Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Friday, April 19, 2013

Thursday, April 11, 2013

Wednesday, April 10, 2013

প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক নির্দেশিকা স্ব স্ব মাতৃভাষায় প্রণয়ন করা হবে।

একুশে সংবাদ: ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠির শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক নির্দেশিকা স্ব স্ব মাতৃভাষায় প্রণয়ন করা হবে। এ সব জাতি গোষ্ঠি কর্তৃক অনুসৃত হরফ তাদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে অর্ন্তভুক্ত হবে। ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠির নিজস্ব ভাষায় পাঠ্য পুস্তক প্রণয়নের সকল দিক বিবেচনা করে একটি কৌশলপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়।
    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আজ ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠির প্রতিনিধিদের সাথে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এস.এম. আশরাফুল ইসলাম এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
    সভায় সকলের সম্মতিক্রমে জনসংখ্যা ও বর্ণমালার সহজলভ্যতার প্রেক্ষিতে প্রথম পর্যায়ে চাকমা, মারমা, সাওতাল, ত্রিপুরা, গারো ও সাদ্রি ভাষাভাষীদের নিজস্ব ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে ঢাকাস্থ ইউনিসেফের শিক্ষা ব্যবস্থাপক মহসিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিভাগের অধ্যাপক জনাব সৌরভ সিকদার, রাঙ্গামাটি চাকমা প্রতিনিধি মৃত্তিকা চাকমা, সাওতাল প্রতিনিধি রবীন্দ্রনাথ সরেন, রাঙ্গামাটি ত্রিপুরা প্রতিনিধি প্রশান্ত ত্রিপুরা, গারো প্রতিনিধি সঞ্জিব ধ্রুং, মারমা প্রতিনিধি প্রফেসর মং সানু চৌধুরী ও এনসিটিবি গবেষণা কর্মকর্তা মুশিদ আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর অন্যান্য লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যের সাথে প্রাথমিক স্তরের সকল ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার জন্য স্ব স্ব মাতৃভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ৩১ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব এম.এম. নিয়াজউদ্দিনের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। কোন শ্রেণী হতে কোন শ্রেণী পর্যন্ত এরূপ পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হবে, মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে এসব শিশুদের সম্পৃক্তকরণে কি পদ্ধতি হবে, পাঠ্যপুস্তকে কি কি বিষয় অর্ন্তভূক্ত করা হবে সে বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র জাতি সত্বার প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারী সংস্থার কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
Source:http://www.ekusheysangbad.com/index.php/education-news/2676-2012-12-03-11-47-41
Share:

Sunday, April 7, 2013

কারও মনে দুখ দিয়ো না...

মুহম্মদ জাফর ইকবাল | তারিখ: ০৯-০৮-২০১১
মে মাসের শেষের দিকে আমি দেশের বাইরে, ইন্টারনেটে খবরের কাগজ পড়ি। একদিন পত্রিকায় একটা খবর পড়ে আমার আক্কেলগুড়ুম হয়ে গেল। জাতিসংঘের কোনো একটা অধিবেশনে বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ব সেক্রেটারি ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই (ডেইলি স্টার, ২৮ মে)! মাত্র অল্প কয়দিন আগে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে—প্রথমবারের মতো আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, প্রতিবন্ধী কোটার সঙ্গে সঙ্গে আদিবাসী কোটায় ছাত্রছাত্রী ভর্তি করেছি। দেশের বাইরের নেপালি ছাত্রছাত্রীদের পড়িয়ে এসেছি, অথচ দেশের চাকমা, মারমা, ম্রো, সাঁওতাল বা গারো ছেলেমেয়েদের পড়াতে পারি না; সেটা নিয়ে আমাদের দুঃখবোধ ছিল। আদিবাসী কোটায় তাদের পড়াতে পারব, সেটা নিয়ে আমাদের একধরনের আত্মতুষ্টি ছিল, কিন্তু খবরের কাগজ পড়ে আমি হতবুদ্ধি হয়ে গেলাম। দেশে যদি আদিবাসী নেই, তাহলে আদিবাসী কোটায় আমরা কাদের ভর্তি করেছি? শুধু কি তাই, কত হইচই করে শিক্ষানীতি করা হয়েছে, আমিও সেই কমিটির একজন সদস্য, সেই শিক্ষানীতিতে আদিবাসী ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া নিয়ে সুন্দর সুন্দর কথা লিখে এসেছি। তাহলে আমাদের সেই কথাগুলো কার জন্য?


দেশে থাকলে বন্ধুবান্ধব, সহকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করা যেত। বিদেশে এখন পরিচিত দেশের মানুষ শুধু আমার স্ত্রী। কাজেই তার সঙ্গেই আমি ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করলাম। আমি তাকে বোঝালাম, ফার্স্ব সেক্রেটারি নিশ্চয়ই অনভিজ্ঞ মানুষ, এক কথা বলতে গিয়ে আরেক কথা বলে ফেলেছেন। জাতিসংঘের অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পকেট থেকে ভুল কাগজ বের করে ভুল ভাষণ দিয়ে ফেলেন বলে শুনেছি। এটা সম্ভবত সে রকম একটা কিছু। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এ রকম বেঁফাস একটা কথা বলে ফেলার জন্য তাঁর চাকরি চলে যায় কি না, সেটা নিয়েও আমরা একটু দুশ্চিন্তা অনুভব করলাম।
সপ্তাহ খানেক আগে খবরের কাগজ পড়ে আমার আবার আক্কেলগুড়ুম হয়ে গেল। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি আবার সেই কথাগুলোই বলছেন, আরও অনেক স্পষ্টভাবে। বিভ্রান্তির বিন্দুমাত্র জায়গা নেই। আমাদের দেশের যেসব রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর জন্য আমার অনেক শ্রদ্ধাবোধ, ডা. দীপু মনি তাঁদের একজন। রাজনীতি করার আগে তিনি যেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন, সে রকম আর কেউ আছেন কি না আমার জানা নেই। তিনি যদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী না হয়ে একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী বা নেতা হতেন, তাহলে অবশ্যই আমি তাঁর বাসায় হাজির হয়ে বিষয়টা বুঝতে চাইতাম। এখন আমি জানি, এর মধ্যে বোঝাবুঝির কিছু নেই। অনেক ওপরের পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে, নিচের পর্যায়ে এখন স্টিম রোলার চালানো শুরু হয়েছে, কারও কিছু করার নেই।
কিন্তু তাই বলে কি আমরা আমাদের দুঃখ বা শোকের কথা বলতে পারব না? প্রথমত, আদিবাসী কথাটা ডিকশনারিতে কীভাবে ব্যাখ্যা করা আছে, সেটা দিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছোট ছোট বাচ্চারা স্কুল-কলেজের বিতর্কের শুরুতে ডিকশনারি বা এনসাইক্লোপিডিয়া থেকে ব্যাখ্যা দেয়। গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের সেটা করতে হয়—আমি জানতাম না। শুধু কৌতূহলের জন্য আমি ডিকশনারিতে ক্রসফায়ার শব্দটির অর্থ খুঁজেছি। র‌্যাব যখন বিনা বিচারে, সন্দেহভাজন কাউকে গুলি করে মেরে ফেলে, সেটা হচ্ছে ক্রসফায়ার—ডিকশনারিতে সেটা লেখা নেই। আমার বাসায় আরবি ডিকশনারি নেই, থাকলে রাজাকার শব্দটির অর্থ খুঁজে দেখতাম। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী বা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মতো দেশদ্রোহী মানুষ যাঁরা স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পদলেহী হয়ে এই দেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন, তাঁরা হচ্ছেন রাজাকার—সেই কথাটি ডিকশনারিতে লেখা থাকবে না। আমি যত দূর জানি, সেখানে রাজাকার শব্দের অর্থ লেখা আছে সাহায্যকারী। কাজেই সব শব্দের অর্থ খোঁজার জন্য ডিকশনারিতে যেতে হয় না। অনেক শব্দ আছে যার অর্থ ডিকশনারিতে বেঁধে দেওয়া অর্থ থেকে অনেক বেশি ব্যাপক। আদিবাসী ঠিক সে রকম একটা শব্দ। আমরা বহুদিন ধরে এই শব্দটা ব্যবহার করে আসছি। হঠা ৎ করে দেশের সরকার তাদের নিজস্ব একটা অর্থ দিয়ে এটাকে বেঁধে ফেলতে পারবে না। যদি তার চেষ্টা করা হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা খুব দুর্ভাবনায় পড়ে যাব।
মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই জাতিসংঘের আদিবাসীবিষয়ক স্থায়ী ফোরামের সদস্য রাজা দেবাশীষ রায় প্রথম আলোতে একটা লেখা লিখেছিলেন (২৯ জুলাই ২০১১)। সেখান থেকে আমরা জানি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক কিছুই ঠিক বলেননি। একজন মানুষ একটা ভুল তথ্য দিতে পারেন, সেটা পরে শুদ্ধ করে নিলে ঝামেলা মিটে যায়। এবারের বিষয়টি আরও চমকপ্রদ—বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব ব্যাখ্যা দিয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, তারা বাংলাদেশ সরকারের ব্যাখ্যাটা মেনে নেবে না, বহুদিন থেকে সর্বজনস্বীকৃত যে ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে আছে, সেটাই তারা মেনে চলবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পুরো বক্তব্যটা আসলে মধুর বক্তব্য নয়, তাঁর ভেতরে কেমন জানি হিংসা হিংসা ভাব। তাঁর বক্তব্য দিয়ে মনে হচ্ছে পুরো দেশটাকেই একটা হিংসুটে, নীচ, সাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে পৃথিবীর সামনে উপস্থিত করে দেওয়া হলো। আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, এটা মোটেও আমাদের দেশের মানুষের কথা নয়। আমাদের দেশের মানুষ রীতিমতো যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে যখন এই দেশ স্বাধীন করেছিল, তখন সবচেয়ে বড় বিষয়টিই ছিল যে এই দেশের সব মানুষ সমান। এই দেশের মানুষকে আমরা সংবিধানে স্বীকার করে নেব, তাদেরকে তাদের ন্যায্য অধিকারটুকু দেব।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে বলেছেন, জনসংখ্যার মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ মানুষকে বিশেষ আর উন্নত পরিচয় দিতে গিয়ে বাকি ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষের অধিকার হরণ করা যাবে না। আমরা তো সবাই একসঙ্গে ছিলাম, হঠা ৎ করে কেন আমাদের একে অন্যের প্রতিপক্ষ তৈরি করা হলো? কেন বোঝানো হলো তাদেরকে কিছু একটা দিতে হলে সেটা আমাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দিতে হবে? শুধু কি তাই, তাঁর বক্তব্যের মধ্যে পাহাড়ি মানুষদের জন্য একধরনের তাচ্ছিল্য আর অশ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আমাদের বুঝিয়েছেন, তারা বাঙালিদের মতো এখানকার খাঁটি অধিবাসী নয়, ইতিহাসের কোনো এক সময় ‘অর্থনৈতিক’ সুযোগ-সুবিধার জন্য এই দেশে ‘রাজনৈতিক’ আশ্রয় নিয়েছে মাত্র। আমেরিকা-ইউরোপে আদম ব্যাপারিরা যেভাবে লোকজন পাঠিয়ে দেয়, তারা ছোটখাটো কাজ করে টাকা-পয়সা কামাই করে এবং চেষ্টা করে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে পাকাপাকিভাবে থাকার জন্য—ব্যাপারটা ঠিক সে রকম। আমি জানি, তাঁর এই বক্তব্যে পাহাড়ি মানুষেরা মনে খুব কষ্ট পেয়েছে। ব্যাপারটির সত্য-মিথ্যা নিয়ে আমি প্রশ্ন তুলছি না—হঠা ৎ করে কেন এটা এভাবে বলা হলো, আমি সেটা বোঝার চেষ্টা করছি। আমরা তো চেষ্টা করি আমাদের কথাবার্তায় কাজকর্মে কাউকে আঘাত না দিতে। হঠা ৎ করে কেন গায়ে পড়ে কিছু মানুষকে অপমান করা হলো?
আমি বিষয়টি ভেবে কোনো কূল-কিনারা পাইনি। তখন হঠা ৎ করে খবরের কাগজে ছোট একটা খবর পড়ে আমার মনে হলো, আমি পেছনের কারণটি অনুমান করতে পারছি। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী হিসেবে অসম্ভব দক্ষতা নিয়ে কাজ করে এসেছে। আমি জানি তাদের এই কাজ শুধু দায়িত্ব পালন নয়, তার থেকে অনেক বেশি আন্তরিক। সে জন্য কোনো একটি দেশ তাদের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকেই স্থান করে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আমি শুনেছি, আমাদের সেনাবাহিনীর লোকজন সে দেশে এত জনপ্রিয় যে তারা যদি সে দেশে ইলেকশনে দাঁড়াতে পারত, তাহলে বিপুল ভোটে বিজয় পেতে পারত। এই খবরগুলো জেনে খুব স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সবার ভালো লাগে।
এর সঙ্গে সঙ্গে এ কথাটিও সত্যি, পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেক পাহাড়ি মানুষ আমাদের সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়েছে। বিষয়টা দেশের মানুষের কাছে গোপন ছিল। শান্তিচুক্তির ঠিক আগে আগে ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরের ২ তারিখ সব পত্রপত্রিকায় পার্বত্য চট্টগ্রামের একটা ঐতিহাসিক ঘটনাপঞ্জি ছাপানো হয়েছিল। সেই ঘটনাপঞ্জি যারা পড়েছে শুধু তারাই জানে, সেই এলাকায় মানবতার বিরুদ্ধে কী ভয়ংকর অপরাধ করা হয়েছিল। শান্তিচুক্তির পর হঠা ৎ করে সব বন্ধ হয়ে গেছে, সেটা সত্যি নয়। আমরা জানি, তার পরও পাহাড়ি মানুষেরা নানা ধরনের বিচ্ছিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শুধু যে পত্রপত্রিকায় পড়েছি তা নয়, আমি নিজের কানেও তাদের কাছ থেকে তার কিছু বর্ণনা শুনেছি।
আদিবাসী বিতর্ক শুরু হওয়ার পর আমি খবরের কাগজে দেখেছি, জাতিসংঘে আলোচনা করা হচ্ছে, সেনাবাহিনীর যেসব সদস্য আদিবাসীদের সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের যেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে যোগ দিতে না দেওয়া হয়। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সেনাবাহিনী যে শেষ পর্যন্ত সামরিক শাসন দিয়ে ফেলেনি, তার পেছনেও এই শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দেওয়ার সুযোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কাজেই এখন যদি আদিবাসীদের ওপর অত্যাচার করাটা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দেওয়ার জন্য একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তার সবচেয়ে সহজ সমাধান হবে ঘোষণা দিয়ে দেওয়া, এই দেশে আদিবাসী বলেই কিছু নেই। যদি আদিবাসী না থাকে, তাহলে তাদের ওপর অত্যাচারটা করার প্রশ্নই তখন থাকবে না। অত্যন্ত জটিল একটা সমস্যার এর থেকে সহজ সমাধান আর কী হতে পারে?
এটি আমার একটি অনুমান, যদি সরকার বা সেনাবাহিনীর কেউ আমার অনুমানটিকে ভুল প্রমাণ করিয়ে দেন, তাহলে আমার থেকে বেশি খুশি আর কেউ হবে না।

২.
আমি যখন যুক্তরাষ্ট্র বেল কমিউনিকেশন্সে কাজ করি তখন মাঝেমধ্যেই আমাদের গ্রুপের সবাই দল বেঁধে পিতজা (শব্দটা পিজা বা পিজজা নয়, আসলে পিতজা) খেতে যেত। একদিন সে রকম একটা অনুষ্ঠানে গিয়ে হঠা ৎ করে আমি লক্ষ করলাম, আমাদের গ্রুপে সাদা চামড়ার আমেরিকানের সংখ্যা বলতে গেলে নেই। সেখানে ফ্রেঞ্চ, জার্মান, ভারতীয়, বাংলাদেশি (আমি), চায়নিজ, কোরিয়ান, গ্রিক এককথায় পৃথিবীর সব দেশের মানুষ আছে। আমি তখন বুঝতে পেরেছিলাম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে এত দ্রুত পৃথিবীতে এত ওপরে উঠে গেছে, তার একটা কারণ হচ্ছে সারা পৃথিবীর সব কালচারের মানুষ এখানে পাশাপাশি থাকে। ডাইভারসিটি বা বৈচিত্র্য হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় একটা সম্পদ।
দেশে ফিরে এসে আমি এই বৈচিত্র্যের অভাবটি খুব বেশি অনুভব করেছি। আমাদের সবাই দেখতে এক রকম, আমরা প্রায় সবাই এক ভাষায় কথা বলি, আমাদের সংস্কৃতিও এক রকম। আমাদের দেশের ভিন্ন ভাষা বা সংস্কৃতির মানুষ হচ্ছে এই অত্যন্ত অল্প কয়জন আদিবাসী। আমাদের নিজেদের জন্যই এই আদিবাসীদের বুকে আগলে রাখা উচিত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা ভিন্ন দেশ নেপালের ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত পড়িয়ে আসছি, কিন্তু আমার নিজের দেশের একজন সাঁওতাল, গারো বা ম্রো ছাত্রছাত্রীকে এখানে পড়াতে পারিনি—সেটা আমার অনেক বড় দুঃখ। কয়েক বছর আগে আমি রাঙামাটির একটা স্কুলে গিয়েছিলাম। সেখানে পাহাড়ি ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে। সেখানে হঠা ৎ করে লক্ষ করলাম, একটা ছোট পাহাড়ি শিশু একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে একটা বই এবং সে খুব সাহস করে আমার কাছে আসতে পারছে না। এটি আমার জন্য একটি খুবই পরিচিত একটা দৃশ্য। আমি তাকে কাছে ডাকলাম এবং হাতে ধরে রাখা আমার লেখা কোনো একটা কিশোর উপন্যাসে অটোগ্রাফ করে দিলাম। তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, সে ম্রো শিশু এবং সে যেখানে থাকে তার আশপাশে কোনো স্কুল নেই বলে রাঙামাটির এই স্কুলে হোস্টেলে থেকে পড়ে। বইমেলা চলার সময় কোনো কোনো দিন বাংলা একাডেমীর বটগাছের নিচে বসে বসে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে অটোগ্রাফ দিয়েছি। কিন্তু সেই একটি ম্রো শিশুর বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে আমি তার থেকে অনেক বেশি আনন্দ পেয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, আমি এই দেশের আদিবাসী একটা শিশুর কাছে পৌঁছাতে পেরেছি।
শৈশবে আমার বাবা বান্দরবানে পুলিশ অফিসার হিসেবে ছিলেন। আমি সেখানকার স্কুলে পড়েছি। আমাদের স্কুলে অল্প কয়েকজন বাঙালি ছেলেমেয়ে ছিল। বেশির ভাগই ছিল পাহাড়ি। আমার মনে আছে, আমার সেই পাহাড়ি বন্ধুদের সঙ্গে শঙ্খ নদের তীরে কিংবা বনেবাদাড়ে ঘুরে বেড়িয়েছি। ভাষার খানিকটা দূরত্ব ছিল, কিন্তু সেটি মোটেও কোনো সমস্যা ছিল না। শুধু ভাষা নয়, তাদের গায়ের রং, মুখের ছাপ, পোশাক, আচার-আচরণ সেগুলোও ভিন্ন ছিল, কিন্তু সেই শৈশবে আমি নিজের মতো করে আবিষ্কার করেছিলাম, এই ভিন্নতাটুকুই হচ্ছে আমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। বড় হয়ে বুঝেছি, বৈচিত্র্যটাই হচ্ছে সৌন্দর্য। সবচেয়ে বড় কথা, আমার সেই পাহাড়ি বন্ধুরা আর আমরা কিন্তু একই মানুষ।
তাই আমার খুব দুঃখ হয়, যখন দেখি এই দেশে আমার সব অধিকার আছে, অথচ আমার শৈশবের সেই বন্ধুরা এই দেশে সংবিধানে একটুখানি অধিকারের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে, তারা সেটা পাচ্ছে না। শুধু যে পাচ্ছে না তা নয়, একেবারে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তাদের অবহেলা করে দূরে ঠেলে দিচ্ছি।
বিষয়টা কেমন করে নিষ্পত্তি হবে আমি জানি না। আমি শুধু একটা জিনিস জানি, এই দেশের সব মানুষ যখন কোনো একটা কিছু চায়, তখন তারা সেটা আদায় করে নিতে পারে। আর দেশের মানুষের কোনো একটা কিছু চাওয়া শুরু হয় এই দেশের তরুণ প্রজন্ম দিয়ে। তাই আমার খুব ইচ্ছে, এই দেশের তরুণ প্রজন্ম বিষয়টা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করুক। তাদের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন একজন গারো, সাঁওতাল কিংবা ম্রো সহপাঠী নেই, সেই প্রশ্নটা সবাইকে করতে থাকুক। সারা পৃথিবী যখন ‘ডাইভারসিটি’ নিয়ে ব্যস্ত হয়েছে, তখন আমরা কেন সেটাকে চাপা দিয়ে চোখের আড়াল করতে চাইছি, সেটা জানার চেষ্টা করুক। আমরা বাঙালিরা শতকরা ৯৮ দশমিক ৮ ভাগ থেকেও মাত্র ১ দশমিক ২ ভাগ আদিবাসী মানুষের দায়িত্ব নিতে পারব না, সেটা তো হতে পারে না।

৩.
আদিবাসীদের নিয়ে এই বিতর্কটুকু দেখে আমি একটু আতঙ্ক অনুভব করেছি। তার কারণ ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, সেখানে ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ বাঙালি যে বাকি ১ দশমিক ২ ভাগ মানুষ থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই বিষয়টা কিন্তু প্রকাশ পেয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে যখন কোনো জাতি নিজেকে অন্যদের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, তার ফল হয় ভয়ানক। জার্মানির না ৎ সিরা ভেবেছিল, নানকিংয়ে জাপানিরা ভেবেছিল, ফিলিস্তিনে ঐশ্বরিক অধিকার পাওয়া ইসরায়েলিরা ভাবে। সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে নরওয়ের গণহত্যাকারী সেই উন্মাদ, যার ধারণা তার খাঁটি জাতিটাকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। আমরা দুর্নীতিপরায়ণ, অশিক্ষিত, পশ্চা ৎ পদ জাতি, আমাদের কোনো ভবিষ্য ৎ নেই—আমি মোটেও সে কথা বিশ্বাস করি না। আমি প্রায় অনুভব করতে পারি, আমাদের নতুন প্রজন্মের হাত ধরে আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে যাচ্ছি। কিন্তু সেই সঙ্গে আমি এটাও বিশ্বাস করি না, দেশের ৯৮ দশমিক ৮ ভাগ মানুষ হিসেবে এই দেশে আমার অধিকার বেশি।
আদিবাসী বিতর্ক দেখে আমি হয়তো দুর্ভাবনা অনুভব করেছি, কিন্তু আমি নিশ্চিতভাবে জানি, এই দেশের আদিবাসীরা একটা আঘাত পেয়েছে, তাদের ভেতরকার অনুভূতি হচ্ছে দুঃখ।
আমি জানি না সরকারকে কোনো কথা বলা যায় কি না। যদি যেত, তাহলে আমি তাদের ওমর খৈয়ামের কবিতার একটি লাইন শোনানোর চেষ্টা করতাম—
‘কারও মনে দুখ দিয়ো না, করো বরং হাজার পাপ—’। হাজার পাপ করার থেকেও কারও মনে দুঃখ দেওয়া যে অনেক বেশি নির্মম, এই সহজ কথাটা বোঝা কি এতই কঠিন?
মুহম্মদ জাফর ইকবাল: লেখক। অধ্যাপক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-08-09/news/176651
Share:

গারো, সাঁওতাল, চাকমা কি বাঙালি?

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ৯ আগস্ট ‘কারও মনে দুখ দিয়ো না’ শিরোনামে একটি কলাম লিখেছেন। কলামের শেষ অংশে ওমর খৈয়ামের কবিতার একটি লাইন লিখেছেন, ‘কারও মনে দুখ দিয়ো না, করো বরং হাজার পাপ—।’ লেখাটি পড়ার পর আমার স্ত্রী মিতালী চিসিম বললেন, ‘স্যারকে মেসেজ পাঠাও।’ আমি তখনই মোবাইলে মেসেজ পাঠালাম। তাতে লিখলাম, ‘প্রিয় স্যার, আজ আদিবাসী দিবস। আপনার লেখা মন ভরে পড়লাম। এখন শহীদ মিনারে আছি। এখানে বৃষ্টিভেজা সকালে হাজারো আদিবাসী মানুষ, সরকার কেন মানুষকে এত কষ্ট দেয়? পরম করুণাময় আপনাকে আশীর্বাদ করুন।’ জাফর ইকবাল স্যার কি জানেন, নতুন সংবিধানে কী লেখা আছে আদিবাসীদের সম্পর্কে।
গত ৩০ জুন থেকে গারো, সাঁওতাল, মণিপুরি, খাসি, চাকমা, ত্রিপুরা—সবাই ‘বাঙালি’। সংবিধানের ৬(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি বলিয়া পরিচিত হইবেন।’ একজন গারো কি বাঙালি? চাকমা কি বাঙালি? সাঁওতাল কি বাঙালি? ওই ম্রো কি বাঙালি? জাফর ইকবাল স্যার বান্দরবানে তাঁর শৈশবে শঙ্খ নদের তীরে যাঁদের সঙ্গে মিশেছেন, তাঁরা কি বাঙালি? স্যার লিখেছেন, ‘শুধু ভাষা নয়, তাদের গায়ের রং, মুখের ছাপ, পোশাক, আচার-আচরণ সেগুলোও ভিন্ন ছিল, কিন্তু সেই শৈশবে আমি নিজের মতো করে আবিষ্কার করেছিলাম, এই ভিন্নতাটুকুই হচ্ছে আমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। বড় হয়ে বুঝেছি, বৈচিত্র্যটাই হচ্ছে সৌন্দর্য।’
এই ধরিত্রী সুন্দর। কারণ, এখানকার ৯০টি দেশে প্রায় ৩৭ কোটি আদিবাসী মানুষ আছে। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন তাঁর বাণীতে বলেছেন, ‘আমরা আদিবাসীদের অধিকার এবং সবার জন্য সমতা, ন্যায়বিচার ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করছি। আদিবাসী জনগোষ্ঠী অসাধারণ বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করে। পাঁচ হাজার স্বতন্ত্র জাতিতে বিভক্ত এই জনগোষ্ঠী বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে বসবাস করছে। বিশ্ব জনসংখ্যার শতকরা ৫ ভাগের বেশি এই আদিবাসীদের সংখ্যা আনুমানিক ৩৭ কোটি। তারা একত্রে অত্যন্ত মূল্যবান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক, যা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা শিল্পকলা, সাহিত্য ও বিজ্ঞানে তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনীর প্রকাশ দেখি।’
সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি উন্নয়ন-সহযোগী ও কূটনীতিকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আদিবাসী নেই; বাঙালিরাই প্রকৃত আদিবাসী।’ আমরা বলেছি, তাঁর ওই বক্তব্য সঠিক নয় এবং গ্রহণযোগ্যও নয়। স্মরণাতীত কাল থেকে এ দেশে আদিবাসীরা তাদের স্বকীয়তা, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয় নিয়ে বসবাস করছে। এই জগতে কে কোথা থেকে প্রথম আবির্ভূত হয়েছে, এটি আদিবাসী বা ইনডিজিনাস পিপলসের মূল কথা নয়। এ জন্যই জাতিসংঘ ইনডিজিনাস পিপলসের কোনো সংজ্ঞা নির্ধারণ করেনি এবং আদিবাসীরাও তা চায়নি।
জাতিসংঘ কখনো কোনো সদস্যরাষ্ট্রকে তার দেশের আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ বলা বা না-বলার ক্ষেত্রে কোনো খবরদারি করে না। এটি অবশ্যই রাষ্ট্রের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু সরকার যখন জোর করে ‘আদিবাসীদের’ ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ বা ‘উপজাতি’ বলে আখ্যায়িত করে এবং সরকার নিজেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘকে বলে আদিবাসী বিষয়ে বা তার নাগরিকদের বিষয়ে কিছু বলার অধিকার বা এখতিয়ার তাদের নেই, তখন সেই রাষ্ট্রে ‘আদিবাসীদের’ প্রতি রাষ্ট্রের আচরণ ও রাষ্ট্রীয় মনোভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্পষ্ট হয়ে যায়। আর রাষ্ট্র তখন তার নাগরিক বা আদিবাসীদের সঙ্গে কতখানি অমানবিক আচরণ করে, তা নিজেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে দেয়।
সম্প্রতি সরকার জাতিসংঘ আদিবাসী-বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম এবং জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) যে ভূমিকা পালন করেছে, তাতে রাষ্ট্র নিজে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছে এবং ইকোসকের ৫৪টি সদস্যরাষ্ট্র আদিবাসী-বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের প্রতিবেদনকে গ্রহণ করেছে। কেননা, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহলে আদিবাসী বা ইনডিজিনাস বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এজেন্ডা। আমরা মনে করি, আত্মপরিচয়ের অধিকার আদিবাসীদের রয়েছে। রাষ্ট্র কোনো জাতির পরিচয় চাপিয়ে দিতে পারে না। আইএলও কনভেনশনের উদ্ধৃতি দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদিবাসীদের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন, যা সঠিক নয়। আইএলও কনভেনশনের মূল কথাই হলো আত্মপরিচয়ের নীতিকে শ্রদ্ধা করা।
সরকারের আচরণে মন খারাপ হলেও আমরা আদিবাসীরা হতাশ নই। মেঘ যত ঘনকালো হোক, তা কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। অন্ধকারের পর নতুন ভোর হবেই, নতুন সূর্য উঠবেই। আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমি দেশ বহু জাতি ও বহু সংস্কৃতির বর্ণময় সম্ভাবনাময় দেশ। একে আমাদের সবাই মিলে গড়ে তুলতে হবে। জাতিসংঘ বিশ্বের জন্য যেভাবে আদিবাসীদের বিশাল অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে, আমাদের রাষ্ট্রও একদিন তা করবে। এভাবে একটি মানবিক গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে উঠবে।
আমার প্রশ্ন, বিশ্বের আদিবাসীদের জন্য জাতিসংঘের দুয়ার যেখানে খোলা, সেখানে আমাদের দেশে আদিবাসীদের জন্য রাষ্ট্রের দুয়ার বন্ধ কেন হবে?
সঞ্জীব দ্রং: কলাম লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী।
sanjeebdrong@gmail.com
Source:http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-08-12/news/177432
Share:

পানছড়ির ৭২ সাঁওতাল পরিবারে দুর্দিন

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার তিনটি গ্রামের ৭২টি সাঁওতাল পরিবারে দুর্দিন চলছে। প্রতিটি পরিবারে গড়ে তিন-চারজন সদস্য রয়েছে। খেয়ে না-খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছে তারা। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তো দূরে থাক, সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা থেকেও বঞ্চিত তারা।
রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও সিলেট অঞ্চলে সাঁওতালদের বিরাট একটি অংশ বাস করলেও পানছড়ির মঙ্গল সাঁওতাল কার্বারিপাড়ায় ১৮টি পরিবার, কানুংগোপাড়ার গুণ সাঁওতাল কার্বারিপাড়ায় ৩৬টি, লোগাং ইউনিয়নের রামদাস সাঁওতাল কার্বারিপাড়ায় ১৮টি পরিবার যুগ যুগ ধরে বাস করছে। সহজ-সরল নিরীহ প্রকৃতির এই আদিবাসীদের খোঁজ কেউ রাখে না।
উপজেলা সদরের এক থেকে তিন কিলোমিটারে মধ্যে গ্রাম তিনটি অবস্থিত। সম্প্রতি মঙ্গল ও গুণ সাঁওতাল কার্বারিপাড়ায় সরেজমিনে দেখা গেছে, এখানে স্বাস্থ্যসমঞ্চত শৌচাগার নেই। বিশুদ্ধ পানীয়জলের জন্য নেই কোন নলকূপ। কুয়া বা ঝরনার পানি পান করে তারা। অসুখ হলে স্থানীয় বৈদ্য ও কবিরাজই একমাত্র ভরসা তাদের। পাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, সর্দারের হুকুমেই চলে তাদের আইন-কানুন। গ্রামের সব আচার-বিচার সর্দারই করে থাকেন। থানা-পুলিশ ও আদালতের শরণাপন্ন হতে হয় না তাদের।
পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অসেতু বিকাশ চাকমা বলেন, গত বছর সব সাঁওতাল পরিবারকে ভিজিএফ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদেরকে বিধবাভাতা, বৃদ্ধভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।
পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মফিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, অবহেলিত সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপ, গ্রামে স্বাস্থ্যসমঞ্চত শৌচাগারসহ স্থায়ী আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-08-09/news/280499

পানছড়ির সাঁওতালদের খবর নেয় না কেউ

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমলে সাঁওতাল শ্রমিকেরা রাঙামাটি এসেছিলেন রাস্তাঘাট নির্মাণের কাজে। তখন কিছু পরিবার নিজ এলাকায় না ফিরে থেকে গিয়েছিল সেখানেই। ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ হওয়ায় রাঙামাটিতে বসবাসরত সাঁওতালদের একটা অংশ উদ্বাস্তু হয়ে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে এসে বসতি গড়ে তোলে। তবে এত বছরেও সাঁওতালরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন থেকে শুরু করে কোনো নাগরিক সুবিধা পাননি।
পানছড়ি উপজেলা সদর, কানুনগোপাড়া, রামদাস সাঁওতাল কার্বারিপাড়ায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ৮১ পরিবারের বসবাস। মুর্মু, টুডুং, কিসকু, হেমরং, মারেন্ডি, হাজদা, সরেন নামে সাতটি সাঁওতাল গোত্র আছে এখানে।
সম্প্রতি সরেজমিনে পানছড়ির কয়েকটি সাঁওতালপল্লিতে দেখা গেছে, সাত-আট বছরের শিশুরাও মা-বাবার সঙ্গে কাজে যাচ্ছে। এসব গ্রামে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই, কুয়া বা ঝরনার পানিই একমাত্র ভরসা। দূষিত পানি পান করে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, আমাশয়সহ পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানালেন গ্রামবাসী। এই এলাকায় নেই স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা। শিশুদের নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়া লেগেই থাকে। তবে অসুখ হলে ওঝা-বৈদ্যের কাছেই যান তাঁরা। কানুনগোপাড়ার কার্বারি (পাড়াপ্রধান) গুন সাঁওতাল বলেন, ‘আমরা এখানে রাস্তা তৈরির কাজ করতে এসেছি। নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে এলেও এখানে এসে সরকার থেকে কোনো জমিজমা পাইনি। আগে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের রাস্তা মেরামতের কাজে আমাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতো, আমরা এখন সেই সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি।’
লোগাং ইউনিয়নের রামদাস সাঁওতাল কার্বারিপাড়ার সুভাস সাঁওতাল বলেন, ‘বিগত ৪১ বছরে মাধ্যমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়েছে হাতেগোনা কয়েকজন সাঁওতাল। দারিদ্র্যের কারণে পরিবারগুলো তাদের শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারে না।’
একই পাড়ার সম সাঁওতাল বলেন, ‘এখানকার ৯৫ শতাংশ সাঁওতালের কোনো জায়গাজমি নেই। তাই প্রতিদিন ভোরে কাজের সন্ধানে বের হতে হয়। কাজ না পেলে মাঝেমধ্যে উপোস থাকতে হয়।’ হাপনা সাঁওতাল বলেন, ‘সরকারের সব সুযোগ-সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত।
‘আমরা বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফ—কিছুই পাই না।
‘গ্রামের লোকজনের স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানাও নেই। অসুখ হলেও কেউ হাসপাতালে যায় না।’ পানছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অসেতু বিকাশ চাকমা বলেন, ‘অবহেলিত সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।’ পানছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা বলেন, ‘সাঁওতাল সম্প্রদায়ের স্থায়ী উন্নয়নের জন্য মাছের খামার ও মিশ্র ফল-বাগানের মতো প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।’

Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-01-02/news/185098

***********************************************

Share:
Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo