728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, June 12, 2013

ঘোড়াঘাটের আদিবাসী শিশুরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত

সিডি নিউজ২৪.কম, গাইবান্ধা ০৪ নভেম্বর : রাষ্ট্রের সংবিধান স্বীকৃত শিক্ষা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার আদিবাসী শিশুরা। ঘোড়াঘাট উপজেলায় আদিবাসীদের বেশীর ভাগাই ভুমিহীন কৃষি মজুর। চরম আর্থিক অনটন, অভিবাবকদের অসচেতনতা, ভাষাগত সমস্যা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের প্রতি শিক্ষাকদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আদিবাসী শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় আদিবাসীরা জানায়, এ অঞ্চলের আদিবাসীরা অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। সে কারণে তাদের সন্তানরা একটু বড় হলে স্কুলে না পাঠিয়ে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যায় শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগিয়ে দেয়। এত প্রতিকুলতার মধ্যে যেসব আদিবাসী শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় তারা ভাষাগত সমস্যার কারণে অল্প দিনেই ঝরে পড়ে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে আদিবাসী শিশুবান্ধব পরিবেশ না থাকায় আদিবাসী শিশুরা বিদ্যালয়মুখী হয়ে উঠেনা। এ কারণে আদিবাসী শিক্ষার হার খুবই কম। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এ অঞ্চলের  স্বাক্ষরতার হার ৪০.০৯ ভাগ হলেও আদিবাসীদের ক্ষেত্রে শিক্ষার হার মাত্র ১০ভাগ। সরেজমিনে জানা গেছে, ভাষাগত সমস্যার কারণে ঘোড়াঘাটে আদিবাসী অধ্যূষিত কুচেরপাড়া, আবিরের পাড়া, মিশনপাড়া, শীধলগ্রাম, মিলকিপাড়া, ঘুঘুড়া, কালুপুকুর এলাকার বিভিন্ন আদিবাসী পললীর শিশুরা স্কুলে আসতে চায় না।  যে জন্য আসে  একই কারনে তারা বিদ্যালয়ে টিকতে পারে না। অনুসন্ধানে জানা যায়, সাধারণত জন্মের পর ছয় বছর বয়স পর্যন্ত আদিবাসী শিশুদের বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ হয় না। ফলে এসব শিশু তাদের নিজ ভাষার পাশাপাশি বাংলা শেখার সুযোগ পায় না। এ অবস্থায় ছয় বছর বয়সী শিশুটিকে যখন সরাসরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেয়া হয় তখন সে মারাত্মক ভাষাগত সমস্যার মধ্যে পড়ে। এবং তার কাছে বাংলা ভাষা দুর্বোধ্য এবং বিদেশী মনে হয়। আদিবাসী শিশুরা স্কুল শিক্ষাক ও সহপাঠিদের কোনো কথা ঠিক মত বুঝতে পারে না পারলেও উত্তর দিতে পারে না। নিজের ভাষা ব্যবহার করলে শিক্ষাকরাও বেকায়দায় পড়ে যান। ভাষাগত এসব সমস্যায় এক পর্যায়ে আদিবাসী শিশুদের কাছে স্কুল নিরানন্দ মনে হয়। এক সময় তারা স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। তাদের এ ঝরে পড়া বিষয়টির কোন প্রতিকার না করে ব্যাপারটিকে খুবই স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেয় অনেকে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতিক সময়ে দু-একটি বেসরকারি সংস্থা তাদের নিজ ভাষার পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আদিবাসী শিশুদের নিয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচী চালু করেছে। ফলে এসব শিশু সল্পসংখ্যাক হলেও ক্রমেই বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে। আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠন ওয়ার্ল্ড ভিশন, ন্যাজারীন মিশন সমম্বয়কারীরা  জানান, আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার হার হাতাশাব্যঞ্জক। তবে যে সব এলাকায় প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করা হয়েছে সেসব এলাকায়ে আদিবাসী শিশু শিক্ষার হার কিছুটা বেড়েছে। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয় গুলোতে বাংলা ভাষার পাশাপাশি আদিবাসী ভাষায় অভিজ্ঞদের শিক্ষাক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করে ভাষাগত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। এতে আদিবাসী শিশুরা আরও বেশী বিদ্যালয়মুখী হবে বলে তারা অভিমত প্রকাশ করেন। ঘোড়াঘাট উপজেলা আদিবাসী চেয়ারম্যান ফিলিপ সরেন বলেন, আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা নিয়ে অনেক এনজিও কাজ করলেও কাজের কাজ হয়নি কিছুই। দাতাদের কাছ থেকে ফান্ড সংগ্রহের জন্য এনজিওগুলো যতটা তৎপর আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে তাদের সে রকম তৎপরতা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, আদিবাসী শিশুদের টিফিনের জন্য যে টাকা বরাদ্দ থাকে তা এনজিও কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেছে। দাতা সংস্থা এদের জন্য যগোপযোগী বরাদ্দ দিলেও এনজিও ওইসব বরাদ্দ বিভিন্ন খাতে ব্যবহার দেখিয়ে যাচ্ছে তাই করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার আদিবাসীদের  জন্য পড়াশুনার আলাদা বিদ্যালয় এবং আদিবাসী শিক্ষাক দিলেই শুধু এই সংকট থেকে নিন্তার পাবে বলে এলাকার অভিজ্ঞ মহল জানান।

Source: http://www.cdnews24.com/?p=20347
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Item Reviewed: ঘোড়াঘাটের আদিবাসী শিশুরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত Description: Rating: 5 Reviewed By: Tudu Marandy and all
Scroll to Top