একই সাথে খালিপপুর মিশন স্কুলে ভর্তি হয় যাতে করে দুপুরে খাবার খেতে পারে।

প্রথম শ্রেনী থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করার জন্য বাড়িতে কোন বিদ্যুৎ ছিল না এবং কেরোসিন তেল কেনারও পয়সা ছিলনা তাদের। তাই বেশিরভাগ সময় দিনের আলোয় পড়াশোনা করতে হতো এবং মাঝে মাঝে কুপির আলোতে পড়াশোনা চালিয়ে যেত। পিরিনার ১০ বছর বয়সে তার বাবা মারা গেলে সংসারে আরও অভাব অনটন দেখা দেয়।
নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত অবস্থা এ জন্য সে মাঝে মাঝে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে আবাদি জমিতে কাজ করতে যেত, সেই সাথে কাজের জন্য পিরিনার এক ভাই এক বোন ৫ম শ্রেনীতে পড়ার সময় ঝড়ে পরে। কিন্তু পিরিনার লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় কোন ভাবেই যেন তাকে লেখাপড়া থেকে তাকে আলাদা করতে পারেনি।
এরই ধারাবাহিকতায় সে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সাফল্যের সাথে জিপিএ ৩.৮৫ পেয়ে কৃতকার্য হয়। এমন সময় বে-সরকারী সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ প্রকল্পের সংলাপ কেন্দ্র চালু হলে উক্ত সংলাপ কেন্দ্রে পিরিনা মুর্মু কিশোরী হিসেবে ভর্তি হয়। এই প্রকল্পে কিশোরীদের জীবনের স্বপ্ন প্রতিষ্ঠিত এবং তাদেরকে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ায় উদ্বুদ্ধ করত। এতে কাজ করে যেতে পিরিনা মুর্মু তার একটি বড় স্বপ্নের কথা বলে যে সে অনেক বড় পুলিশ অফিসার হবে।
এভাবেই চলতে থাকে পিরিনার জীবন। এরই এক পর্যায়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কিছু সংখ্যক নারী-পুরুষ নিয়োগ করা হবে এমন সংবাদ পেলে তার স্বপ্ন তাকে আরও তাড়িত করতে লাগে। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক পুলিশ লাইনে শারিরীক, লিখিত, মেডিকেল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সফলতার সাথে কৃতকার্য হয়ে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হয়। সাফল্যের সহিত ট্রেনিং শেষে সে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে যোগদান করে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার রেবেকা সুলতানা জানান- পিরিনাকে  গত ৯ডিসেম্বর পিরিনাকে আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদ্যাপনে “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” এর আওতায় শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্যে অর্জনকারী নারী হিসেবে ক্রেস্ট ও সম্মাননা গ্রহণ করেন তার মা লুগিনা সরেন।
Source: https://dinajpurnews.com/115107.html
Share:

সাঁওতালের জীবন-সংগ্রাম

নূসরাত খান, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)
পোষা শালিকটিকে একটি শিশু গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখছে। পরিপাটি মাটির ঘরের দাওয়ায় দু’জন আদিবাসী সাঁওতাল নারী অনেকগুলো ঝিনুক পরিষ্কার করছেন। একজন বৃদ্ধা, আর অপরজন মধ্যবয়স্কা। বললেন, ‘এটাই আমাদের রাতের খাবার। আগে বন-জঙ্গল ছিল, দু-চারটে  শিকার পাওয়া যেত। এখন তো আর সেদিন নেই! তবু এখনো নদী-বিলে কিছু ঝিনুক পাওয়া যায়।’
Santal a-1-01-newsnextbd
পার্বতীপুরের সাঁওতালরা প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করেন নানান ধরণের খাবার। ছবি: নূসরাত খান/নিউজনেক্সটবিডি ডটকম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরের কৃষিজীবী সান্তাল বা সাঁওতালরা এভাবেই এখন বংশপরম্পরায় প্রকৃতি থেকে সংগ্রহ করেন খাদ্য ও প্রটিনের পুষ্টি। প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে বেঁচে থাকার অভ্যাস সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর প্রাচীনতম ঐহিত্য।
এখনো তীর-ধনুকে শিকার মিশে আছে ব্রিটিশ রাজের সিংহাসন কাঁপানো সিঁধু-কানহুর উত্তরসুরীদের রক্তে। আলাপকালে তারা নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র এই প্রতিনিধিকে জানান, সাধারণত শীতের শুরুতে দু-তিন দিনের জন্য ছোট ছোট দলে সাঁওতালরা বের হন শিকারে।
‘এখন তেমন ঘন বন-জঙ্গল নেই। তবুও আশপাশের ঝোপঝাড়ে আমরা শিয়াল, বেজী, বনবিড়াল শিকার করি’, বললেন স্থানীয় বুকচি গ্রামের কৃষক ফিলিপ মুর্মু।
প্রকৃতি ও আদিবাসী গবেষক পাভেল পার্থ নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে জানিয়েছেন, প্রকৃতপূজার সাঁওতালি আদি ধর্ম ‘শারণা’ (সত্য)। এই ধর্মের রীতি অনুযায়ী সহস্র বছর ধরে পালিত হচ্ছে ‘সোহরাই’, ‘বাহা’ বা ‘কারাম’ পূজার মতো প্রাচীন উৎসব। কিন্তু মিশনারীদের সূত্রে এখন অধিকাংশই ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টান হওয়ায় সাঁওতাল জনপদে প্রকৃতিপূজার প্রাচীন অনুসঙ্গ ও উৎসব প্রায় সবই বাতিল হয়ে গেছে।
পার্বতীপুরের সাঁওতাল নারীরাও সমান কর্মদক্ষ। ছবি: নূসরাত খান/নিউজনেক্সটবিডি ডটকম
পার্বতীপুরের সাঁওতাল নারীরাও সমান কর্মদক্ষ। ছবি: নূসরাত খান/নিউজনেক্সটবিডি ডটকম
তিনি বলেন, ‘এখন বড়দিনকে ঘিরে চলে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বড় উৎসব ‘সোহরাই’। মাদলের বোলে চলে নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান। উৎসবে ভাতের সঙ্গে নানান পদের খাবার ছাড়াও ভাত থেকে বানানো পানীয় ‘হাড়িয়া’র থাকে প্রাচুর্য। এছাড়া মহুয়া ফুলের রস দিয়ে তৈরি পানীয় ব্যবহৃত হয় বিয়ের উৎসবে। পূজা কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে ঢাক-ঢোল বা শিঙ্গার বাজনা যেন এক অনবদ্য বিষয়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি এসব বাদ্যযন্ত্র।’
পাভেল পার্থ বলেন, ‘একসময়ের বনজীবী সাঁওতালরা এখনো বিয়ে বা পূজায় শালপাতার নানা অনুসঙ্গ ব্যবহার করেন। তাদের কাছে ঐক্য আর সংহতির প্রতীক শালগাছ। তবে এখন বন কমে যাওয়াতে বিভিন্ন উদযাপনে শালপাতার পরিবর্তে আমপাতা ব্যবহৃত হচ্ছে।’
আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে জানান, দিনের পর দিন ভূমি হারিয়ে নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর সাঁওতালরা জীবিকার তাড়নায়, জীবন বাঁচাতে পাড়ি জমাচ্ছেন ওপারে ভারতে।
Santal b-2-02-newsnextbd
পার্বতীপুরের সাঁওতাল নারীরাও সমান কর্মদক্ষ। ছবি: নূসরাত খান/নিউজনেক্সটবিডি ডটকম
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাঁওতালরা কখনোই দরিদ্র ছিল না। ভূমি দস্যুরা মিথ্যে মামলা দিয়ে, জাল দলিলপত্র করে, জবর-দখলের মাধ্যমে আদিবাসীদের জমি কেড়ে নিচ্ছে। জমির জন্য সাঁওতাল, ওঁরাও, মাহাতো, মুণ্ডাসহ উত্তরবঙ্গের আদিবাসীদের মামলা-হামলা ছাড়াও গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে, ধর্ষন করা হচ্ছে, খুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। ভূমিহীন হতে হতে অবস্থা এমন হয়েছে যে, এখন উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার কোনো না কোনো গ্রাম থেকে নিয়মিতভাবে আদিবাসী পরিবার দেশান্তরী হয়ে ভারতে চলে যাচ্ছেন। আদিবাসী এমন অনেক পরিবার আছেন, যারা জমি-জমা হারিয়ে এখন নিজের জমিতেই দিনমজুরি করছেন।’
সাঁওতাল কৃষকদের সঙ্গে আলাপকালেও মেলে এসব কথার সত্যতা। তারা জানান, সাঁওতালরা সরকারি নিয়মে জমি নিবন্ধন করেছেন বটে, কিন্তু বহুভাবেই তা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এরপরেও ভীষণ কষ্টে নিজেদের সংস্কৃতি যতটুকু সম্ভব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা।
জমির ওপর আদিবাসীর অধিকারের প্রশ্নে সাঁওতাল কৃষক ফিলিপ মুর্মু’র কণ্ঠে হতাশা ছড়ায়। তিনি বলেন, ‘আগাম নোটিশ ছাড়াই একদিন হঠাৎ করেই আমাদের জমি ‘খাস’ হয়ে যায়।  এরকম ঘটনা বহু আছে।’ তিনি জানান, তার ১৪ বিঘা জমি বনবিভাগের আওতায় চলে যাওয়ার পরও তিনি খাজনা দিয়ে যাচ্ছেন। মামলা হয়, মামলার রায়ও তার পক্ষে আসে, কিন্তু জমি আর হাতে আসেনা।
পার্বতীপুরের সাঁওতালরা এখনো ধরে রেখেছেন প্রাচীন ঐতিহ্য, নাচ-গান। ছবি: নূসরাত খান/নিউজনেক্সটবিডি ডটকম
পার্বতীপুরের সাঁওতালরা এখনো ধরে রেখেছেন প্রাচীন ঐতিহ্য, নাচ-গান। ছবি: নূসরাত খান/নিউজনেক্সটবিডি ডটকম
ফিলিপ জানান, কিছুদিন আগে পার্বতীপুরের আরেক গ্রাম চিরাকুঠায় সাঁওতালদের বাড়িঘর দখল করে তাদের গ্রাম থেকে বিতাড়িত পর্যন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া বছর দুয়েক আগে বুকচি গ্রামে এক প্রভাবশালী মহল জমি দখলের পায়তারা চালাতে চাইলে সাঁওতালরা তীর-ধনুক নিয়ে নিজেরাই তাদের প্রতিহত করেছেন। কিন্তু সংখ্যায় কম থাকলে সেসব এলাকায় সব সময় আর তা হয়ে ওঠে না।
নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/এনকে/বিআর
Source:http://bangla.newsnextbd.com/article206562.nnbd/#sthash.Sd61hA5s.gbpl&st_refDomain=www.facebook.com&st_refQuery=

Share:

ভূমিতে ১২৫ বছরের অধিকার হারাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ

মেহেদী আল আমিন | ২০১৫-১২-০৭ ইং
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশ নিয়ে চান্দপুর চা বাগান। ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন এ বাগানে জমির পরিমাণ ৩ হাজার ৯৫১ একর। এর মধ্যে চাষাবাদের জমি রয়েছে ৯৮৫ একর। এ জমি থেকেই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য ৫১২ একর অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে ওই জমির ওপর থেকে অধিকার হারাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রায় নয় হাজার মানুষ।

দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন চান্দপুর চা বাগানেও একটি অঞ্চল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ২৬ আগস্ট অকৃষি খাসজমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত মামলার মাধ্যমে চা বাগানটির ৫১১ দশমিক ৮৩ একর ভূমি বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের কাছে বন্দোবস্তের প্রস্তাব অনুমোদন করে ভূমি মন্ত্রণালয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর ১/১ খতিয়ানে রেকর্ড সংশোধনের পর গত ২১ নভেম্বর জমিটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য হস্তান্তর করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, হস্তান্তর করা ওই জমিজুড়ে ধানক্ষেত। কোথাও কোথাও ধান কাটা চলছে। ধান কাটা শেষ করে বিভিন্ন সবজির চারাও বুনছেন কেউ কেউ। এ জমিতে বছরে দুটি ফসল হয়।
এ জমিতেই ৩৬ শতকে ধানের আবাদ করেছেন চা বাগানের শ্রমিক যতীন্দ্র রাজবংশী। প্রতিষ্ঠার পর ১৮৯০ সাল থেকেই এ বাগানে বাস করে আসছেন যতীন্দ্রর পূর্বপূরুষরা। ১২৫ বছরের দখল তাই ছাড়তে চান না তিনি। যতীন্দ্র বলেন, ‘আমার দাদা ছিল, বাবা ছিল, আমিও আছি এ বাগানে। আমাদের জমি কে নিব। আমরা জমি দিতাম না।’
চা শ্রমিক বাবার চাষাবাদ করা জমি চার ভাইয়ের মধ্যে ভাগ হয়ে গেলে সাড়ে ১২ শতাংশ পেয়েছেন ভবতারণ রাজবংশী। তিনি বলেন, বাগানে যারা কাজ করে, তারা জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে। বাকিরা কী করবে। আমি নিজের জমিতে ধান চাষ করি। অন্য সময় অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। কিছুতেই আমরা আমাদের চাষের জমি দেব না।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বাগানে শ্রমিক রয়েছেন মোট ১ হাজার ৯৫৫ জন। এর মধ্যে স্থায়ী শ্রমিক ১ হাজার ৬৫৫ ও অস্থায়ী ৩০০। শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যসহ বাগানে বসবাসরত মানুষের সংখ্যা ৮ হাজার ৮৩৩। এর মধ্যে যারা বাগানে কাজ করেন, তারাই কেবল দৈনিক ৮৫ টাকা হারে মজুরি পান। বাকিদের যাদের কাজ নেই, তারা এ জমির ওপর নির্ভরশীল। বংশপরম্পরায় তারা এসব জমি চাষাবাদ করে আসছেন।
এ বাগানে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে রাজবংশী ছাড়াও রয়েছে সাঁওতাল, মাঝি, রবিদাশ, বুনার্জি, শীল, বাউরি, মাল, কড়া, কানো, পাত্র, ওরাওঁ, ভূমিজ, কালিন্দি প্রভৃতি।
এসব নৃ-গোষ্ঠীর মানুষজন এত দিন চা বাগানের জমিতে অবৈধভাবে চাষাবাদ করে আসছিল বলে মন্তব্য করেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘সরকারের জমি ফাঁকা পড়ে ছিল। তারা সেখানে অবৈধভাবে চাষাবাদ করেছে। তার পরও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’
শ্রমিকদের উচ্ছেদের আগে এর সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন বলে           জানান ডানকান ব্রাদার্সের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে            তিনি বলেন, আপত্তি জানিয়ে সরকারকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী জমি নিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে জমি নিলে যে মানুষগুলো কর্ম হারাবে, তার প্রভাব পড়বে এ বাগান ও আশপাশের বাগানের ওপর। বেকারত্বের কারণে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।
জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, দীর্ঘদিনের দাসত্বের জীবন থেকে চা শ্রমিকদের আমরা বের করে আনব। ক্ষতিপূরণ নয়, আমরা তাদের জীবনটাই বদলে দেয়ার চেষ্টা করছি। এখানে প্রতিটি পরিবারে চাকরির বাধ্যবাধকতা দিয়ে দেব। সেখানে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও ট্রেনিং সেন্টার হবে। শ্রমিকরা প্রশিক্ষণ নিয়ে ওখানেই কাজ করার সুযোগ পাবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজনের কাজের ব্যবস্থা করেছি। বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপকে বলেছি কাজ দেয়ার জন্য। অনেকে তাতে রাজিও হয়েছে।
তার পরও জমি রক্ষার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ শ্রমিক ইউনিয়ন, চা শ্রমিকদের ভূমি রক্ষা কমিটিসহ আরো কিছু সংগঠন। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন, জঙ্গল কেটে এ কৃষিজমি তৈরি করেছে আমাদের পূর্বপুরুষরা। তাই এ জমির ওপর অধিকার আমাদেরই। সে অধিকার কেড়ে নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে তা হবে খারাপ নজির। ক্ষতিপূরণ ও চাকরির কথা বলা হলেও এ ধরনের লিখিত কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়নি।
জানা যায়, প্রায় ১৫০ বছর আগে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ এনে জঙ্গল পরিষ্কার করে চা বাগান তৈরি করে ফিনলে, ডানকান ব্রাদার্সসহ আরো কয়েকটি কোম্পানি। পরে যেসব জমিতে চা গাছ লাগানো সম্ভব হয়নি, সেগুলো শ্রমিকদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হয় চাষাবাদের জন্য।
Source: http://www.bonikbarta.com/news/details/58556.html
Share:

SARI DHARAM is Religion of Santal adivasi.

SARI DHARAM is Religion of Santal adivasi. SARNA is religion of other adivasi like Munda, Oraon, Ho, including Santals of Bengal, Jkd, Bihar, Assam and Odisha. And some adivasi converted into Hindu and Cristianity. But, Only Santal people follow SARI DHARAM and already SARI DHARAM has recognized to West Bengal state and central Govt. West Bengal Backward Classes Welfare Department, Memo No- 942CRI/1-3CRI 2000 Date: 21/10/2000 clearly mentioned that Sari Dharam is a Recognized Tribal Religion of the Santals & they have come under the preview of the Marriage Act 1954. In the census of 1991, 1,63,070 no of Santal people supported Sari Dharam and Indian Census Board recognized Sari Dharam in 2002. in this regard govt. given notice (notice no - TAB.11015(R)/1991/6074/(30.10.2002) to all the District Magistrate of West Bengal to awared to improve Sari Dharam.
Share:

Wednesday, November 18, 2015

কৃষি কাজে পুরুষের চেয়ে সাঁওতাল নারীরা এগিয়ে

এম তারেকুজ্জামান : রংপুরে কৃষি কাজে পুরুষের চেয়ে নারী সাঁওতাল শ্রমিকের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজে ফাঁকি না দেয়া ও পরিশ্রমী হওয়ায় কৃষি কাজে নারী শ্রমিকদের কদর এখন সবচেয়ে বেশি। সাঁওতাল নারী শ্রমিকরা ঘরের কাজ করার পাশাপাশি অন্যের জমিতে কাজ করে সংসারের আয় বৃদ্ধি করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে সাঁওতাল নারীদের কৃষি কাজে নিয়োগ নিয়ে কৃষকরা বেশ স্বস্তিতে আছে। এবিষয়ে রংপুরের কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষি থেকে ঘর গোছানো সবই এখানকার সাঁওতাল নারীরা নিজের হাতে করে। তাদের দেখলেই মনে হয়, এরা কাজ পাগল মানুষ। সব কাজ নিজ দায়িত্বে করে এবং করতে সাচ্ছন্দবোধও করে।
পীরগঞ্জের চতরা এলাকার সাঁওতাল নারী রিতা সরেন বলেন, নিজের ঘর সামলেও যেটুকু সময় পাওয়া যায় তখন অন্যের কাজ করে থাকি। তিনি বলেন, আমরা মোটেও কাজে ফাঁকি দেই না। কারণ যে শ্রমে মাটিতে শস্য ফলে, সেই শস্য খেয়েই আমরা বেচে আছি। মাটিতে শস্য ফলাতে নিজের শ্রম দিতে ভালোই লাগে। সারা বছরই সাঁওতাল নারীদের চাহিদা থাকলেও বিশেষ করে ধান লাগানোর সময় আমাদের চাহিদা বেশি বেড়ে যায়। তাই তখন আর কোন কিছু করার ফুসরত থাকে না।
জানা গেছে, কৃষি থেকে ঘর গোছানো সবই এখানকার সাঁওতাল নারীরা নিজের হাতে করে। এসব কাজ নিজ দায়িত্বে করেন এবং করতে সাচ্ছন্দবোধও করেন। পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি সংসার গোছাতে পটু।
চতরা বাজারের লোকনাথ নামে এক ব্যবসায়ী জানান, সাঁওতাল নারীদের শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানোর মুল কারণ-তারা সৎ। এদের আর একটি বিশেষ গুণ কোন কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করেই যান। ধান রোপনে এদের নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এদের হাতে ধানের চারার সারি সোজা থাকে। ফলে সে জমিতে ধানের ফলও বেশি হয়।
তবে সাঁওতাল নারীদের এতো গুণ থাকলেও আছে বঞ্চনার নিরব গাঁথাও। সাঁওতাল নারীরা উৎপাদন করেন ঠিকই কিন্তু ভোগ করতে পারেন না। তারা কাজে পারদর্শী হলেও পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তাদের হাতে থাকে না। তাদের জন্য আলাদাভাবে নেই কোন ঋণের ব্যবস্থাও।
স্থানীয় আরেক সাঁওতাল নারী শ্রমিক বলেন, ‘মাঠে-ঘাটে কাজ করি, সংসারের কাজ শেষ করার পর যে সময়টুকু পাই বাইরে কাজ করি। পুরুষরা যে কাজ করে তার চেয়ে বেশিই করি। কিন্তু আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। স্বামী আমাদের কোন দামই দেয় না।’
তিনি আরও বলেন, সরকারের তরফ থেকেই আমাদের জন্য কোন কিছুর ব্যবস্থা নেই। আমরা সুযোগ-সুবিধা পেলে কৃষি উৎপাদনে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবো।
এ বিষয়ে চতরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাজু আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, শুধু সাঁওতাল মেয়েদের জন্য আমরা কম্পিউটার এবং সেলাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া তাদের জন্য বিশেষভবে কোন প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই বলেও জানান তিনি।
রংপুরের পীরগঞ্জের সমাজসেবা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বা ও নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্টী নিয়ে কাজ করার আছে। আমি এখানে আসার পর নিজ উদ্যোগে এদের ডাটাবেজ তৈরি করার কাজ করছি। উপজেলা প্রশাসন আমাকে এ কাজে সহযোগীতা করছে।
তাদের সামাজিকভাবে আরও প্রতিষ্ঠা পাবার জন্য কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওদের যে সামাজিক ব্যবস্থা বা সামাজিক প্রথা আছে সেখান থেকে বের করে নিয়ে এসে মূল ধারার সমাজের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করাসহ নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছেন বলেও জানান জয়নাল আবেদীন।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র ঘোষ আমাদের সময় ডটকমকে ফোনালাপে জানান, এখানকার ১৫টি ইউনিয়নের ৪টিতে সাঁওতালদের বসবাস। এদের পুরুষরা একটু অলস প্রকৃতির হলেও নারীরা অনেক পরিশ্রমী। তিনি বলেন, সাঁওতাল নারীরা সংসার সামলানোর পাশাপাশি সব ধরনের কৃষিকাজে পারদর্শী। আমরা কৃষিকাজে তাদের সহযোগীতা করে থাকি।
Source: http://www.amadershomoy.biz/unicode/2015/11/17/35020.htm#.V-EPQjXm3IU
Share:

Sunday, November 1, 2015

‘হুদুরদুরগা’ এ বার তথ্যচিত্রে

কিংশুক গুপ্ত

প্রামাণ্য ইতিহাসে তাঁর নাম নেই। কিন্তু সাঁওতালদের লোকশ্রুতি অনুযায়ী তিনিই জঙ্গলখণ্ডের বীরযোদ্ধা-শেষ রাজা ‘হুদুরদুরগা’। সুদূর অতীতে জঙ্গলমহলের মূলবাসী এই রাজার শোকে এখনও বার্ষিক শোকপালন করেন সাঁওতাল সম্প্রদায়। বলা হয়, পরাক্রমী আদিবাসী রাজা হুদুরের বিনাশকে ঘিরেই এখানে আর্য-অনার্যের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। সাঁওতাল সমাজের জনশ্রুতি, ‘দেবাংশী’ আর্যরা কৌশলে হুদুরকে হত্যা করে দখল করেছিল সমগ্র জঙ্গলখণ্ড। তারপর থেকেই চরম অত্যাচারিত মূলবাসীরা নিজভূমে পরবাসী হয়ে যান। এক সময় এলাকা থেকে বিতাড়িত হওয়ার কারণেই কী সাঁওতাল সমাজের একাংশ এখনও ভীষণ রকম আত্মকেন্দ্রিক? তথাকথিত উচ্চবর্ণের ছোঁয়াচ থেকে নিজেদের সমাজ-সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্যই কী আদিবাসী সমাজের মধ্যে এত আগল? এত সামাজিক বিধিনিষেধ? উত্তর খুঁজছেন জঙ্গলমহলেরই সাঁওতাল সম্প্রদায়ের যুবক সুমন্ত মুর্মু। বছর তিরিশের সুমন্তের বাড়ি ঝাড়গ্রাম শহরের উত্তর বামদায়। তবে রাজ্য বিদ্যুত্‌ বন্টন সংস্থায় চাকরির সূত্রে থাকেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে।
[তথ্যচিত্রের একটি দৃশ্যে হুদুরের ভূমিকায় সুমন্ত মুর্মু।— নিজস্ব চিত্র।]

সুমন্তর ছোটবেলা কেটেছে বেলপাহাড়ির পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা ঠাকরানপাহাড়ি গ্রামে। ফলে নিজের সম্প্রদায়ের মানুষজনের জীবনযন্ত্রণার বারোমাস্যা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। পরে সমাজবিজ্ঞানের স্নাতক হয়ে নিজের সম্প্রদায়ের শিকড় সন্ধানে গত পাঁচ বছর ধরে ক্ষেত্রসমীক্ষার কাজ করে চলেছেন। সেই নিরিখেই সুমন্ত ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। ‘হি ওয়াজ় নট এ ডেমন, হুদুরদুরগা: এ গ্রেট ট্র্যাইবাল কিং’ শিরোনামে দশ মিনিটের তথ্যচিত্রটিতে হুদুরের ভূমিকায় অভনয় করছেন সুমন্ত নিজে। মুখ্য প্রযোজক ও পরিচালকও তিনি। বেলপাহাড়ির পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে বেশ কিছু দৃশ্যগ্রহণের কাজ হয়ে গিয়েছে। আগামী বছরের গোড়ায় ইউটিউবের মাধ্যমে সাঁওতালি ও ইংরেজি দ্বিভাষিক এই তথ্যচিত্রটি দেখতে পাবেন দর্শকরা। সুমন্তর কথায়, “আদিবাসী সংস্কৃতিকে আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদেই তথ্যচিত্রটি বানাচ্ছি। একদিকে সাঁওতাল সমাজের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসের কথা থাকছে। অন্যদিকে, যুক্তি দিয়ে মুক্ত চিন্তা-চেতনার পক্ষে কিছু সওয়ালও করা হবে।” বছর খানেক আগে এক বন্ধুর ক্যামেরা ধার করে প্রথমবার একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র বানিয়েছিলেন সুমন্ত। ইউটিউবে ওই তথ্যচিত্রটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। এবারও বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে তথ্যচিত্রের কাজ শুরু করেছেন তিনি। পরে কিনে নিয়েছেন একটি ক্যামেরাও। সুমন্তের টিমে রয়েছেন পেশায় ডাক বিভাগের কর্মী সুশান্ত টুডু, প্রাথমিক পার্শ্বশিক্ষক প্রদীপ মুর্মু, বেসরকারি সংস্থার কর্মী জোনা মাণ্ডি, কৃষ্ণ মুর্মু, বিদ্যুত্‌ দফতরের কর্মী শতদল সাঁতরা, প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক জয়ন্ত সিংহ-রা।
কিন্তু হঠাত্‌ করে কেন এমন একটি বিষয়কে নির্বাচন করলেন? সুমন্ত জানাচ্ছেন, হাজার বছর ধরে নিজেদের আদবাসী সমাজকে স্বতন্ত্র করে রাখার ফলে বাইরের মুক্ত চিন্তাধারার সঙ্গে পারস্পরিক তুল্যমূল্য বিচারের সুযোগ ততটা নেই। যে কারণে গ্রামাঞ্চলে নানা ধরনের সংস্কার ও প্রথাকে আঁকড়ে রয়েছেন একটি অংশ। ফলে, শিক্ষিত প্রজন্মের একাংশের মনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তাই নিয়ে রক্ষণশীল ও চিন্তাশীলদের মধ্যে যুক্তিসংঘাত বাধছে। এখনও আদিবাসী সমাজে শিক্ষার হার আশানুরূপ নয়। আধুনিক চিকিত্‌সা বিজ্ঞানের যুগেও ওঝা, ঝাড়ফুঁক, গুণিন নির্ভর সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটানো যায়নি। বাল্যবিবাহ-সহ নানা কুপ্রথার বাড়বাড়ন্ত ঠেকানো যায়নি। এই আবহে পরাক্রমী রাজা হুদুরদুরগার কাহিনি দিয়েই নতুন প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতে চান সুমন্ত। সুমন্তর কথায়, “কেন আমরা এখনও অনেকটা পিছিয়ে রয়েছি, সেই বিশ্লেষণও থাকবে তথ্যচিত্রে। থাকবে এগিয়ে চলার বার্তাও।”
ঝাড়গ্রাম মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক আজিজুর রহমান বলেন, “সুমন্তবাবুরা তথ্যচিত্রটির কাজ শুরু করেছেন বলে শুনেছি। তথ্যচিত্রটি ইউটিউবে দেখার জন্য
অপেক্ষায় রয়েছি।”

Source:http://www.anandabazar.com/entertainment/%E0%A6%B9-%E0%A6%A6-%E0%A6%B0%E0%A6%A6-%E0%A6%B0%E0%A6%97-%E0%A6%8F-%E0%A6%AC-%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%A5-%E0%A6%AF%E0%A6%9A-%E0%A6%A4-%E0%A6%B0-1.261537#

 

Share:

পুজোয় মহিষাসুর স্মরণ

চারদিকে যখন অসুরদলনী দুর্গার পুজো চলছিল, সেই সময় অন্য পুজো হল কাশীপুর থানার ভালাগোড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। বৃহস্পতিবার পূজিত হলেন হুদুড় দুর্গা। উদ্যোক্তাদের কথায়, মহিষাসুরের স্মরণ দিবস। মহানবমীর দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন বলে তাঁদের আদিপুরুষ ঘোরাসুর তথা মহিষাসুরকে স্মরণ করলেন আদিবাসীরা। উদ্যোক্তা শিকার দিশম খেড়ওয়াল বীর লাকচার কমিটি।
আদিবাসীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আর্য রমণীর দ্বারা অন্যায় ভাবে নিধন করা হয়েছিল তাঁদের আদিপুরুষ হুদুড় দুর্গাকে (মহিষাসুর)। শিকার দিশম খেড়ওয়াল বীর লাকচার কমিটির তরফে অজিতপ্রসাদ হেমব্রমের কথায়, ‘‘দুর্গার হাতে নিহত হন আমাদের আদিপুরুষ হুদুড় দুর্গা। যিনি ঘোরাসুর বা মহিষাসুর নামেও পরিচিত। আমরা মনে করি নীতিহীন যুদ্ধে তাঁকে মারা হয়েছিল। তাতে ভারতের ভূমিপুত্র খেড়ওয়ালরা দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হারিয়েছিলেন। ঘোরাসুরকে এই যুদ্ধে পরাজিত করার পরে আর্যাবর্ত নামে আর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন আর্যপক্ষ বিজয় উৎসবে মেতে উঠেছিল। সেই সময় সাঁওতাল, মুন্ডা, কোল, কুড়মি, মাহালি, কোড়া প্রভৃতি খেড়ওয়াল গোষ্ঠীর আদিবাসীরা বশ্যতা স্বীকার না করে নিজেদের নিজেদের মান বাঁচানোর উদ্দেশ্যে নারীর ছদ্মবেশে দাঁশাই নাচ, কাঠি নাচের মাধ্যমে অন্তরের দুঃখ নিয়ে আনন্দের অভিনয় করতে করতে সিন্ধু পাড় ছেড়ে আসম, কাছাড়, ওড়িশা, বঙ্গদেশ ও দক্ষিণ ভারতের বনে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিল।’’ অজিতবাবুর দাবি, অনার্যরা কখনও মহিলাদের আক্রমণ করে না। সেই বিশ্বাস থেকেই পুরুষেরাও নারীর ছদ্মবেশে এ ভাবে নারী বস্ত্র পরিধান করে সেরেঞ বা ভুয়াং হাতে দলবদ্ধ ভাবে হায়রে হায়রে শব্দ করতে করতে এই উৎসবের সময়ে অর্থাত দুর্গা পুজোর সময়ে দাঁশাই নাচেন। এই নাচ তাঁদের সম্প্রদায়ের কাছে দুঃখ-দাঁশাই নামেও পরিচিত। সেই পরাজয়ের ব্যাথা বুকে নিয়ে আজও তাঁদের সমাজের লোকজন দাঁশাই নাচেন। তাঁর কথায়, ‘‘হুদুড় দুর্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে পরম শ্রদ্ধেয় ও পূজ্য। আমরা মনে করি, তিনি ছিলেন বলেই তাঁরই প্রবর্তিত সমাজনীতির গুণে ভারতের আদিবাসী দলিত জনগোষ্ঠীর সমাজ হাজারো বঞ্চনার মধ্যে শান্তিতে বসবাস করছে।’’
মহানবমীর দিনে দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন বলে সেই দিনটিকেই তাঁরা আদিপুরুষকে স্মরণ করার দিন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। স্মৃতিচারণা, কাঠি নাচ, করম নাচ, কবিগান, ছৌ নাচ-সহ নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভালাগোড়া স্কুল মাঠে দিনভর এই শ্রদ্ধার্পণ অনুষ্ঠান হয়। যোগ দিয়েছিলেন এই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার আদিবাসীরাও।
শত্রুঘ্ন মুর্মু, বীরবল মুর্মু, সুবোধ মুর্মু প্রমুখের কথায়, ‘‘আমাদের আদিপুরুষকে এই দিনে নিধন করা হয়েছিল বলে এই দিনে আমরা তাঁকে স্মরণ করি।’’ ঝাড়গ্রাম থেকে আসা কেশব সোরেন বলেন, ‘‘এই দিনটির তাৎপর্য মানুষের জানা প্রয়োজন। পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, ‘‘আদিপুরুষ ঘোরাসুরকে অন্যায় ভাবে হারানো হয়েছিল। কারণ তিনি কোনও নারীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতেন না। কেউ তাঁকে হারাতে না পেরে একজন নারীকে তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করতে পাঠানো হয়েছিল। নীতিহীন যুদ্ধের এই পরাজয় আমরা মানতে পারিনি। তাই এই স্মরণ অনুষ্ঠান।’’
Source:  http://www.anandabazar.com/district/purolia-birvhum-bankura/%E0%A6%AA-%E0%A6%9C-%E0%A7%9F-%E0%A6%AE%E0%A6%B9-%E0%A6%B7-%E0%A6%B8-%E0%A6%B0-%E0%A6%B8-%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A6%A3-1.228012#
Share:

শহীদ মহিষাসুর

- ছন্দক চট্টোপাধ্যায়
টবেলা থেকেই ‘মেঘনাদ বধ’ আমার প্রিয় কাব্যি । লালকমল নীলকমলের খোক্কসগুলো ভারী প্রিয় । কী ঐশ্বর্য আছে রাজকুমারিতে যত আছে ঠাকুমার ঝুলির দত্যি দানোয় । মহালয়াও যখন টিভিতে দেখেছি পক্ষ নিতে ইচ্ছা করেছে রক্তবীজের । ওরে বাবা রে, সে কি কাণ্ড । একফোঁটা রক্ত মাটিতে পড়লেই পুনর্জন্ম । সে জায়গায় ভো-কাট্টা দুর্গা । আর চিরকালই দেবতাদের চোর চোট্টা মনে হয়েছে। অসুরগুলো ধ্যান জপে বসবে, তাদের ধ্যান ভঙ্গ করতে মেনকা,উর্বশীদের লেলিয়ে দেওয়া হবে । দুই পক্ষ মিলে সমুদ্র মন্থন করে অমরত্বের ভাণ্ড সংগ্রহ করবে, দেবতারা ছল করে অসুরদের তা পান করতে দেবে না । এগুলো কী ? এতো পাড়ার ক্রিকেটের মতো, আমি বড় লোকের ব্যাটা, আমার ব্যাট বল তাই আমি আউট হলেও আউট নয় । তাই বুকের ধন আমার মেঘনাদ বধ । পাষণ্ড, জাতিবিদ্বেষী, পুরুষতন্ত্রের প্রতিভূ ফ্যাসিস্ট রামের পরাজয় । সমগ্র পুঁজিবাদের মধ্যে একখণ্ড সমাজবাদ যেন ।

তাই মহিষাসুরের শহীদদিবস আমায় উৎফুল্ল করেছিলো । মহালয়ার দিন শুভ শারদীয়ার মেসেজের জবাবে আমি লিখেছিলুম, ‘আমায় এই মেসেজ পাঠিও না, আমি বীর শহীদ হুদুর দুর্গার পক্ষে’। পৌঁছতে পৌঁছতে উৎসব খতম হয়ে গিয়েছিল বটে, কিন্তু বীরদর্পে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মহিষাসুর । গোটা পশ্চিমবঙ্গ যখন ‘দেবী বন্দনায়’ মাতোয়ারা তখন পুরুলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ‘মহিষাসুর স্মরণ দিবস’। অনুষ্ঠানের মূল সংগঠক চেরিয়ান মাহাতো, অজিত হেমব্রমদের সাথে কথা বলে জেনেছি, ২০১১ থেকে ‘শিকর দিসম খেরওয়াল বীর লাকচার কমিটি’র পরিচালনায় এঁরা এই অনুষ্ঠানটি সংগঠিত করছেন। অনুষ্ঠানটির নাম সচেতন ভাবেই শহীদ দিবস, অসুর পুজো নয় । কারন ওনারা মনে করেন ‘পুজো’র মধ্যে একটা অলৌকিকের উপাসনার ব্যাপার আছে, এই দর্শনের সঙ্গে তারা একমত নন । অসুর তাদের পূর্বপুরুষ, এবং এক যুদ্ধে তিনি নিহত হয়েছিলেন, তাই তিনি বীর শহীদ ।

খেরওয়াল আদিবাসীদের মধ্যে বিশেষত সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাঁও প্রভৃতি জনজাতির মানুষেরা ষষ্টী থেকে দশমী পর্যন্ত নারী পোষাক পরে দলবদ্ধভাবে ‘দাঁশাই’ নাচ করে। আবার কুড়মি কোবিলার জন-গোষ্ঠী এবং কোড়া কোবিলার, বাউরী, সহিস, মুদি প্রভৃতি ভূমিপুত্ররা একইভাবে নারী পোষাক পরে দলবদ্ধভাবে ‘কাঠি নাচ’ করতে করতে গ্রামে-গ্রামে ভিক্ষা করে বেড়ায়। যদিও এই কটা দিন ছাড়া খেটে খেতেই তারা পছন্দ করেন এবং ভিক্ষাবৃত্তি পাপ বলেই মনে করেন । ‘দাঁশাই’ নাচ ও ‘কাঠি নাচ’কে দূর্গোৎসবের স্বপক্ষে আদিবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বলে অনেক কাগজে প্রচার করা হয়ে থাকে কিন্তু ওনাদের বক্তব্য সেটি একেবারেই ভুল। পূজোর মাসটিকে এরা ‘দাশাঁইমাস’ বলে থাকেন অর্থাৎ দু:খের মাস । আদিবাসীদের আদিপুরুষ হুদুরদুর্গা ঘোরাসুর তথা মহিষাসুর বিদেশী আর্য নারী দ্বারা নিধনের ফলে ভূমিপুত্র আদিবাসীরা রাষ্ট্র ক্ষমতা হারিয়েছিল।

মহালয়ার মেলোড্রামায় যেমন দেখানো হয়, অসুর আ হা হা হা…একজন নারী, একজন নারী নাকি আমায় হত্যা করবে বলে তিড়িং বিড়িং করে নাচছে । বিষয়টি ঠিক তেমন নয় । আসল কথা হল আদিকালে যুদ্ধের কতকগুলো রুল বীর যোদ্ধারা ফলো করতেন । যেমন যোদ্ধা ছাড়া কারু গায়ে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হবে না । নারী এবং শিশুদের সঙ্গে যুদ্ধ করা হবে না । সূর্য ডুবে গেলে অস্ত্র সম্বরন করতে হবে । যার একটি আইনও মানেননি ‘মহারথি’ বলে  পরিচিতরা।  নাহলে কোনদিনই ভীষ্মকে হারাতে পারতেন না কাপুরুষ অর্জুন । রথের সামনে তিনি সেদিন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ শ্রীখণ্ডী কে খাড়া করেছিলেন যাতে ভীষ্ম অস্ত্রের ব্যবহার না করতে পারেন । মহামহিম ভীষ্ম অস্ত্র না ধরলেও অর্জুন তা করতে কসুর করেননি । বান বর্ষণে ধরাশায়ী করে সে কি বাবা গো মা গো ন্যাকা কান্না । মহাভারতে এভাবেই কোতল করা হয়েছিলো জয়দ্রথকে । সূর্য ডোবার ভান করিয়েছিলেন কৃষ্ণ । এনারা বাপের ব্যাটাও নন । পাড়ার বেচু মস্তান অন্তত দু চার খিস্তি আউরে বলে আয় কে আছিস সম্মুখ সমরে । ছিঃ । তো যা বলছিলাম ঘটনা হলো  মহিষাসুর বীরবিক্রমে আকাশ পাতাল এক করে ফেলেছেন, কোন বিদেশি যোদ্ধাই ভারতের আদিবাসী নেতা কে হারাতে পারছেন না । তখন ছল করে একজন মেয়েকে পাঠানো হয় । কোন মেয়েকে যুদ্ধে পাঠালে অসুর অস্ত্র ধরবেন না, সেই ফাঁকে তাকে খতম করা হবে । এই ছিল ফন্দি । তাই হয়েছিলো । আর্যপক্ষ যখন ছল চাতুরি করে, বিজয় উৎসবে মেতে উঠেছিল সেই সময় আদিবাসীরা বশ্যতা স্বীকার না করে মান বাঁচাবার উদ্দেশ্যে নারী ছদ্মবেশে ‘দাঁশাই’ নাচ ও ‘কাঠি নাচ’-এর মাধ্যমে সিন্ধু পাড় ছেড়ে আসাম, বঙ্গদেশ ও দক্ষিণ ভারতের বনে-জঙ্গলে আশ্রয় নেয় । মাতৃতান্ত্রিক সমাজের বাসিন্দা হিসাবে তাদের ধারনা ছিল তারা যেহেতু কোন নারীর গায়ে হাত তোলেন না, তেমনই নারীর ছদ্মবেশ ধরলে তারাও বেঁচে পালাতে পারবেন কিন্তু সেই পথে বহু মহিলাকে লাঞ্চিত হতে হয় আর্যদের হাতে।
এই ঘটনার স্মরণেই আজও আদিবাসী পুরুষরা মেয়েদের পোশাক পরে বুক চাপড়ে হায় হায় বলতে বলতে দশাই নাচ নাচেন । সরকার স্বীকৃত ৪০টি শিডিয়ুল ট্রাইব গোষ্ঠীর মধ্যে একটির নাম ‘অসুর’ সেকথাই এই বাংলার অনেকে জানেন না ।

আর একটা গল্পের কথা কোথাও কোথাও শোনা যায় । কোন ইতিহাস পাঠ্যে এটি নথিভুক্ত নয়, কিন্তু গানে- লোকাচারে- উৎসবে শোনা যায় । যে বৃদ্ধা কখনও ইস্কুলের চৌকাঠে পা দেননি তার স্মরণে অমলিন । প্রাচীনকালে এই দেশের নাম নাকি ছিল ‘বোঙ্গাদিশম’ । যার সম্রাট ছিলেন বোঙ্গাসুর বা মহিষাসুর । হুদুর শব্দের অর্থ বজ্র ধ্বনি । বজ্রের মতো প্রতাপ যার তার নাম ছিল হুদুর দুর্গা । মহাতেজ এই রাজার কাছে আর্যরা পর্যুদস্ত হন । কোনভাবেই যখন বোঙ্গাদিশম জয় সম্ভব হচ্ছে না তখন স্বর্গের অপ্সরা মেনকা কন্যা দুর্গাকে মহিষাসুর বধে পাঠানো হয় । কথিত আছে আর্যরা ভারতীয় আদিবাসী রাজাদের পরাজিত এবং নিহত করবার পরে তাদের স্ত্রী এবং নারীদের নিজেদের দুর্গে নিয়ে গিয়ে যথেচ্ছ যৌন নিগ্রহ করে তাদের দাসী বা নর্তকী তে পরিনত করতো । লক্ষ করুন, কোডগুলি, যেমনভাবে আমরা দেখেছি হারেম গড়ে উঠছে বিভিন্ন সম্রাটের প্রাসাদে তেমন করেই কিন্তু পতিতালয় তৈরি হয়েছিলো স্বর্গে (আর্যদের বাসস্থান)। পরবর্তী কালে এই সব হতভাগীকেই যুদ্ধের প্রকৌশল হিসাবে ব্যবহার করা হত । দুর্গাও তেমনই এক নারী । দেবতাদের (আর্য) পতিতালয়ে তিনি থাকতেন, তিনি প্রেমের ছলনা এবং যৌন সংসর্গ করে সুযোগ বুঝে মহিষাসুর কে হত্যা
করেন।
আজ আমরা বাপের মৃত্যুতে তা থৈ নাচছি । মহিষাসুর কি মোষরূপী অসুর ? বেশীর ভাগ মানুষ সদর্থক উত্তর দেবেন । আসলে যেমন করে ঢাক ঢোল পিটিয়ে কারণবারি খাইয়ে
সতীদাহকে লেজিটিমেট করা হয়েছিলো । তেমন করেই ঢাক বাদ্যি পিটিয়ে ধূপ ধুনো দিয়ে এক ইতিহাস  বিস্মরণের চক্রান্ত রচনা করেছেন বামুনরা । তারপর বেতার যন্ত্রের সহযোগিতায় একটা ফ্যান্টাস্টিক ক্যাম্পেনের মাধ্যামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে অশুভের নাশ কে । নতুন করে আজ একটা দাবী খুব জোরের সাথে উঠছে, আদিবাসী মানুষরা তুলছেন । তাদের বীর যোদ্ধা কে দুর্গার পায়ের তলা থেকে সরিয়ে নিতে হবে, কোন মূর্তিতে অসুর কে তারা নতজানু দেখতে রাজি নন । কারু ভাবাবেগে তারা আঘাত করতে চান না, কেউ যদি দুর্গা উপাসক হন,তিনি কেবলমাত্র দুর্গা মূর্তির পূজা করুন, কিন্তু পায়ের তলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক অন্য এক তিলকা মাঝি, সিধু কানহু কে…
Source: http://agamikal.com/?p=855


 

Share:

Durga Puja: celebration of a Santal king’s betrayal?

Editor’s note: Last year this time, the office of Dalit-Bahujan magazine Forward Press was raided on the complaint of hurting Hindu sentiments. Forward Press had published stories countering the mainstream narratives on Dussera/Durga Puja, essentially asserting that Mahisasura was an popular adivasi king who was killed by the brahminic Hindus by deception. The Asur tribe in Jharkhand has similar story to tell about its martyr Mahisasura. Here is a counter-narrative on Durga Puja from West Bengal –


It is the time of Durga Pujo, and the streets of Kolkata are filled with stunningly beautiful and creative images of the warrior goddess. I want to share with you, however, a story told by Santal musical genius Bajar Hembrom to Kunal Deb about the Dashoi festival, which Santals observe on the last day of Durga Pujo. Santal men dress as women, hide weapons under their clothes, and go about singing and dancing from village to village. The songs and dances are mournful and heavy. Bajar Hembrom is no more, but this is the story that he told, and, as you shall see, it is a powerful reminder of the expulsion of Adivasis from the bounty that was once theirs.

” A long, long time ago there was the Har kingdom on earth.That is, a Santhal Raj. Our king was Adur. He was also called Raja Debi. He was as famed for his governance–for the way he looked after his people–as for his heroism. He could fight a tiger with his bare hands; he could alone stop the rampages of crazed elephants. His soldiers too were very fierce. Nobody could beat them in battle. Raja Indra had been crushed many times in battle against him.
“But Indra too was not someone to give up. This time, in order to defeat Raja Debi and seize the Santal kingdom, he resorted to deceit and trickery. He sent the dancer Durga from his heavenly court to earth. One of her assistants put her on elephant back and sent her to the jungle palace of Raja Debi. Another of her helpers covered the skies with an intoxicatingly beautiful moonlight, yet another spread music in the air. A fourth filled the surroundings with dancing peacocks. In such a heady atmosphere, Durga had no difficulty in seducing Raja Debi with her beauty and dance.
“Not long after Raja Debi got married. His queen was Durga. She started sending news to Indra about when the raja slept, when he was unarmed, when festivals preoccupied his soldiers and commanders, and so on. Indra linked these snippets of intelligence with one another to formulate a plan. He decided the day and time, and one day he imprisoned Raja Adur in a sudden attack. The soldiers were taken by surprise and could not recover from that assault. Debi’s kingdom was easily seized. Our Santal ancestors lost their king and their kingdom. Everyone scattered where they could.
“The trusted guards and friends of the king started to look for their beloved monarch. Disguised as women, their weapons concealed, they wandered and danced in villages and towns, in many places, always searching. If they hear the faintest reply to their mournful song, from the imprisoned raja, out will come the weapons from under the feminine clothes of the warriors. They will fight and recover their lost kingdom. And when Raja Adur Debi returns, they will get back their Santal Raj, their lost wealth, their forests, their rivers, everything.
“The Dashoi dance is on the last day of Durga Puja. You worship Durga. We search for, we still search for, our lost Raja Debi. You call him Asur.”

–Translated from the Bengali essay Dhulo Megh Pathor Brishti by Kunal Deb.
  Source: http://www.indiaresists.com/durga-puja-celebration-santhal-kings-murder/



Share:

Thursday, October 29, 2015

আদিবাসী শব্দ ব্যবহার করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় অবকাঠামো ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে জারি করা সরকারী প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদ জানিয়েছে জেএসএস

স্টাফ রিপোর্টার:
সংবিধান বিরোধী আদিবাসী শব্দ ব্যবহার করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় অবকাঠামো ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৬ আগস্ট ২০১৫ তারিখে জারী করা প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য জনসংহতি সমিতি।
 উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট ২০১৫ তারিখে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৩ অধিশাখা থেকে “বাংলাদেশে আদিবাসী নামক অসাংবিধানিক দাবী বাস্তবায়নের অপকৌশল রোধকল্পে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো, জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন” সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো: মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত উক্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, “সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ছোট ছোট সম্প্রদায়/গোষ্ঠীকে উপজাতি/ক্ষুদ্র জাতিসত্তা/নৃগোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশী-বিদেশীদের সহায়তায় বাংলাদেশে আদিবাসী নামক অসাংবিধানিক দাবীটি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই অপকৌশল ও ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক শহর কেন্দ্রীক বিশেষ করে ঢাকা মহানগরের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা/অবকাঠামো যেমন: যুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, জাতীয় শহীদ মিনার, শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটসহ আরো অনেক জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মসূচী পালনের জন্য ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সকল অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাগণকে সম্পৃক্ত করার প্রবণতাও লক্ষ্যনীয়। পত্রে বাংলাদেশে আদিবাসী নামক অসাংবিধানিক দাবী বাস্তবায়নের অপকৌশল রোধ কল্পে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো, জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করা হয়েছে। বর্ণিতাবস্থায় বাংলাদেশে আদিবাসী নামক অসাংবিধানিক দাবী বাস্তবায়নের অপকৌশল রোধ কল্পে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো, জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”

জন সংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ বস্তুত: গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উক্ত নির্দেশনা সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা, ৩৭ নং অনুচ্ছেদে সমাবেশের স্বাধীনতা, ৩৮ নং অনুচ্ছেদে সংগঠনের স্বাধীনতার নিশ্চিয়তার বিধান করা হয়েছে। বাক্-স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সংবিধানে কোথাও উল্লেখ নেই যে, কেবল সংবিধান সম্মত শব্দচয়ন করতে হবে বা সংবিধানে উল্লেখ নেই এমন কোন শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি সংবিধানের স্বীকৃত নয় এমন কোন দাবিদাওয়া উত্থাপন বা বাস্তবায়নের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে না বলে সংবিধানে কোথাও সেরকম বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়নি”।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ পঞ্চদশ সংবিধানের মাধ্যমে “উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়” শব্দগুলো উল্লেখ করা হলেও সংবিধানে কোথাও উল্লেখ নেই ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না। বরঞ্চ দেশের বিভিন্ন আইনে ও সরকারী পরিপত্রে ‘উপজাতি’ শব্দের পাশাপাশি ‘আদিবাসী’ শব্দটিরও ব্যবহার রয়েছে। আরো উল্লেখ্য যে, সংবিধানে ‘দলিত’, ‘সংখ্যালঘু’, ‘প্রতিবন্ধী’ ইত্যাদি অনেক শব্দের উল্লেখ না থাকলেও এসব শব্দগুলো নানাভাবে বিভিন্ন আলোচনায় ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এসব জনবর্গের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য যুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, জাতীয় শহীদ মিনার, শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটসহ আরো অনেক জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে”।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “আদিবাসী শব্দ নিয়ে অতি উৎসাহী ও অতি মাত্রায় উদ্যোগী হয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তথা সরকারের এই নির্দেশনা জারির পেছনে অত্যন্ত হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করেছে বলে জনসংহতি সমিতি মনে করে। ভিন্ন জাতিসত্তার অধিকারী জনসংখ্যায় ক্ষুদ্র এসব জাতিসমূহ সকল ক্ষেত্রে প্রান্তিক, দুর্বল ও অসহায় হিসেবে হয়তো বিবেচনা করা যায় বলে বলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মতো উদ্ভট, হাস্যকর ও অগণতান্ত্রিক নির্দেশনা দিতে সরকার উঠে পড়ে বলে বিবেচনা করা যায়। তাই অচিরেই উক্ত নির্দেশনা প্রত্যাহার করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তথা সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছে”।
Source: http://parbattanews.com/%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%80-%E0%A6%B6%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A6-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87/#.VjDyHzHA06U.facebook
Share:

Monday, September 14, 2015

Tuesday, September 1, 2015

SANTALI WORD MEANING, PART-III

Santali-Bengali (english). Oro- Vab (mode), Sohle- Samadhan (complete), Rahe ror- Paribhasha (glossary), Tilak- Chak (chalk), Khod- Adhyai (chapter,section,canto), Hewar- Anushilani (Lession), Dogor- Khabar (news), Sayat- Suchipatra (content of book), Samanam- Sona (gold), Mudam- Aangti (finger's ring), Lanai- Uttar (answer), Sanwa r/d- Swastha (health), Layom saanres- Paribesh bigyan (environmental science), Elel- Sankhya (Number), Sarai - Lob , Khojai- Hor , Gursai- Gor (average), Raila - Saral (simple), Biyar- Moulik (primary number), Joron- Jougik , Podon- Anupat (ratio), Bau- Sud (interest), Porta - Labh (profit), Gelniya- Doshangsha (10/100th), Sainiya - Shatangsha (%), Gesainiya - Sahashrangsha , Danwar- Namta , Seled - Jog (addition), Bheged- Biyog (minus), Gabar- Gun (multiplication), Talha - Tol (lower part, bottom), Ulatgar- Biparitbahu, Sokrai - Ayatakhetra , Chouka - Bargokshetra, Gulat gar- Britta (circle), Hatar- Bhag (division), Hatarcha - Bhajak (dhvisor), Hatarha- Bhajya (divisible, dividend), Hatarsa- Bhagsesh (remainder, in a division), Hara/Joro- Bhagphal (quotient), Garelkha- Jamiti (geometry).


Source: https://www.facebook.com/notes/birsabir-baskey/santali-word-meaning-part-iii/901778769907893
Share:

Bangla to Santali Word Meaning

BHUGOL (GEOGRAPHY) ATONOH
Biswakosh- Pariyan
Mahadesh- Le-legej
Sagar- Darya
Mahasagar- Jalapuri
Samudra- Samudur
Hrad- Jala
Jalaprapat- Hudhudi
Dweep (island)- Dhipang
Badweep- Pesiradhipang
Dweep punja- Sange dhipang
Upakul- Nai dhare
Pahar- Buru
Parbat- Birburu
Parbat shringa- Usulburu
Parbat shreni- Khanderai buru
Parbat mala- Jelenj buru
Agneya giri- Sengel buru
Share:

Monday, August 31, 2015

Bengali to Santali Word Meaning-2



1.Kal (Tense)- Nang
Atit (Past)- Anang
Bartaman (Present)- Nitang
Bhabisyat (Future )- Darai/Dhinang

2.Pod (part of speach)- Paris
Biseswa (noun)- Nyunum
Bisesan (adjectiv)- Gunun
Sarbanam (Pronoun)- Ununj
Kriya (Verb)- Kanwa
Kriya Bisesan (verbal noun)- Tonor
Sangjojak Abyai- Tonong
Padannayi Abyai- Ganat
Abeg suchak Abyai- Hanao

3.Purush (- Goron
Uttam- Marang
Madyam- Samang
Pratham- Sanginj
4. Bachan (Number)- Gotan
Ek- Mid
Dwi- Bar
Bahu- Sange

5. Linga (gender)- Janang
Pung (masculin)- Kora
Shtri- Kuri
Kliba- Haad
Ubhay- Jat

6. Dik (direction) – Sehed
Purba (east)- Samang
Paschim (west)- Pache
Uttar (north)- Koye
Dakshin (south)- Etom
Esan (north-east)- Idan
Agni- Apan
Nairit- Gaban
Bayu- Ban
Urdha- Serma
Adha- Ot

7. Kola Bidya (Arts)- Badohi Birda
Arthaniti (Economics)- Kaudi Ari
Surja (sun)- Singi/bera/sinj chando/sinj bonga
Nakhatra – Epil
Graha (planet)- Engel
Samudra (sea)- Darya
Maha Samudra (ocean) - Agom Darya
Upanadi- Changa Nai
Shakha Nadi - Saba Nai
Parbat – Buru
Pahar- Dungri
Marubhumi (desert)- Luguburu
Nagar (city)- Nagraha
Pujapath (worship charm)- Bankher
Mantrapath (incantation/charm)- Mantar
Krishnachura – Rajgar
Bhubidya (geology)- Ot birda
Itihas (history)- Nagam
Byakoron (grammar)- Ronor
Bigyan (science)- Saanres
Chikitsa bigyan (surgery)- Tikichha birda
Darshan (philosophy) – Saryar
Bidyalaya (school)- Seched aasra
Viswavidyalaya (university)- Jeged virdagarh
Bisubarekha - Talwang gar
Samaj bigyan- Saotakil
Shabda (word)- Aara
Bakya (sentence)- Aayat
Gadya (prose)- Katha
Pungti- Pod
Stabak (stanza)- Khod
Rachana (paragraph)- Ganang
Mukh bandha (preface)- Anor
Bibhakti – Oja
Upajukta (competent/appropriate)- Aanuj
Thikana (address) - Thika buta
Man - Enam
Banan (Spelling)- Gaban
Manchitra (map)- Disom chitar
Adhunik (modern)- Nebetar
Sasta (cheap)- Sarpha
Pristha (page)- Sahta
Khata (note book/copy)- Lachha
Kalam (pen)- Nanal
Mane (meaning)- Mened

Source: https://www.facebook.com/notes/birsabir-baskey/bengali-to-santali-word-meaning-2/901353319950438
Share:

Wednesday, July 8, 2015

সরেজমিন: এক ভয়ার্ত সাঁওতালপল্লি থেকে বলছি...

ফারুক ওয়াসিফ, দিনাজপুর থেকে ফিরে | আপডেট:  | প্রিন্ট সংস্করণ
মেয়েটির নাম অনীতা—অনীতা হেমব্রম। বাড়ির দাওয়ার মাটির থামের আড়াল থেকে লজ্জায় মুখ বের করতেই পারছিল না। তাদের উঠানের গাছের ডালিম সবুজাভ হলুদ, দেয়ালে আলপনা আঁকা; কেমন এক শান্তি শান্তি পরিবেশ। অনীতার প্রিয় তৃষ্ণার্ত কাকের গল্প, প্রিয় কবিতার নাম ‘শোভা’, প্রিয় গান ‘আমার সোনার বাংলা’। অথচ সোনার বাংলার বাঙালিরাই তাদের বিপদের সর্বনাম।
সবার চোখের জলই সমান নোনা, সবার রক্তই সমান লাল। কিন্তু তা হয়তো নয়। উত্তরবঙ্গের পার্বতীপুরের গহিন মেঠোপথের মাথায় যে গ্রামটির নাম চিড়াকুটা, সেখানকার মানুষের সবই কম। 


তাদের জমি কম, রক্ত কম লাল, চোখের পানি কম নোনা, অত্যাচার-নির্যাতনও যেন তাদের গা-সওয়া। কমই যদি না হবে, তাহলে এত সহ্য করে কীভাবে? বাঙালির পক্ষে বাঙালি, মুসলমানের ডাক আরেক মুসলমানে শোনে, হিন্দু ও খ্রিষ্টানদেরও সহায়-শক্তি আছে এ দেশে—কিন্তু আদিবাসী সাঁওতালদের কিছুই নেই। চিড়াকুটার সাঁওতাল উচ্ছেদ হলে শিমুলজুড়ির সাঁওতালেরা তাদের আশ্রয় দিতে ভয় পায়। এত ‘নেই’-এর মধ্যেও খুব করে ‘আছে’ তাদের গায়ের রং, চেহারার ধাঁচ আর সাঁওতালি ভাষার বুলি। এই থাকাতেই মস্ত বিপদ। হোটেল-রেস্তোরাঁয় তাদের পাতে কেউ খায় না। তাদের কোনো যুবকের স্বজাতির বাইরের কাউকে ভালোবাসা মানে মৃত্যু ডেকে আনা। তাদের মর্যাদা ও সম্পত্তি দুটোই যেন লুটপাটের বিষয়।
এ বছরের ২৪ জানুয়ারির ঘটনা। সকালবেলা চিড়াকুটার কৃষকেরা তাঁদের জমিতে গিয়ে দেখেন, পাশের গ্রামের জনৈক জিয়ারুল-জহুরুল ভ্রাতৃদ্বয় লোকজন নিয়ে হাল চষা শুরু করেছেন। বাধা দিলে তাঁদের একজন পিস্তল বের করেন। সাঁওতালি রক্তে সুপ্ত হুলের স্মৃতি জেগে ওঠে। সাঁওতালি তিরে এক বাঙালির প্রাণ যায়। যথারীতি পুলিশ এসে ২৩ সাঁওতালকে আটক করে। পুলিশ যাওয়ামাত্রই চারপাশের হাজার হাজার বাঙালি মুসলমান নামধারী হামলাকারী ‘পিঁপড়ার মতো আসি’ ঘরদোর লুট করে, বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, ছিনিয়ে নেয় গবাদিপশুসহ অস্থাবর সব সম্পদ। তারপরও অটুট তাদের অপার্থিব সরলতা, সাঁওতালি ঐক্য আর আধুনিক হাহাকার।
এর প্রায় পাঁচ মাস পর ১ জুলাই চিড়াকুটায় গিয়ে পেলাম মধ্যবয়সী চ্যালচিউস হেমব্রমকে। কথা বলতে বলতে উত্তেজনায় তড়পাচ্ছিলেন। বলছিলেন ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহের বীর নেতা সিধো-কানো-চাঁদ-ভৈরব ভাই ও তাঁদের ফুলমণি বোনের কথা। কিন্তু যেই বললাম, ‘আপনারা তো সংখ্যায় কম, পারবেন কী করে?’ বাতাস–হারা পতাকা যেমন মিইয়ে পড়ে, লোকটার গলার স্বরও তেমনি নেমে যায়: ‘ওদিকে ভারত এদিকে বাংলাদেশ, কী করব, কোথায় যাব? সংখ্যায় তো আমরা কম! আমারও মারবা ইচ্ছা করে, কিন্তু পারি না!’
পার্বতীপুর থেকে রওনা দিলে মোটরসাইকেলে দুই ঘণ্টার পথ চিড়াকুটা। পথের মধ্যে অবিরত সবুজের সমারোহ, বৃষ্টিভেজা খেতগুলো ধান রোপার জন্য প্রস্তুত। মাটির বা পাকা রাস্তার ওপর ধানের খড় আর ভুট্টা শুকাতে দেওয়া। বৃষ্টিজমা খেতে বা খালে বাচ্চা-বুড়ো মাছ ধরছে। কোথাও কোনো বিপর্যয়ের চিহ্ন নেই। শুধু চিড়াকুটা গ্রামের জমিগুলো ফাঁকা, চাষবাস বন্ধ। পুরো গ্রামে সরকারি স্কুলঘরে পুলিশ ক্যাম্প। আরও এগোলে সাঁওতালপল্লির মাটির ঘরবাড়ি। পাঁচ মাস আগের আগুনের দাগ এখনো এদিকে-ওদিকে। কয়েকটি অঙ্গার হওয়া গাছ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাঙাচোরা টিনের বেড়া, চালহীন কিছু ঘর সাক্ষ্য দিচ্ছে, পাঁচ মাসেও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায়নি। সেদিনের পর এলিজাবেথ টুডুর রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না। দুঃস্বপ্নের মধ্যে ফিরে ফিরে আসে সেদিনের হামলার স্মৃতি।
মধ্যবয়সী বিমলা মুর্মুর চোখে এখনো ভাসে সেই সব দৃশ্য: ‘হিসাব ছাড়া লোক আসছে সেদিন আমার ঘরে। আমার দুই ড্রাম চাল, টিভি, সাইকেল, সেলাই মেশিন, হাঁড়িকুড়ি, জামা-কাপড়—সব নিয়ে গেছে।’ গ্রামের মধ্যে এটিই সবচেয়ে অবস্থাপন্ন বাড়ি। গ্রামের একমাত্র টেলিভিশনটাও তাদেরই ছিল। বিমলার দুঃখ, ‘সেলাই মেশিন আমার জান, সেটাও নিয়ে গেল! তারা আমার পায়ে বাড়ি দিল, গলায় টিপে ধরে কোমরে হাত দিয়ে মোবাইল নিতে গেল। আমি দৌড় দিলাম—এত পুরুষ আমার পেছনে। কেউ বলতেছে ম্যারা ফেল। তখন লালমাটি গ্রামের মোস্তফা চৌকিদার আমারে বাঁচাইল! কিন্তু মোবাইল আর পাইলাম না।’
৬৫ বছরের বৃদ্ধ লক্ষণ টুডুর হাহাকার লুট হওয়া পোয়াতি গরুটার জন্য। ‘এত দিনে গরুটা মনে হয় বিয়াইছে’ বলে হাতের লাঠি দিয়ে মাটিতে আঁকিবুঁকি করতে থাকেন। মেসেস টুডুর বিমারি স্বামী জেলখানায়, বাড়িটা মাটির সঙ্গে মেশানো, ওর মধ্যেই ছিল তাঁর খাসি বিক্রির ১০ হাজার টাকা—তা–ও পুড়েছে। ওদের ধারণা, এখন যারা গ্রাম পাহারা দিচ্ছে তারা তাদের পুলিশ, আর যারা গ্রামবাসীদের ধরে নিয়ে গেছে তারা ‘ওদের পুলিশ’। ওদের ধারণা, ‘বঙ্গবন্ধু দেশের ব্যাপার আর সিধো-কানো সংস্কৃতির ব্যাপার।’ ওদের ধারণা, ‘যা বলব সত্যই বলব, মিথ্যা বলব কেন?’ ওদের ধারণা, বউ পেটানো ছাড়া আর কোনো অপরাধ তারা করে না। ওরা মনে করে, সাঁওতালদের মধ্যে কানা-খোঁড়া, চোর-ডাকাত-ভিখারি কিছু নাই। ওদের ধারণা, মারামারি-লুটপাট করলে ‘নিজের জাতের ওপরই ঘিন্না লাগবে!’ ওদের বিশ্বাস, ‘আমরা জয় পাব, কারণ সরেজমিনে লড়াই করছি, আর ওরা তো ভূমিদস্যু।’
অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় সাঁওতালেরা পাকিস্তানি মিলিটারি হটিয়ে রংপুরকে অল্প সময়ের জন্য স্বাধীন করেছিল। কিছুদিন আগেও গ্রামে ফুটবল খেলা হলে সাঁওতাল-বাঙালি মিলেমিশে ‘লাফাত’। জাত নিয়ে ছি ছি করত না! কিন্তু মাঝখানে চলে এসেছে ভূমি। সেই ইংরেজ আমল থেকে জমির অধিকার, অরণ্যের অধিকার, মর্যাদার অধিকার বাঁচাতে সাঁওতালেরা লড়ে যাচ্ছে।
দুই.
আগের দিন ছিল ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৬০তম বছরপূর্তি। এ উপলক্ষে দিনাজপুর শহরে জমায়েত হয়েছিল কয়েক হাজার সাঁওতাল নারী-পুরুষ-শিশু। দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে বাসে করে, ভটভটিতে চড়ে তারা এসেছে রোদে পুড়তে পুড়তে। এর আয়োজন করে আদিবাসী পরিষদ ও দিনাজপুরের নাগরিক সমাজ। তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। সবার দাবি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন হোক। সেখানে যতজনের সঙ্গে কথা বলেছি, অধিকাংশেরই জমি নিয়ে হয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, নয়তো এলাকার প্রভাবশালী বাঙালিদের সঙ্গে বিরোধ চলছে। কোথাও সরকারের বন বিভাগ তাদের জমিকে বনাঞ্চল ঘোষণা করে দখলে নিচ্ছে। দিনাজপুরের হাজী দানেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পাটকলসহ অনেক প্রতিষ্ঠানই সাঁওতালদের জমির ওপর নির্মিত।
এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মী তাঁদের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে দাবি করলেন, ৮০ শতাংশ সাঁওতালি জমি নিয়েই গন্ডগোল চলছে। চিড়াকুটার যে ৪৩ একর ৩৩ শতক জমি নিয়ে বিবাদ, তার ১৯ একর ১৭ শতক জমিতে অনাদিকাল থেকে সাঁওতালেরাই চাষবাস করছিল। কিন্তু বিষয়বুদ্ধি নেই বলে, আর শিক্ষা-দীক্ষার অভাবে এসব জমির দলিল-রেকর্ড তারা করে উঠতে পারেনি। আর পারলেই-বা কী, ভূমি দপ্তর, সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে নকল দলিলের ভিত্তিতে সেই সব জমি কেড়ে নেওয়া খুবই সহজ। আমেরিকায় একসময় স্বর্ণ শিকারিরা গোল্ড রাশের জন্ম দিয়েছিল, বাংলাদেশে এখন চলছে ভূমিদস্যুদের ল্যান্ড রাশ তথা ভূমিগ্রাসের ছিনিমিনি খেলা। এই খেলায় সাঁওতাল-আদিবাসীসহ প্রান্তিক হিন্দু-মুসলমান বাঙালির জেতার সম্ভাবনা খুবই কম।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমস্যা নিরসনে একটা ভূমি কমিশন সরকার গঠন করেছে। অনুরূপ কমিশন সাঁওতালদেরও দাবি। এর জন্য আইন লাগবে, লাগবে ভূমি প্রশাসনের দুর্নীতি বন্ধ করা। কিন্তু কে করবে?
তিন.
দিনাজপুর থেকে পার্বতীপুরে যাওয়ার পথে এক স্কুলের মাঠে দুজন মানুষকে ঘুরে ঘুরে ঢোল আর মাদল বাজাতে দেখে থামি। মাঠের প্রান্তে সাদা কাপড়ের প্যান্ডেলে প্রমাণ আকারের দুই যোদ্ধামূর্তি। হাতে তির-ধনুক আর পুরু গোঁফ দেখে চিনতে পারি, সাঁওতাল বিদ্রোহের নায়ক, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের পথপ্রদর্শক সিধো ও কানোর মূর্তি। পাশেই আদিবাসী কমিউনিটি সেন্টার। সেখানকার মণ্ডপে প্রতি সন্ধ্যায় বাতি দেওয়া হয়, ঢোল-মাদলের নাচে আর পুষ্পে সাঁওতালদের জাতীয় বীরদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। মাঠের দুই পাশে বালক ও বালিকাদের জন্য আলাদা দুটি বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় ও কমিউনিটি সেন্টারের এত জমি কোথা থেকে এল? জটলার ভেতর থেকে জবাব দিলেন হাড্ডিসার প্রৌঢ় একজন। হাসতে হাসতে বুকে হাত দিয়ে বললেন, ‘আমি দিসি।’
অবাক চোখে লুঙ্গি-শার্ট পরা ছোটখাটো মানুষটার ফোকলা মুখটায় তাকিয়ে থাকি।
সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, ঢোল-মাদল নিয়ে ওরা উঠে দাঁড়াল। কোথায় যায়? বলে, নসিপুরে এক বাড়িতে বিয়া। সেখানে বাজনা বাজাব, নাচব। আর কী করব?
হারিয়ে ফেলার আগেই এই আদিবাসী দাতা হাতেম তাইয়ের নাম জানতে চাইলাম। আকাশি রঙের শার্টের বুক পকেটের কাছটায় আবারও হাত দিয়ে মানুষটা উত্তর করে, ‘আমার দাদা ডুলু মুর্মু, বাবা মঙ্গল মুর্মু আর আমি নরেশ মুর্মু। এই সব জমি আমাদের দান।’
এখন কত জমি আছে আপনার?
চলে যাওয়ার আগে অবলীলায় হা হা হা হেসে লোকটা বলে, ‘কিসসু নাই।’
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com
Source: http://www.prothom-alo.com/opinion/article/570472/%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%AD%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%AA%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A6%9B%E0%A6%BF

Share:

Saturday, July 4, 2015

ফের ভুলের হুল, বিরসাও সাঁওতাল বিদ্রোহে

কলকাতা ১ জুলাই, ২০১৫, ০৩:৪৭:০৪

4
‘ডহরবাবু’র পর এ বার ‘সাঁওতাল বিদ্রোহের অমর শহিদ বিরসা!’ চার বছরের ব্যবধানে হুল দিবসেই আবার ভুল।
সিধো-কানহো ডহরে সাঁওতাল বিদ্রোহের শহিদ স্মরণের অনুষ্ঠানে সিধো ও কানহো মুর্মুর উত্তরসূরিদের সংবর্ধনা দেওয়ার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খোঁজ করেছিলেন, ‘ডহরবাবু’র পরিবারের লোক কেউ আছেন কি না। সেটা ২০১১-র ৩০ জুনের ঘটনা।  ডহর বা চলার পথকে মুখ্যমন্ত্রী মনে করেছিলেন, সাঁওতাল বিদ্রোহের কোনও শহিদের নাম।
আর মঙ্গলবার, এ বছরের হুল দিবসে সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ‘সাঁওতাল বিদ্রোহের অমর শহিদ সিধো-কানহো-বিরসা’র প্রতি অন্তরের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তবে নিজের মুখে নয়। তাঁর সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর মুখ্যমন্ত্রীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপক বিজ্ঞাপনটি দিয়েছে। সেখানেই সিধো-কানহোর পাশে বসানো হয়েছে বিরসা মুন্ডার নাম। ঘটনাচক্রে, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরও মমতারই হাতে।
রাজ্যের বিজ্ঞাপন বিরসাকে সাঁওতাল বিদ্রোহের ‘অমর শহিদ’ বলে অভিহিত করলেও ইতিহাস কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে। প্রথমত, বিরসা সাঁওতাল নন। ফলে সাঁওতাল বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি মুন্ডা বিদ্রোহের নেতা। দ্বিতীয়ত, সাঁওতাল বিদ্রোহ আর মুন্ডা বিদ্রোহের সময়কালও এক নয়। ফলে হুল দিবসে বিরসাকে স্মরণ করার যুক্তি নেই। সাঁওতাল বিদ্রোহের সূচনা ১৮৫৫-র ৩০ জুন আর শেষ ১৮৫৬-র জানুয়ারিতে। ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, বিরসার জন্ম হয় সাঁওতাল বিদ্রোহের ২০ বছর পরে, ১৮৭৫ সালে। তাঁর নেতৃত্বে মুন্ডা বিদ্রোহের সময়কাল ১৮৯৯ থেকে ১৯০০ সাল।
স্বাভাবিক ভাবেই এ দিন ছেপে বেরনো এই সরকারি বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আদিবাসী সমাজের গড়ন নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন পশুপতিপ্রসাদ মাহাতো। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা যারা মঙ্গলবার দিনভর হুল উৎসব উদযাপন করছি, তারা এই বিজ্ঞাপন দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছি।’’ তাঁর বক্তব্য, বিরসার আন্দোলন সিধো-কানহোর আন্দোলনের প্রায় অর্ধ শতক পরের ঘটনা। দু’টোকে এক পংক্তিতে আনা কোনও ভাবেই উচিত নয়। পশুপতিবাবু বলেন, ‘‘রাজ্যের বিজ্ঞাপন, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর নামে যখন বিজ্ঞাপন বেরোচ্ছে, সেখানে এ ধরনের ভুল অভিপ্রেত নয়।’’

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস শিক্ষক কিংশুক চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বিরসা মুন্ডাকে সাঁওতাল বিদ্রোহের শহিদ বলে উল্লেখ করা হলে সেটা ইতিহাসের চোখে অবশ্যই ভুল। কিংশুকবাবুর কথায়, ‘‘সাঁওতাল বিদ্রোহ আর মুন্ডা বিদ্রোহের মধ্যে ৪৪ বছরের ফারাক। সময়কাল শুধু নয়, দু’টো বিদ্রোহের ক্ষেত্র, পরিপ্রেক্ষিত, লক্ষ্য, চরিত্র সবই আলাদা।’’ ইতিহাসবিদদের অনেকেরই মতে, সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল ‘দিকু’-দের বা সামগ্রিক ভাবে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে, যাদের মধ্যে ইংরেজ শাসক, উচ্চবর্ণের জমিদার, জোতদারেরা সকলেই ছিলেন। আর মুন্ডা বিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল, ব্রিটিশ রাজের অবসান ঘটিয়ে মুন্ডা শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়নমন্ত্রী ও আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি সুকুমার হাঁসদাকে এ দিন এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি আজ সারা দিন হুল দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত আছি। কোথায় কী বিজ্ঞাপন বেরিয়েছে, সেটা না দেখে মন্তব্য করতে পারব না।’’
তবে মুখ্যমন্ত্রীর নামে বিজ্ঞাপনটি বেরোলেও সেটি দিয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। সেই দফতরের সচিব ও আধিকারিকেরা এই ভুল করলেন কী ভাবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রসঙ্গত ‘ডহরবাবু’ অধ্যায়ে বেশ কয়েক জন সচিব, আধিকারিক বলেছিলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর ভুল শুধরে দিতে গিয়ে চাকরিটা খোয়াই আর কী!’’ কিন্তু এ বার বিজ্ঞাপনের ভুল নিয়ে আঙুল প্রাথমিক ভাবে উঠেছে সচিব ও অন্য অফিসারদের দিকেই। তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে এ দিন বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএস-এরও উত্তর দেননি। বিরোধীদের বক্তব্য, এমন ভুল একেবারেই অভিপ্রেত নয়। কংগ্রেস নেতা মানস ভুঁইয়ার অভিযোগ, ‘‘এটা বিপজ্জনক ভাবে ইতিহাসের বিকৃতি।’’ আর সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের মন্তব্য, ‘‘যে মুখ্যমন্ত্রী হুল দিবসে ডহরবাবুকে খুঁজতে শুরু করেছিলেন, তাঁর সরকারের কাছে এমন বিজ্ঞাপন অপ্রত্যাশিত নয়।’’

http://www.anandabazar.com/state/mamata-makes-ridiculous-howler-again-describes-birsa-a-santal-rebel-1.168462
Share:

Wednesday, June 10, 2015

Santal Revolt In Jharkhand,Sido-Kanhu

Santal Revolt In Jharkhand,Sido-Kanhu

Baba Tilka Majhi was first Santal leader who had taken up the arms against the powerful Britishers (East India Company) in the year 1789. The Britishers done the combing operation in the Tilapore forest from which Baba Tilka Majhi was operating but he and his men held the enemy at bay for several weeks.

When he was finally arrested in 1784, he was tied to the tail of a horse and dragged all the way to the District collector's residence at Bhgalpur city. There, his lacerated body was hung from a Banyan tree. A mamoth statue to the heroic leader was erected at the spot after the independence of the country. 

Hul Movement Sido- Kanho


Hul is a celebrated Santali term that suggests a movement for liberation. Santals in Santal Paragana an area of Jharkhand belongs to Santali tribe.

Santal Hul was one of the toughest and memorable uprise against the powerful britishers  in the history of Indian freedom struggles causing greatest number of loss of lives and property during that time.The number of causalities of Santal Hul was atleast 20,000 as per Hunter who wrote it in annals of Rural Bengal. 
The Santal Hul of 1855-57 was mobilized by four brothers named Sidhu, Kahnu, Chand and Bhairav; a heroic episode in India's prolonged struggle for freedom. It was, in all probability, the fiercest liberation movement launched by the tribal people in India next to Great Sepoy revolution in 1857.

With the annexation of political power of India by the East India Company, the natural habitats of the indigenous (Adiwasi) people including the Santals began to shatter by the intruders like moneylenders and the officials of East India Company. Traders and revenue farmers, who descended upon them in large numbers under the shelter and support of the Company

Their practices were quite exploitive Believe it or not!, but the  interest rates charged  on loan to the poor and illiterate Santals ranged between  50% to 500%.

These moneylenders were, needless to mention the crucial links in the chain of ruthless exploitation under company rule. They were the tools through which the tribal’s and other local people were brought within the influence and control of the colonial strategy.

The undercurrent had been simmering in the Santal Paraganas from the early decades of the nineteenth century owing to most naked exploitation of the Santals by both the Company officials and their collaborators, native immigrants.

Sido Murmu and Kanhu Murmu, an young and visionary man hailing from the village Bhognadih in Sahibganj district currently in tribal state Jharkhand, had long been brooding over the injustices perpetrated by the oppressors like hundreds and hundreds of their tribe's men.

The situation finally reached a burst point and, not surprisingly, a small episode that took place in July 1855 sparked one of the historical fiercest uprisings that the British administration ever faced in the country.

The emergence of Sido and Kanhu, youthful, dynamic and charismatic, provided a rallying point for the Santals to revolt against the britishers and their supporters.

On 30th June 1855, thousands of Santals assembled in a field in Bhagnadihi village of Santal Paragana, They declared themselves as free and took oath under the leadership of Sido and Kanhu to fight unto the last against the Britishers and their supporters.

Mounting Militant mood of the Santals frightened the British authority.A Police agent confronted them on the 7th July and tried to place the Sido and Kanhu arrested. The angry crowd reacted violently and killed the Police agent and burn the Police station. The event triggered a series of confrontations with the Company's Army and subsequently reached the scale of a full-fledged war.

At the outset, Santal rebels, led by both brother, made tremendous sucess and  they captured control over a large area of the country extending from Rajmahal hills in Bhagalpur district to Sainthia in Birbhum district. For the time being, Company rule in this vast area became completely paralyzed.

Several moneylenders and native agents of the Company were killed by the santhal's. Local British administrators had taken shelter in the Pakur Fort to protect their life. However, they rebel could not hold on to their gains due to the superior Military power of the East India Company came down heavily on them.

The courage, chivalry and sacrifice of the Santals people were countered by the Company with veritable butchery. Out of 50,000 Santal participated in the revolt, 15,000 to 20,000 were killed by the British Indian Army. The Company was finally able to suppress the rebellion in 1856, though some outbreaks continued till 1857.

The Santals showed great bravery, resilience and incredible courage in the fight against the Britishers. As long as their national drums continued beating, the whole party would stand and allow them to be shot down. There was no sign of yielding. Once forty Santals refused to surrender and took shelter inside a mud house. The troops surrounded the mud house and fired at them but Santals replied with their arrows. Then Soldiers made big hole through muddy wall, and the Captain ordered them surrender but they again shot a volley of arrows through the hole and Captain again asked them to surrender but they continued shooting arrows. Some of the soldiers were wounded. At last when the discharge of arrows from the door slackened, the Captain went inside the room with soldiers. He found only one old man grievously wounded, standing erect among the dead bodies. The soldier asked him to throw away arms, but instead he rushed on him and killed him with his battle axe.

It is believed that Sido was arrested by the British forces through treachery and Kanhu through an encounter at Uparbanda and was subsequently killed in captivity. The Santal Hul, however, did not come to an end in vain. It had a long-lasting impact. Santal Parganas Tenancy Act was the outcome of this struggle, which dished out some sort of protection to the indigenous people from the ruthless colonial exploitation. The understanding the mistake, tired to appease the Santals by removing the genuine grievances. Santal territory was born. The regular police was abolished and the duty of keeping peace and order and arresting criminals was vested in the hands of parganait and village headman.

http://inficentre.blogspot.com/2011/10/santal-uprise-in-jharkhand.html

Share:

Thursday, May 28, 2015

শত বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সাঁওতাল পল্লীতে মানিকছড়ি

বিংশ শতাব্দির শুরুতে ভারতের আসাম ও মায়ানমারের আরাকান থেকে পার্বত্য খাগড়াছড়ির দুর্গম জনপদ লক্ষ্মীছড়ি ও মানিকছড়িতে সাঁওতালদের আগমন। তখন থেকে এসব গ্রামের নামকরণ হয় সাঁওতাল পল্লী। এর একটি মানিকছড়ি উপজেলার ধাইজ্যা পাড়ার সাঁওতাল পল্লী। যুগের পর যুগ মৌলিক অধিকার বঞ্চিত এখানকার সাঁওতাল অধিবাসীরা।

সরজমিন ঘুরে জানা গেছে, ১৯২০ সালে ভারতের আসাম এবং বর্তমান মিয়ানমারের আরাকান থেকে এ অঞ্চলে সাঁওতালদের প্রত্যাবর্তন। খাগড়াছড়ির দুর্গম জনপদ মানিকছড়ির ধাইজ্যা পাড়াস্থ সাঁওতাল পল্লীতে ২৬ পরিবারে দু’শতাধিক সাওতালের বসবাস। অসহায় সাঁওতালরা শত বছরেও পায়নি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পয়ঃনিষ্কাশন, বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা। তারা তাঁদের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা-দীক্ষায় এগিয়ে নিতে পারেনি। কারণ আজোও এ পল্লীর আশে-পাশে গড়ে ওঠেনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয় এসব পল্লীর প্রতিটি শিশু অপুষ্টিতে ভোগছে। শিশু, কিশোরী ও গর্ভবতী মা কিংবা গৃহবধু সকলে স্বাস্থ্য সেবা অথবা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সর্ম্পকে জানেন না কিছুই। অভাব-অনটনের কারণে প্রতিনিয়ত পরের জমিতে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন সাঁওতাল নর-নারীরা। আর শ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে চলে তাদের সংসার। তবে গ্রামের নামকরণ হয়েছে সাঁওতালপাড়া এটাই যেন তাঁদের কাছে বড় পাওনা। গত সোমবার সরজমিনে গেলে কথা হয় প্রবীণ ব্যক্তি ও সর্দার (কার্বারী) গণেশ সাঁওতাল (৬৭) ও তাঁর পুত্র মিলন সাঁওতালের (৩৫) সাথে। এ গ্রামে জন্ম নেওয়া গণেশ সাঁওতাল জানান, তাঁদের সংগ্রামী জীবনে অধরা মৌলিক অধিকারের কথা। এ গ্রামে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই ফলে পাশ্ববর্তী রাঙ্গাপানিস্থ (৪কিলোমিটার দূরে) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়ালেখা করা ছেলে-মেয়েদের ভাগ্যে জুটে না। তাও আবার প্রতিটি পরিবারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী! পুরুষের পাশা-পাশি নারীরা ও পরের জমিতে শ্রম দিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। গ্রামের নারীরা স্বাস্থ্য সম্পর্কে তেমন সচেতন নন। শিশুদের টিকা ও গর্ভবর্তী মায়েদের চিকিৎসায় তারা এক সময় ছিল অজ্ঞ। বর্তমানে এ বিষয়ে কিছুটা অবগত হলেও গ্রামে সচরাচর কোন পরিবার পরিকল্পনা কর্মী আসে না। মাসে, দু’মাসে আসলেও নগদ টাকা দিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কিনে খেতে হয়! রাস্তাঘাটের অভাবে জরুরি প্রয়োজনে তারা উপজেলা সদরে (৮ কিলোমিটার) আসতে নানা বেগ পেতে হয়। এখানে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় তাঁরা বাংলা ভাষার পাশা-পাশি মাতৃভাষা বিলুপ্তির আশংকা করছে। গ্রামের অধিকাংশ নারী ও পুরুষরা শ্রম দিতে মাঠে থাকায় গ্রামে গিয়ে সবাইকে পাওয়া যায়নি। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যেতে দেখা গেল পাহাড়ের ছড়া বা খাল থেকে ঝর্ণার (কূফ) পানি নিচ্ছে মায়েরা। তারা জানালেন, নালা এবং কূফের পানি আমরা নিয়মিত ব্যবহার করি। খোলা জায়গায় (নদীর পাড়ে) পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা। এ সময় কথা হয় তিনটহরী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য ও গ্রাম্য চিকিৎসক মো. মিজানুর রহমানের সাথে তিনিও অপকটে স্বীকার করলেন, সাঁওতাল পাড়ার অজ¯্র সমস্যার কথা। এই যখন মানিকছড়ির সাঁওতালপাড়ার অসহায় মানুষের জীবন চিত্র, তখন ভাবাই যায় সাঁওতালরা আজ সমাজে কত অবহেলিত। এ প্রসঙ্গে কথা হয় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বাবুলের সাথে। তিনি জানান, শুনেছি সাঁওতাল পল্লীতে অনেক সমস্যা আছে। তবে মৌলিক অধিকার বঞ্চিত এটা ভাবিনি। অচিরেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাসহ সাঁওতালদের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

Source:  http://www.dainikpurbokone.net/
Share:
Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo