Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Monday, February 4, 2013

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মাহ্‌লে

হাসনুল কায়সার মাহ্‌লে দেশের একটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তা। রাজশাহী, দিনাজপুর, জয়পুরহাট ও রংপুর জেলায় প্রায় ৩০ হাজার মাহ্‌লে সদস্য বাস করে। মাহ্‌লেদের পূর্বপুরুষের বসবাস ছিল ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বুরু দিশামে (পাহাড়ে)। প্রায় শতবছর আগে মাহ্‌লেরা দামকুড়ায় আবাস গাড়ে। এখান থেকে তারা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তারা সান্তাল (সাঁওতাল) ও সাদ্রি মাহ্‌লে ভাষায় কথা বলে। তবে পড়ালেখা জানা মাহ্‌লেরা মাতৃভাষাসহ বাংলা ও ইংরেজি ভাষা জানে। তারা গৃহে মাতৃভাষায় কথা বললেও স্কুলে বা অন্য কোথাও বাংলায় কথা বলতে হয়। মাহ্‌লেদের মধ্যে এ পর্যন্ত দু'জন স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। তাদের একজন জাকারিয়াস ডুমরী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর। তিনি বলেন, 'বিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য আমাদের শিশুদের বেশ সমস্যা হয়। তারা সাধারণ বাঙালিদের সঙ্গে পড়াশোনা করতে গিয়ে পিছিয়ে পড়ে। ফলে আমরা রোমান হরফে মাহ্‌লে ভাষার বর্ণমালা তৈরি করেছি। যা অনুসরণ করে রাজশাহীর সুরসুনীপাড়া, সিনজাঘুটু ও পিপরা গ্রামের তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাহ্‌লে শিশুরা পরীক্ষায় ভালো করেছে।'মাহ্‌লেরা নাগপুরিয়া, সিকরয়া ও রাজমাহ্‌লে_ এই তিনটি গোত্রে বিভক্ত। মোট নয়টি পদবি তাদের-ডুমরী, বারে, কারকুশো, খাংগের, কাউরিয়া, মান্ড্রি, হাঁসদা, বাসকে ও বেসরা। এর মধ্যে ডুমরী, বারে, কারকুশো ও কাউরিয়া পদবির মাহ্‌লে বিলুপ্তপ্রায়। আংগির বাপলা ও সুনুম বাপলা_ এই দুই রীতিতে মন্ত্র পাঠ করে তাদের বিয়ে হয়। তবে কোনো মাহ্‌লে একই গোত্রে বিয়ে করতে পারে না। অন্যদিকে নিকটাত্দীয়ের মধ্যে বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিয়েতে ছেলে পক্ষকে মেয়ের বাবাকে পণ দিতে হয়। তারা পিতৃতান্ত্রিক সমাজরীতি মেনে চলে। পরিবারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষেরই আধিপত্য। তাদের পুত্রসন্তান উত্তরাধিকারী হিসেবে পিতার পদবি লাভ করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, মাহ্‌লেদের মধ্যে কোনো নারী নির্যাতন নেই।মাহ্‌লেদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন হলো, বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র তৈরি ও বিক্রি। বাড়ির যুবক-যুবতীরা প্রত্যেকেই বাঁশ দিয়ে নানারকম জিনিসপত্র তৈরিতে দক্ষ। ডামকুড়ার মাহ্‌লেরা বাঁশ দিয়ে ডালি (ঝুড়ি), কুলা, টুংকি (লবণ রাখার পাত্র), পাখা প্রভৃতি তৈরি করে। তারা এসব জিনিস বিক্রি করেন স্থানীয় বাজারে। বিক্রি পণ্য থেকে দিনে তাদের জনপ্রতি সর্বোচ্চ আয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এই স্বল্প আয়েই তাদের দিন চলে। তারা নিজেরা মিলেমিশে থাকতে পছন্দ করে। দেখা গেছে, দুপুরে খাওয়ার সময় একটি পরিবার অন্য ঘর থেকে তরকারি এনে কোনো রকম খেয়ে নিল। এ রকম লেনদেন নাকি প্রায়ই হয়। তাদের পছন্দের খাবার ভাতসহ ঝিনুক, শামুক, কাঁকড়া, সব রকমের মাছ ও শূকর। পুরুষ মাহ্‌লে ধুতি ও নারীরা শাড়ি পরে। স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা প্যান্ট-শার্ট ও মেয়েরা স্যালোয়ার-কামিজ পরে।মাহ্‌লেদের প্রধান উৎসব তিনটি_ জিতিয়া উৎসব, সূর্যাহী পূজা ও গোয়াল পূজা। সব উৎসবে নৃত্যগীতিতে পারদর্শী। ঝুমের তাদের প্রিয় নৃত্যগীতি। প্রায় প্রতিটি মাহ্‌লে সদস্য ঝুমের নৃত্যগীতিতে পারদর্শী। ঝুমের পরিবেশনে তারা জোড়া মাদল, মুরলী, বড় ঢোল, শাহানা (ছোট ঢোল), রেবেড় ও বাঁশি ব্যবহার করে। সাধারণ ভাদ্র ও ফাল্গুন মাসে তাদের প্রধান উৎসবগুলো পালিত হয়। উৎসবের দিন তারা গৃহকর্ম থেকে বিরত থাকে। এদিন গৃহকর্ম নাকি পারিবারিক অমঙ্গল ডেকে আনে। আর মৃত ব্যক্তিকে তারা পুড়িয়ে ফেলে।কুলা (হাটক) মাহ্‌লেদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুলা দিয়ে তারা ধান কিংবা চাল ঝেড়ে পরিষ্কার করে। আবার এই কুলাই মাহ্‌লেদের ধর্মীয় প্রতীক। ধর্মীয় আচার-সম্পৃক্ত। তারা বিশ্বাস করে, কুলার ওপর যদি কোনো ছোট বাচ্চা বসে, তাহলে তার মামার বাড়ির লোকজন গরিব হয়। বাস্তবেও মাহ্‌লেরা বেশ গরিব। তারা চায় নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে। এই ক্ষুদ্র জাতিসত্তা নিশ্চয়ই তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে টিকে থাকবে। Source: http://www.bd-pratidin.com/print_news.php?path=data_files/33&cat_id=3&menu_id=25&news_type_id=1&index=0*********************************************************************************** 
Share:

0 comments:

Post a Comment

Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo