Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Thursday, April 27, 2017

সাঁওতালি ভাষায় বই মুদ্রণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ

নিউজজি প্রতিবেদক ১৮ এপ্রিল, ২০১৭, ১৯:১০:৫৯

ঢাকা: সাঁওতালি ভাষায় (রোমান হরফ) পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও পাঠদানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা) সভাপতি করে কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এই কমিটিকে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিনিধির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে সংসদীয় কমিটিতে প্রতিবেদন দেয়ার কথাও বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চইলে কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘যেসব এলাকায় সাঁওতালরা বাস করেন, আমরা সেসব এলাকার এডিসিকে (শিক্ষা) সভাপতি করে রোমান হরফে সাঁওতালি ভাষায় বই মুদ্রণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে এবং এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছি।’
কমিটির সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, ‘আমরা কমিটির আগের বৈঠকেই সাঁওতালি ভাষায় বই ছাপানোর সুপারিশ করেছি। মন্ত্রণালয়ও আমাদের সঙ্গে একমত। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও কারিকুলাম বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আর এবারের বৈঠকে বই মুদ্রণের বিষয়ে সাঁওতালদের মতামত নিতে সংশ্লিষ্ট জেলার এডিসি (শিক্ষা)-কে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।’
সরকার এর আগে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ওঁরাও (সাদ্রি) এবং গারো জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য তাদের মাতৃভাষায় বই মুদ্রণ করেছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে এই বই চালু হয়েছে। আগামীতে অন্যান্য শ্রেণিতেও এসব ভাষায় বই মুদ্রণ হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
বৈঠকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিত্তবান অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তায় মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু রাখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মা সমাবেশ’-এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপরে জোর সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া যেসব বিদ্যালয়ে ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত সমাপনী পরীক্ষা নেয়া হয়েছে, সেসব বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের আওতায় আনার  সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি মো. মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, সামশুল হক চৌধুরী, মো. আব্দুর রহমান, মো. নজরুল ইসলাম বাবু, মো. আবুল কালাম, আলী আজম, মোহাম্মদ  ইলিয়াছ এবং উম্মে রাজিয়া কাজল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
নিউজজি/টিএফ/এমকে

Share:

Wednesday, April 19, 2017

সাঁওতালি ভাষায় পাঠ্যবই মুদ্রণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০
সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জন্য সাঁওতালি (রোমান হরফ) বর্ণমালায় পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও পাঠদানের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা) সভাপতি করে কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। ওই কমিটিকে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদীয় কমিটিতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। গতকাল সংসদ ভবনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব এলাকায় সাঁওতালরা বাস করেন, আমরা সেসব এলাকার এডিসিকে (শিক্ষা) সভাপতি করে রোমান হরফে সাঁওতালি ভাষায় বই মুদ্রণের সম্ভাবতা যাচাই করে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছি।’
চলতি বছর সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, সাদ্রী ও গারো ভাষায় বই মুদ্রণ করেছে। আগামীতে অন্যান্য শ্রেণিতেও এসব ভাষায় বই মুদ্রণ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাঁওতাল জনগোষ্ঠী বাংলা বর্ণমালায় বই না ছাপিয়ে রোমান হরফে তাদের ভাষায় মুদ্রণের দাবিতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন করে।
এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিত্তবান অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তায় ‘মিড ডে মিল’ কার্যক্রম চালু রাখার কথা বলা হয়। এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মা সমাবেশ’-এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জোর সুপারিশ করা হয়।
http://www.dainikamadershomoy.com/todays-paper/khobor/75215/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%87-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B6
Share:

রোমান হরফে সাঁওতালি ভাষার পাঠ্যপুস্তকের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুপারিশ

এ কমিটিকে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদীয় কমিটিতে প্রতিবেদন দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চইলে কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু সাংবাদিকদের বলেন, “যেসব এলাকায় সাঁওতালরা বাস করেন, আমরা সেসব এলাকার এডিসিকে (শিক্ষা) সভাপতি করে রোমান হরফে সাঁওতালি ভাষায় বই মুদ্রণের সম্ভাবতা যাচাই করে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছি।”
কমিটির সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, “আমরা কমিটির আগের বৈঠকেই সাঁওতালি ভাষায় বই ছাপানোর সুপারিশ করি। মন্ত্রণালয়ও আমাদের সাথে একমত। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও কারিকুলাম বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
“আর আজকের বৈঠকে বই মুদ্রণের বিষয়ে সাঁওতালদের মতামত নিতে সংশ্লিষ্ট জেলার এডিসি শিক্ষাকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।”
চলতি বছর সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, সাদ্রী ও গারো ভাষায় বই মুদ্রণ করে। আগামীতে অন্যান্য শ্রেণিতেও এসব ভাষায় বই মুদ্রণ হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
প্রাক-প্রাথমিক স্তরে সাঁওতালি ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের দাবিতে সান্তাল লেখক ফোরাম ও আদিবাসী সমন্বয় পরিষদ গত ৬ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন করে
প্রাক-প্রাথমিক স্তরে সাঁওতালি ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের দাবিতে সান্তাল লেখক ফোরাম ও আদিবাসী সমন্বয় পরিষদ গত ৬ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন করে
ইতোমধ্যে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী বাংলা বর্ণমালায় বই না ছাপিয়ে রোমান হরফে তাদের ভাষায় মুদ্রণের দাবি করেছে।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিত্তবান অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তায় মিড ডে মিল কার্যক্রম চালু রাখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মা সমাবেশ’ এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জোর সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া যে সমস্ত বিদ্যালয়ে ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে সরকারিকরণের আওতাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি মো. মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, সামশুল হক চৌধুরী, মো. আব্দুর রহমান, মো. নজরুল ইসলাম বাবু, মো. আবুল কালাম, আলী আজম, মোহাম্মদ  ইলিয়াছ এবং উম্মে রাজিয়া কাজল অংশ নেন। 

http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1321801.bdnews
Share:

Thursday, February 23, 2017

The Santals of Bangladesh Observing The International Mother Language Day, GOGO PẠRSI MÃHÃ



The Santals of Bangladesh Observing The International Mother Language Day, GOGO PẠRSI   MÃHÃ

   *******************************************************************************************
    ****************************************************************************************

Share:

Wednesday, February 1, 2017

সাঁওতালপল্লীতে পুলিশের আগুন: তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর আদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি


  নিজস্ব প্রতিবেদক । ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
 গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কিছু পুলিশ সদস্য সরাসরি জড়িত মর্মে হাইকোর্টে পেশ করা তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর আদেশের জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এই আদেশ দেন। গত সোমবার আদালতে ওই প্রতিবেদন পেশ করেন
গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্লাহ।
এ ব্যাপারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দাখিল করা প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত ৭ ফেব্রুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেছেন।
এদিকে ৬৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোর ঘটনার জন্য স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এবং ঘটনার সময় দায়িত্বরত দুজন পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) ১ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আল জাজিরা টেলিভিশনে সম্প্রচার করা ভিডিও ক্লিপ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু পুলিশ সদস্য এবং ২ জন সিভিল পোশাকধারী ব্যক্তি সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোয় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। আরও কিছু পুলিশ সদস্য কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেননি।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, চামগাড়ি বিল ও কুয়ারমারা নামক স্থানে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে। সাহেবগঞ্জ ও হরিণমারী এলাকায় সন্ধ্যা ৭টার পরে আগুন লাগানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখে বসতি স্থাপনকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে প্রাণ বাঁচানোর জন্য আগুন লাগানোর আগেই তাদের স্থাপনা থেকে প্রায় ৫০০/৬০০ গজ দূরে মাদরপুর ও জয়পুর গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় আশ্রয় নেয় বলে সাক্ষীদের বক্তব্যে সুস্পষ্ট হয়েছে।

তবে কোনো কোনো সাক্ষী তাদের জবানবন্দিতে আগুন লাগানোর ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলেও তাদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পোশাক পরিহিত থাকায় সাঁওতালদের স্থাপনায় তাদের সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঘটনার পর গত ১৪ ডিসেম্বর পুলিশ জড়িত কিনা সে বিষয়ে তদন্তের জন্য গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
http://www.dainikamadershomoy.com/todays-paper/firstpage/61821/%E0%A6%A4%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%93%E0%A6%AA%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A7%AD-%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF
Share:

সাঁওতালপল্লীতে অগ্নিসংযোগ: জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই

গাইবান্ধার সাঁওতালপল্লীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের কিছু সদস্য সরাসরি জড়িত—বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশের একজনসহ তিন পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এলেও তাদের নাম নিশ্চিত করে বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি।
এর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দিন সেখানে কারা কর্তব্যরত ছিলেন সে তালিকা পুলিশের কাছে চাওয়া হয়েছিল। তালিকা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটিকে পুলিশ দেয়নি। এই অসহযোগিতা দুঃখজনকই শুধু নয়, উদ্বেগজনকও। সাঁওতালপল্লীতে অগ্নিসংযোগের ভিডিও ধারণ করা আছে। খতিয়ে দেখলে অগ্নিসংযোগকারীদের পরিচয় অবশ্যই জানা যাবে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পোশাক পরে, ব্যাজ লাগিয়ে যারা এমন জঘন্য অপরাধে জড়াতে পারে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতেই হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি পরবর্তী শুনানির দিনে দুজন বিচারপতির হাইকোর্ট বেঞ্চে উত্থাপন করা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, বিচারিক প্রক্রিয়ায় অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে। আইনের চোখে সবাই সমান। দায়ী পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহির আওতায় আনার সঙ্গে পুলিশের ভাবমূর্তি ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টিও জড়িত। আইনের রক্ষকরাই সংঘবদ্ধভাবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা হুমকির মধ্যে পড়ে। বিপদগ্রস্ত মানুষ তখন আরো বেশি করে বিপন্ন বোধ করে। পুুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা অনেক আগেই তলানিতে পৌঁছেছে। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনসহ অনেক ঘটনায় আইনের রক্ষকদের জড়িত থাকার ঘটনায় মানুষ অসহায় বোধ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুদায়িত্ব কারো কারো জন্য হয়ে উঠেছে অপকর্মের অস্ত্র। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, শ্লীলতাহানি, জমি ও ফ্ল্যাট দখল, গ্রেপ্তার বাণিজ্য—এমন কোনো অপরাধ নেই তারা জড়াচ্ছে না। কনস্টেবল থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। বিষয়টি উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে গেলেও প্রতিরোধব্যবস্থাগুলো সন্তোষজনক নয়। হাতে গোনা কিছু ক্ষেত্রে চাকরিচ্যুতি, তিরস্কার ও সতর্ক করার মতো লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। মনে করা হয়, মামলা গ্রহণ, তদন্ত ও অভিযোগপত্র তৈরির কাজটি নিজেদের দায়িত্বে থাকায় অসৎ সুবিধা নিচ্ছেন পুলিশের অপরাধী সদস্যরা।
এই নৈরাজ্য থেকে বেরোনোর বাস্তবসম্মত পথ করতে হবে। পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন করারও দাবি জানাচ্ছেন অনেকে। তদন্তের নির্দেশ দিলেই চলবে না, সহযোগিতা বাধ্যতামূলক করতে হবে। পুলিশকে কেউ ক্ষমতা বা আর্থিক স্বার্থে ব্যবহার করলে তাদেরও ছাড় দেওয়া যাবে না।

http://www.kalerkantho.com/print-edition/editorial/2017/02/01/458643
Share:

ভাষার মাস: একুশের চেতনা ও মাতৃভাষার ব্যবহার

রিজওয়ানুল ইসলাম | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ
 একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে গিয়ে দেখেছিলাম একটি বর্ণিল প্রাচীরপত্রে লেখা: Love Bangla, use English. শ্রেণিকক্ষের সামনে দেয়ালে লেখা We shall communicate in English. কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হতেই পারে। সেটি মনে করিয়ে দেওয়ার মধ্যেও আপত্তির কিছু দেখছি না। শুধু যে ইংরেজি ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে তা-ই নয়, বাংলাকে ভালোবাসতেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তবে বাংলা ভাষাকে ভালোবাসলেই যে তার সঠিক ব্যবহার করতে পারব—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই| বাংলায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোই তার উদাহরণ। ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের উল্লেখ করে লেখা হতে পারে: ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য তারা (তাঁরা নয়) জীবন দিয়েছেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রায়ই ক্যামব্রিজ লেখা হয়। অর্থনীতির সংবাদে লেখা হয়: প্রথম প্রান্তিকে প্রবাসী আয় কমেছে। ইংরেজি quarter বা চতুর্থাংশের বাংলা হিসেবে প্রান্তিক শব্দটির ব্যবহার এখন প্রচলিত এবং তা নিয়ে কাউকে কোনো প্রশ্ন করতে শুনিনি। অথচ এই দুটি শব্দ সমার্থক, এ কথা কি কেউ বলতে পারবে?
ইংরেজি রেমিট্যান্স শব্দটি বাংলায় লেখা হয় অথবা তার বদলে প্রবাসী আয় শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়। প্রবাসীর পুরো আয়ই রেমিট্যান্স হিসেবে পাঠানো হয় কি? আসলে আমরা বলতে চাই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। হয়তোবা কোনো একসময় রেমিট্যান্স শব্দটিই বাংলা অভিধানে ঢুকে যাবে, যেমনটা হয়েছে চেয়ার, টেবিল এসব শব্দের বেলায়। আর এভাবেই একটি ভাষার বিকাশ ঘটে এবং তার ভান্ডার সমৃদ্ধ হয়। তবে আমার বইয়ের সম্পাদক যখন বলেন, ভাষার ব্যাপারে সতীত্বের প্রয়োজন নেই (যার অর্থ, কিছু ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করতে আপত্তি থাকা উচিত নয়), তখন আমি শঙ্কিত না হয়ে পারি না।
কয়েক বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলাম একজন শিক্ষক-বন্ধুর আমন্ত্রণে। প্রস্তুতি নিয়ে গিয়েছি বাংলায় বক্তৃতা দেওয়ার জন্য, অথবা আংশিকভাবে হলেও বিষয়গুলো বাংলায় ব্যাখ্যা করার জন্য। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের মতামত নিয়ে দেখা গেল যে কেউ বাংলায় প্রশ্নোত্তর লেখার পরিকল্পনা করছে না এবং বাংলায় বক্তৃতার বিশেষ কোনো চাহিদা নেই। অথচ সত্তরের দশকে, যখন আমি সেখানে শিক্ষক ছিলাম, চিত্রটি ছিল ভিন্ন। অনেক ছাত্রছাত্রী বাংলায় প্রশ্নপত্রের উত্তর দিত এবং শিক্ষকেরাও তাঁদের বক্তৃতায় বাংলা ভাষা ব্যবহার করতেন।
কেন এই বিপরীতমুখী প্রবণতা? একুশের চেতনা কি তাহলে ফিকে হয়ে গেছে?
রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে বাঙালি বুকের রক্ত দিয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে উন্মেষ ঘটেছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের, শুরু হয়েছিল স্বাধীনতাসংগ্রামের। একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি নিজেদের জন্য একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলা ভাষার যথাযোগ্য মর্যাদা এবং স্থান নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কিন্তু ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনে, অর্থাৎ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা কতটা সফল হয়েছি? এ বিষয়ে আমাদের যে কোনো সাফল্য নেই, তা নয়। তবে আমাদের অর্জন কি সন্তুষ্ট হওয়ার মতো? স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র অর্জনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অর্জন করেছি। তা সত্ত্বেও বাংলা ভাষার ব্যবহারকে সর্বজনীন করা এবং ভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ব্যাপারে আমাদের অগ্রগতি কতটা, এ নিয়ে প্রশ্ন করা যায়।
শিক্ষার দিকটিই দেখা যাক। উচ্চশিক্ষায় বাংলার ব্যবহারের প্রধান বাধা হচ্ছে প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই ও সহায়ক পুস্তকের স্বল্পতা। সেটা কাটিয়ে ওঠার জন্য এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করা দরকার ছিল শিক্ষক সম্প্রদায়ের। তার সঙ্গে প্রয়োজন ছিল বিভিন্ন বিষয়ে পরিভাষা প্রণয়নে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে উদ্যোগ। এ বিষয়ে স্বাধীনতা-উত্তরকালে যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নয়। কিন্তু সেখানে প্রয়োজন ছিল ধারাবাহিকতা এবং প্রাথমিক কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেখানেই আমাদের ব্যর্থতা। আর তার ফলে কী হয়েছে? যাঁরা বাংলা ভাষায় লিখছেন, তাঁরাও অনেক সময় ইংরেজি শব্দ মিশিয়ে সৃষ্টি করছেন একটি সংকর ভাষা। তা ছাড়া, নিজেরা বাংলা প্রতিশব্দ সৃষ্টি করতে গিয়ে জন্ম দিচ্ছেন ভুল প্রতিশব্দের। আর একবার কোনো প্রতিশব্দ চালু হয়ে গেলে সেটি ভুল কি শুদ্ধ, তা-ও বিচার করা হচ্ছে না। এই লেখার শুরুতেই সংবাদপত্রের ভাষা থেকে যে উদাহরণগুলো দিয়েছি, তা থেকে পাঠক নিশ্চয় কিছুটা আন্দাজ করতে পারছেন, আমি কী বলতে চাইছি।
শিক্ষা, পাঠ্যপুস্তক ও সংবাদপত্রের মতো আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রগুলোতে বাংলার ব্যবহারের যা অবস্থা তা থেকে অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রগুলোতে কী হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ঢাকা শহরের দোকানপাটে বাংলাতেই প্রায় সব নামফলক (সাইনবোর্ড) টাঙানো থাকত। সময়ের সঙ্গে সে ক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়েছে অনেক; বাংলাকে সরিয়ে এসেছে ইংরেজি, বিশেষ করে শহরের অভিজাত অঞ্চলগুলোতে। আর বাংলায় লিখলেও অনেকগুলোতে দেখা যায় ভুলের ছড়াছড়ি, যা কখনো কখনো হাস্যকর বা আপত্তিকর পর্যায়েও চলে যেতে পারে। বাংলা আমার মাতৃভাষা। সুতরাং আমি ভাবি, বাংলা লেখায় আমার ভুল হবে কেন! ভাষায় দক্ষতা আছে এমন কাউকে লেখাটি দেখিয়ে নিলেই যে ভুল এড়ানো যেতে পারে, সে কথাও আমাদের অনেকের মনে হয় না।
এই লেখায় যে অবস্থা বর্ণনা করা হলো তা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী? প্রথমত, সকল পর্যায়ে চাই আমার ভাষার প্রতি ভালোবাসা এবং অঙ্গীকার। আর সেটা শুধু ফেব্রুয়ারিতে নয়, সব সময়ই। দ্বিতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রয়োজন আরও সক্রিয়তা। এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করব বিভিন্ন বিষয়ে পরিভাষা নির্মাণের জন্য আরও কাজ করা। সে কাজ করতে হবে যত্ন ও নিষ্ঠার সঙ্গে, সম্পৃক্ত করতে হবে শুধু ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের নয়, প্রাসঙ্গিক বিষয়ের পণ্ডিতদেরও। তৃতীয়ত, জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে ভাষা শিক্ষায় শিক্ষকদের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ব্যবহারিক জীবনে তেমনি সংবাদপত্রগুলো ভাষা সঠিকভাবে ব্যবহারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সকল পর্যায়ে প্রয়োজন সদিচ্ছা, সচেতনতা এবং সক্রিয় উদ্যোগ।
রিজওয়ানুল ইসলাম: অর্থনীতিবিদ, ছড়াকার ও গল্পকার।
Share:

একুশের মুহূর্ত: আন্দোলনের তাত্ত্বিক পর্ব যেভাবে শুরু

 
আহমদ রফিক | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার পক্ষে নানা স্তরে লড়াই শুরু হয়েছিল বাহান্নরও বহু আগে থেকে। ভাষা আন্দোলনের বাঁকবদলের মুহূর্তগুলো নিয়ে আমাদের বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন—

পূর্ব বাংলায় ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রতিবাদী প্রকাশ হঠাৎ হাওয়ার আবির্ভাবের মতোই অভাবিত। কেউ এর জন্য প্রস্তুত ছিল না, ভাবনা বা পরিকল্পনা দূরে থাক। এর পূর্বাপর বৈশিষ্ট্য ঘটনার আকস্মিকতা ও প্রতিক্রিয়ার স্বতঃস্ফূর্ততা এবং তাতে অন্তর্নিহিত বাঙালিত্বের ভাষিক জাতীয়তাবোধ। তবে এ কথা ঠিক যে এ আন্দোলন একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধের মতো সশস্ত্র চরিত্রের নয়। বরং এটি ছিল শুরুতে নিরস্ত্র বাঙালি বুদ্ধিজীবীর কলমের লড়াই, পরে ছাত্র বুদ্ধিজীবী ও জনতার সম্মিলিত নিরস্ত্র লড়াই।
সূচনায় এ লড়াই অনেকটা বহুকথিত প্রবাদবাক্যের মতো ‘রাম জন্মাবার আগে রামায়ণ’ রচনার মতো ঘটনা। তাই দেখা যায়, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাস কয়েক আগেই পাকিস্তানের সম্ভাব্য রাষ্ট্রভাষার দাবিতে বিতর্ক ও বাদ-প্রতিবাদ মূলত বিবৃতি, মন্তব্য ও লেখার মাধ্যমে। পাকিস্তানবাদী রাজনৈতিক নেতা এবং পাকিস্তানি ভাবাদর্শের অনুসারী ও সমর্থক বুদ্ধিবৃত্তিক বলয়ের বিশিষ্টজনদের তাঁদের আগ বাড়িয়ে কথাবার্তা রাষ্ট্রভাষাবিষয়ক বিতর্ক ও প্রতিবাদের সূচনা ঘটায়। বাংলার পক্ষে প্রতিক্রিয়াও ঘটে যথারীতি।
এ জাতীয় ঘটনা শুধু যে রাষ্ট্রভাষাবিষয়ক বিতর্ক উসকে দিয়েছে তাই নয়, পূর্ববঙ্গে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং অবশেষে সংগঠিত আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে, ইতিহাস তৈরি করেছে। আর সে ইতিহাসের বাঁকফেরা সন্ধিক্ষণ হিসেবে কিছু ঘটনা তো বিশেষ মর্যাদায় চিহ্নিত হওয়ার যোগ্য। এমনকি এগুলোকে বলা যায় ইতিহাস-সৃষ্টির চালিকাশক্তির অনুঘটক।
ভারতে প্রায় দুই শতকের দীর্ঘ বিদেশি শাসনের অবসান ঘটে রক্তাক্ত ভূরাজনৈতিক বিভাজনের মাধ্যমে। ইতিহাসবিদগণ এ ঘটনাকে চিহ্নিত করেছেন ঐতিহাসিক ‘দক্ষিণ এশিয়া ট্র্যাজেডি’ হিসেবে। পশ্চাৎপদ বাঙালি মুসলমান দেশবিভাগ ও স্বতন্ত্রভুবন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মধ্যে তাদের অর্থনৈতিক ইচ্ছাপূরণের স্বপ্ন দেখেছিল। তাই পাকিস্তানের পক্ষে তাদের এককাট্টা ভোট-সমর্থন। কিন্তু এ ঘটনা নিশ্চিত হতে না হতে দেখা দেয় দুর্যোগের আভাস এবং তা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে।
এ সম্পর্কে দুটো বাঁকফেরা ঘটনা রাষ্ট্রভাষাবিষয়ক প্রতিবাদের জন্ম দেয়, যদিও তা তাত্ত্বিক চরিত্রের। ১৯৪৭ সালের ১৭ মে মুসলিম লীগের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা চৌধুরী খালিকুজ্জামান এক বক্তৃতায় বলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। এ বক্তব্য পূর্ববঙ্গবাসী বাঙালি আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের জন্য যে অশনি সংকেত, তেমন উপলব্ধি অন্তত কিছুসংখ্যক বাঙালি বুদ্ধিজীবী তথা কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকের প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশ পায়।
তখনো দেশবিভাগের কাটাকুটির কাজ বাস্তবে শুরু হয়নি। কলকাতা তখনো অবিভক্ত বঙ্গের রাজধানী। কিন্তু হাওয়ায় ভাসছে দেশবিভাগজনিত অস্থিরতা। এ পরিস্থিতিতে ভাষিক চেতনার আবেগে উদ্দীপ্ত হয়ে লেখক-সাংবাদিক আবদুল হক রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে যুক্তিতথ্য-সহকারে গোটা চার প্রবন্ধ লেখেন। প্রথমটির শিরোনাম ‘বাংলা ভাষাবিষয়ক প্রস্তাব’। এটি ১৯৪৭ সালের জুন মাসে দুই কিস্তিতে দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকায় ছাপা হয়।
একই লেখকের দ্বিতীয় প্রবন্ধ ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ ১৯৪৭ সালের ৩০ জুন দৈনিক আজাদ-এ ছাপা হয়। মাস খানেক পর ইত্তেহাদে-এ প্রকাশিত হয় তাঁর তৃতীয় প্রবন্ধ ‘উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে’। একই সময়ে একই বিষয়ে ইত্তেহাদ-এ তরুণ সাংবাদিক মাহবুব জামাল জাহেদী লেখেন রাষ্ট্রভাষাবিষয়ক প্রস্তাব। উল্লিখিত প্রথম লেখক শুধু বাংলাকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান। দ্বিতীয়জন উর্দুর পাশে বাংলা অর্থাৎ অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার দাবি তুলে ধরেন। এ সময়ে এ বিষয়ে লেখেন আরও কয়েকজন। সংস্কৃতি অঙ্গনে দেখা দেয় চাঞ্চল্য।
আর এতে জ্বালানি যোগ করেন বহুভাষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। আলীগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর পক্ষে অভিমত প্রকাশ করলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের জুলাইয়ে দৈনিক আজাদ-এ প্রবন্ধ লেখেন। শিরোনাম ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা’। এ ছাড়া এ সময় এ কে নুরুল হক, আবদুল মতীন (‘রাষ্ট্রভাষা মতিন’ নন) প্রমুখ বাংলা ভাষার পক্ষে সোচ্চার হন। সাপ্তাহিক মিল্লাত কড়া ভাষায় সম্পাদকীয় লিখে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করে।
অপেক্ষাকৃত ছোট পরিসরে হলেও প্রাক-পাকিস্তান পর্বে এ ঘটনাগুলো পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রভাষাবিষয়ক বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি করে, এমনকি অনুঘটকের ভূমিকাও পালন করে। বাংলা রাষ্ট্রভাষার পক্ষে এ জাতীয় তৎপরতা কারও মতে ‘ভাষা আন্দোলনের আদিপর্ব’, আমরা বলি ‘তাত্ত্বিক পর্ব’, যেহেতু প্রতিবাদ লেখার মাধ্যমে। এসব ঘটনা দ্রুতই রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে সচেতনতা সৃষ্টি করে, পরোক্ষে প্রেরণা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও আন্দোলনের। এ প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় পরবর্তী কয়েক মাসে বিশিষ্টজনের লেখালেখিতে।
আহমদ রফিক: ভাষাসংগ্রামী, কবি ও রবীন্দ্র-গবেষক
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1071805/%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81

Share:

তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন, আদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি: গাইবান্ধায় সাঁওতালপল্লিতে আগুনে জড়িত তিন পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন এবং ওই সময় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য দায়ী বলে বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে। আর আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে দুই পুলিশ ও এক ডিবি সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত বলা হয়েছে। তবে তাঁদের শনাক্ত করা যায়নি।
গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। আদালত ৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রেখেছেন।
আগুন দেওয়ায় পুলিশ সম্পৃক্ত বলে গণমাধ্যমে আসা খবর যুক্ত করে রিট আবেদনকারীদের করা এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেন।
আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত ও এতে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত কি না, তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ২৯ জানুয়ারি গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল দপ্তরে প্রতিবেদনটি জমা দেন, গতকাল তা আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু প্রতিবেদনের মতামত অংশ তুলে ধরে বলেন, আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে দুই পুলিশ ও এক ডিবি সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত বলা হয়েছে। তবে তাঁদের শনাক্ত করা যায়নি।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও আইনজীবী সামিউল আলম সরকার প্রতিবেদনের কপি পাননি বলে জানান। এরপর আদালত সংশ্লিষ্ট শাখাকে প্রতিবেদনের অনুলিপি ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পক্ষগুলোকে সরবরাহ করতে বলেন।
মোতাহার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবেদনের মতামত অংশে দেখা যায়, স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি ও পুলিশ সদস্যের মধ্যে দুজন এবং এক ডিবি সদস্য সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে প্রতিবেদনে তাঁদের নাম আইডেনটিফাই (চিহ্নিত) করা যায়নি। কারণ, তাঁরা হেলমেট পরা ছিলেন। এমনকি ভিডিওটি অনেক দূর থেকে ধারণ করা, তাই তদন্ত কমিটি এটা ডিটেক্ট (নাম শনাক্ত) করতে পারেনি। ওই ঘটনার দিন কারা দায়িত্বে ছিলেন ও তাঁদের তালিকার বিষয়ে এক প্রশ্নে মোতাহার হোসেন বলেন, ওই দিন যাঁরা কর্মরত ছিলেন, তাঁদের তালিকা পুলিশ সুপারের কাছে চাওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় আরেকটি তদন্ত কার্যক্রম চলছিল, ওই তালিকা সেখানে সরবরাহের কারণে তাৎক্ষণিক তা করা যায়নি।
গত বছরের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত ও কয়েকজন সাঁওতাল নিহত হন। এরপর সাঁওতালদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত ১৬ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্রতী সামাজিক কল্যাণ সংস্থা ও অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট একটি রিট করে।
 
Share:

সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশের আগুন দেয়ার বিষয়ে সুপ্রীমকোর্টে শুনানি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লীতে আগুন লাগানোর ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য ও দুইজন (ডিবি) গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যসহ মোট তিনজন জড়িত উল্লেখ করে সুপ্রীমকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনের বিষয়ে মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ঠিক করেছেন আদালত। জীবন বাঁচানোর তাগিদে ওষুধ প্রস্তুতকারী ২০টি কোম্পানির ওষুধ নিয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার অন্যতম আসামি র‌্যাব-১১-এর চাকরিচ্যুত অধিনায়ক তারেক সাঈদ ও পুলিশের এসআই পুর্ণেন্দ্র বালা খালাস চেয়ে আপীল করেছেন হাইকোর্টে। রেন্ট এ কারের চালক খুনের মামলায় চার আসামির ফাঁসি বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে এদের প্রতি অনুকম্পা দেখানোর কোন সুযোগ নেই। মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চগুলো এ আদেশ প্রদান করেছেন।
গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লীতে আগুন লাগানোর ঘটনায় প্রতিবেদন মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদেশের জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষে ও বিপক্ষের সকলকে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদনের কপি দেয়ার জন্যও বলা হয়েছে।
আদালতে মঙ্গলবার সাঁওতালদের পক্ষে ছিলেন- এএম আমিন উদ্দিন ও সামিউল আলম সরকার। অন্যদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে রবিবার সুপ্রীমকোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দাখিল করার পর সোমবার এফিডেভিট আকারে হাইকোর্টে এই প্রতিবেদন দাখিল করেন গাইবান্ধার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শহিদুল্লাহ। প্রতিবেদনের মতামত অংশে বলা হয়েছে, সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোর ঘটনার জন্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি এবং ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য দায়ী। এই আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে এক জন পুলিশ সদস্য ও দুই জন ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত।
এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনায় পুলিশ জড়িত কিনা সে বিষয়ে তদন্তের জন্য জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। পাশাপাশি সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহার দুটি সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের ব্যবস্থা করতে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে নির্দেশ দেয়া হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, এ্যাডভোকেট সামিউল আলম সরকার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

তারেক সাঈদ ও এসআই বালার খালাস চেয়ে আপীল
 
মুখ্য বিচারিক হাকিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেদিন দুইজন পুলিশ সদস্য ও একজন ডিবি সদস্য যখন আগুন দিচ্ছিলেন, আরও কিছু পুলিশ সদস্য কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন যারা আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহণ না করলেও তা নেভানোর চেষ্টা করেননি। আর যারা আগুন দিচ্ছিলেন তাদের মাথায় হেলমেট থাকায় এবং অনেক দূর থেকে ঘটনাটি ভিডিও করায় ওই পুলিশ সদস্যদের চেহারা শনাক্ত করতে পারেনি তদন্ত কমিটি। অন্যদিকে ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘ওই দিন ঘটনাস্থল এলাকায় যারা দায়িত্বরত ছিলেন তাদের তালিকা পুলিশ সুপারের কাছে কমিটির পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় আরেকটি তদন্ত যেহেতু কাজ করছিল, ওই তালিকা সেখানে সরবরাহের কারণে এখানে তা করতে পারেনি।’
১৯৬২ সালে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাঁওতাল ও বাঙালীদের ১৮টি গ্রামের ১ হাজার ৮৪০ দশমিক ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করে আখ চাষের জন্য সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তুলেছিল। ওই জমি ইজারা দিয়ে ধান ও তামাক চাষ করে অধিগ্রহণের চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে তার দখল ফিরে পেতে আন্দোলনে নামে সাঁওতালরা। পরে সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে বিরোধপূর্ণ চিনিকলের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে কয়েকশ’ ঘর তুলে বসবাস শুরু করে তারা। গত ৬ নবেম্ব^র চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সময় সাঁওতালদের বাড়িঘরে লুটপাট হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়। ওই ঘটনায় নিহত হন তিন সাঁওতাল, আহত হন অনেকে। সংঘর্ষের পর গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই কল্যাণ চক্রবর্তী ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে সাড়ে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় চার সাঁওতালকে গ্রেফতার করার পর তারা জামিনে মুক্তি পান। অন্যদিকে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুট ও উচ্ছেদের ঘটনায় মুয়ালীপাড়া গ্রামের সমেস মুরমুর ছেলে স্বপন মুরমু গত ১৬ নবেম্বর অজ্ঞাতনামা ৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন; তার মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।দশদিন পর গত ২৬ নবেম্বর সাঁওতালদের পক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত টমাস হেমব্রম বাদী হয়ে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে ৫০০-৬০০ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ দাখিল করেন। এছাড়া হাইকোর্টে দুটি রিট আবেদন হয়।
আইনজীবী সামিউল আলম সরকার জানান, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হয়। এটা নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদপত্রেও লেখালেখি হয়। সেই ভিডিও ফুটেজ আদালতে দাখিল করলে উপরোক্ত আদেশ আসে। এর আগে সাঁওতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা পৃথক রিটের শুনানি নিয়ে সাঁওতালদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা নিশ্চিত করতে ও ধান কাটার সুযোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। প্রসঙ্গ, ৬ নবেম্বর গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতালের মৃত্যু হয়। পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়।
২০ কোম্পানির ওষুধ ॥ জীবন বাঁচানোর তাগিদে ওষুধ প্রস্তুতকারী ২০টি কোম্পানির ওষুধ নিয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। ওইদিন জানা যাবে এই ২০ কোম্পানিতে ওষুধ উৎপাদন হবে কি না। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোঃ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মোঃ আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে আদেশ দেন। পরে আইনজীবী এ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সাঈদ তারেকের আপীল ॥ নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার অন্যতম আসামি র‌্যাব-১১-এর চাকরিচ্যুত অধিনায়ক তারেক সাঈদ ও পুলিশের এসআই পুর্ণেন্দ্র বালা খালাস চেয়ে আপীল করেছেন হাইকোর্টে। সোমবার সন্ধ্যায় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপীল করা হয় বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন তারেকের আইনজীবী আহসান উল্লাহ। এর আগে সোমবার দুপুরে খালাস চেয়ে আপীল করেন এ মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন।
চারজনের মৃত্যুদ- বহাল ॥ রেন্ট এ কারের চালক খুনের মামলায় চার আসামির ফাঁসি বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে এদের প্রতি অনুকম্পা দেখানোর কোন সুযোগ নেই। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহীদুল করিমের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় দেয়। রায়ে আসামি তৈয়ব আলম, আনোয়ার হোসেন, আহমদ শরীফ ও শাহীন ওরফে গড্ডুর ফাঁসির রায় বহাল রাখে হাইকোর্ট। তবে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আরেক আসামি বিল্লাল হোসেন ওরফে সুমনকে খালস দেয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ শুনানি করেন। আসামিপক্ষে ছিলেন এস এম মুক্তার কবির খান।
Share:

Sunday, January 8, 2017

মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির আলোচনায় বক্তারা: রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নেই। সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর সংখ্যালঘুদের বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে।
‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অবস্থান: রাষ্ট্রের ভূমিকা, সামাজিক বৈষম্য ও ভূমি অধিকার’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি। গতকাল শনিবার ধানমন্ডির বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) মিলনায়তনে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মূল আলোচক অর্থনীতিবিদ ও গবেষক স্বপন আদনান বলেন, রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নেই। সমতলের লোকজন সাঁওতালদের নিয়ে একসঙ্গে বসে খায় না। এমনকি ওদের চা দেওয়া হয় আলাদা কাপে। যে কারণে সংখ্যালঘুরা এখন আর সমাজ ও রাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না।
অনুষ্ঠানের সভাপতি আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, রাষ্ট্র নিষ্ঠুর হয়ে গেছে। কিছু লোক রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে সুবিধা নিচ্ছে। এর শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে ক্লিন হার্ট অপারেশনের মাধ্যমে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রভাবশালীদের কাছে দেশের সব নাগরিক সংখ্যালঘু হয়ে যাবে। এ অবস্থা থেকে রাষ্ট্রকে বের করে আনা কঠিন। তবুও চেষ্টা করে যেতে হবে।
আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, আইনের বিষয়ে কেউই সচেতন নন। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কোনো ধরনের মামলা ছাড়াই সাঁওতাল দ্বিজেন টুডোকে হাতকড়া পরিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে শুধু সাঁওতালদের বিষয়টি উঠে এসেছে। অথচ নির্যাতিতদের মধ্যে বাঙালিও আছে। এই আন্দোলনে তারাও সংখ্যালঘু।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশান্ত ত্রিপুরা বলেন, সংবিধানে আদিবাসীদের সংস্কৃতির কথা বলা আছে। বৈষম্যহীন সমাজের কথা বলা আছে। কিন্তু আদিবাসীদের ভাষার কথা বলা নেই। আদিবাসীদের সুরক্ষা দিতে
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, আদিবাসীদের বিষয়ে রাষ্ট্র সংবেদনশীল নয়। রাষ্ট্রের যে মানসিকতা, তা আদিবাসীদের পক্ষে নয়। যে কারণে গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর হামলার বিষয়ে গত দুই মাসে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বাঙালি ও আদিবাসীদের সম্পর্ক তৈরি হলে এ সমস্যা কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী কমিটির সদস্য জাকির হোসেন।
 
Share:

Santal children yet to get textbo0oks in mother tongue: Debate over alphabets deprives 50,000 pre-primary kids of books in new year

Santals say Joharh to say hello and Seta' Joharh to say good morning in their mother tongue. But not all the Santals use the same alphabet to write the words.
Some of them go for the Bangla alphabet while others like to write with the Roman alphabet.
There is a strong division among their leaders over the use of the alphabet in their children's textbooks.
And as the leaders failed to reach any consensus, some 50,000 pre-primary Santal children have been deprived of textbooks which had been decided to be in the Santali language, said experts.
Each of the Santal children was supposed to get a pre-primary book on January 1 under government's first-ever mother tongue-based multilingual education programme.
Recently, the government has distributed pre-primary books in five most-used languages of the indigenous communities -- Chakma, Marma, Garo, Tripura and Sadri, said Prof Mesbah Kamal, chairperson of the Research and Development Collective (RDC), a research organisation.
Prof Kamal is also a member of the Multilingual Education Forum. He said before starting the programme, the government took advice from the forum and the RDC.
He said the government had decided to introduce the pre-primary books for the Santals as their population is about 8 lakh. Santals are the biggest indigenous community in the country, after the Chakmas.
But the books could not be published due to a strong division between the Santal leaders over the use of the alphabet, he added.
Citing his research, Kamal said some 55 percent of the Santals have converted to Christianity over the years. Most of them are in the favour of using the Roman alphabet for writing. The others prefer the Bangla alphabet.
Due to this division, the Santal leaders even turned down a government proposal for publishing the books in both alphabets during a ministerial meeting in 2013, he said. “The Santal leaders are fighting but it is the children who are suffering.”
Luke Tudu, 12, is a class-IV student at Borsapara Gono Pathshala near Rajshahi city. The school is meant for the students from the indigenous communities.
Tudu's mother Shefali Soren told this correspondent that her son took years to complete his pre-primary schooling as he faced difficulties in understanding his book.
Most of the 60 Santal students at the school had faced the same situation, said Gopal Hembrom, a teacher there.
Gopal, however, said he himself feels uncomfortable in using both the Bangla and Roman alphabets. “Bangla language lacks letters for all of the Santali's phonemes while the Roman alphabet sounds foreigner to me.”
He said he heard about the Santali alphabet called Ol Chiki, which had been in use in some Indian educational institutions. ”Many Santals like me are interested in the alphabet.”
Rabindranath Soren, president of the Jatiya Adivasi Parishad, said the Santal pre-primary children, who are already struggling to adapt to the mainstream books in Bangla, would be benefitted if they are exposed to the Bangla alphabet earlier. “We can also have a version of the book with the Ol Chiki alphabet”.
Jogendranath Soren, president of the Adivasi Mukti Morcha, an alliance of 17 plain-land indigenous organisations, said Roman scripts are not Roman since those were “accepted” as Santali alphabets some 154 years ago.
Contacted, Fazle Hossain Badsha, a lawmaker from Rajshahi, said the government's mother tongue-based multilingual education programme would be meaningless without pre-primary books in Santali language as Santals are the biggest plain land indigenous community in the country.
“Language is a matter of choice. Books should be printed in both scripts. It is the Santal students who will make the choice,” said Badsha, who is also the president of the Parliamentary Caucus on Indigenous People of Bangladesh.

http://www.thedailystar.net/backpage/santal-children-yet-get-textbooks-mother-tongue-1342030
Share:

চলুন, সান্তালদের আত্মপরিচয়কে সম্মান জানাই


প্রশান্ত ত্রিপুরা
পাকিস্তান আমলে আখের খামারের নামে অধিগৃহীত হয়েছিল কিন্তু সাম্প্রতিক কালে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, পূর্বপুরুষদের এমন জমিজমা ফেরত পাওয়ার আশায় গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় বসতি স্থাপন করেছিল অনেক সান্তাল পরিবার। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর থেকে জানা যাচ্ছে, এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলভুক্ত কিছু স্থানীয় রাজনীতিবিদসহ অনেকেই তাদের আশ্বাস ও সমর্থন দিয়েছিল অতীতে, কিন্তু এমন অনেকে এবার হাত মিলিয়েছে সান্তালদেরকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্রে। ফেসবুকে মনোযোগ কাড়া একটি ভিডিওসহ বিভিন্ন সূত্রে আমরা অনেকেই দেখেছি কতটা অন্যায়ভাবে ও সন্ত্রাসী কায়দায়, তাও আবার পুলিশের উপস্থিতিতে এবং তাদেরই সহায়তায়, উচ্ছেদের কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এখন দেশের সচেতন মহলে অনেকের টনক নড়তে শুরু করেছে কিছুটা হলেও, যা আশাব্যঞ্জক।

গোবিন্দগঞ্জের ঘরবাড়ি-সহায়সম্বল ও স্বজন হারানো যেসব সান্তাল এখন অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন, যাঁরা হয়রানিমূলক মামলার কারণে লুকিয়ে বা পালিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, বা গুলিতে আহত হয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন – প্রয়োজনীয় বস্তুগত ও আইনি সহায়তা নিয়ে তাঁদের সবার পাশে দাঁড়ানো হল এই মুহূর্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। পাশাপাশি ঘটনাপ্রবাহের প্রতি নজর রাখা এবং প্রাসঙ্গিক সব খবর জনসমক্ষে নিয়ে আসার কাজটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব কাজ যাঁরা নিষ্ঠার সাথে করছেন, তাঁদের সংখ্যা বা ক্ষমতা হয়ত সীমিত, তবুও যাঁরা তৎপর রয়েছেন, তাঁদের মত লোক আমাদের আশেপাশে রয়েছেন বলেই বাংলাদেশকে নিয়ে এখনো আমরা আশাবাদী হতে পারি।
এদিকে আমরা যারা শুধু মৌখিক প্রতিবাদ বা বিবৃতি-বিশ্লেষণে নিয়োজিত রয়েছি, আমরাও সীমিত পরিসরে হলেও নাগরিক দায়িত্বই পালন করছি। এই কাজটিও ফেলনা নয়। তবে সংবাদ প্রতিবেদন থেকে শুরু করে প্রতিবাদ ও বিশ্লেষণের যে ধরনের ভাষা আমার চোখে পড়েছে, সেগুলো দেখে মনে হয়েছে, গোবিন্দগঞ্জে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ছায়ায় চালানো সন্ত্রাসের শিকার হওয়া সান্তাল জনগোষ্ঠীকে ঠিক কী নামে বা বিশেষণে অভিহিত করা হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট বিভ্রান্তি রয়েছে, যদিও ক্ষেত্রবিশেষে ইচ্ছাকৃতভাবেও কিছু ভ্রান্ত উপস্থাপনা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে (প্রশান্ত ত্রিপুরা ২০১৬)। এই প্রেক্ষাপটে একজন স্বনিয়োজিত নৃবৈজ্ঞানিক গবেষক হিসেবে আমি আমার কিছু পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরছি।  আপনি যদি সহমত হন যে, বিপদগ্রস্ত মানুষদের জন্য ত্রাণ ও আইনি সহায়তার পাশাপাশি – বা এমনকি সেসবেরও আগে – দরকার তাদেরকে যথাযথ সম্মান জানানো, তাহলে আশা করব নিচের বক্তব্য আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন এবং এই আলোচনা ছড়িয়ে দেবেন, এতে আপনার কণ্ঠস্বর যোগ করবেন।
আপনি যদি সহমত হন যে, বিপদগ্রস্ত মানুষদের জন্য ত্রাণ ও আইনি সহায়তার পাশাপাশি – বা এমনকি সেসবেরও আগে – দরকার তাদেরকে যথাযথ সম্মান জানানো, তাহলে আশা করব নিচের বক্তব্য আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন এবং এই আলোচনা ছড়িয়ে দেবেন, এতে আপনার কণ্ঠস্বর যোগ করবেন।   
১. বাংলায় সাঁওতাল নামে পরিচিত জাতির সদস্যরা নিজেদেরকে ‘সান্তাল’ হিসেবেই অভিহিত করে থাকেন (ইংরেজি বানানে Santal; যতদূর জানি, নামটি উচ্চারিত হয় ‘দন্ত্য স’ দিয়ে)। তবে বাংলায় বহুকাল ধরে চলে আসা ‘সাঁওতাল’ নাম ও এর প্রচলিত উচ্চারণ (‘শাঁওতাল’) বা বানান নিয়ে তেমন কারো আপত্তি আছে বলে আমার জানা নেই। তথাপি আমরা যদি ‘সাঁওতাল’-এর বদলে ‘সান্তাল’ নামটি বলতে বা লিখতে শুরু করি, সংশ্লিষ্ট জাতির সদস্যরা সেটিকে স্বাগত জানাবেন বলেই আমার ধারণা। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে আজ থেকে আমিও ‘সান্তাল’ নামটিই ব্যবহার করব বলে ঠিক করেছি (আমার ধারণা যদি ভুল হয়, তা ওয়াকেবহাল ফেসবুক বন্ধুরা জানাবেন বলে আশা করছি)।  
২. বাংলা উচ্চারণের ভিত্তিতে ‘সাঁওতাল’ নামটি ইংরেজিতে Shaotal বা একই ধরনের অন্যান্য অপ্রচলিত বানানেও অনেকে লিখে থাকেন, যা কাম্য নয়। ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন, তেমনি জাতির বেলায়ও সংশ্লিষ্টরা যেভাবে নিজেদের নাম বলে, লেখে, যে ধরনের বানান ব্যবহার করে, তাই অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। যেমন, কেউ যদি নিজের নাম বাংলায় মোহাম্মদ ছায়েদুল হক এবং ইংরেজিতে Muhammed Sayedul Hoque লিখে থাকেন, তাহলে অন্যদের কারো উচিত হবে না সেটিকে মুহাম্মেদ সায়েদুল, Chhayedool ইত্যাদি বানানে লিখতে শুরু করা! 
৩. উপরে ‘জাতি’ শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে সচেতনভাবে, ‘বহুজাতির বাংলাদেশ’ ধারণার আলোকে (প্রশান্ত ত্রিপুরা ২০১৫)। আপনি যদি মনে করেন বাংলাদেশ শুধু বাঙালির বা বাংলাভাষীদের দেশ নয়, বরং জনসংখ্যা যাই হোক, এখানে অন্য জাতি ও ভাষার অস্তিত্বও বরাবর ছিল, আছে, এবং আগামীতেও থাকা উচিত, তাহলে আপনিও ‘সান্তাল জাতি’ কথাটা ব্যবহার করতেই পারেন। আমার জানা মতে সান্তালদের কেউ এতে আপত্তি করবেন না। তবে এক্ষেত্রে এদেশের বুদ্ধিজীবীদের অনেকের আপত্তি থাকতে পারে, যদিও শুধু বাঙালিদের বেলাতেই কেন ‘জাতি’ ধারণা প্রযোজ্য হবে, কিন্তু অন্যদের বেলায় আলাদা শব্দ ব্যবহার করতে হবে, এ ব্যাপারে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে জোরালো কোনো যুক্তি আছে বলে আমাদের জানা নেই।  
আপনি যদি মনে করেন বাংলাদেশ শুধু বাঙালির বা বাংলাভাষীদের দেশ নয়, বরং জনসংখ্যা যাই হোক, এখানে অন্য জাতি ও ভাষার অস্তিত্বও বরাবর ছিল, আছে, এবং আগামীতেও থাকা উচিত, তাহলে আপনিও ‘সান্তাল জাতি’ কথাটা ব্যবহার করতেই পারেন।
৪. বাংলাদেশে বাঙালি ভিন্ন অন্যদের বেলায় ‘জাতি’ শব্দটি ব্যবহারের অনীহা থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে চালু করা হয়েছে একাধিক সমষ্টিবাচক পদ, যেমন  ‘উপজাতি’, এবং সচরাচর ক্ষুদ্র বিশেষণ সহযোগে ব্যবহৃত হয় এমন বেশ কিছু শব্দ, যথা ‘জাতিসত্তা’, ‘নৃ-গোষ্ঠী’ ও ‘জাতিগোষ্ঠী’। এছাড়া ‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী’, ‘নৃ-জাতি’, ‘জনজাতি’ ইত্যাদি পদও ব্যবহার করেন অনেকে। এগুলির অধিকাংশই অবশ্য নৃবিজ্ঞান বা অন্য কোনো সামাজিক বিজ্ঞানের সমকালীন দৃষ্টিকোণ থেকে সমর্থনযোগ্য বা অপরিহার্য নয়। বরং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সদস্যরা যেহেতু ‘উপজাতি’ ও ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’র মত পদকে অবমাননকার মনে করেন,  তাঁদের উপর জোর করে এগুলি চাপিয়ে রাখা কাম্য হতে পারে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পদগুলি কোন অর্থে বা কেন চালু করা হয়েছে, সে প্রশ্ন (অথবা ‘শব্দগুলিতো এখন সংবিধানে রয়েছে’ এমন যুক্তি) অবান্তর হয়ে যায়। যেমন আমরা জানি হিন্দুদেরকে ‘মালাউন’ নামে অভিহিত করলে তাদের অপমান করা হয়, কাজেই শব্দটির মূল অর্থ কী ছিল, সে আলোচনা অবান্তর, বরং হিন্দুদের মর্যাদা সমুন্নত রাখার ব্যাপারে সচেতন কোনো ব্যক্তি যে এটি ব্যবহার করবেন না, তা বলা বাহুল্য।  
৫. সান্তালসহ বাংলাদেশের বহু প্রান্তিক জাতির সদস্যরা অধিকাংশই আপত্তি করবেন না যদি তাঁদের আদিবাসী বলা হয়। আগে যখন স্রেফ ‘আদিম’ অর্থে শব্দটি ব্যবহার করা হত, তখন অনেকের এ নিয়ে আপত্তি ছিল। তবে দুই দশকের অধিক কাল হল আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অধিকার আদায়ের একটি হাতিয়ার হিসেবে শব্দটির ব্যবহার চলছে, এবং এই প্রেক্ষিতে সাংবিধানিকভাবে ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির দাবি এখনো ওঠানো হয় নিয়মিত। কেউ যদি মনে করেন, বাংলাদেশে কোনো জাতিকে আলাদাভাবে ‘আদিবাসী’ বলা যায় না, তাহলে তাঁর স্পষ্ট করা উচিত, কথাটা তিনি কোন অর্থে বলছেন। তিনি কি এই বলতে চান যে উক্ত জাতির ভাষা ও  ভূমির অধিকার - যে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আইনে সমর্থন মেলে - তিনি অস্বীকার করেন?  

৬. উপরের বক্তব্যের বিপরীতে এটাও দেখার বিষয়, যাঁরা ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করছেন, তাঁরা কোন অর্থে তা করছেন। সেদিন টেলিভিশনে দেখলাম, এক সাংসদ সাহেবগঞ্জে উচ্ছেদের শিকার লোকদেরকে কখনো সন্ত্রাসী বলছেন, আবার কখনো আদিবাসী বলছেন। কিন্তু যাঁদেরকে তিনি ‘আদিবাসী’ বলছিলেন, তাঁদের বিশেষ কোনো অধিকারের প্রশ্ন দূরে থাক, মৌলিক অধিকার লংঘিত হওয়া নিয়ে যে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন, এটা মনে হয় নি (বরং সান্তালদের উচ্ছেদ করার পেছনে তিনিও ছিলেন এমন অভিযোগ উঠেছে)। আর সাধারণভাবে দেখা যায়, ‘আদিবাসী’ শব্দটি অভ্যাসের বশে ব্যবহার করেন, এমন অনেক ব্যক্তি (যাঁদের মধ্যে অধ্যাপক থেকে শুরু করে সাংবাদিক, সবাই রয়েছেন) উক্ত নামে অভিহিত মানুষদের বেলায় ‘আদিম’, ‘দখলদার’, ‘সন্ত্রাসী’ ইত্যাদি বিশেষণ বা ব্যঞ্জনা জুড়ে দেন অবলীলায়। বিষয়টি মনোযোগের দাবি রাখে।   
৭. কেউ যদি দাবি করেন যে, ‘আদিবাসী’ শব্দটা বাংলাদেশে আইনসম্মত নয়, তাহলে তাঁর কাছে আমরা জানতে চাইতে পারি, ২০১০ সালে প্রণীত ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন’-এ ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’র সংজ্ঞা দিতে গিয়ে কেন ‘আদিবাসী’ শব্দটিকে টেনে আনা হয়েছে? 
৮. বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে  সাঁওতাল বলতে অনেকে আদিবাসী বর্গভুক্ত অন্যান্য জাতিকেও বুঝিয়ে থাকেন (পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটে যেমন সবাইকে ‘চাকমা’ মনে করার একটা প্রবণতা আগে ছিল)। সাহেবগঞ্জের ক্ষেত্রে হয়ত এটি হচ্ছে না, তবে সাধারণভাবে এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা যেতে পারে।   
৯. আপনি হয়ত জানেন যে বাংলা অঞ্চলের অনেক প্রান্তে সান্তালরা শুধু ভূমির অধিকারের প্রশ্নেই ‘আদিবাসী’ নয়, বরং এক অর্থে তাঁরা এখানকার ‘আদিভাষী’ও বটে। বাংলা ভাষার যে ‘দেশি’ শব্দভাণ্ডার রয়েছে, তার সিংহভাগ কিন্তু এসেছে সান্তাল ও মুণ্ডাদের মত বিভিন্ন আদিবাসী জাতির ভাষা থেকে। যদি পাঠ্যপুস্তকে এ বিষয়টি কোনোদিন না পড়ে থাকেন, তাহলে নিজেকে একটু প্রশ্ন করুন কেন এমনটি ঘটেছে। আর প্রশ্ন করুন সেসব বুদ্ধিজীবীদের, যাঁরা ইন্ধন দিয়ে চলছেন “বাংলাদেশে জাতি একটাই, বাঙালি”, বা  “বাঙালিরাই এদেশের প্রকৃত আদিবাসী”, এমন মতবাদকে। তাঁদেরকে এই প্রশ্নটিও করুন, সাহেবগঞ্জের সান্তালদের উপর যে রাষ্ট্রীয় ছায়ায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে, এ ব্যাপারে তাঁদের কিছু বলার আছে কিনা।  (এখানে একটা সতর্কতার তাগিদ যোগ করব: সান্তালদের ‘আদিবাসী’ বা ‘আদিভাষী’ হিসেবে দেখতে গিয়ে তাদের সংস্কৃতি ও ভাষাকে যেন ‘আদিম’ মনে করতে শুরু না করি, তা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।)
১০. সবশেষে বলব, যে সান্তালদের নিয়ে আমরা আলাপ করছি তাদের প্রধান পরিচয় হল তারা মানুষ এবং বাংলাদেশের নাগরিক। সংবাদ শিরোনামসহ বিভিন্ন বিবৃতি ও বিশ্লেষণে ‘গুলিতে সাঁওতাল নিহত’, ‘পুলিশ-সাঁওতাল সংঘর্ষ’ ধরনের শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করার ফলে সান্তালদের মানবতাকে যে সূক্ষ্মভাবে আড়াল বা অবনমিত করা হচ্ছে, তা আমাদের খেয়াল করতে হবে (এ ধরনের সংবাদ পরিবেশনের সমস্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট অনেক উদাহরণসহ একটি বিশদ পর্যালোচনা রয়েছে তথ্যসূত্রে উল্লেখ করা আমার সাম্প্রতিক [২০১৬] একটি লেখায়)। চলুন, এই প্রবণতা রোধ করি, এবং অন্যায় ও সহিংসতার শিকার সান্তাল ভাইবোনদের পাশে আমরা সবাই দাঁড়াই। সেটা বাংলাদেশের সব গণতন্ত্রকামী নাগরিককে করতে হবে নিজেদের তাগিদেই। কারণ বহু শতাব্দীর বঞ্চনা-উপেক্ষা-নিপীড়ন সত্ত্বেও কিভাবে আত্মসম্মান ও মর্যাদা ধরে রেখে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়, তা আমরা হয়ত অনেকেই ভুলে গিয়েছি, কিন্তু সে শিক্ষা সান্তালদের ইতিহাস থেকে – তাদের চলমান সংগ্রাম থেকে – আমরা হয়ত নিতে পারি।   

পুনশ্চ
এই নোট লিখতে বসার পর একটুখানি নেট ঘাঁটতে গিয়ে চোখে পড়ল, উইকিপিডিয়ার বাংলা সংস্করণে ‘সাঁওতাল’দের আরেক নাম হিসেবে দেখানো হয়েছে ‘মান্দি’ (যা আসলে গারোদের আরেকটি নাম, যা তাঁরা নিজেরা ব্যবহার করেন)। কাজেই এ ধরনের উৎসে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য ও ব্যাখ্যা ভালো করে যাচাইবাছাই করা দরকার। আর যাঁরা ইন্টারনেটে সক্রিয়, তাঁদের প্রতি আহ্বান জানাবো চোখে পড়া ত্রুটিগুলো যখন যতটুকু সম্ভব, ঠিক করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।  
তথ্যসূত্র 
(২০১৫) বহুজাতির বাংলাদেশে: স্বরূপ অন্বেষণ ও অস্বীকৃতির ইতিহাস, ঢাকা: সংবেদ।
(২০১৬) খাস মালাউন নিপাত যাক, নয়া ইনকিলাব জিন্দাবাদ
 
 
Share:

Sunday, January 1, 2017

গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ঘরে আগুন: কারা দায়ী, জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট:

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও চিত্রের একটি দৃশ্য l ছবি: সংগৃহীত 
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ এলাকায় সাঁওতালদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত এবং এতে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত কি না, তা তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। তদন্ত করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছেন, ‘সম্পূরক আবেদনে গণমাধ্যমে আসা যেসব ছবি দেওয়া হয়েছে, তা দেখে আমরা চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না।’
আগুন দেওয়ার ওই ঘটনায় পুলিশ সম্পৃক্ত বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমে আসা খবর যুক্ত করে রিট আবেদনকারীদের দাখিল করা এক সম্পূরক আবেদনের শুনানির পর গতকাল বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
হাইকোর্টের এই আদেশে স্থানীয় সাঁওতালরা খুশি। তারা বলছে, এখন পুলিশের দায়িত্ব ভিডিও চিত্র দেখে ওই ঘটনার জন্য কারা দায়ী তা খুঁজে বের করা।
ওই হামলার ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় গত ১৬ নভেম্বর স্বপন মুর্মুর করা অভিযোগ (যেটি মামলা) এবং ২৬ নভেম্বর থমাস হেমব্রেমের করা অভিযোগ (যেটি সাধারণ ডায়েরি) একই বিবেচনায় পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পদস্থ কর্মকর্তা দিয়ে তদন্তের জন্য রংপুর রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শককে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছেন, পুলিশ সুপারের নিচে নয় এমন পদমর্যাদার কর্মকর্তা তদন্ত কার্যক্রম তদারক করবেন। পরবর্তী আদেশের জন্য ৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সাঁওতালরা তাদের ওপর হামলা, ঘরে আগুন দেওয়া, পুরোনো বসতবাড়িতে লুটপাট ও হত্যার অভিযোগ করে। এ ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষে থানায় পৃথক অভিযোগ করা হয়। এর মধ্যে একটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে, অন্যটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এ ছাড়া ঘটনার দিন পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করে।
এদিকে ওই ঘটনায় হাইকোর্টে পৃথক রিট হয়েছে। এর মধ্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), ব্রতী সামাজিক কল্যাণ সংস্থা ও অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৭ নভেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে থমাস হেমব্রেমের করা অভিযোগ (সাধারণ ডায়েরি) এজাহার হিসেবে গণ্য করতে আবেদন করে এই তিন সংগঠন। ওই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন আহত দ্বিজেন টুডুর স্ত্রী অলিভিয়া হেমব্রেম ও গণেশ মুর্মুর স্ত্রী রুমালিয়া কিসকু।
৬ নভেম্বর আগুন লাগানোয় পুলিশের সম্পৃক্ততা নিয়ে ১৩ ডিসেম্বর কয়েকটি জাতীয় দৈনিকসহ গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে করা সম্পূরক আবেদনটি দাখিল করেন রিট আবেদনকারী তিন সংগঠনের আইনজীবী আবু ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, এখানে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ কীভাবে সাঁওতালদের বাড়িতে আগুন দিচ্ছে। ওই ঘটনায় থমাস হেমব্রেম অভিযোগ করেন, যেখানে বিস্তারিত ও স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছ, সেখানে এটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের গঠিত কমিটির তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন, পর্যবেক্ষণ ও পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। গতকাল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে পাঁচ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু সাঁওতাল সম্প্রদায়ের প্রতি সব সময় সহানুভুতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও পুলিশকে বলা যেতে পারে; সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজমান আতঙ্ক দূর করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষকসমাজকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যথাযথ মানবিক সহায়তা প্রদান করতে হবে; সাঁওতাল সম্প্রদায় ও অন্যদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং আত্মরক্ষামূলক বিষয়ে আরও দক্ষতা অর্জন করে পুলিশকে এ রকম ঘটনায় আরও কোমল, নমনীয় ও মানবিক হতে হবে।
সাঁওতালদের মধ্যে স্বস্তি
আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, বিচারককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার খবর শুনে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামের সাঁওতালদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছে, সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হবে।
গতকাল মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, স্থানীয় সাঁওতালরা হাইকোর্টের নির্দেশের কথা শুনেছে। জানতে চাইলে জয়পুর গ্রামের ভিরজিউলিশ হেমব্রেম (৪৫) বললেন, বিচারক তদন্ত করবেন শুনে তাঁরা খুশি হয়েছেন। মাদারপুর গ্রামের দুলাল হাসদা (৪০) বলেন, ‘আমাদের নেতা ফোন করে বলেছেন, এখন সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হবে, আমরা বিচার পাব।’ একই গ্রামের মোসেস মারানডি (৪২) বলেন, ‘এ খবর শুনে আমাদের সব লোকজন খুশি হয়েছে। তবে চিনিকল নিজেরা পিলার ভেঙে আমাদের দোষ দিচ্ছে। আমরা ভয়ে আছি।’ এ প্রসঙ্গে সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহসভাপতি ফিলিমিন বাস্কে মুঠোফোনে বলেন, ঘটনার পর থেকে আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করে আসছি। বিচারককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় সবাই স্বস্তি পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কাঁটাতারের পিলার ভাঙার পর আমাদের লোকজনের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। চিনিকল সাঁওতালদের হয়রানির চেষ্টা করছে।
 এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ওয়েবসাইটে পুলিশের আগুন লাগানোর ভিডিও চিত্র দেখানো হলে বিভিন্ন মহলে আলোচনার ঝড় ওঠে। তবে সাঁওতালদের ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কোন পুলিশ সদস্য জড়িত, গতকাল পর্যন্ত সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৬ নভেম্বর পুলিশের দল গুলি ছুড়তে ছুড়তে সাঁওতালদের ঘরের দিকে এগিয়ে যায়। পরে তাদের মধ্য থেকে ঘরে আগুন লাগানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাহেবগঞ্জ এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘আমরা কাছ থেকে ঘটনার দিন পুলিশকে আগুন দিতে ও ছোটাছুটি করতে দেখেছি। কিন্তু সব পুলিশের মাথায় হেলমেট ও গায়ে জ্যাকেট থাকায় কাউকে চেনা যায়নি। তবে গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।’ এ প্রসঙ্গে সাঁওতাল নেতা ফিলিমিন বাস্কে বলেন, ‘ওই ভিডিও চিত্রে স্পষ্ট দেখা যায়, পুলিশ আমাদের ঘরে আগুন দিচ্ছে। ঘটনাটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। পুলিশকেই ভিডিও চিত্র দেখে বের করতে হবে, সেদিন কারা দায়িত্বে ছিল।’
জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গোবিন্দগঞ্জ থানাসহ গাইবান্ধার সাতটি থানার পুলিশ, গাইবান্ধা পুলিশ লাইন থেকে রিজার্ভ পুলিশ ও ডিবি ৬ নভেম্বর সাঁওতালদের উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়। গোবিন্দগঞ্জ থানার কারা ঘটনার দিন অভিযানে অংশ নেয়, তা বলতে অস্বীকৃতি জানান ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) সুব্রত সরকার। গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভিডিও চিত্রের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কাঁটাতারের পিলার ভাঙচুর: গত মঙ্গলবার ভোররাতে বাণিজ্যিক খামারের কাঁটাতারের বেড়ার ২৬টি পিলার ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। ওই দিন সকালে স্থানীয় লোকজন সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামারসংলগ্ন জয়পুর গ্রামের দক্ষিণ অংশে কিছু পিলার ভাঙচুর অবস্থায় জমিতে পড়ে থাকতে দেখে চিনিকল কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়। এ ব্যাপারে সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামারের উপব্যবস্থাপক হুমায়ন কবির বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন। রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আউয়াল বলেন, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
মামলার পরিস্থিতি: এ ঘটনায় মোট তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে ঘটনার দিন রাতে পুলিশ বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে মামলা করে। এ মামলায় চারজন সাঁওতালকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তাঁরা জামিন পান। স্থানীয় সাংসদ আবুল কালাম আজাদ ও ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদকে অভিযুক্ত করে থমাস হেমব্রেম বাদী হয়ে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে এই মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এক মাসেও কেউ গ্রেপ্তার নেই। গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত সরকার বলেন, মামলাগুলোর তদন্ত করা হচ্ছে।
গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিরবিদ্ধ নয়জন ও গুলিবিদ্ধ হন চারজন। এই সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন সাঁওতাল নিহত হন।
Share:

বাংলাদেশ: সাঁওতালদের ঘরে আগুন: তদন্ত করবে বিচারিক হাকিম

গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমি থেকে উচ্ছেদের সময় সাঁওতালদের ঘরে আগুন দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট৷ ঘটনাটির সঙ্গে পুলিশ আদৌ জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে শীঘ্রই৷

সাঁওতালদের ঘরে পুলিশের আগুন দেওয়ার একটি ভিডিও নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হওয়ার পর, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের একটি সম্পূরক আবেদনে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেয়৷ পাশাপাশি উচ্ছেদের সময় ভাঙচুর, লুটপাট ও হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা একটি এজাহার ও একটি জিডি মামলা হিসেবে নিয়ে সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে বলে হাইকোর্ট৷ পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ন্যূনতম পুলিশ সুপার মর্যাদার কোনো কর্মকর্তার মাধ্যমে এই তদন্ত তদারকের ব্যবস্থা করতেও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে নির্দেশ দেয় আদালত৷
বুধবার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষ থেকে একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়, যেখানে পুলিশের আগুন দেওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়৷ আসক-এর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আবু ওবায়দুর রহমান৷ এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত দুই সাঁওতালের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যেতির্ময় বড়ুয়া আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু৷

অ্যাডভোকেট আবু ওবায়দুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমরা দেখতে পাই সাঁওতালদের ঘরে আগুন দিচ্ছে পুলিশ৷ আর সেটাই আমরা আদালতের নজরে আনি৷ আদালত গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে৷ পাশাপাশি সাঁওতালদের একজন থানায় এসে যে এজাহার দিয়েছিলেন, সেটিও পুলিশ জিডি হিসেবে রেকর্ড করেছে৷ আমরা সেটা মামলা হিসেবে রেকর্ড করার আবেদনও করেছিলাম৷ আদালত সেটিকে মামলার সমান ‘স্ট্যাটাস’ দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন৷’’
গত ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে৷ সংঘর্ষের সময় সাঁওতালদের বাড়িঘরে লুটপাট হয়৷ সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়৷ ঐ ঘটনায় নিহত হন তিনজন সাঁওতাল, আহত হন আরো অনেকে৷ সংর্ঘষের পর গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই কল্যাণ চক্রবর্তী ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে সাড়ে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন৷ মামলায় চার সাঁওতালকে গ্রেপ্তার করার পর, তাঁরা জামিনে মুক্তি পান৷ অন্যদিকে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুট ও উচ্ছেদের ঘটনায় মুয়ালীপাড়া গ্রামের সমেস মরমুর ছেলে স্বপন মুরমু গত ১৬ নভেম্বর অজ্ঞাতনামা ৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন৷ তাঁর মামলায় ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ দশদিন পর গত ২৬ নভেম্বর সাঁওতালদের পক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত থোমাস হেম্ররম বাদী হয়ে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে ৫০০-৬০০ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ দাখিল করেন৷ আগে একটি মামলা থাকায় পুলিশ তাঁর অভিযোগ এজাহার হিসেবে না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত করে৷ হাইকোর্ট বুধবারের আদেশে বলে, দু'টি অভিযোগই এজাহার হিসেবে নিয়ে সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে৷

এদিকে উচ্ছেদের সময় গুলিতে আহত সাঁওতাল দ্বিজেন টুডোর স্ত্রী অলিভিয়া হেম্ররম এবং গণেশ মুরমুর স্ত্রী রুমিলা কিসকুর পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ২১ নভেম্বর হাইকোর্টে আরেকটি রিট আবেদন করেন৷ সেখানে সাঁওতালদের ওপর ‘হামলার ঘটনা' তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়. পরদিন এ বিষয়ে শুনানি করে রুল দেয় আদালত৷ সাঁওতালদের উচ্ছেদের নামে তাদের মারধর, লুটপাট, গুলি ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং উচ্ছেদের নামে ওইসব কর্মকাণ্ড কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়৷ দু'টি রুলের শুনানি চলাকালে গত ৬ ডিসেম্বর গাইবান্ধার জেলা প্রশাসককে তলব করে হাইকোর্ট৷
এদিকে ঘটনার প্রায় এক মাস পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আসা একটি ভিডিওর ভিত্তিতে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়৷ ঐ ভিডিওতে দেখা যায়, সাঁওতাল পল্লীর ভেতরে পুলিশ সদস্যরা গুলি ছুড়ছেন৷ কয়েকজন পুলিশ সদস্য একটি ঘরে লাথি মারছেন এবং পরে এক পুলিশ সদস্য ওই ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেন৷ পুলিশের সঙ্গে সাধারণ পোশাকে থাকা আরেকজন আগুন অন্য ঘরে ছড়িয়ে দিতেও সহায়তা করেন৷ ভিডিওর একটি অংশে আরও কয়েকটি ঘরে আগুন দিতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের৷ তাদের মাথায় ছিল হেলমেট, একজনের পোশাকের পিঠে ডিবি, আরেকজনের পুলিশ লেখা ছিল৷

পুলিশ আগুন দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান মঙ্গলবার মাদারীপুরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ সাঁওতালদের ঘরে পুলিশের অগ্নিসংযোগের বিষয়টির তদন্ত হচ্ছে৷ তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে৷
অপরদিকে মামলার প্রেক্ষাপট বর্ণণা করে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সাঁওতালরা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে নতুন নতুন তথ্য আমাদের সামনে আসছে৷ আমরা শুরু থেকেই নির্যাতিত সাঁওতালদের পাশে দাঁড়িয়েছি৷ এবারও যখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখলাম পুলিশ সাঁওতালদের ঘরে আগুন দিচ্ছে, তখন বিষয়টি আদালতের নজরে আনি আমরা৷ এরপর তো আদালত গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে৷’’
http://www.dw.com/bn/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%98%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%A4%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%AE/a-36764298





Share:

Sunday, December 18, 2016

Santal Report: DC apologises for derogatory term, Now HC seeks explanation from SP

Staff Correspondent.

The High Court yesterday exempted the Gaibandha deputy commissioner from personal appearance before it after he apologised to the court for a derogatory term he used in a report over a November 6 attack on the Santals in the district's Gobindaganj upazila.
In the report submitted to the HC on November 30, Deputy Commissioner Md Abdus Samad had stated that Santals and "Bangalee miscreants" locked in a clash with workers of a sugar mill.
Hearing a petition on December 6, the HC said the Pakistani occupation forces used such words as "Bangalee dushkritikari" (Bangalee miscreants).
Accepting the apology made by DC Md Abdus Samad as per the court's December 6 order, the HC bench of Justice Obaidul Hassan and Justice Krishna Debnath yesterday summoned the district's superintendent of police asking him to appear before it on January 2 and explain the reasons for using such terms after Samad said he used the words as the SP used similar words in his report submitted to the local administration.
The judges passed the order when hearing the petition filed by three rights bodies including Ain o Salish Kendra seeking necessary order on the Santal issue and fixed December 14 for passing next order.
The clash broke out among the Santals, Rangpur Sugar Mills staff and police over the eviction of the ethnic minority community from a disputed land in the upazila, leaving three Santal men dead and 20 others, including nine policemen, injured.
Following the rights bodies' petition, the HC on November 17 directed the government to ensure security and free movement of the Santals, to allow them to harvest paddy and to submit a report on legal steps taken as regards the attack.

 http://www.thedailystar.net/city/dc-apologises-hc-1329442
Share:

Santal Report: DC apologises for derogatory term, Now HC seeks explanation from SP

Staff Correspondent.
The High Court yesterday exempted the Gaibandha deputy commissioner from personal appearance before it after he apologised to the court for a derogatory term he used in a report over a November 6 attack on the Santals in the district's Gobindaganj upazila.
In the report submitted to the HC on November 30, Deputy Commissioner Md Abdus Samad had stated that Santals and "Bangalee miscreants" locked in a clash with workers of a sugar mill.
Hearing a petition on December 6, the HC said the Pakistani occupation forces used such words as "Bangalee dushkritikari" (Bangalee miscreants).
Accepting the apology made by DC Md Abdus Samad as per the court's December 6 order, the HC bench of Justice Obaidul Hassan and Justice Krishna Debnath yesterday summoned the district's superintendent of police asking him to appear before it on January 2 and explain the reasons for using such terms after Samad said he used the words as the SP used similar words in his report submitted to the local administration.
The judges passed the order when hearing the petition filed by three rights bodies including Ain o Salish Kendra seeking necessary order on the Santal issue and fixed December 14 for passing next order.
The clash broke out among the Santals, Rangpur Sugar Mills staff and police over the eviction of the ethnic minority community from a disputed land in the upazila, leaving three Santal men dead and 20 others, including nine policemen, injured.
Following the rights bodies' petition, the HC on November 17 directed the government to ensure security and free movement of the Santals, to allow them to harvest paddy and to submit a report on legal steps taken as regards the attack.

 http://www.thedailystar.net/city/dc-apologises-hc-1329442
Share:
Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo