Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Tuesday, April 22, 2014

Thursday, April 3, 2014

আদিবাসীদের ভাষার অধিকার : আইন আছে, প্রয়োগ নেই


আমিনুল ইসলাম সুজন

মাতৃভাষা বাংলা জাতীয় ও দাপ্তরিক ভাষা। যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়ে বাংলাকে মর্যাদাকার আসনে বসিয়েছে তাই অন্য ভাষার প্রতিও মর্যাদাবান হওয়া বাংলা ভাষাভাষীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। অর্থাৎ পূর্ব প্রজন্ম মাতৃভাষা রক্ষায় প্রাণ দিয়েছে, তাই ভাষা আন্দোলনের সারথীদের পরবর্তী প্রজন্ম সব ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সেসব ভাষা রক্ষায় সক্রিয় হবে-এটা স্বাভাবিক হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর গত ৪১ বছরে আমরা দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। বরং আমরা বাংলা ভাষা আদিবাসীদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছি, যা ভাষা আন্দোলনের মহত্বকে গৌণ করে তুলছে।পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি), কক্সবাজার, বরগুনা, নওগাঁ, সিলেট, ময়মনসিংহ, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বসবাস করছে তাদের মাতৃভাষা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মুমূর্ষপ্রায়! শান্তি চুক্তির আগে পর্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলে বেশ কয়েকটি যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবিতে যে সংগ্রাম চলমান ছিল, মাতৃভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার সুযোগের দাবিও এতে যুক্ত ছিল। শান্তিচুক্তি হবার পর সে দাবিগুলোর কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে; সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।


প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুরা যেন তাদের ভাষায় লেখাপড়া করার সুযোগ পায় কিংবা পাঠ্যপুস্তক হিসাবে আদিবাসীদের মাতৃভাষা ও ধর্ম যেন স্বতন্ত্র বিষয় হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করা হয় সে দাবিতো অযৌক্তিক নয়। তারা যেন তাদের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দুটি ভাষায় বর্ণমালা থাকলেও তাদের চর্চার সুযোগ নাই।
নিজস্ব ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ না থাকায় ক্ষুদ্রজাতিগোষ্ঠী তথা আদিবাসী শিশুরা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে। বাংলা তাদের দ্বিতীয় ভাষা। যারা নিতান্ত বাধ্য হয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখাপড়ার চেষ্টা করছে, তারা ক্রমশ নিজ মাতৃভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ইউএনডিপি’র সহযোগিতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সীমিত পরিসরে নিজস্ব ভাষায় প্রাথমিক পর্যায়ের লেখাপড়া শেখার সুযোগ তৈরি হলেও সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এটা বরং সরকারের উদ্যোগে আইন করেই আদিবাসীদের প্রাথমিক পর্যায়ের লেখাপড়া নিজস্ব ভাষায় করার উদ্যোগ নিতে হবে। সেখানে বাংলা ও ইংরেজি ভাষা থাকতে পারে–এতে কোন মতবিরোধ নাই। পাশাপাশি মাধ্যমিক থেকে শুরু করে উচ্চতর সব পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের ভাষা যেন বিষয় হিসেবে অন্তর্ভূক্ত থাকে আইনের মাধ্যমে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলা ভাষাভাষীরা গর্ব করে বলি, বাংলা এখন আন্তর্জাতিক ভাষা। বাংলা ভাষা রক্ষার দাবিতে যে আন্দোলন হয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, সে দিনটি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তাই দেশের প্রত্যেক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা রক্ষায় আমাদের দায়িত্বই বেশি। পৃথিবীর সব ভাষার প্রতি সম্মান এবং সংখ্যালঘু ও দুর্বল সম্প্রদায়ের ভাষা রক্ষায় সব দেশের সরকারদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ও সক্রিয় করতে ইউনেস্কো বাংলা ভাষা রক্ষার দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করেছে। এখন দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা চর্চা ও বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই দেশের সব জাতির মাতৃভাষার প্রতি আমাদের সম্মান নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে।
২.
ইউনেস্কোর হিসাব মতে, গড়ে প্রতি ৩ মাসে একটি ভাষা হিসাবে ১৯৫০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৪০টি ভাষা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত কিংবা বিলুপ্তির পথে। তাই ভাষা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে ইউনেস্কো। বিশেষ করে, ব্রাজিল, চিলি ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা রক্ষায় কাজ করছে ইউনেস্কো।

ভাষা হচ্ছে জাতিগত পরিচয়, যোগাযোগ, সামাজিক সম্পর্ক, শিক্ষা ও মানব সমাজের উন্নয়নের প্রধান মাধ্যম। ভাষা হচ্ছে অতীত ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যম। প্রায় ৭ হাজার ভাষার মধ্যে ৯৬টি ভাষা ব্যবহার করে মাত্র ৪ ভাগ জনগোষ্ঠী। প্রায় ৪০০০ ভাষা বিভিন্ন আদিবাসীরা ব্যবহার করেন। এর মধ্যে পর্যাপ্ত চর্চা ও বিকাশের সুযোগ না থাকলে মোট ভাষার ৫০ভাগ আগামী কয়েক প্রজন্ম সময়ের মধ্যে বিলুপ্তি হয়ে যাবে বলে ভাষাবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ রকম ক্ষুদ্র জাতি বা আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৮টি আলাদা ভাষা রয়েছে। তবে মাত্র দুটি ভাষার পূর্ণাঙ্গ এবং কয়েকটি ভাষার আংশিক বর্ণমালা বিদ্যমান থাকলেও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও চর্চার সুযোগ না থাকায় এসব ভাষার বিকাশ বাধাগ্রস্ত।
সাওতাল, চাকমা, মারমা, মান্ডি, ত্রিপুরা, মুরং, খাসিয়া, গারোসহ বাংলাদেশে যেসব আদিবাসী বা ক্ষুদ্র সম্প্রদায় রয়েছে, তাদের ভাষা রক্ষায় সরকারের উদ্যোগী হ্ওয়া উচিৎ। বিশেষ করে, আদিবাসীদের মধ্যে যাদের বর্ণমালা রয়েছে প্রাথমিক থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের শিক্ষায় সে ভাষা যুক্ত করা এবং আদিবাসীদের ভাষার বিকাশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হ্ওয়া জরুরী।
দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, বাংলাদেশে ভাষা নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেমন বাংলা একাডেমি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্কক বোর্ড বাংলা ছাড়া অন্য কোন ভাষার বিকাশে কোন অবদান রেখেছে বলে মনে হয় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, বেসরকারি পর্যায়ে এশিয়াটিক সোসাইটি, ভাষাবিষয়ক পেশাজীবীদের বিলুপ্তপ্রায় সংগঠন বাংলাদেশ ভাষা সমিতিও কোন উদ্যোগ নেয়নি। বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য বাংলা একাডেমি যেমন গড়ে উঠেছে তেমনি ক্ষুদ্রজাতিগোষ্ঠীর ভাষার বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য এরকম একটি একাডেমি গঠন আবশ্যক বলে মনে করি।

আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা বিদ্যমান। যেমন; বর্তমান সরকার প্রণীত “জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০” অন্যতম। শুধু জাতীয় শিক্ষানীতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করলেও আদিবাসীদের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় এক যুগান্তকারী ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।

শিক্ষানীতির অন্যতম (৭ নং) উদ্দেশ্য হচ্ছে: ‘জাতি, ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে আর্থসামাজিক শ্রেণী-বৈষম্য ও নারীপুরুষ বৈষম্য দূর করা,অসাম্প্রদায়িকতা, বিশ্ব-ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও মানুষে মানুষে সহমর্মিতাবোধ গড়ে তোলা এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা।’ পাঠক লক্ষ্য করবেন, এতে বলা হয়েছে জাতি-ধর্ম-গোত্র নির্বিশেষে, অর্থাৎ ক্ষুদ্র জাতি বা আদিবাসী এর বাইরে নয়।
এতে আরেকটি (১৬ নং) উদ্দেশ্য হিসাবে বলা হয়েছে, ‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ধর্ম ও নৈতিকশিক্ষার মাধ্যমে উন্নত চরিত্র গঠনে সহায়তা করা।’ কিন্তু এখন পর্যন্ত আদিবাসী শিশুদের নিজস্ব ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ বিদ্যালয়ে চালু হয়নি।
একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য (২৩ নং) সরাসরি আদিবাসীদের জন্য রচিত। এতে বলা হয়েছে, ‘দেশের আদিবাসীসহ সকল ক্ষুদ্রজাতিসত্তার সংস্কৃতি ও ভাষার বিকাশ ঘটানো।’ যার প্রতিফলন এখনও দেখা যায়নি।
অন্যদিকে একই শিক্ষানীতির দ্বিতীয় অধ্যায়ের (প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা) ‘আদিবাসী শিশু’ শিরোনামের ১৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আদিবাসী শিশুরা যাতে নিজেদের ভাষা শিখতে পারে সেই লক্ষ্যে তাদের জন্য আদিবাসী শিক্ষক ও পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা করা হবে। এই কাজে, বিশেষ করে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে, আদিবাসী সমাজকে সম্পৃক্ত করা হবে।’ তিনটি আদিবাসী ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের কাজ স্বল্প পরিসরে শুরু হয়েছে। কিন্তু এর ব্যাপ্তি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারলেই আদিবাসীদের ভাষার চর্চা ও রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
১৯নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে; ‘আদিবাসী প্রান্তিক শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’ এবং ২০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে; ‘ আদিবাসী অধ্যুষিত (পাহাড় কিংবা সমতল) যেসকল এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই সেসকল
এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। যেহেতু কোনো কোনো এলাকায় আদিবাসীদের বসতি হালকা তাই একটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আবাসিক ব্যবস্থার প্রয়োজন হলে সেদিকেও নজর দেওয়া হবে।’

জাতীয় শিক্ষানীতির তৃতীয় অধ্যায়ের (মাধ্যমিক শিক্ষা) অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে; ‘ বিভিন্ন রকমের মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক, নৃতাত্ত্বিক ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালানো। পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোর জন্যও যতদিন প্রয়োজন বিশেষ পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষার অগ্রগতি সমর্থন করা।’ এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন; সমগ্র দেশেই আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আদিবাসীরা বিশেষভাবে পিছিয়ে রয়েছে। সুতরাং, পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ এবং ঐসব অঞ্চলে বিশেষ পদক্ষেপের মাধ্যমে অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষায় লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টির বিকল্প নাই।
জাতীয় শিক্ষানীতির সপ্তম অধ্যায়ের (ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা) ‘কৌশল’-এ “অন্যান্য ধর্ম শিক্ষা” প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘আদিবাসীসহ অন্যান্য সম্প্রদায় যারা দেশে প্রচলিত মূল চারটি ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী তাঁদের জন্য নিজেদের ধর্মসহ নৈতিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’ বাস্তবে এখন পর্যন্ত এর প্রতিফলন অনুল্লেখযোগ্য।
শিক্ষানীতির অষ্টম অধ্যায়ের (উচ্চ শিক্ষা) ‘কৌশল’ ২নং-এ বলা হয়েছে; ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং আদিবাসীসহ ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা, বিভিন্ন কারণে অনগ্রসর এবং অন্যান্য গোষ্ঠির সন্তানদেরকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আবাসিক সুবিধাসৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ ও বৃত্তি প্রদানসহ বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে।’
শিক্ষানীতির ১৭তম অধ্যায়ের (কারুকলা ও সুকুমার বৃত্তি শিক্ষা) ‘কৌশল’২-এ বলা হয়েছে, ‘ সকল ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসহ পিছিয়েপড়া গোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদেরকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে।’
শিক্ষানীতির ২৮তম অধ্যায়ের (শিক্ষার স্তর নির্বিশেষে বিশেষ কয়েকটি পদক্ষেপ) এর ১৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘ বাংলাদেশে বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা ও তৎসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ব্যবস্থা করার জন্য স্থাপিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে কার্যকর ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
শিক্ষানীতিতে ক্রীড়াক্ষেত্রে দেশের সব অঞ্চলের শিশুদের বিকাশের কথা বলা হলেও আদিবাসী শিশুদের ক্রীড়া চর্চায় পৃষ্ঠপোষকতা এখনও লক্ষনীয় নয়। এরকম আরও কয়েকটি ধারা আদিবাসীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ কথা জোর দিয়েই বলা যায়, জাতীয় শিক্ষানীতি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এর আংশিক বাস্তবায়নই দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে বলে অনেকে মনে করেন। এক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
আদিবাসীদের ভাষা রক্ষায় বর্তমান সরকার অতীতের যে কোন সরকারের চেয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আইনও করেছে। ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক আইন ২০১০’ প্রণয়ন করে সরকার আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক বিকাশের পথ মসৃন করেছে। একথা অনুল্লেখযোগ্য যে, সংস্কৃতির প্রধান হাতিয়ার কিংবা সাংস্কৃতিক চর্চা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের প্রধান মাধ্যম ভাষা। এ আইন আদিবাসীদের ভাষা রক্ষার গুরুত্বও স্বীকার করে নিয়েছে।
এছাড়া ‘বান্দরবান-রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮’ এর ৩৬ (ঠ) ধারায় ‘মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা’কে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। প্রায় ১৫ বছর আগে প্রণীত এ আইনও বর্তমান সরকারের পূর্ববর্তী মেয়াদে হয়েছে। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর এ আইনেরও যথাযথ বাস্তবায়ন লক্ষ্য করা যায়নি। অন্যদিকে বর্তমান সরকারও মেয়াদের ৪ বছর শেষ করলেও এ আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে করেনি বলে প্রতীয়মান।

সব ভাষাভাষীর মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট হবার মাধ্যমে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং প্রণীত আইন ও নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে আদিবাসীদের ভাষা রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্টরা মনোযোগী হবেন বলে আশা করি।
আমিনুল ইসলাম সুজন: পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় সদস্য।

 উৎস: http://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/8258

Share:

সীমান্তবর্তী আদিবাসীদের কথা

নভেম্বর ২৭, ২০১৩ at ১২:৩১ অপরাহ্ন 
বাংলাদেশে আদিবাসীদের নিয়ে কাজ হয়েছে অনেক। কাজ চলছেও। বহু গবেষক কিংবা সামাজিক আন্দোলনের সাথে জড়িত মানুষরা ছুটে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে, যেখানে পৃথিবীর সুযোগ-সুবিধা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে আমাদের আদিবাসীরা। নিজস্ব সংস্কৃতি-ভাষা-আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে এখনও কোনোমতে বেঁচে আছেন তারা। তবে অনেকেই ধীরে ধীরে লুপ্ত হতে চলেছেন। হারিয়ে যেতে শুরু করেছে তাদের ভাষা থেকে শুরু করে নিজস্ব আদি ভাবনাগুলো। এদের এখন বলা হয় সংখ্যালঘু। তাদের আবাসভূমি দখল হয়ে যাচ্ছে রাজনীতির কাছে।
 পাহাড়ের কোল ঘেঁষে তাদের বসবাস। সেই পাহাড়ও এখন ভূমিদস্যুদের হাতে চলে যাচ্ছে। আর তাই হুমকির মুখে পড়েছে তাদের অস্তিত্ব। তাদের হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করছেন সালেক খোকন। দীর্ঘদিন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের হয়ে কাজ করছেন তিনি। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকে কিংবা বলা যেতে পারে সেই সব অসহায় মানুষের টানেই তাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে লিখে চলেছেন লেখক।
২০১১ সালের বইমেলায় আদিবাসীদের নিয়ে সালেক খোকনের প্রথম প্রকাশিত বই ‘আদিবাসী মিথ এবং অন্যান্য’। বইটিতে আছে ২৭টি গদ্য। এর সবই আদিবাসীদের বিভিন্ন ধ্যান-ধারণা, আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস, ভাষা, এমনকি কয়েকজন আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধার গল্পও উঠে এসেছে।
প্রথম গদ্যটি হচ্ছে ‘আদি বিশ্বাসের আদি মানুষেরা’। এই লেখায় উঠে এসেছে কড়া সম্প্রদায়ের কথা। বিলুপ্তপ্রায় এই সম্প্রদায়ের মাত্র ১৯টি পরিবার অবশিষ্ট আছে। তাদের নাম কেন ‘কড়া’ হয়েছে এর ব্যাখ্যাও সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন লেখক। ‘কড়া’ অর্থ হলো ‘মাটি খোঁড়া’।


একসময় ইংরেজরা চলাচলের সুবিধার্থে ট্রেন চালুর কথা ভাবে। মাটি কেটে, পাহাড় কেটে রেললাইন স্থাপন করা হবে। সেই সময় এই সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষেরা আসেন বাংলায়। জীবিকার তাগিদে কড়া সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ আসেন শুধু রেললাইন স্থাপনের কাজ করার জন্য। সেই থেকেই তাদের নাম কড়া। এমনই বিশ্বাস তাদের। তাহলে বলতে হয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ রেললাইনের পেছনে আছে কড়া সম্প্রদায়ের পরিশ্রম-ঘাম। আবার আদিবাসীদের ভাষার ব্যবহার নিয়েও লেখা রয়েছে। লেখক আদিবাসীদের ভাষাকে উল্লেখ করেছেন বর্ণহীন বলে। চাকমা-সাঁওতাল-মারমা-গারো ইত্যাদি বিভিন্ন ভাষার বিভিন্ন ব্যবহার তুলে ধওেছেন তিনি ‘বর্ণহীন ভাষার আদিবাসীরা’ লেখায়।
‘সাঁওতাল সর্দার পাঁড়ু রাজার বিদ্রোহ’ লেখাটি পড়ে পাঠক খুঁজে পাবেন ইতিহাসের এক অজানা অধ্যায়ের। আমরা সবাই জানি, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন আমাদের আদিবাসীরা। কিন্তু সংখ্যালঘু বলে তাদের নিয়ে খুব একটা ভাবা হয় না। এটাই হয়তো তাদের নিয়তি। পাড়ু রাজা ছিলেন সাঁওতালদের সর্দার। ব্রিটিশদের সময় সবাইকে খাজনা দিতে হতো। পাঁড়ুই প্রথম খাজনা দেওয়া থেকে বিরত হলেন। আর সব সাঁওতালদের বললেন ব্রিটিশদের খাজনা না দিতে। আশেপাশের সব গ্রামে শুরু হয়ে যায় বিদ্রোহ। সবাই খাজনা দেওয়া বন্ধ কওে দেন। ব্রিটিশরা ুব্ধ হয়। কলকাতা থেকে অতিরিক্ত সৈন্য নিয়ে এই বিদ্রোহকে সামাল দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় পাঁড়ুকে। একসময় তাকে ছেড়েও দেয় ব্রিটিশরা। কিন্তু বিপ্লবীরা অনেক সময় খুন হন নিজের মানুষের কাছে। এটা তো ইতিহাসের পরিণতি। পাড়ুরও একই পরিণতি হলো। স্থানীয় শত্রুতার জের ধরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো। পাঁড়ুর কথা ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেল।
এভাবেই একের পর এক অজানা তথ্য পাঠকের সামনে উন্মুক্ত হতে থাকবে ‘আদিবাসী মিথ এবং অন্যান্য’ বইটি পড়ার সময়। উঠে আসবে সতেন কড়া ও থোপাল কড়া নামে দুজন মুক্তিযোদ্ধার গল্প। এরা কেউ নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেন না। কারণ তারা যুদ্ধ করেছেন দেশ স্বাধীন করার জন্য। ব্যক্তিগত কোনো প্রাপ্তির আশায় তারা যুদ্ধ করেননি। মুক্তিযুদ্ধ সনদের বিষয়টিও তাদের কাছে খুব একটা স্পষ্ট নয়। তাই সেদিকেও ভাবনা তাদের নেই। তবে তাদের যুদ্ধ শেষ হয়নি। কড়া সম্প্রদায়ের এই দুই যোদ্ধা এখনও যুদ্ধ করছেন তাদের নিজেদের অস্তিত্ব রার জন্য। কারণ, শুরুতেই বলেছি, বাংলাদেশে কড়া সম্প্রদায়ের ১৯টি পরিবার অবিশিষ্ট আছে, যার মধ্যে ১৭টি দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায়।
সীমান্তবর্তী এলাকায় শিক্ষাগ্রহণ অনেকটা চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো। আর তা যদি হয় আদিবাসীদেও, তাহলে বলতে হয় চাঁদের দেখাই তারা পায়নি। ‘আদিবাসী শিশুশিক্ষা : বাংলা ভাষার জাঁতাকলে’ লেখাটি পড়লে পাঠক ভয়াবহ তথ্য আবিষ্কার করবেন। ব্রিটিশ আমলের মতো এখনও মানুষকে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। অধিকাংশ আদিবাসী খ্রিষ্টান ধর্মে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। অভাবের তাড়নায় তাদের এই পরিণতি সত্যিই ভয়ঙ্কর। আর শিক্ষার ক্ষেত্রে তো ব্যাপারটা অগ্রহণযোগ্য। কারণ, যে দেশের মানুষ ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন সেই দেশেরই সরকার আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তেমন অবদান রাখতে পারছে না। এর হিসাব পাওয়া যায় লেখকের অভিজ্ঞতা থেকে। একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে তিনি দেখেন মোট ৩৩৯ জন শিক্ষার্থীর মাঝে মাত্র ১০ জন আদিবাসী পরীক্ষা দিচ্ছে। এছাড়া নিজস্ব ভাষায় শিক্ষার সুযোগের অভাবে অসংখ্য আদিবাসী শিক্ষার্থী সহজেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে শিক্ষার প্রতি।
এমনই সব তথ্য পাঠকের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন লেখক সালেক খোকন। কখনও ভ্রমণ কাহিনীর মতো করে, কখনও গল্পের ছলে তিনি বর্ণনা করেছেন সীমান্তবর্তী আদিবাসীদের কথা।
উৎস: http://ekotha.com/?p=991
Share:

প্রাথমিক শিক্ষা পাঠক্রম

প্রকাশ : ০৬ মার্চ, ২০১৪
 উদার মানবিক চেতনায় সমৃদ্ধ হোক
আবু সাঈদ খান
 কেবল ব্যক্তির ক্ষেত্রেই নয়, জাতির মানস গঠনেও প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব সর্বাধিক। নিশ্চয়ই এ কথা নিয়ে কেউ দ্বিমত করবেন না। কিন্তু বাস্তবে প্রাথমিক শিক্ষা পাঠক্রম নিয়ে ভিন্ন মতের সুযোগ আছে। কিন্ডারগার্টেন বা কওমি মাদ্রাসার কারিকুলাম নিয়ে মাঝে মধ্যে লেখালেখি হয়, কিন্তু মূলধারার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠক্রম নিয়ে তেমন কথাবার্তা শুনি না। এটি আমাদের অনেকেরই অজানা যে, সেখানে কী পড়ানো হচ্ছে?মনে পড়ে, আমাদের স্কুলজীবনে (পঞ্চাশ-ষাটের দশক) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে একটি নিবন্ধ ছিল। সেখানে জিন্নাহ তার এক সহপাঠীর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন। বন্ধু পেছনে ফিরে দেখেন কিছুদূর এসে জিন্নাহ উল্টো দিকে দৌড়াচ্ছেন। এভাবেই দৌড়িয়ে সূচনাস্থলে ফিরে গেলেন। তার সহপাঠী ফিরে এলে জিন্নাহ বললেন, 'তুমি তো বলনি কোন পর্যন্ত দৌড়াতে হবে। তাই আমি দৌড়িয়ে আগেই এখানে এসেছি। অতএব তোমার হার, আমার জিত।' এটিকে বুদ্ধিমত্তার বিজয় বলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রশ্ন উঠেছিল এটি বুদ্ধিমত্তা, না ধূর্তামি। 
 
শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের ওপর লেখা ছিল। তাতে তার আম খাওয়া ও ঘুষি দিয়ে নারিকেল ভাঙার গল্প প্রাধান্য পেয়েছিল। গণিত বইয়ে দুধে পানি মিশিয়ে লাভ করার অঙ্ক ছিল। এসবের যৌক্তিকতা ও নৈতিকতা নিয়ে কথা উঠেছিল। এখনকার প্রাথমিক পাঠক্রমে (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী) এ ধরনের ত্রুটি চোখে পড়ে না। বরং জাতীয় চেতনা ও নীতি-নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য রচনা ও সম্পাদনায় যুক্ত লেখক-গবেষকদের ধন্যবাদ। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা ও দৃষ্টিভঙ্গিগত সংকীর্ণতা পরিলক্ষিত।প্রথম শ্রেণীর বাংলা বইটি হাতে নিয়ে ভালো লেগেছে। পাঠ-৫৬ 'মুক্তযোদ্ধাদের কথা' অংশে আছে_ 'বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালিরা সাড়া দিল।' অর্থাৎ পাকিস্তানিদের অবর্ণনীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালিরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু ইতিহাস বলে, বাঙালির পাশাপাশি সাঁওতাল, গারো, মণিপুরি, চাকমা, মারমারাও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে।এটি সত্য যে, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা নতুন আঙ্গিকে মুক্তিসংগ্রামের সূচনা করেছে। তবে এ সংগ্রাম থেকে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী দূরে থাকেনি। একাত্তরে এসে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, বাঙালি-আদিবাসী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব ধর্মের, সব জাতির, সব মানুষের যুদ্ধ। সেটিকে কেবল বাঙালির যুদ্ধ বলার মধ্যে জাত্যভিমান আছে, যা বৃহত্তর জাতীয় সংহতি রচনার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর।ভেবে দেখুন, চাকমা, সাঁওতাল বা অন্য আদিবাসী শিশু এ অধ্যায়টি যখন পড়বে, তখন তাদের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হবে? তাদের মনে হবে_ মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে বাঙালির যুদ্ধ। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা এবং 'বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়' বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ বারবার এসেছে। কিন্তু বর্ণিত ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিকতাকে ধারণ করতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধকে বাঙালির যুদ্ধ বলেই তুলে ধরা হয়েছে। তবে চতুর্থ শ্রেণীর 'বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়' বইয়ে আদিবাসীদের অংশগ্রহণের কথা আছে এভাবে_ বাঙালিদের পাশাপাশি এ দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। এ ধরনের উপস্থাপনায় তাদের ভূমিকার অবমূল্যায়নের সুযোগ থেকে যায়।তৃতীয় শ্রেণীর বাংলা বইয়ে 'আমাদের জাতির পিতা' নিবন্ধে বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতার হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ সূচনার কথা আছে, '১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের কথা আছে।' তারপর বলা হয়েছে_ 'বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।' এটি সত্য, মুজিব মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক। তিনি ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণা। কিন্তু তার অবর্তমানে তাজউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বের হাল ধরেন। মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। সেসব না উল্লেখ করে 'বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়' বলার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায় না। এ অসম্পূর্ণতা বিভ্রান্তিরও জন্ম দেয়।চতুর্থ শ্রেণীর 'বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়' গ্রন্থের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অধ্যায়ে আছে, '২৭ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।' এটি যৌক্তিক। এর পরের প্যারায় 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়। এই সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।' কিন্তু বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে কে রাষ্ট্রপতি হলেন, কে প্রধানমন্ত্রী হলেন_ তা নিয়ে কিছু নেই। এটি ত্রুটি, না অন্য কিছু_ তা নিয়ে প্রশ্ন করা যায়। পঞ্চম শ্রেণীর 'বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়' আমাদের মুক্তিযুদ্ধ অধ্যায়ে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নাম উল্লেখ আছে। প্রশ্ন হচ্ছে যে, এটি জানার জন্য শিক্ষার্থীদের কি এক বছর অপেক্ষা করতে হবে? এখানে মুক্তিযুদ্ধে আবদুল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে 'কাদেরিয়া বাহিনী' ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নেতৃত্বে 'মায়া বাহিনী'র উল্লেখ আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের বাইরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর নাম না থাকার অর্থ বোধগম্য নয়।লক্ষণীয় যে, পঞ্চম শ্রেণীর 'আমাদের মুক্তিযুদ্ধ' অধ্যায়ে জেড ফোর্স, কে ফোর্স, এস ফোর্সের অধিনায়কদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স বা বিএলএফের কথা বলা হয়েছে। তবে অধিনায়কদের নাম বলা হয়নি। অথচ এর চার অধিনায়ক শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ কেবল বিএলএফের (মুজিব বাহিনী) অধিনায়কই ছিলেন না, মুক্তিযুদ্ধ সূচনা পর্বেও তাদের ভূমিকা অসামান্য।এ অধ্যায়ে মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নামগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ায় কি আপত্তি ছিল? এ প্রসঙ্গে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কথা উল্লেখ করতে হয়। '৭০-এর নির্বাচনের পর থেকেই যে প্রতিরোধ সংগ্রাম সূচনা হয়, তিনি তার অন্যতম দিকপাল। কিন্তু এসব পাঠ্যবইয়ে তার নাম নেই। শুধু ইতিহাসের অধ্যায়েই নয়, বাংলা বইয়েও তার ওপর নিবন্ধ থাকতে পারে। আমাদের মনে রাখা দরকার, ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্ব মুক্তিযুদ্ধ। এ যুদ্ধ ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে তা আলাদা করার সুযোগ নেই। তাই বিভিন্ন পর্বের নায়কদের যথাযোগ্য মর্যাদায় পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত।এটি প্রশংসনীয় যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যবইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন-সংগ্রাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। একই বিবেচনায় পাঠ্যবইয়ে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, শেরেবাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমদ প্রমুখকে তুলে ধরলে শিক্ষার্থীরা আরও ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু হয়ে উঠত।প্রাথমিক পাঠক্রমে নানা ক্ষেত্রের কীর্তিমানদেরও তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টিভঙ্গি থাকা দরকার। দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষা পাঠক্রমে নজরুল, বেগম রোকেয়ার জীবনী আছে, রবীন্দ্রনাথ অনুপস্থিত। কী যুক্তি দেবেন কর্তৃপক্ষ? সব শ্রেণীতে সবার জীবনী দেওয়া সম্ভব নয়, তবে বিভিন্ন শ্রেণীর বইয়ে পরিকল্পনামাফিক জাতির নায়ক ও বীরদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া যায়।পাকিস্তান আমলে সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিক্ষা বোর্ড মুক্ত হতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে ধরা যাক, চতুর্থ শ্রেণীর 'বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়' বইয়ে 'আমাদের সংস্কৃতি' অধ্যায়ে আদিবাসীদের জীবন ও সংস্কৃতির কথা নেই। 'বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা' শিরোনামে আলাদা অধ্যায় আছে। পঞ্চম শ্রেণীর 'বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়' বইয়েও 'বাংলাদেশের কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতি ও তাদের সংস্কৃতি' শিরোনাম আছে। এসব কিছু বলে দেয় যে, সংখ্যালঘু জাতিসত্তার মূলধারায় স্থান নেই। এখন কি হতে পারত না, 'বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতিসত্তা ও সংস্কৃতি'। সেখানে বাঙালি ও অন্যান্য জাতিসত্তা সম্পর্কে একইভাবে উপস্থাপন হলে তা হতো বৃহত্তর জাতীয় সংহতির পরিচায়ক।প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচটি শ্রেণীর বই পড়ে আমার মনে হয়েছে, সংশ্লিষ্টরা উদার অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তার পরিচয় দিতে পারেননি। মনে হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে পুরনো বৃত্তের মধ্যে ঘুরপাক খেয়েছেন। লক্ষ্য করা যায়, ইতিহাসের ক্ষেত্রে তারা ব্রিটিশের ধর্মীয় বিভাজনধারা পরিহার করেছেন। কিন্তু সুসমন্বিতভাবে উপস্থাপিত হয়নি। প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে ও তার জানার পরিধিকে বিস্তৃত করার জন্য পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল_ সে ক্ষেত্রে ব্যত্যয় রয়েছে।ইংরেজি বইগুলোকে ভাষা শেখার মাধ্যম বিবেচনা করা হয়েছে। এ বইগুলোর মাধ্যমেও দেশ ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার প্রয়াস থাকতে পারত।প্রাথমিক শিক্ষাকে (যা পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত নয়, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত হওয়াই যুক্তিযুক্ত) কেবল বানান-অঙ্ক-ভাষা শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় মানস গঠনের দৃষ্টিতে দেখা প্রয়োজন।
Share:

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠি সমূহকে অন্যায় ভাবে ‘আদিবাসী’ বলে আখ্যায়িত করলে বাঙ্গালীরা বহিরাগত হিসেবে গন্য হবে!

প্রাচীন বাংলার মানচিত্র
১. বাংলাদেশের নৃ-গোষ্ঠি সমুহের সংক্ষিপ্ত বর্ননাঃ পৃথিবীর বহু দেশের মতোই বাংলাদেশেও মূলধারার বাঙ্গালী জনগোষ্ঠি, যারা সার্বিক জনগোষ্ঠির প্রায় ৯৮%, তাদের সাথে বাকি প্রায় ২% রয়েছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা জনগোষ্ঠি সমুহ!এদের ভেতর প্রোটো-অস্ট্রেলয়েড জনগোষ্ঠির সাঁওতাল, ওঁরাও, হো, মুন্ডা, বূনো ও অন্যান্য নোমাডিক নৃ-গোষ্ঠি, মঙ্গোলয়েড নৃ-গোষ্ঠির ভেতর রয়েছে মূলতঃ টিবেটো-বার্মিন নৃ-উপগোষ্ঠি সমুহের জনগন, যার মধ্যে পড়ে চাকমা, মারমা, তংচংগ্যা, মুরং, ত্রিপুরা বা টিপরা, ম্রো, বোম, লুসাই, কুকি ও খুমি ইত্যাদি! বাংলাদেশের উত্তর পুর্ব সীমান্ত এলাকা জুড়ে রয়েছে বোড়ো নৃ-গোষ্ঠির পাঁচটি শাখার অন্যতম গারো, হাজং, রাজবংশী ও খীয়াং উপগোষ্ঠি সমুহ! আজ থেকে প্রায় দেড়শত বছর আগে আজকের বৃহত্তর সিলেট এলাকাইয় চা বাগান পত্তনের সময় চতুর সাম্রাজ্যবাদী বেনিয়া বৃটিশ বাঙ্গালীদের বিশ্বাস করেনি, চা বাগানের কাজের জন্যে তারা সাথে নিয়ে এসেছিল বর্তমান ভারতের ততকালীন উত্তর ওড়িষ্যা বা এখনকার ঝাড়খণদের অধিবাসীদের, চা বাগানের অন্যান্য কাজের জন্যে কয়েকটি তামিল পার্বত্য নৃ-উপগোষ্ঠি সমুহের জনগন ও তাদের তাবে রাখার জন্যে বিহার থেকে বেশ কয়েক হাজার শক্তিশালী দৈহিক গঠনের উচ্চ বংশীয় মূসলমান অধিবাসী এনে তাদের চা বাগান ও সন্নিহিত এলাকায় জোত ও জমি দিয়েছিল! তা ছাড়াও বৃটিশ তাদের নিজেদের কাজের জন্যে ওই চা বাগানেই প্রোটো-অস্ট্রেলয়েড জনগোষ্ঠির সাঁওতাল, ওঁরাও, হো, মুন্ডা, বূনো ও অন্যান্য নোমাডিক নৃ-গোষ্ঠির বেশ কিছু কর্মী নিয়ে আসে রাজমহল পাহাড়ের পেছন থেকে! ইতিহাসের কাল পরিক্রমায় চা বাগানের এই নৃ-গোষ্ঠি সমূহ আজ মিলেমিশে একাকার, চা শ্রমিকে পরিনত হয়েছে, যদিও সবারই কাজ এখন ও কিছুটা ভিন্ন!চা বাগানের এই কর্মীরা এদের দূর স্বদেশের মূল নৃ-গোষ্ঠির থেকে আজ সম্পুর্ন বিচ্ছিন মানব গোষ্ঠিতে পরিনত হয়েছে! এর সাথে রয়েছে মনিপুর, কোহিমা ও ইম্ফল থেকে এক কালে আগত মনিপুরীরা যারা মঙ্গোলয়েড নৃ-গোষ্ঠির মানুষ! এদের ভেতর একক ভাবে সবচেয়ে বেশী জনসঙ্খ্যা মঙ্গোলয়েড নৃ-গোষ্ঠির চাকমাদের, বর্তমানে অনূমিত প্রায় তিন লক্ষ! এই চাকমাদের প্রায় আরও দেড় লক্ষ বাস করে ভারতের মিজোরাম, অরুনাচল ও ত্রিপুরাতে! 


২. বাঙ্গালীঃ অতি সাম্প্রতিক জেনেটিক অ্যানালাইসিসে (বারডেম, অধ্যাপক আজাদ খানের নেতৃত্বে পরিচালিত) আগেকার সব তত্ত্ব ভূল প্রমানিত করে দেখা গেছে যে বাঙ্গালীরা মূলতঃ মঙ্গোলয়েড নৃ-গোষ্ঠিরই মানুষ, যদিও পরবর্তীতে পশ্চিম দিক থেকে অভিবাসী হয়ে আসা বৈদিক আর্য্য, পাঠান, তুর্কী, পার্সি, রাজপুত সহ বিভিন্ন ইন্দো-আর্য্য নৃ-গোষ্ঠি বাঙ্গালীদের সাথে মিলে মিলশে একাকার হয়ে গেছে (“মেল্টিং পট অব রেসেস”!), মোগলেরা যদিও সেভাবে মেশেনি, কিন্তু তারাও জাতিসত্বার বিচারে মঙ্গোলয়েড! এর আগে পন্ডিত মহলে সন্দেহাতীত ধারনা ছিল যে বাঙ্গালীরা দক্ষিন ভারতের প্রোটো-অস্ট্রেলয়েড জনগোষ্ঠিরই বংশধর, যদিও বাঙ্গালীর অহর্নিশ কর্মকান্ড, সৃজনশীলতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহন ও তা বদল আর আবেগ প্রবনতা সেই রায়ের নিশ্চিতই বিরুদ্ধে ছিল, কারন প্রোটো-অস্ট্রেলয়েড জনগোষ্ঠি সমুহ আপাতঃ দৃস্টিতে ধীর, শান্ত ও শান্তি প্রিয়! যেহেতু নৃতত্বের নিয়মে, যে জাতি যত বেশী শংকর, সে জাতি তত বেশী উদ্ভাবনী শক্তি ও কৌলিন্যে গরীয়ান, তাই বাঙ্গালীর এই মিশ্রন বাঙ্গালীর জন্যে অবশ্যই কল্যাঙ্কর বলে বিবেচিত হয়!অপর্যাপ্ত তথ্যে ঢাকা খ্রীস্ট-পুর্ব কালের ইতিহাসে থেকেই বাঙ্গালীর সন্ধান মেলে, খ্রীস্ট-পুর্ব তৃতীয় শতকে সম্রাট অশোকের ব্রাহ্মী তাম্র লিপিতে বাংলাদেশ অঞ্চলে বাঙ্গালী নরপতি ও বাঙ্গালী নৃগোষ্ঠির স্পস্ট আভাষ পাওয়া যায়!পরবর্তীতে ৭৫০-১১৬১ পর্যন্ত স্বাধীন বাঙ্গালী পাল বংশীয় নৃপতিদের দিয়েই স্থায়ী ভাবে বাংলাদেশ অঞ্চলে বাঙ্গালীদের শাসন ও বসবাসের চিত্র মেলে!(সন্দেহ থাকলে অক্সফোর্ডের ইতিহাস বইতে “লিচ্ছাবি”দের ইতিহাস দেখুন!) ওপরের আলোচনায় দেখুন বাংলাদেশের আদিবাসী বর্তমান বাঙ্গালীরাই, আর কেউ নয়!
 ৩. চাকমা ও অন্যান্য ক্ষুদ্রতর নৃ-গোষ্ঠিঃ পরবর্তীতে ইতিহাসের নানা ঘাত প্রতিঘাতে বাংলাদেশে আরও অনেক নৃ-গোষ্ঠি এসে বসবাস করতে থাকে, তাদের মধ্যে যেহেতু চাকমারাই সঙ্খ্যা-গরিষ্ঠ (প্রায় তিন লক্ষ এখন বাংলাদেশে!), তাই তাদের কথাটিই আমি এখানে উল্লেখ করছি! কারন তাদের একটি সূবিধাবাদী অংশ বেশ কয়েকযূগ ধরেই “শান্তি বাহিনী” বা অন্যান্য অঙ্গদল হিসেবে বাংলাদেশ রাস্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যূদ্ধ চালাচ্ছে, রক্তক্ষয় ঘটাচ্ছে, কোন কোন স্বার্থান্বেসী মহলের ইন্ধন ও সাহায্যে স্বাধীন বাংলাদেশের ভূখন্ডে তাদের স্বাধীনতা দাবী করছে আর তাদের সাথে সংগবদ্ধ ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মহল। বিদেশে চাকমারা নিজস্ব প্রবাসী সরকারও গঠন করে বাং লাদেশ রাস্ট্রের বিরুদ্ধে অপ-প্রচারে নিরন্তর লিপ্ত রয়েছে আর এই ব্যপারে কিছু পশ্চিমা দেশ বা সংগঠন তাদের পূরোদমে মদদ যূগিয়ে যাচ্ছে! সত্তরের দশকে চীন-পাকিস্তান ও অন্যান্য বর্মী চীনা পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠির (যেমন বার্মিজ কমিউনিস্ট পার্টি-বিসিপি) সাহায্যে এই রক্তক্ষয় তারা শুরু করলেও কয়েকবছরের ভেতরই ভারতীয়রা প্রীতি চাকমার নেতৃত্বে সশস্ত্র একটি গ্রুপকে তাদের পক্ষে সফল ভাবে বের করে নেয়! চাকমাদের প্রয়াত মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার নেতৃত্বে এই “বিচ্ছিন্নতাবাদী” আন্দোলন শুরু হলেও (যিনি কয়েক বছরের ভেতরই প্রীতি গ্রুপের হাতে নিহত হন!) এই তথাকথিত “চাকমা মুক্তিযূদ্ধের” সাথে বাংলাদেশের অন্যান্য আদিবাসীদের সম্পর্ক একেবারেই নগন্য, কারন তারাও মনে করে যে চাকমাদের প্রাধান্য তাদের অধিকার ক্ষুন্ন করে চলেছে! অথচ চাকমারা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অন্যান্য বাংলাদেশীদের মতোই একই, এমন কি নৃ-গোষ্ঠি হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধান অনূযায়ী তাদের বিশেষ অধিকার ভোগ করে আসছে! বর্মীদের সাথে লড়াইয়ে না টিকতে পেরে মধ্য বর্মা ও আরাকানের সেক বা থেক নৃ-গোষ্ঠির সাথে তাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে মাইগ্রেট করার প্রথম যে ধোঁয়াসা পুর্ন ঐতিহাসিক বিবরন পাওয়া যায় তা ১৫৫০ সালের থেকে আগের নয়! অন্যমতে তাদের আগমন তারও বহু পরে! বাংলাদেশের আদিবাসী হিসেবে তাদের বর্ননা করা তাই শুধু মিথ্যাচারই নয়, বাঙ্গালী জনগোষ্ঠিকে স্বদেশে পরবাসী বানানোর এক হীন পরিকল্পনা! আদিবাসী স্বীকৃতি মানেই তাদের এই অঞ্চলের ওপর প্রথম সার্বভৌমত্যের প্রশ্ন আর তাই করার জন্যেই ঊঠে পড়ে লেগেছে তাদের সাথেই কতিপয় বাঙ্গালী জ্ঞানপাপী ও স্বার্থান্বেসী মহল!য়ার সারা বিশ্বের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে তাদের এই সু-পরিকল্পিত প্রচার কার্য্য গত কয়েক দশকে এতটাই কৌশলে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে এখন বোঝা দ্বায় কোনটি আসল সত্য! এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য যে ১৯৭১ সালের মূক্তিযূদ্ধে বাঙ্গালীরা পার্বত্য চট্টগ্রামের সমর্থন বেশী একটি পায় নি, তাদের এক নেতা, রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের সেই যুদ্ধিকালীন মন্ত্রী সভার সদস্য থেকে বাঙ্গালীদের মূক্তিযূদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের উষা লগ্নে ভারতীয় গেরিলা যূদ্ধ বিশারদ গেনারেল সুজন সিং ওবানের নেতৃত্বে মূলতঃ বাঙ্গালী ও ভারতীয়দের নিয়ে গঠিত মিত্র বাহিনীর “কিলো ফোর্স” এই এলাকা মুক্ত করে! মুক্তিযুদ্ধের শেষ মুহুর্তে জেনারেল রহিম সহ বেশ কিছু অপরাধী পাকিস্তানী সেনাধক্ষ্যকে এই এলাকা দিয়ে বর্মায় পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়!
 ৪. বাংলাদেশে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা জনগোষ্ঠি সমুহের সূযোগ সূবিধাঃবাংলাদেশে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা জনগোষ্ঠি সমুহের জন্যে পৃথিবীর যে কোন দেশের চাইতে ভাল সূযোগ সূবিধা রয়েছে! মুক্তি সংগ্রামের ভেতর দিয়ে দেশ স্বাধীন করা একটি জাতি হিসেবে বাঙ্গালীরা তাদের বাংলাদেশের অন্যান্য নাগরিকের মতোই মনে করে ও সমস্ত রকম বিশেষ সূযোগ সিবিধা দিতে সাংবিধানিক ভাবেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ!শুধু একটি বিষয় উল্লেখ করলেই তা বোঝা যাবে, যে কোন ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার ছেলে বা মেয়ে এইচএসসি পাস করলেই তার মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, সামরিক বাহিনী ও অন্যান্য লোভনীয় বিষয়ে এক রকম বিশেষ সূযোগে ভর্তি হতে পারে তাদের কোটার জোরে যা মূলধারা বাঙ্গালীদের জন্যে একটি অকল্পনীয় ব্যাপার! হ্যা পাহাড়ে সহিংসতা আছে, আমরা রুখে দাড়িয়েছি তা, সেটি আসলে দুর্বলের ওপর সবলের সেই চিরচারিত শোষন, আলাদা কিছুই নয় ও তা বাঙ্গালী বা অন্য সব নাগরিকের জন্যেই সত্য! মনিপুর, কোহিমা, বা ভারতীয় “সেভেন সিস্টার” রাজ্য সমুহের সাথে তূলনা করলেই বোঝা যাবে আমার কথার সারবত্তা! তাই, বাংলাদেশে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা জনগোষ্ঠি সমুহ তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে আমাদের মতোই সুখে দুখে থাকুন, তাদের “আদিবাসী” বানানোর এই প্রচারনার কারন কি? বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে বাঙ্গালীদের মতো, বা তার চাইতেও সুবিধা ভোগ করতে চাইলে বাঙ্গালীদের মতোই বাংলাদেশে বিরাজিত কস্ট সুমুহেও তাদের শেয়ার করতে হবে, তাইই তো স্বাভাবিক!
 রেফারেন্সঃ 
1. Situated in the northwestern delta north of the Padma River, Varendra included the territories now constituting the districts of Malda, Pabna, Rajshahi, Bogra, Dinajpur, and Rangpur. The Bhagirathi-Hooghly basin included several ancient cultural subregions—Suhma, Vardhamana, Raḍha, and Gauḍa—corresponding to the modern districts of Midnapur, Howrah, Hooghly, Burdwan, Birbhum, and Mur-shidabad. Ancient Vanga, or Central Bengal, included the area corresponding tothe modern districts of Dhaka, Faridpur, Jessore, Bakarganj, Khulna, Nadia, andTwenty-four Parganas. Samatata included the hilly region east of the Meghna River in the southeastern delta, corresponding to modern Comilla, Noakhali, and Chittagong. Harikela referred to the delta’s northeastern hinterland, including modern Mymensingh and Sylhet. On the ancient subregions of Bengal, see Barrie M. Morrison, Political Centers and Cultural Regions in Early Bengal (Tucson: University of Arizona Press, 1970), esp. ch. 4, and Susan L. Huntington, The “Pala-Sena” Schools of Sculpture (Leiden: Brill, 1984), 171. For a discussion of Bengal’s physical subregions, see O. H. K. Spate and A. T. A. Learmonth, India and Pakistan: A General and Regional Geography, 3d ed. (London: Methuen, 1967), 571–73. 

2. Aitareya Brāhmaṇa 7.6, cited in S. K. Chatterji, Origin and Development of the Bengali Language (Calcutta: University of Calcutta Press, 1926), 1: 62. 
3. These include the Āyāraṃa Sutta and Gaina Sūtras, cited in Chatterji, Origin and Development, 1: 71. 
4. Chatterji, Origin and Development, 1: 67. 
5. P. C. Das Gupta, The Excavations at Pandu Rajar Dhibi (Calcutta: Directorate of Archaeology, West Bengal, 1964), 14, 18, 22, 24, 31. The site is located on the southern side of the Ajay River, six miles from Bhedia. The archaeological record reveals prehistoric rice-cultivating communities living all along the middle Gangetic Plain. Excavations in the Belan Valley south of Allahabad have found peoples cultivating rice (Oryza sativa) as early as the middle of the seventh millennium B.C., which is the earliest-known evidence of rice cultivation in the world. G. R. Sharma and D. Mandal, Excavations at Mahagara, 1977–78 (a Neolithic Settlement in the Belan Valley), vol. 6 of Archaeology of the Vindhyas and the Ganga Valley, ed. G. R. Sharma (Allahabad: University of Allahabad, 1980), 23, 27, 30. 
6. Ram Sharan Sharma, Material Culture and Social Formations in Ancient India (New Delhi: Macmillan India, 1983), 118. 
7. See Arlene R. K. Zide and Norman H. Zide, “Proto-Munda Cultural Vocabulary: Evidence for Early Agriculture,” in Austroasiatic Studies, ed. Philip N. Jenner, Laurence C. Thompson, and Stanley Starosta, pt. 2 (Honolulu: University Press of Hawaii, 1976), 1324. The authors show that Munda terms for uncooked, husked rice (Oryza sativa) have clear cognates in the language’s sister Austroasiatic branch, Mon-Khmer. They also conclude that “the agricultural technology included implements which presuppose the knowledge and use of such grains and legumes as food, since, the specific and consistent meanings for ‘husking pestle’ and ‘mortar’ go back, at least in one item, to Proto-Austroasiatic.” 
8. Te-Tzu Chang, “The Impact of Rice on Human Civilization and Population Expansion,” Interdisciplinary Science Reviews 12, no. 1 (1987): 65.
9. Spate and Learmonth, India and Pakistan, 47. 10. Romila Thapar, From Lineage to State: Social Formations in the Mid-First Millennium B.C. in the Ganga Valley (Bombay: Oxford University Press, 1984), 68. Although fire could have been used for clearing forests of their cover, permanent field agriculture required the removal of tree stumps, for which the use of iron axes and spades would have been necessary. Sharma, Material Culture, 92. 11. Sharma, Material Culture, 92–96. 12. Ibid., 96–99.
13. Michael Witzel, “On the Localisation of Vedic Texts and Schools,” in India and the Ancient World: History, Trade and Culture before A.D. 650, ed. Gilbert Pollet (Leuven: Departement Oriëntalistiek, 1987), 173–213; and id., “Tracing the Vedic Dialects,” in Dialectes dans les littératures Indo-Aryennes, ed. Colette Caillat (Paris: Collège de France, Institut de civilisation indienne, 1989), 97–265. 
14. Romila Thapar, “The Image of the Barbarian in Early India,” Comparative Studies in Society and History 13, no. 4 (October 1971): 417. The text is the Śatapatha Brāhmaṇa. 
15. These include the Mārkaṇdeya Purāṇa and the Yajṅavalkya Smṛti 3.292. Cited in Thapar, “Image,” 417. 16. For example, the eastern frontier of Indo-Aryan country in the ṛg Veda was the Yamuna River; in the Paippalāda Saṁhitā, it was Kasi (Benares region); in the Saunakīya Saṁhitā, it was Anga (eastern Bihar); and in the Aitareya Brāhmaṇa (7.18), it was Pundra, or northern Bengal. See Witzel, “Localisation,” 176, 187. 
17. Today modern Bengali, an Indo-Aryan language, is surrounded on all sides by a number of non-Indo-Aryan language groups—Austroasiatic, Dravidian, Sino-Tibetan—suggesting that over the past several millennia the non-Indo-Aryan speakers of the delta proper gradually lost their former linguistic identities, while those inhabiting the surrounding hills retained theirs. On the other hand, the survival of non-Indo-Aryan influences in modern standard Bengali points to the long process of mutual acculturation that occurred between Indo-Aryans and non-Indo-Aryans in the delta itself. Such influences include a high frequency of retroflex consonants, an absence of grammatical gender, and initial-syllable word stress. As M. H. Klaiman observes, “descendants of non-Bengali tribals of a few centuries past now comprise the bulk of Bengali speakers. In other words, the vast majority of the Bengali linguistic community today represents present or former inhabitants of the previously uncultivated and culturally unassimilated tracts of eastern Bengal.” M. H. Klaiman, “Bengali,” in The World’s Major Languages, ed. Bernard Comrie (New York: Oxford University Press, 1990), 499, 511. See also Chatterji, Origin and Development, 1: 79, 154; and F. B. J. Kuiper, “Sources of the Nahali Vocabulary,” in Studies in Comparative Austroasiatic Linguistics, ed. Norman H. Zide (Hague: Mouton, 1966), 64. For a map showing the modern distribution of the Bengali and non-Indo-Aryan languages in the delta region, see Joseph E. Schwartzberg, ed., A Historical Atlas of South Asia (Chicago: University of Chicago Press, 1978), 100.
18. Cited in Witzel, “Localisation,” 195. 
19. Colin P. Masica, “Aryan and Non-Aryan Elements in North Indian Agriculture,” in Aryan and Non-Aryan in India, ed. Madhav M. Deshpande and Peter E. Hook (Ann Arbor: University of Michigan, 1979), 132.
 20. This is not to say that anything resembling today’s caste system suddenly appeared at this early date, although the ideological antecedents for that system are clearly visible in this framework.
21. Others, if necessary for any one… 
উৎস: http://www.nagorikblog.com/node/9300
Share:

আদিবাসী, জাতিসংঘ ও সরকার যদি একযোগে কাজ করত!

এবার জেনেভায় জাতিসংঘ এক্সপার্ট মেকানিজম অন দ্য রাইটস অব ইনডিজিনাস পিপলসের অধিবেশনে আদিবাসীরা সরকার, জাতিসংঘ ও আদিবাসী—এই তিন পক্ষ মিলে কীভাবে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে কাজ করতে পারে, এ বিষয়ে কথাবার্তা বলেছেন। বিষয়টি আমাদের দেশে স্বপ্নের মতো ব্যাপার। তবে কাজটি হওয়া উচিত। একধরনের শ্রদ্ধাপূর্ণ সংলাপ শুরু হতে পারে। উদ্যোগটা সরকারের তরফ থেকে কবে নেওয়া হবে, আমি জানি না। এ নিয়ে বড় আশা করতে মন চায় না। তবে জাতিসংঘ যদি উদ্যোগটি নিত? বাংলাদেশে ইউএনডিপি যদি এ নিয়ে একটু কাজ করত? জেনেভায় দেখলাম, উদ্বোধনী অধিবেশনে হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের হাইকমিশনার মিস নাভানেথিম পিলে বলেছেন, বিশ্বের সব অঞ্চলে আদিবাসী জনগণ ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার এবং ভূমির অধিকার শুধু নয়, বেঁচে থাকার অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেছেন, বর্তমানে আমাদের মানবাধিকারের উন্নতির স্বীকৃতি ও উৎসব করলেই হবে না, মনে রাখতে হবে, অতীতে আদিবাসীদের অধিকারকে ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ বছর নতুনভাবে ‘জাতিসংঘ-আদিবাসী অংশীদারিত্ব’ নামে আইএলও এবং ইউএনডিপির সঙ্গে যৌথভাবে আদিবাসীদের সহায়তা করার জন্য হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাজ করবে।
এই যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাজ করার কথা বলা হলো, এর প্রতিফলন কি আমাদের দেশে আমরা দেখতে পাব? বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য।


এ বছরও সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস পালন করছে না। তবে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী আজ ৯ আগস্ট আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। কিন্তু নারী দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, শিশু দিবস ইত্যাদি সরকার যেভাবে পালন করে, সেভাবে আদিবাসী দিবস হচ্ছে না। তবে সারা দেশে, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে আদিবাসী দিবস এবার উদ্যাপন করা হচ্ছে। বলা যায়, আদিবাসী দিবস সবখানে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এমনকি আদিবাসী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আদিবাসী দিবস এবার পালন করছে।
এদিকে সংসদীয় আদিবাসী ককাশ গঠিত হয়েছে। আদিবাসী-বান্ধব মাননীয় দুজন সংসদ সদস্য সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে রয়েছেন—রাশেদ খান মেনন এমপি ও হাসানুল হক ইনু এমপি। আদিবাসীদের সুখ-দুঃখ ও দাবির কথা তাঁরা ভালোমতো জানেন। এই দুজন সাংসদ আদিবাসীদের চিরদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথের সাথি ছিলেন। আশা করতে ইচ্ছে করে, এবার সংবিধান সংশোধনের সময় মৌলিক অধিকার অংশে আদিবাসীদের পরিচয়, সংস্কৃতি, অবদান ও অধিকারের কথা অন্তর্ভুক্ত হবে। আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার এ ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা বেশ আশান্বিত হয়েছিলাম ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার দেখে। ইশতেহারে স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, আদিবাসীদের উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল, ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, আদিবাসী ও চা-বাগানে কর্মরত শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর ওপর সন্ত্রাস, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের চির অবসান, তাদের জীবন, সম্পদ, সম্ভ্রম, মান-মর্যাদার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্র ও সমাজ-জীবনের সর্বক্ষেত্রে সমান অধিকারের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। আদিবাসীদের জমি, জলাধার এবং বন এলাকায় সনাতনী অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ভূমি কমিশন গঠন করা হবে। সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব ধরনের আইন ও অন্যান্য ব্যবস্থার অবসান করা হবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং আদিবাসীদের জন্য চাকরি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
‘পার্বত্য চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। অনগ্রসর অঞ্চলগুলোর উন্নয়নে বর্ধিত উদ্যোগ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, আদিবাসী ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের অধিকারের স্বীকৃতি এবং তাদের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারার স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণ ও তাদের সুষম উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।’
বলা বাহুল্য, বিগত প্রায় ১৮ মাসে আদিবাসী জীবনে নির্বাচনী ইশতেহারের এসব কথার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাইনি। তবে আশা করি আগামী দিনে এসবের প্রতিফলন আমরা দেখতে পাব।
আমরা তবুও আশায় বুক বেঁধে চেয়ে আছি। আদিবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্র ও সরকারের সংলাপ ও আলোচনার সংস্কৃতি তৈরি হবে। অন্যান্য সময় আদিবাসীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারি প্রতিনিধি ও মন্ত্রী মহোদয়গণ আসেন ও কথা বলেন। বিষয়টি উল্টো করে দিতে চাই। স্বপ্ন দেখতে চাই, আগামী দিনে সরকার নিজে সভার আয়োজন করবে এবং আমরা আদিবাসীরা সেখানে যোগ দিয়ে আমাদের কথা বলে আসব এবং সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিনা পয়সায় সরকারকে সহযোগিতা করব। এ ক্ষেত্রে আমরা জাতিসংঘের সহযোগিতা চাইব আমাদের মতো অর্থবলের দিক থেকে গরিব দেশে। কবে হবে এসব?
পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে যে মৈত্রী ও বন্ধন তৈরি হচ্ছে, তা এক কথায় অতুলনীয়। একে যেন আমরা অনেক দূর নিয়ে যেতে পারি।
অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের স্বপ্ন ও সংগ্রামকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বৃহত্তর নাগরিক সমাজের অনেকে এখন আমাদের অধিকারকে সমর্থন করছেন। মিডিয়া এখন বেশ আগ্রহী আদিবাসী ইস্যুতে। জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে সরকার, জাতিসংঘ ও আদিবাসী জনগণ ভবিষ্যতে একযোগে কাজ করতে পারবে বলে আমি আশাবাদী।
সঞ্জীব দ্রং: কলাম লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী।
sanjeebdrong@gmail.com

উৎস: http://banglarkantha.com/?p=138
Share:

আদিবাসীদের ভূমি এবং সংস্কৃতি হারানোর কারণ ও উত্তরণের উপায় - ২য় অংশ

তথ্যের অধিকারহীনতা:
তথ্যের অধিকার এবং এই বিষয়ে পর্যাপ্ত উৎসের অভাব আদিবাসী জনগনকে আইনবিচার এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দূরে সরিয়ে রাখে। দেখা যায় যে বেশির ভাগ তথ্যই বাংলা ভাষায় দেয়া হয়যার কারেন অনেকের কাছেই তা বোধগম্য ভাষায় হয়না। এইগুলো আদিবাসী ভাষায় অনুবাদ করা হয়নাকেননা ধরে নেয়া হয় যেবাংলাদেশে সকলেই বাংলা বুঝবে। দ্বিতীয়তপ্রশাসনিক ক্ষেতেও বাঙালি লোকজন বেশি হওয়ায় তারা বাঙালিদের সুযোগ সুবিধাই বেশি দেখে।
বাংলাদেশে বর্তমান সংসদে সবচেয়ে বেশি আদিবাসী আইন প্রণেতা  রয়েছেনযদিও প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেক কম। সেই সমস্যা রয়েছে স্থানীয় সরকার এবং বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তা পর্যায়েওযার কারণে বার বার অগ্রাহ্য করা হয়েছে তাদের ভূমি এবং সংস্কৃতির স্বীকৃতি।



সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোগ:
সরকারী পর্যায়ে নাম করনের রাজনীতির বাহাস সত্যিকারভাবেই আদিবাসীদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে বলে এই লেখনী মনে করছে। আদিবাসীদের ভুমি রক্ষায় সরকার এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পাহাড়ের আদিবাসী জন্য পার্বত্র চট্টগ্রাম ভুমি কমিশন তৈরি করলেও সমতর অঞ্চলের আদিবাসীদের ভুমি রক্ষার জন্য সেরকম কোনো উদ্যোগ হয়নি। সরকারী উন্নয়ন বলতে সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয় থেকে বিশেষ তহবিল মাত্র। এর বাইরে আদিবাসীদের সংস্কৃতি রক্ষার জন্য তেরি হওযা সাম্প্রতিক ক্ষুত্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিল ২০১০ এ মাত্র ২৭ জনগোষ্ঠীর তালিকা আছেএবং এই ধরনের অসম্পূর্ণ তালিকা সহই এটি গেজেট আকার প্রকাশিত হয়েছে।
এর বাইরে বেসরকারী উদ্যোগ বরং লক্ষ্যনীয়। বাঙালিদের মনে আদিবাসীদের নিয়ে ইতিবাচক মনোযোগ তৈরির করার ক্ষেত্রে কেন্দ্র এবঙ তৃনমূল পর্যায়ে বহু এনজিও কাজ করে যাচ্ছেন। এমনকি কোন কোন বেসরকারী সংস্থা আদিবাসীদের ভূমি হারানোর বিষয়টিকে প্রাধ্যান্য দিয়ে তাদের পক্ষে মামলা পরিচালনাসহ বিভিন্ন ধরনের সমর্থন দিচ্ছেন। বিভিন্ন নিপীড়ন এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে বিভিন্ন প্রচারণামূলক কমৃসুচি গ্রহণ করছেন।

করনীয়:
১.         উপজাতি’ কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে নয়’ আদিবাসী হিসেবেই  সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে রাষ্ট্রকেই।
২.         প্রথাগত ভূমি মালিকানার স্বীকৃতি দিতে হবে।
৩.         পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন তৈরি করতে হবে।
৪.         আদিবাসীদের জন্য সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে প্রনযনকৃত যে কোন কর্মসূচীতে আদিবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
৫.         বই-পুস্তক রাষ্ট্রীয় দলিল পত্রে আদিবাসীদের যেকোনো ধরনের নেতিবাচক উপস্থাপণ বন্ধ করতে হবে।
৬.         আদিবাসীদের ভাষার স্বীকৃতি দিতে হবে।
৭.         প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে আদিবাসী ভাষার স্বীকৃতি দিতে হবে।
৮.         যে সকল ভাষার বর্নমালা আছে সেগুলো দিয়েই অচিরেই পাঠপুস্তক  এবং ক্যারিকুলাম তৈরির কাজ শুরু করতে হবে।
৯.         বনের উপর আদিবাসীদের পূর্ণ অধিকার দিতে হবে এবং তার চর্চা ও সংরক্ষণের  ব্যবস্থা করা।
১০.       বনের অধিবাসী বিশেষ করে আদিবাসীদের সঙ্গে আলিাচনা করেই বন আইন সংশোধন করতে হবে।
১১.        আদিবাসীদের নিজেদের ভূমি রেজিস্টি করার দিকে ঝোঁক দিতে হবে অর্থাৎ ভূমির কাগজপত্র হালনাগাদ করার ব্যবস্থা করতে হবেযেন কেউ সহজে ভূমি দখল করে না নিতে পারে।
১২.        আদিবাসী নারীদের নিজেদের মধ্যে একাত্মতা তৈরির জন্য আদিবাসী নারী আন্দোলনের ফ্্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে।
১৩.       আদিবাসী নেতাদের আন্দোলনের বিষয়ে নিজেদের এজেন্সী থাকতে হবে।
১৪.       আদিবাসী নারী পুরুষ যেন অবাধ তথ্য পায় সেই বিষয়ে সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে।
১৫.       বিভিন্ন প্রচারণামূলকজনসচেতনতা মূলক কর্মকাণ্ডগুলো বিভিন্ন আদিবাসী ভাষায় অনুবাদ করে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
১৬.       আদিবাসীদের কাছে এই সব প্রচারের ক্ষেত্রে সহজবোধ্যতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আদিবাসী নাচগান প্রক্রিয়া হিসেবে কাজে লাগতে পারে।
১৭.       শুধু নাচগানই নয়মিডিয়াতে আদিবাসীদের বিরুদ্ধে সকল নিপীড়নবৈষম্য তুলে ধরতে হবে।
১৮.       আদিবাসীদের জন্য নির্ধারিত কোটা পূরণ হচ্ছে কীনা সেটির প্রতি লক্ষ্য রাকতে হবে।
১৯.       আদিবাসীদের বর্নিল জীবন যাপনের প্রতি সকলকে ইতিবাচক মনোভোবে তেরির ক্ষেত্রে সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।
২০.       ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে আদিবাসী মানুসদের অবদান ইতিহাসে যুক্ত করতে হবে এবং জাতীয়ভাবে তাদের গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে সন্মানিত হবেন সেই জাতির মানুষ এবং তাদের সংস্কৃতি।
২১.        আদিবাসীদের বিভিন্ন লোক সাহিত্যগল্পকবিতানাটককে বাংলার সম মর্যাদা দিয়ে প্রচার এবং প্রকাশের সুযোগ সুষ্টি করে দিতে হবে সরকার এবং সংশ্লিষ্টজন এবং সংগঠনকে।
২২.        স্থানীয় সরকার এবং সংসদে আদিবাসী প্রতিনিধি বাড়াতে হবে।
২৩.       বাঙালি সুশীল সমাজ এবং যারা আদিবাসীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম তাদের সঙ্গে নিয়ে দেনদরবারের নতুন পাটাতন তৈরি করা জরুরী।

ভারতের মানবতাবাদী ঔপন্যাসিক অরন্ধতী রায় তার সাম্প্রতিক একটি লেখায় বলেছেন একমাত্র আদিবাসীরাই প্রতিরোধের নতুন ধরণ তৈরি করছে এবং যা পুঁজিবাদের বিরুদ্ধেও একটি বিশাল প্রতিরাধ। তারা চ্যালেঞ্জ করছে পুঁজিবাদী উন্নয়ন ভাবণাকেও। এতো বৈষম্য এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাাম করে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যায়তাদের জীবনই জয়ী হয়।
পরিশেষে বাংলাদেশে গত বছর বহুল প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনের কথা বলে শেষ করছি আজকের প্রাবন্ধিক আলাপ। একটি মোবাইল ফোনের বিজ্ঞাপনের বংলাদেশের একজন খ্যাতিমান কবি নির্মলেন্দু গুণ এবং একজন খ্যাতিমান লেখক বলেছিলেনমানুষ বাঁচে তার ভাষায়আর ভাষা বাঁচে মানুষের লেখনীতে। এভাবে আদিবাসীদের ভাষাকেও বাঁচতে হবে তাদের লেখনিতে আর নিজেদের বেঁচে থাকার মধ্যে। 


গ্রন্থপঞ্জি:
*       বন্দ্যোপাধ্যায়শেখর ও অভিজিৎ দাশগুপ্ত (১৯৯৮) সম্পাদিত জাতিবর্ণ ও বাঙালী সমাজআইসিবিএসদিল্লিভারত ।
*       সিংহমণি (১৯৯১)জীবন সংগ্রাম জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনীঢাকা।
*       নুরুল ইমাম খান (১৯৯২) সম্পাদিত বাংলাদেশ জেলা গেজেটিয়ার বৃহত্তর ময়মনসিংহ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারসংস্থাপন মন্ত্রণালয়,
*       ঘোষসুবোধ (১৯৯৫) আদিবাসী ন্যাশনাল বুক এজেন্সীকলকাতা।
*       খানআলী আহাম্মোদ আইয়োব (২০০৫) বাংলাদেশের হাজং সম্প্রদায়সূচীপত্র প্রকাশনী।
*       উপজাতীয় কালচারাল একাডেমীজানিরাগবেষণা জার্নালসংখ্যাসমূহ১৯৭৬-২০০২বিরিশিরিদুর্গাপুরনেত্রকোনা।
*       এঙ্গেলসফ্রেডরিক (১৯৭২) পরিবারব্যক্তি মালিকানা ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি’, কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস রচনা-সংকলনপ্রগতি প্রকাশনমস্কো।
*       করিমসরদার ফজলুল, (২০০০) দর্শন কোষমাওলা ব্রাদার্সঢাকা।
*       খালেককিবারাউল (১৯৮১) গারোদের অপরাধ ও বিচার: সেকাল ও একাল’, জানিরা খণ্ড-২উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী।
*       বার্লিং রবিন্স (১৯৮৬)মান্দিরা কোথা থেকে এসেছে?’ জানিরা৭ম সংখ্যাউপজাতীয় কালচারাল একাডেমীনেত্রকোনা।
*       Alcoff, L(1995)"Democracy and Rationality: A Dialogue with Hilary Putnam," in Women, Culture, and Development. Ed. Martha Nussbaum and Jonathan Glover. Oxford University Press.
*       Bamberger, (1974)'The Myth of Matriarchy: Why Men Rule in Primitive Society', in M Rosaldo and L Lamphere, Women, Culture, and Society, (Stanford, California: Stanford University Press, pp. 263-280.
*       Bernard Shaw (1937) ‘Women in the Labor Market’ in The Intelligent Woman's Guide to Socialism, Capitalism, Sovietism and Fascism, Pelican Books.
*       Brown, A.R Radcliff (1940)`Preface’ to M. Fortes and E.E Evans Pritchard, eds African Political Systems, Oxford University Press, London.
*       ....... (1924)`The Mother's Brother in South Africa' in The South African Journal of Science XXI 542—555).
*       Burling, R (1997) The Strong Women in Modhupur, University Press Limited, Dhaka, Bangladesh.
*       Carey Rev. Willim and others, (1919) A Garo Jungle Book, Tura Books Room, Tura Garo Hills, Assam India.
*       Cynthia E (2001)The Myth of Matriarchal Prehistory: Why an Invented Past Won't Give Women a Future, Boston: Beacon Press.
*       Dalton, T.E (1872)Descriptive Ethnology of Bengal, Printed for the government of Bengal, under the Direction of the Council of the Asiatic Society of Bengal.
*       Daly, M (1978) Gyn/Ecology: The Metaethics of Radical feminism, London, Women’s Press.
*       David, M S and Kathleen, G (1972) Edited Matrilineal Kinship, University of California Press, Berkely, Newyork.
*       Dewansing. R, B.A. `The folklores of the Garos’ in Garo Reader, Vol IV
*       Donald E. Brown, (1991)Human Universals Philadelphia: Temple University Press.
*       Dworkin, A (1981)Pornography: Men possessing Women, London: Women’s Press.
*       Drong, S (2003) ‘Modhupur Oronne Garo Narir Jibon’ in Mesbah Kamal and Arifatul Kibria Edited 'Viponno Vumijo, Resaerch and Development Collective, Dhaka, Bangladesh.
*       Eisenstein, Zillah R(1981)The Radical Future of Radical feminism, New York ( Longman)
*       Ghosh, L.N (1869)’The modern Indian History of Indian Chiefs’, Rajas, Zamindars etc. The Gaho Hills Act. XXII.
*       Grierson, Dr. G.A (1903)Linguistic Survey of India, Calcutta, Vol-V, Chapter-1.
*       Gottner-Abendorth(2004) ‘Martriarchal Society: Definition and Theory’ in Meltomi Roma edited The Gift, A Feminist Analysis .
*       Hartmann, H.I(1979) `Capitalism, Patriarchy and Job Segregation by Sex’ in `Capitalist Patriarchy’ ed. Zillah R. Eisenstein ( New York: Monthly Review Press)
*       Islam, Zahidul, (1992) The Garos of Bangladesh: An Overview In Social Science Review, Dhaka University studies Part- D, Vol.X1 December,No. 2.
*       J. J Bachofen(1862) Myth, Religion and Mother Right, translated (1992) by Ralph Manheim, Princton University Books.
*       Jonathan Marks (Unpublished, 2007) 'Essay 8: Primate Behavior', in The Un-Textbook of Biological Anthropology, p. 11.
*       Karotemprel, S ((1984) edited The Tribes of North East India, Vendrame Musical Institute, Shilong, India.
*       Khaleque, K (1985) ‘Operational Use of of Anthropological Concepts of Garo Matrilineal Descent Group’ Social Science Review, University of Dhaka June.
*       Khaleque, K (1984) `Religious Syncretism among the Bangladeshi Garos’ Bangladesh Journal of Social Studies , University of Dhaka, Vol.2 No.1
*       Khaleque, K (1983) Adoption of Wet Cultivation and change in poverty relations among the Bangladeshi Garos’ Bangladesh Journal of Social Studies , University of Dhaka No-20
*       Khaleque, K (1982) Garo and Khasi: A Comparative Study in matrilineal Systems, 1967, social change among the Garo: A study of a plains village in Bangladesh; Unpublished Dissertation, Australian National University, Canberra.
*        Maine, H (1861) Ancient LawIts Connection With the Early History of Society, and Its Relation to Modern Ideas,Published in London by John Murray, Albemarle Street.
*       Mclennan (1865) Primitive Marriage: An Enquiry into the Origin of Form of Capture in Marriage Ceremonies, Adam and Charles Black, Edinburg.
*       Mitchell, J (1975) Psychoanalysis and Feminism ( Harmondsworth: Penguin)
*       Millett, K (1977) Sexual Politics, London Virago.
*       Morgan, L.H (1877) Ancient Society, MacMillan & Company, London. This edition was printed in USA.
*       Pateman, C (1988) The sexual contract, cambridge, polity press.
*       Perks, Robert and Alistair Thomson eds. (1978) The Oral History Reader, Routledge, London.
*       Playfair, M. A( 1075)The Garos, United publishers, 20/1 Lindway Sweet , Calcutta.
*       Rick, A (1977)Of Women Born: Motherhood as Experience and Institution, London Virago.
*       Rislay, H.H(1872) Tribes and Castes in Eastern India, London.
*       Robert, R and Archibald A(1999) Place to Remember: Using History to Build Community, Altamira Press.
*       Sattar, A (1975) Tribal Culture in Bangladesh, Muktadhara, 74. Farashgonj, Dacca.
*       Shanti M, (1996) Male Authority and Female Autonomy: A Study of the Matrilineal Nayars of Kerala, South India, published in `Gender, Kinship, and Power Edited by Mary Jo Maynes, Ann Waltner Birgite Soland and Ulrike Strassers, Routledge, New York, London.
*       Spivark, G.C (1988)"Can the Subaltern Speak?" In Cary Nelson and Lawrence Grossberg, eds.,Marxism and the Interpretation of Culture, pp. 271-313. Urbana: University of Illinois Press.
*       Steven Goldberg, (1973)The Inevitability of Patriarchy, (William Morrow & Company)
*        ......( 1993) Why Men Rule, (Chicago, Illinois: Open Court Publishing Company.
*       Sylvia Walby(1990) Theorizing Patriarchy, Balckwell Publishers, USA
*       Weber, M (1947) The theory of Social and Economic Organisation, new york, Free Press.
*       Wisw, J (1883)Notes on Races, Tribes and Castes in Wastern Bengal, Calcutta, India.


লেখক: জোবাইদা নাসরীন, শিক্ষকনৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

উৎস:http://www.bsu1952.org/archive/articles/168-adibasi-vumi-songskriti-zobaida-nasrin-2
Share:
Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo