Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Tuesday, February 10, 2015

ভাষার রাস্তায় কতটা এগোলাম আমরা?

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম| আপডেট:




২.
যে জাতির ভাষায় শৃঙ্খলা নেই, সৌন্দর্য নেই। তার কাজকর্মেও কোনো শৃঙ্খলা অথবা সৌন্দর্য থাকে না। যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে মনের ভাবটি প্রকাশ করতে অপারগ, তার পক্ষে বড় কল্পনা করা এবং সৃজনশীলতার উচ্চতায় যাওয়াটা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
আমরা যে বাংলা বলি, তা এক বিপন্ন প্রজাতির বাংলা। এর ভিত্তি দুর্বল, এটি মার খায় ইংরেজির কাছে। আজকাল হিন্দিও ঢুকছে বাংলায়, বোধ করি উর্দুও। বিয়ের শাড়ি যেদিন বদলে লেহেঙ্গা হয়ে গেল, গায়েহলুদের অনুষ্ঠান হয়ে গেল মেহেন্দি মাহফিল, সেদিন আমরা নিজেদেরই যেন একটা বাণী দিলাম: ভাষা নিয়ে আমাদের একটা আবেগ আছে বটে, কিন্তু ভাষা নিয়ে কোনো পরিশ্রম করতে আমরা রাজি নই। আরও একটা বাণীও আমরা নিজেদের শোনালাম: আমরা সৃজন থেকে অনুকরণে বেশি পারদর্শী। অনুকরণটা আবার তৃপ্তির হয়, যদি তা হয় টেলিভিশনে ভেসে আসা চটকদার কোনো কিছুর।
ভাষার রাস্তাটা তৈরি করে দিয়েছিলেন আমাদের ভাষাশহীদেরা। স্বাধীনতা তাকে রাজপথে পরিণত করল। কিন্তু এই রাজপথ আরও প্রশস্ত ও মসৃণ করতে আমাদের যেসব উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল, তা আমরা নিইনি। অপব্যবহারে এর পিচ নষ্ট হয়ে খোয়া বেরিয়ে গেছে। এখন ইংরেজির আলকাতরা দিয়ে ঢেকে কতটা একে চলাচলযোগ্য করা যায়?
ষাটের দশকে যেভাবে এগোচ্ছিলাম আমরা, ভাষার রাস্তা দিয়ে, সে রকম এগোনোর ইচ্ছাটাও যেন এখন নেই। বাংলা ভাষা এখন শ্রীহীন হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য সব ভাষার ক্ষেত্রে। আমাদের প্রতিবাদের বা রাজনীতির ভাষাও তো এখন বর্ষায় মুগদাপাড়া অথবা নূরেরচালার পানিকাদা জমা, আবর্জনা উপচে পড়া রাস্তার মতো।
একটা আরেকটাকে টেনে তোলে। আমরা যদি আমাদের মাতৃভাষাটা সেভাবে ব্যবহার করতাম, যেমন করে চেকরা অথবা জাপানিরা করে তাদের ভাষাটি, তাহলে আমাদের সব ভাষাই সুন্দর হতো।
৩.
ভাষা নিয়ে রচনা লেখা প্রসঙ্গে স্যারদের হাতে মার খাওয়া পর্যন্ত যে গিয়েছিলাম, তার একটি কারণ আছে এবং তা নিশ্চয় এতক্ষণে পরিষ্কার হয়েছে। ভাষাকে যদি আমরা একটা মর্যাদা, শুদ্ধতা এবং শক্তির জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমাদের শুরু করতে হবে সেই স্কুল থেকে, স্কুলজীবনের একেবারে গোড়া থেকে। আমাদের শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আনতে হবে মনোযোগের মূল কেন্দ্রে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এমনভাবে বাড়াতে হবে, যাতে মেধাবী শিক্ষকদের একটা বড় সমাবেশ ঘটানো যায় প্রাথমিক পর্যায় থেকেই। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যদি বাংলা শেখানো হয় যত্ন নিয়ে, শিক্ষকেরা নিজেরাও যদি সচেতন হন তঁাদের ভাষা নিয়ে, যদি প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি গ্রন্থাগার থাকে, বই পড়ার প্রতিযোগিতা এবং উৎসব হয়, যদি বাংলার প্রতি ভালোবাসাটা আবেগের পথ ছেড়ে পরিশ্রমের পথে যায়, তবেই ভাষাশহীদদের বানানো পথটাকে আমরা দিগন্তছোঁয়া রাজপথের মর্যাদায় উন্নত করতে পারব।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: কথাসাহিত্যিক। অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Source: http://www.prothom-alo.com/opinion/article/447565/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A6%BE
Share:

0 comments:

Post a Comment

Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo