Tuesday, November 8, 2016

রংপুর চিনিকলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি১০:৩৭, নভেম্বর ০৭, ২০১৬ 
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে দখলদার অধিবাসীসহ (সাঁওতাল) কতিপয় বাঙালিকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ ও র‌্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের উচ্ছেদ করে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, পুলিশ পাহাড়ায় চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী রবিবার সকালে রংপুর চিনিকলের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাগদা-কাটা সংলগ্ন সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমির আখ কাটতে যায়। কিন্তু খামারের জমি অবৈধভাবে দখল করে থাকা আধিবাসীসহ (সাঁওতাল) কতিপয় বাঙালি তাদের বাঁধা দেয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশ ও চিনি কলের শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর তীর ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ বেশ কয়েকটি টিআর সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আদিবাসীদের (সাঁওতাল) ছোড়া তীরে ৯ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এছাড়া উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২১ জন আহত হন।
এদিকে, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে রবিবার বিকালে মুঠোফোনে দাবি করেন, পুলিশের ছোড়া গুলিতে আমাদের চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। এর মধ্যে একজনের মাথায়, একজনের কোমরে ও দুইজনের পায়ে গুলি লাগে।
ওসি সুব্রত আরও জানান, রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত পুলিশ ও র‌্যাব যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে ওই জমিতে অবৈধভাবে এক চালা ঘর তৈরি করে দখল করে থাকা অধিবাসীসহ (সাঁওতাল) কতিপয় বাঙালিকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
সাহেবগঞ্জ ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী সরকার জানান, আখ কাটার নামে চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা আদিবাসিদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করলে এই সংঘর্ষ বাধে।
রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আউয়াল মুঠোফোনে বলেন, চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৯৬২ সালে আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় এক হাজার ৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে। তখন থেকে এসব জমিতে উৎপাদিত আখ চিনিকলে সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু দুই বছর আগে এসব জমি বাপ-দাদার দাবি করে আন্দোলনে নামে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজন। আন্দোলনের একপর্যায়ে তারা গত ১ জুলাই প্রায় ১০০ একর জমি দখলে নিয়ে একচালা ঘর নির্মাণ করে। ওইদিন থেকে তারা তীর-ধনুক নিয়ে জমি পাহাড়া দিচ্ছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, ১৯৬২ সালে জমি অধিগ্রহণের সময় চুক্তিনামায় বলা হয়, কখনও চিনিকল বা খামার বন্ধ হলে সেক্ষেত্রে ওইসব জমি সরকারের কাছে চলে যাবে। অথচ এলাকার কতিপয় সুবিধাবাদী ব্যক্তির উস্কানিতে সাঁওতালরা অবৈধভাবে চিনিকলের জমি দখল করে।
এ প্রসঙ্গে ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, কারও উস্কানিতে আন্দোলন করা হচ্ছে না। চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণের সময় জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে। সেখানে কখনও আখ ছাড়া অন্য ফসলের চাষ হলে প্রকৃত মালিকদের জমি ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু কিছুদিন ধরে ওইসব জমিতে ধান ও তামাক চাষ হচ্ছে। অথচ জমি ফেরত দেওয়া হয়নি। তাই দখলের ঘটনা ঘটে।

উৎস:http://www.banglatribune.com/country/news/154909/%E0%A6%B0%E0%A6%82%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%81-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0

No comments:

Post a Comment