Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Friday, February 28, 2014

মাতৃভাষা: 'আদিবাসী ভাষা ও সাহিত্য সম্মাননা'

পাভেল পার্থ
 দেশের আদিবাসী জনগণের ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, ঐতিহ্য সুরক্ষা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছে 'ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০'। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আদিবাসী ভাষা ও সাহিত্য সুরক্ষা এবং বিকাশের প্রশ্নে আমরা কোনো ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ দেখতে পাইনি। আদিবাসী জনগণ রাষ্ট্রের ঔপনিবেশিক 'পরিচয়-রাজনীতি' এবং 'জনমিতি-বাহাদুরির' ঐতিহাসিক নিশানা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারি ও ৯ আগস্ট আদিবাসী দিবসে 'হারিয়ে যাচ্ছে আদিবাসী ভাষা' শিরোনামে গণমাধ্যমে কিছু প্রচার হয়। 'সবকিছু হারিয়ে গেল' বলে নাগরিক জীবনে কিছু 'উন্নয়নবাদী' জাদুঘরমার্কা মেকি কান্না চলে। কিন্তু আদিবাসী জনগণের ভাষা ও সাহিত্যের ন্যায়বিচার সুরক্ষায় রাষ্ট্র জান-জবান নিয়ে দাঁড়ায় না। রাষ্ট্র বরাবরের মতোই বৈষম্যের বন্দুক নিয়েই চোখ রাঙিয়ে থাকে আর একুশে ফেব্রুয়ারি এলে ঠোঁট ফুঁলিয়ে বলে, 'সব ভাষাকে বাঁচাতে হবে।' রাষ্ট্রকে বুঝতে হবে ভাষা এমনি এমনি বেঁচেবর্তে থাকে না। এর জন্য অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। রাষ্ট্রকে এও বুঝতে হবে, বন্দুক দিয়ে এলোপাতাড়ি ফানা ফানা রক্তাক্ত করেও কোনো ভাষাকে গায়েব করে ফেলা যায় না। দেশের আদিবাসী জাতিগুলোর প্রত্যেকের মাতৃভাষার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনৈতিক দর্শক ও নীতি বৈষম্যহীন ও ন্যায়পরায়ণ হতে হবে। আদিবাসী ভাষাগুলোর টিকে থাকার প্রশ্নে দেশে বরাবরই কেবল 'মাতৃভাষায় আদিবাসীদের প্রাথমিক শিক্ষা' ইস্যু নিয়ে টালবাহানা চলছে। কিন্তু একটি ভাষা টিকে থাকার অনেক শর্তের ভেতর কাজ করে তার সাহিত্য ও যাপিতজীবনের চর্চার নিরাপত্তা, স্বীকৃতি ও মর্যাদা। রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসীদের ভাষা ও সাহিত্যকে মর্যাদা ও স্বীকৃতি দিয়ে 'আদিবাসী ভাষা ও সাহিত্য সম্মাননা' চালু করা জরুরি। প্রতি বছর আদিবাসী ভাষায় এবং আদিবাসীদের রচিত ও নির্মিত সাহিত্যকীর্তিগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা চালু করা যেতে পারে। আর সরকারের পক্ষে এই কাজটির দায়িত্ব নিতে পারে বাংলা একাডেমি কি আদিবাসী বিষয়ক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। সাহিত্যকর্মের জন্য আদিবাসী শিল্পী-সাহিত্যিকদেরও গুরুত্বপূর্ণভাবে একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পদকসহ দেশের অন্য সব পদক ও পুরস্কারের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা জরুরি। মান্দি সমাজের শেরানজিংপালা, রেরে, আজিয়া, চাকমাদের রাধামন-ধনপুদি বা মৈতৈ ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সমাজের রাসপালা, হাজংদের দেবী দুর্গাপালার মতো আদিবাসী জনগণের রয়েছে অবিস্মরণীয় সব মৌখিক আখ্যান। 'আদিবাসী ভাষা ও সাহিত্য সম্মাননা' দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই মৌখিক ও লিখিত সাহিত্যকীর্তি উভয়কেই গুরুত্ব ও মর্যাদা দিয়ে বিবেচনা করা জরুরি।


২. 'বাংলা সাময়িকপত্রে আদিবাসীকথা' পুস্তকের ভাষ্যমতে, নৃতাত্তি্বক দৃষ্টিভঙ্গিতে আদিবাসী চর্চা শুরু হয় যতদূর সম্ভব ১৮৮৫ সাল থেকে। বিগত শতকের সত্তর-পরবর্তী সপ্ত দশকে চাকমা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও সঙ্গীতে প্রথমবারের মতো জোয়ারের সৃষ্টি হয়। চাকমা সমাজের এই নবজাগরণের যুগে বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতিশীল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জন্ম লাভ করে। ১৯৭২ সালে রাঙামাটি শহরে জুমিয়া ভাষা প্রচার দফতর (জুভাপ্রদ), মুড়োল্যা সাহিত্য ও সংস্কৃতিগোষ্ঠী এবং গিরিসুর শিল্পীগোষ্ঠী নামে তিনটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। ১৯৭২ সালেই বিঝু উপলক্ষে জুভাপ্রদ তাদের প্রথম সাহিত্য সংকলন 'বিজু' এবং মুড়োল্যা সাহিত্য ও সংস্কৃতিগোষ্ঠী 'লুরা' নামে সংকলন প্রকাশ করে। ১৯৭৪ সালে গিরিসুর শিল্পীগোষ্ঠী চাকমা-মারমা-ত্রিপুরা ভাষার কিছু 'আধুনিক গান' নিয়ে প্রকাশ করে গানের সংকলন 'শিঙ্গা'। ১৯৭০ সালে ১২টি শিশুতোষ চাকমা কবিতা নিয়ে রাঙামাটি থেকে প্রকাশ হয় সুগত চাকমার (ননাধন) ছোট কলেবরের কবিতার 'রাঙামাত্যা'। আদিবাসীদের ভাষা, সাহিত্য, কৃষ্টি, শিল্প বিষয়াদির চর্চা, গবেষণা, প্রকাশনা ও প্রচারণার জন্য ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮১ সালে ঢাকায় গঠিত হয় 'রাঙামাটি ইসথেটিকস কাউন্সিল (রা-ক), পরবতীকালে রাঙামাটির স্থলে জুম বসিয়ে করা হয় জুম ইসথেটিকস কাউন্সিল (জাক)। মুরল্যা লিটারেচার গ্রুপ ১৯৮০ ও রাঙামাটি ইসথেটিকস কাউন্সিল ১৯৮১ সালে চাকমাদের নিজস্ব উদ্যোগে পরপর রাঙামাটি থেকে বাংলা বর্ণমালা ও চাঙমা ভাষায় রাধামন-ধনপুদির প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ করে। মৃত্তিকা চাকমার সম্পাদনায় সম্পূর্ণ চাঙমা ভাষায় বাংলা হরফে ত্রৈমাসিক কবিতাপত্র প্রথম প্রকাশ হয় রাঙামাটি থেকে ১৯৮১ সালে।

৩. কেবল চাকমা নয়, দেশের সব নিপীড়িত জাতির শিল্প-সাহিত্যের এক লড়াকু শ্রেণী ইতিহাস রয়েছে। এমনকি বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্য বিকাশেও রয়েছে আদিবাসী জনগণের ঐতিহাসিক ভূমিকা। ত্রিপুরা মহারাজ ধর্মমাণিক্য ৮৬০ ত্রিপুরাব্দে (১৪৫০ খ্রিষ্টাব্দ) শুক্রেশ্বর এবং বানেশ্বরকে দিয়ে রাজমালা বাংলায় অনুবাদ করান। ত্রিপুরা জাতির সাহিত্যচর্চার সুবর্ণ অধ্যায় সূচিত হয়েছিল ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ থেকেই। সুরেন্দ্র কুমার দেববর্মা 'ত্রিপুরা ভাষা' নামে একটি সাহিত্যপত্রও প্রকাশ করেন ১৯০৩ সালে। ১৯১৭ সালে মহেন্দ্র দেববর্মার নাটকের বই পতিব্রতা প্রকাশ হয়, রাধামোহন দেববর্মার ককবরক মা গ্রন্থটি প্রকাশ হয় ১৯০০ সালে। বাংলাদেশে ১৯৩৬ সালে খুশী কৃষ্ণ ত্রিপুরার গীতি সংকলন 'খা কাচাংমা খুম্বার' প্রকাশ হয়। ১৩৭০ ত্রিপুরাব্দে প্রকাশ হয় তার ককবরক ককতাং গ্রন্থটি। সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বরেন ত্রিপুরা, নববিক্রম ত্রিপুরা, প্রবাংশু ত্রিপুরা, মহেন্দ্রলাল ত্রিপুরা ও শোভা ত্রিপুরাদের নিজস্ব ককবরক ও বাংলা ভাষায় সাহিত্যচর্চা নানা বাধা আর নির্যাতনকে ধাক্কা দিয়ে দিয়ে এগিয়েছে।

৪. ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইল, গাজীপুর এলাকার মান্দি, কোচ, হাজং, বানাই, ডালু, হদি, রাজবংশী, লেঙাম জনগোষ্ঠীদের ভেতর মূলত মান্দি ও হাজংদের ভেতরেই চলতি সময়ে মুদ্রিত সাহিত্যচর্চা বেশি দেখা যাচ্ছে। নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিরিশিরিতে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত 'উপজাতীয় সাংস্কৃতিক একাডেমী' থেকে আদিবাসী সমাজের সাহিত্য দর্পণ ঘোষণা করে প্রায় অনিয়মিত 'জানিরা' নামে একটি প্রকাশনা প্রকাশ হচ্ছে। এই পত্রিকায় মূলত কিছু গান, কবিতা এবং খুবই গতানুগতিক আলোচনা ছাপানো হয়। দারিং ১৯৯৯ সালে রোমান হরফে কিন্তু মান্দিদের আ.চিক ভাষায় মোট সতেরটি গল্প লিখেছেন ছোটদের জন্য। মান্দিদের ভেতর জেমস জর্নেশ চিরান, মতেন্দ্র মানখিন, সঞ্জীব দ্রং, জেমস ওয়ার্ড খকসী, বচন নকরেক, বাবুল ডি নকরেক, পরাগ রিছিল, রাখী ম্রং, মিঠুন রাখসামদের কবি ও লেখকরা মূলত বাংলা ভাষাতেই নিজস্ব সাহিত্য আওয়াজ তুলেছেন। সিলেটের আদিবাসীদের ভেতর মূলত মৈতৈ মণিপুরি, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি, খাসিয়া, মান্দি, হাজং, লেঙাম এবং চা বাগানের বিশাল আদিবাসী বাগানিয়া জনগণ বেশ জোরেশোরে সাহিত্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। মৈতৈ মণিপুরি ভাষার কবি একে শেরাম ও বিষুষ্ণপ্রিয়া মণিপুরি ভাষার কবি শুভাসিস সিনহা খুবই গুরুত্বপূর্ণ লেখক। উত্তরাঞ্চলের সাঁওতাল, মুণ্ডা, ওঁরাও, মাহালী আদিবাসীদের ভেতরও সাহিত্যচর্চা এবং লেখালেখির বেশ একটা জীবন্তধারা বহমান।

৫. বাংলাদেশে আমরা আদিবাসীদের ভাষায় কিংবা বাংলা হরফে আদিবাসী ভাষায় বা আদিবাসীদের নিজস্ব হরফ এবং ভাষায় মূলত কবিতা চর্চা করতেই দেখি বেশিরভাগ কবি ও লেখককে। অনেকেই গবেষণা প্রবন্ধ, মুক্তগদ্য, স্মৃতিচারণ, আলোচনা লিখে থাকেন। সম্পূর্ণ চাঙমা বর্ণমালা ও ভাষায় দেবাশীষ চাকমার উপন্যাস ফেবো প্রকাশ হয় ২০০৪ সালে। এটি প্রকাশ করে পোগাদাঙ, প্রচ্ছদ করেছেন হাপং ত্রিপুরা মিলন। এছাড়াও কিছু বাংলা হরফ ও ভাষায় লেখা গল্প এবং উপন্যাস লিখেছেন কেউ কেউ, বেশকিছু নাট্যচর্চা অব্যাহত আছে আদিবাসী ভাষায় এবং আদিবাসী এলাকায়। চাকমা, মৈতৈ মণিপুরি, মান্দি, বিষুষ্ণপ্রিয়া মণিপুরি, ত্রিপুরা, সাঁওতালদের ভেতর মাতৃভাষা এবং অনেকের ক্ষেত্রে নিজস্ব বর্ণমালায় সাহিত্যচর্চার চল বেশি। কিন্তু সবকিছুর পরেও এও নিদারুণভাবে সত্য যে, দিনে দিনে প্রশ্নহীন কায়দায় রক্তাক্ত হতে হতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে আদিবাসী ভাষাগুলো। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট দেশে একটি জাতিতাত্তি্বক ভাষা জরিপের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি আদিবাসী ভাষাগুলোর ব্যাকরণগত গবেষণা করার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু আদিবাসীদের ভেতর যারা নিরন্তর সাহিত্যচর্চা করে চলেছেন, তাদের সৃষ্টি আখ্যানের কোনো রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার এখনও নিশ্চিত হয়নি। রাষ্ট্র 'জাতীয় সাহিত্য' বলতে কেবল 'বাংলা ভাষা ও হরফে রচিত' সাহিত্যকেই বোঝে এবং বোঝায়। রাষ্ট্রের এই অধিপতি মনস্তত্ত্ব বদলানো জরুরি। প্রতিবছর আদিবাসী ভাষায় রচিত সাহিত্যকর্মকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা জানানো উচিত। আদিবাসী জনগণের ভাষা ও সাহিত্য সুরক্ষার প্রশ্নে রাষ্ট্রীয়ভাবে 'আদিবাসী ভাষা ও সাহিত্য সম্মাননা' চালু করার মাধ্যমে মুমূর্ষু ভাষার পাশে ন্যায়পরায়ণতার খ্রাম নিয়ে দাঁড়াক রাষ্ট্র। খ্রাম, দামা, মাদল, পস্নু বাজুক আদিবাসী জমিন থেকে জুমে, জুম থেকে বাংলা একাডেমি কি জাতীয় সংসদ অবধি। নিশ্চিত হোক আদিবাসী ভাষা ও সাহিত্যের ঐতিহাসিক অহঙ্কার।

animistbangla@gmail.com
Share:

0 comments:

Post a Comment

Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo