Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Tuesday, March 24, 2015

প্রিয়েমশন বা অগ্রক্রয়ের বিধান.

প্রিয়েমশন (Pre-emption) অর্থ অগ্রক্রয়। অগ্রক্রয়াধিকারমূলক অধিকার হলো কোনো ক্রেতার কাছ থেকে আবার ক্রয়ের অধিকার। শরিকের কোনো বিক্রীত জমি বহিরাগত ক্রেতার কাছ থেকে অপর কোনো শরিক কর্তৃক আদালতের মাধ্যমে মূল্য ও নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের টাকা জমা দিয়ে ক্রয় করাকে প্রিয়েমশন বলা হয়। বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন-১৮৮৫, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন-১৯৫০-এর ৯৬ ধারা এবং ১৯৪৯ সালের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ২৪ ধারায় এ সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ১৮৮৫, ১৯৫০ এবং ১৯৪৯ সালের আইন তিনটির যথাক্রমে ২৬, ৯৬(১৭) ও ২৪(১০) ধারায় মুসলিম আইন দ্বারাও অগ্রক্রয়ের অধিকার শুধু নিশ্চিত করা হয়নি বরং অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কাজেই বাংলাদেশে প্রিয়েমশন সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিবেচনার বিষয় নয়; বরং আইন দ্বারা সংরক্ষিত অধিকার।

উলি্লখিত ২৬, ৯৬ এবং ২৪ ধারার বিধানের সঙ্গে মুসলিম আইনের মৌলিক পার্থক্য হলো, মুসলিম আইন অনুসারে অগ্রক্রয় করতে হলে আনুষ্ঠানিক দাবি অর্থাৎ মুসলিম আইনের ২৩৬ ধারা মোতাবেক বিক্রয়ের সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে অভিপ্রায় বা 'তলব-ই-মৌসিবত' ঘোষণা করতে হয়। তলব-ই-মৌসিবত এভাবে পেশ করা চলে, " আমি আমার শুফার হক দাবি করছি (হেদায়া, ৫৫১)। সাক্ষীর সামনে দাবি করাকে বলে 'তলব-ই-ইশাদ'। মূল্য ও ক্ষতিপূরণের টাকা মামলায় ডিক্রি হওয়ার আগে আদালতে জমা দিতে হয় না। পক্ষান্তরে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ এবং অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক দাবি উপস্থাপন করতে হয় না। তবে মামলা দায়ের করার সঙ্গে সঙ্গে (along with the petition for pre-emption) বিক্রীত দলিলে উলি্লখিত জমির মূল্যসহ ক্ষতিপূরণের টাকা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
 

কখন অগ্রক্রয়ের অধিকার জন্মায় : যখন কেউ সহ-অংশীদার বা শরিক (Co-sharer) ছাড়া তৃতীয় কারো কাছে সমপূর্ণ বৈধ ও ত্রুটিমুক্তভাবে জমি বিক্রি সম্পন্ন করে বিক্রিসংক্রান্ত নোটিশ জারি (Sale notice) করে। তখন অন্য বা অন্যান্য অংশীদার ওই বিক্রির নোটিশ পাওয়ার বা বিক্রির খবর বা তথ্য জানার তারিখ থেকে অগ্রক্রয়ের অধিকার জন্মায়।
অগ্রক্রয়ের আবেদন আদালতে পেশ করার সময়সীমা : বিক্রিসংক্রান্ত নোটিশ জারি কিংবা দলিল পূর্ণাঙ্গভাবে রেজিস্ট্রি অথবা বিক্রয় বিষয় জানার দুই মাসের মধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, The State Acquisiton & Tenancy Act, 1950 কার্যকর হয় ১৯৫১ সালের ১৬ মে এবং ওই তারিখ থেকে Bengal Tenancy Act বাতিল হয়। (The new S.A.T Act has repealed the famous Bengal Tenancy Act, l885) এর দীর্ঘদিন পর ২০০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে আলোচ্য ৯৬ ধারার উপধারা ১৮টির মধ্যে ১২টিতে সংশোধনী আনা হয়। সেই সংশোধনী অনুযায়ী প্রতিকার প্রার্থনা বা মামলা করার সময়সীমা চার মাস থেকে দুই মাস করা হয়। ৯৬(১)(বি) ধারা অনুযায়ী কোনো অবস্থায় তিন (তিন) বছরের পর মামলা করা যাবে না।

সময়সীমা ৪ মাস, অতঃপর কমিয়ে দুই মাস, আবার তিন বছরের মধ্যে প্রতিকার প্রার্থনার বিষয়টি কারো কারো কাছে ঘোলাটে বা পরস্পরবিরোধী মনে হতে পারে। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে সংশোধনীর আগে দলিল নিবন্ধন হওয়ার বা জ্ঞাত হওয়ার চার মাসের মধ্যে মামলা করার সময়সীমা ছিল। এই জ্ঞাত হওয়ার বিষয়টি ব্যাপক ও বিস্তৃত। অর্থাৎ কেউ যদি ১২ বছর পর বিক্রির বিষয় জ্ঞাত হয়, তাহলে ওই জানা থেকে চার মাসের মধ্যে অর্থাৎ দলিলের বিষয় জানার বারো বছর+চার মাস (১২ বছর ৪ মাস) সময় পেতেন। ২০০৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী ওই ব্যাপক ও বিস্তৃত সময়সীমার একটি রেখা টানা হয়েছে। ফলে যিনি যখনই বিক্রি বিষয় জানুক, কোনো অবস্থায় তিন বছর পর অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।

কে কে এ অধিকার প্রয়োগ করতে পারে : ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী_

ক. বিক্রীত জমির ওয়ারিশ সূত্রে শরিক।
খ. বিক্রীত জমির খরিদ সূত্রে শরিক।
গ. স্থানান্তরিত জমিসংলগ্ন জমির স্বত্বাধিকারী প্রজা।

ওই আইনের ৯৬ ধারা মোতাবেক অগ্রক্রয়ের অধিকার আদায়ে মামলা করতে পারতেন। কিন্তু পার্শ্ববর্তী (Contiguous) প্রজাদের অগ্রক্রয়ের সুযোগ থাকায় হাজার হাজার মামলার উদ্ভব হয়। মামলার এ সংখ্যাধিক্য বিবেচনায় নিয়ে ২০০৬ সালের ৩৪ নম্বর আইন দ্বারা ওই ৯৬ ধারার ১২টি উপধারা সংশোধন করতে বিক্রীত জমিসংলগ্ন স্বত্বাধিকারীকে অগ্রক্রয়ের মামলা করতে পারবে না। এ বিধান করা হয়েছে। ফলে সর্বশেষ অর্থাৎ ২০০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুধু ওপরে বর্ণিত (ক) ও (খ) দফার শরিকরা এ অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভূমিসংলগ্ন প্রজার অগ্রক্রয়ের অধিকার আর নেই।

মুসলিম আইনের ২৩১ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত তিন শ্রেণীর ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের দাবি করতে পারে।

১. সমপত্তির সহ-অংশীদার [শাফি-ই-শরিক]

২. খালাস বা অনুবন্ধের অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি, যেমন কোনো সড়ক ব্যবহারের অথবা পানি নিষ্কাশনের অধিকারসমপন্ন ব্যক্তি [শাফি-ই-খালিত]; এবং ৩. সংলগ্ন স্থাবর সমপত্তির মালিক [শাফি-ই-জার]; তবে, তাদের ভাড়াটিয়ারা নয়। অথবা কোনো সমপত্তির বে-আইনি দখলদার ব্যক্তিও নয়। [বেঈলি, ৪৮১]। কোনো ওয়াকিফ অথবা মোতোয়ালির অগ্রক্রয়ের অধিকার নেই, কারণ ওয়াকফ সমপত্তির মালিকানা তাহার কাছে বর্তায় না। তবে বিক্রেতার জমি ও শাফির জমির মধ্যে সরকারি জমি থাকলে সংলগ্নতা থাকবে না।

অগ্রক্রয়ের মামলা করার নিয়ম : অগ্রক্রয়ের অধিকার আদায়ের জন্য ওপরে বর্ণিত ব্যক্তিরা ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ ধারা মতে_

ক. হস্তান্তরের বিষয় জানার বা দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার দুই মাসের মধ্যে মামলা দায়ের,
খ. মামলার আবেদনের সঙ্গে বিক্রয় মূল্যের ২৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ জমা দিতে হবে,
গ. এ ছাড়া বিক্রয় মূল্যের ওপর বার্ষিক ৮ শতাংশ সরল সুদ জমা দিতে হবে।

১৯৪৯ সালের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী_

১) অগ্রক্রয়ের দরখাস্তের সঙ্গে বিক্রীত মূল্যে ওপর ৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ জমা দিতে হয়, ২) অগ্রক্রয়ের দরখাস্ত জমা দেওয়ার সময়সীমা এক মাস, ৩) ক্রেতা, প্রতিপক্ষ খরিদের পর জমির উৎকর্ষ সাধনের কোনো অর্থ ব্যয় করলে তার ওপর শতকরা সোয়া ছয় টাকা হারে সুদ দেওয়ার বিধান আছে।

ওপরের শর্তগুলোর কোনো ব্যত্যয় ঘটলে প্রিয়েমশনের দরখাস্ত অগ্রাহ্য হবে। এত কিছুর পরও ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ এবং ১৯৪৯ সালের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ২৪ ধারা বিধান অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে অগ্রক্রয়ের মামলা চলে না, যদি_

১. বিক্রীত জমি বসতবাড়ি হয়।
২. অগ্রক্রয়ের মামলা দায়ের করার আগে বিক্রীত জমি বিক্রেতার কাছে হস্তান্তরিত হয়।
৩. উক্ত বিক্রয় যোগসাজশী (Collusive) বা জাল (Fraudulent) বিবেচিত হয়।
৪. বিনিময় বা ভাগবাটোয়ারাসংক্রান্ত সম্পত্তি হস্তান্তর হয়।
৫. স্বামী স্ত্রীকে বা স্ত্রী স্বামীর বরাবরে উইল বা দানমূলে সম্পত্তি হস্তান্তর করে।
৬. হেবা-বিল-এওয়াজ মূলে হস্তান্তর করলে।
৭. রক্তের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত তিন পুরুষের কোনো দান বা উইল মূলে হস্তান্তর করে।
৮. মুসলিম আইনে ওয়াক্ফ এবং ধর্মীয় কারণে বা দাতব্য উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত হস্তান্তরে।

কোন আদালতে যাবেন : যে আদালতের 'Suit for recovery of possession' বা দখল পুনরুদ্ধারের মামলা গ্রহণের এখতিয়ার আছে শুধু সেই আদালত 'application for pre-emption' গ্রহণ করতে পারেন। অর্থাৎ যে জমি নিয়ে প্রিয়েমশন মামলা করা হয়েছে সেই জমি নিয়ে কোনো দখল উদ্ধারের মামলা দায়ের করলে যে আদালতে দায়ের করতে হয় প্রিয়েমশন মামলাটিকে সেই আদলতে দায়ের করতে হবে। আরো সোজা কথায় বলতে গেলে দলিলের মূল্যমান অনুযায়ী এখতিয়ারবান অর্থাৎ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সহকারী জজ, দুই লাখের ঊর্ধ্বে কিন্তু অনূর্ধ্ব চার লাখ পর্যন্ত সিনিয়র সহকারী জজ এবং তদূর্ধ্ব সব পরিমাণ মূল্যমানের জন্য যুগ্ম সহকারী জেলা জজ আদালতে এ মামলা করা যাবে।

আপিলের বিধান : রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৯৬(১২) ধারা অনুযায়ী আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে একবার আপিল করা যাবে। কিন্তু ওই আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আর দ্বিতীয় আপিল করা যাবে না। তবে প্রথম আপিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী Revision দায়ের করা যায়।
Source: http://bangladeshlawbd.blogspot.com/p/hindhu-law.html
Share:

Friday, March 20, 2015

১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্টের ৯৭ ধারা

ধারা ৯৭ ( আদিবাসী বা উপজাতীয়দের দ্বারা ভূমি হস্তান্তরে বিধি-নিষেধ )

উপধারা-(১) সরকার সময় সময় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করিতে পারিবেন যে, এই ধারার বিধানাবলী কোনো জেলা অথবা স্থানীয় এলাকার নিম্নলিখিত আদিবাসী সমাজ অথবা গোত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে এবং এইরূপ সমাজ এবং গোত্র এই ধারার উদ্দেশ্যে আদিবাসী হিসাবে গণ্য হইবে এবং এইরূপ বিজ্ঞপ্তির প্রকাশ চূড়ান্ত প্রমাণ হইবে যে, এই ধারার বিধানাবলী এইরূপ সমাজ ও গোত্রের বেলায় প্রযোজ্য হইয়াছে যথা : সাঁওতাল, বানিয়াস, ভুঁইয়াম ভূমিজ, দালুস, গণ্ডা, হাদী, হাজং, হো,খারিয়া, খারওয়ার, কোরা, কোচ (ঢাকা বিভাগ), মগ (বাখেরগঞ্জ জেলা), মাল ও সুরিয়া, পাহাড়িয়া, মাচ, মাণ্ডা, মণ্ডিয়া, ওড়াং ও তোড়ি ।


উপধারা-(২) অত্র ধারার যেরূপ বিধান রাখা হইয়াছে উহা ব্যতীত কোনো আদিবাসী রায়ত কর্তৃক তাহার জোত বা উহার অংশে তাহার স্বত্বের কোনো হস্তান্তর বৈধ হইবে না যদি ইহা বাংলাদেশের ডমিসাইল্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী আদিবাসী যাহার কাছে এইরূপ জোত অথবা উহার অংশ ৮৮ ও ৯০ ধারা অনুযায়ী হস্তান্তর করা যায় তাহার কাছে হস্তান্তর করা না হইলে ।

উপধারা-(৩) যদি কোনো ক্ষেত্রে আদিবাসী রায়ত অপর কোনো ব্যক্তি যে এইরূপ আদিবাসী নহে তাহার কাছে জোত অথবা উহার খণ্ড প্রাইভেট বিক্রি, দান বা উইল মাধ্যমে হস্তান্তর করিলে ইহার স্বপক্ষে অনুমতির জন্য যে রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট আবেদন করিতে পারিবে ও রাজস্ব কর্মকর্তার ৮৮ ও ৯০ ধারার বিধানাবলী বিবেচনায় রাখিয়া দরখাস্তের উপর যাহা যথাযথ মনে করিবেন সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবেন ।

উপধারা-(৪) (৩) উপধারায় উল্লেখিত প্রত্যেক হস্তান্তর নিবন্ধনকৃত দলিলমূলে করিতে হইবে এবং দলিল নিবন্ধনকৃত হওয়ার আগে জোতটি বা ইহার যে কোনো খণ্ড হস্তান্তরিত হইলে দলিল অনুযায়ী এবং হস্তান্তরের শর্তাবলী অথবা চুক্তি অনুযায়ী রাজস্ব কর্মকর্তার লিখিত সম্পত্তি গ্রহণ করিতে হইবে ।

উপধারা-(৫) একজন আদিবাসী রায়ত তাহার জমি শুধুমাত্র এক প্রকারের বন্ধক যথা সম্পূর্ণ খাইখালাসী বন্ধক প্রদানের ক্ষমতায় সীমাবদ্ধ ।

তবে শর্ত এই যে, কৃষির উদ্দেশ্যে ঋণ প্রাপ্তির জন্য বা কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বা সমবায় সমিতির নিকট হইতে কৃষির উদ্দেশ্যে ঋণ প্রাপ্তির বেলায় এই উপধারায় কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না ।

উপধারা-(৬) একজন আদিবাসী রায়ত অপর কোনো বাংলাদেশী ডমিসাইল্ড অথবা বাংলাদেশে স্থায়ী বসবাসকারী আদিবাসী যাহার সহিত ৯৫ ধারার (১) উপধারা অনুযায়ী সম্পূর্ণ খাইখালাসী চুক্তিবদ্ধ হওয়া যায় তাহার সহিত তাহার জোতের অন্তর্ভূক্ত যে কোনো ভূমিকে যে কোনো ব্যক্তি অথবা অব্যক্ত চুক্তির মাধ্যমে যে কোনো সময়ের জন্য যাহা কোনো মতেই সাত বত্সরের অধিক হইবে না বা হইতে পারে না এইরূপ সময়ের জন্য সম্পূর্ণ খাইখালাসী বন্ধক চুক্তিতে আবদ্ধ হইতে পারে ।

উপধারা-(৭) কোনো আদিবাসী রায়ত এই ধারায় বিধানসমূহ লংঘন করিয়া কোনো হস্তান্তর করিলে উহা বাতিল হইবে ।

উপধারা-(৮) (ক) যদি এই ধারার বিধানসমূহ লংঘন করিয়া কোনো আদিবাসী রায়ত কর্তৃক যদি কোনো জোত বা ইহার অংশ হস্তান্তর করে তাহা হইলে রাজস্ব কর্মকর্তার নিজ উদ্যোগে বা ইহার স্বপক্ষে তাহার বরাবরে পেশকৃত দরখাস্তের ভিত্তিতে লিখিত আদেশবলে এইরূপ হস্তান্তর গ্রহীতাকে জোত অথবা অংশ হইতে উচ্ছেদ করিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ আদেশের আগে হস্তান্তর গ্রহীতাকে এইরূপ উচ্ছেদের জন্য কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হইবে ।

(খ) (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজস্ব কর্মকর্তা কোনো আদেশ প্রদান করিলে-

(অ) তিনি হয় আদিবাসী বা তাহার উত্তরাধিকারী বা তাহার আইনসংগত প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তরিত ভূমি প্রত্যার্পণ করিবেন; বা

(আ) হস্তান্তরকারী বা তাহার উত্তরাধিকারী বা তাহার আইনসংগত প্রতিনিধি বা পাওয়া গেলে ভূমি সরকারের উপর ন্যস্ত হইয়াছে বলিয়া ঘোষণা দিবেন এবং রাজস্ব কর্মকর্তা উহা অন্য কোনো আদিবাসীর কাছে বন্দোবস্ত দিবেন ।

উপধারা-(৯) আপাতত বলবত্‍ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো আদালত কোনো আদিবাসী রায়তের জোত বা ইহার অংশের স্বত্ব বিক্রয়ের নিমিত্ত ডিক্রি অথবা আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন না ।

তবে শর্ত এই যে, জোতের বকেয়া ভূমি রাজস্ব আদায়ের জন্য বা সরকার বা কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন বা সমবায় সমিতি কর্তৃক কৃষির উদ্দেশ্যে জোত-এর জামানত সাপেক্ষে প্রদত্ত ঋণ আদায়ের জন্য এই আইনের বিধানসমূহ মোতাবেক সার্টিফিকেট কার্যকর করিবার নিমিত্ত কোনো আদিবাসীর জোত বিক্রি করা যাইতে পারে ।

উপধারা-(১০) সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করিতে পারিবেন যে, এই ধারা কোনো জেলা বা স্থানীয় এলাকার যে কোনো শ্রেণী বা গোত্র যাহার ক্ষেত্রে (১) উপধারা অনুযায়ী ইহা প্রয়োগ করা হইয়াছে তাহার বেলায় এই ধারা প্রয়োগ হইতে বিরত থাকিবে ।
http://www.abolombon.org/vumi-ain/SAT%20Act-1950.htm#97
Share:

Saturday, March 7, 2015

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকায় আরো ২৩ আদিবাসী জাতির নাম অন্তর্ভূক্তি

আচিক নিউজ ডেস্ক: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী 
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ এর তফসিলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে
বর্তমান ২৭টি জাতিগোষ্ঠীর সাথে আরো ২৩টি আদিবাসী জাতির নাম অন্তর্ভূক্ত
করতে যাচ্ছে সরকার। আর আগের তালিকা থেকে দু’টি জাতির নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।
নতুন সুপারিশ করা জাতিগুলো মিলিয়ে মোট হবে ৪৮টি জাতিগোষ্ঠী। গত ৩ মার্চ
২০১৫ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে আদিবাসীদের নামের
তালিকা প্রস্তুতকরণের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত
হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকা বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভাপতি এ্যাড. প্রমোদ
মানকিন এমপি।
 
সভায় সুপারিশকৃত ২৩টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর নাম হলো- মাহাতো, কন্দ, কড়া, 
গঞ্জু, গড়াইত, গুর্খা, তেলী, তুরি, পাত্র, বাগদী, বানাই, বড়াইক, বেদিয়া,
ভিল, ভূমিজ/ভূইমালী, মালো, মাহালী, মুসহর, রাজোয়াড়, লোহার, শবর, হুদি ও হো।
আগের ২৭টি জাতিগোষ্ঠী হলো- চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গা, বম,
পাংখোয়া, চাক, খিয়াং, খুমি, লুসাই, কোচ, সাঁওতাল, ডালু, উসাই (উসুই),
রাখাইন, মণিপুরী, গারো, হাজং, খাসিয়া, মং, ওরাও, বর্মন, পাহাড়ী, মালপাহাড়ী,
মুন্ডা ও কোল। এই তালিকা থেকে উসুই এবং মং এর নাম বাদ দেওয়ার জন্য সুপারিশ
করা হয়েছে।

নতুন সুপারিশকৃত তালিকায় রবিদাস জাতিগোষ্ঠী বাদ পড়ায় এবং পুরনো তালিকা 
থেকে বর্মনের নাম বাদ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদিবাসী পরিষদ।
 
 
উল্লেখ্য, বাদপড়া আদিবাসীদের দাবির প্রেক্ষিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় 
কর্তৃক জেলা প্রশাসকদের কাছে আদিবাসীদের তালিকা প্রেরণের জন্য নির্দেশ
দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসকদের পাঠানো তালিকায় ২২৮টি আদিবাসী জাতির নাম
পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসকদের পাঠানো তালিকা যাচাই বাছাইয়ের জন্য ছয়
সদস্য বিশিষ্ট উপকমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি ২৩টি আদিবাসী জাতির নাম
অন্তর্ভুক্তির জন্য সুপারিশ করে।
 
Source: http://www.achiknews24.com/%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%80/%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A7%83-%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%A0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95/
Share:

Tuesday, March 3, 2015

শিশুশিক্ষায় মাতৃভাষা ও আমাদের করণীয় শিশুশিক্ষা

ড. হিমেল বরকত
শিশুশিক্ষার জন্য সবচেয়ে সঙ্গত, স্বাভাবিক ও কার্যকরী মাধ্যম হলো স্ব-স্ব মাতৃভাষা। এই সত্য শিশুর ভাষাশিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণা দ্বারা আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পাই (এখানে বলে নেয়া প্রয়োজন, বাংলাদেশ একটি বহু ভাষা-অধ্যুষিত দেশ। এখানকার আদিবাসী শিশুদেরও নিজ-নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষাগ্রহণ করা জরুরি। এ প্রসঙ্গটিও বিস্তৃত আলোচনার দাবি রাখে। বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় কেবল বাংলাদেশের বাঙালি শিশুর ভাষাশিক্ষা-সংক্রান্ত), এদেশের সত্তর/আশি ভাগ বাঙালি শিশু গ্রামে বাস করে এবং তাদের ভাষামাধ্যম বাংলা। বাকি ত্রিশ/বিশ ভাগ বাঙালি শিশু রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে বাস করে। এদের ভাষামাধ্যমও বাংলা কিন্তু এদের অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ভুল দৃষ্টিভঙ্গির ফলে এসব শিশুদের ভাষাশিক্ষা যথার্থ পথে বিকশিত হচ্ছে না। শহুরে বাঙালি উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ভেতর শিক্ষামাধ্যম হিসেবে বাংলাকে বাদ দিয়ে ইংরেজি ভাষার প্রতি আসক্তি ক্রমশ বেড়ে চলেছে। মনে রাখতে হবে, ইংরেজি ভাষা শুধু নয়, অন্য একাধিক যেকোনো ভাষায় শিশুর দক্ষতা অর্জন অবশ্যই প্রশংসনীয়, তবে কোনো অবস্থাতেই তার মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে নয়।
আমরা জানি, ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনসূত্রে ইংরেজি ভাষা রাজভাষার মর্যাদা পাওয়ায় সেকালের উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকেই খ্যাতি, ক্ষমতা, অর্থনৈতিক লিপ্সায় ইংরেজি ভাষায় শিক্ষাগ্রহণকে শিরোধার্য করে নিয়েছিল। কিন্তু এই প্রবণতা প্রত্যক্ষ কিছু লাভ যুক্ত করলেও পরিণামে হয়ে উঠেছিল আত্মঘাতী। সেকালের ‘নববাবু’রা ইংরেজিয়ানার দাপটে মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করতে শিখেছিল। বাংলা না-জানাটা তাদের কাছে পরিণত হয়েছিল গর্বের বিষয়ে। উপনিবেশিত মনের এই বিভ্রম উপলব্ধি করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত, লিখেছিলেন— ‘যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যারে ফিরি ঘরে’। রবীন্দ্রনাথও সেই ঔপনিবেশিক কালেই শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন মাতৃভাষাকে। ‘তোতা-কাহিনী’ রচনার মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন ভিন্ন ভাষায় শিক্ষাগ্রহণের পরিণাম আদতে মৃত্যু। শৈশবে ভিন্ন ভাষায় শিক্ষা লাভের ফলে ভাব ও ভাষার প্রকৃত সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে না। এর করুণ পরিণতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধে লিখেছেন— ‘আমাদের বাল্যকালের শিক্ষায় আমরা ভাষার সহিত ভাব পাই না, আবার বয়স হইলে ঠিক তাহার বিপরীত ঘটে, যখন ভাব জুটিতে থাকে তখন ভাষা পাওয়া যায় না।’ ফলে ভাব ও ভাষার সুষম বিকাশের লক্ষ্যে প্রয়োজন শিশুকে তার মাতৃভাষায় যথার্থ শিক্ষিত করে তোলা।
 
শিক্ষার শুরুতেই শিশুর ভাষামাধ্যম সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন বাবা-মা বা অভিভাবকদের। কেননা, পরিবারের মাধ্যমেই শিশুশিক্ষার সূচনা ঘটে। শিশুর ভাষাশিক্ষা আয়ত্তিকরণ বিষয়ে গবেষকদের মত হলো, অনুকরণের মাধ্যমে শিশুরা ভাষাকে ধাপে-ধাপে রপ্ত করে থাকে। এ কারণে পরিবারের ভেতর বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনেরা কীভাবে ও কী ভাষায় কথা বলছেন, সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকেই শিশুরা আয়ত্ত করে ভাষা ও বাচনিক ভঙ্গি। এমনকি, গৃহপরিচারক/গৃহপরিচারিকার ভাষা থেকেও শিশুরা প্রভাবিত হয়ে থাকে। ফলে, শিশুকে মার্জিত ও প্রমিত বাংলা শেখানোর জন্য গৃহপরিচারক/গৃহপরিচারিকাদের ভাষা-ব্যবহারেও (অন্তত শিশুর সঙ্গে ও শিশুর সামনে) সতর্ক থাকা জরুরি। পাশাপাশি, পরিবারের সদস্যরা প্রচারমাধ্যমে কোন ভাষায় খবর, নাটক, সিনেমা দেখছেন সেটাও শিশুর ভাষাশিক্ষায় প্রভাব বিস্তার করে থাকে। আজকাল শহুরে পরিবারে বিরতিহীন হিন্দি সিরিয়াল দেখার ফলে শিশুদের হরহামেশা হিন্দি-বাংলা মিলিয়ে এক অদ্ভুত ভাষায় কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। অভিভাবকরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই দুর্লক্ষণ থেকে শিশুদের মুক্ত করতে পারেন। একইভাবে, শিশুর শিক্ষা ও খেলার জন্য কোন ভাষার উপকরণ (বই, সিডি, খেলনা ইত্যাদি) কেনা হবে— সে বিষয়েও বাবা-মা সচেতন থাকলে শিশুর ভাষাশিক্ষায়ও তা সহায়ক হবে। আবার, শিশুরা যেহেতু অনুকরণপ্রিয়, তাই বাড়িতে বাবা-মাকে নিয়মিত পড়াশুনা করতে দেখলে শিশুরাও পাঠের প্রতি মনোযোগী হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে বাবা-মা কী ভাষায় বই-পত্রিকা পড়ছেন সেটিও শিশু লক্ষ্য করে। তাই, একটি শিশুর ভাষা-অর্জনের প্রারম্ভ থেকেই বাবা-মা-সহ পরিবারের সকলের শিশুর মাতৃভাষায় শিক্ষা-অর্জনের যথার্থ পরিবেশ সৃষ্টি সম্পর্কে সজাগ থাকা জরুরি। পরিবারের পরই আসে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও শিক্ষকের প্রসঙ্গ। এখন শহুরে বাবা-মা সাড়ে তিন বা চার বছর বয়সেই শিশুকে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে চান। এসব কিন্ডারগার্টেন ও প্রি-স্কুলের শিক্ষকদেরও দায়িত্ব শিক্ষার্থীকে মাতৃভাষায় শিক্ষাগ্রহণের বিবেচনাটিকে অগ্রাধিকার দেয়া। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিশুরা যেকোনো শিক্ষা যত দ্রুত হূদয়াঙ্গম করতে পারবে, অন্য কোনো ভাষাতে তা সম্ভব নয়।
শিশুশিক্ষায় আজকের দিনে আরেকটি শক্তিশালী প্রভাবক— প্রচারমাধ্যম ও প্রযুক্তি। এদেশের শহরগুলোতে খেলার মাঠ ক্রমশ বিরল হয়ে উঠছে। ফলে শহুরে শিশুর বিনোদন গড়ে উঠছে টেলিভিশন, কম্পিউটর, স্মার্টফোন, ভিডিও গেমস, ইন্টারনেট ঘিরে। এই প্রভাবের নেতিবাচকতায় বিচলিত না-হয়ে, একে কীভাবে শিশুশিক্ষায় ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যায় সেদিকেই আমাদের এখন মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। আমরা দেখেছি, কিছুদিন আগে হিন্দি ভাষায় ডাবিংকৃত জাপানি কার্টুন ‘ডোরেমন’-এর কী দুর্দান্ত প্রতাপ! এই কার্টুনের জনপ্রিয়তায় শিশুরা হিন্দি ভাষা রপ্ত করে ফেলেছিল এবং দৈনন্দিন জীবনে সে ভাষার প্রয়োগেও দক্ষ হয়ে উঠেছিল। এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখির চাপে বাংলাদেশ সরকার ডোরেমন প্রচার স্থগিত করেছিল। যদিও বর্তমানে বাংলায় ডাবিং-কৃত ‘ডোরেমন’ প্রচারিত হচ্ছে দেশের একটি টিভি চ্যানেলে। অবশ্য বিশ্বায়নের এই যুগে কোনো কিছু নিষিদ্ধ করে পার পাওয়ার উপায় নেই। ঠিকই কিন্তু ডোরেমনের আদলে তৈরি হয়েছে আরেক কার্টুন। আমার বিবেচনায়, ভিন্ন ভাষার এই আগ্রাসন রোধে নিজেদের মেধা-শক্তি নিয়োজিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমরা দেখেছি, ‘মীনা’ কার্টুনটি বাংলাদেশের শিশুরা সানন্দে গ্রহণ করেছে, যদিও এ কার্টুনে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। ‘টোনাটুনি’র বিভিন্ন বই-সিডিও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে, সবকিছু ছাপিয়ে ‘সিসিমপুর’-এর নিয়মিত প্রযোজনা ও ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা এদেশের শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর সুবাতাস বলে মনে করি। বাংলা ভাষায় ও বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচের আদলে নিত্য নতুন উদ্ভাবনী আনন্দ দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান মন জয় করে নিয়েছে শিশুদের। টেলিভিশনে নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রচার ছাড়াও তারা প্রকাশ করছে শিশুশিক্ষার উপযোগী সিডি, বই, খেলার মাধ্যমে শেখার বিভিন্ন উপকরণ। শিশুর মনস্তত্ত্ব নিয়ে গবেষণার ছাপ এসব প্রকাশনায় সুস্পষ্ট। এদের নির্মিত অনুষ্ঠানগুলোও ছড়া-গান-গল্প-অভিনয়-জাদু সব মিলিয়ে সত্যিই শিশুদের আনন্দরাজ্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এনে দিচ্ছে। সবচে’ বড় কথা, এই আনন্দ উদযাপনের মধ্য দিয়ে শিশুর মাতৃভাষার শিক্ষাও যেমন সম্পন্ন হচ্ছে; তেমনি সম্পন্ন হচ্ছে বর্ণমালা, গণিত, বিজ্ঞান, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, জেন্ডারসমতা, সামাজিক আচরণ, সৃজনশীল ভাবনার প্রয়োজনীয় পাঠগ্রহণ। আমার বিশ্বাস, সিসিমপুরের এই প্রযোজনা বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়মিত প্রচার করা গেলে এবং সিসিমপুরের মতো শিশুশিক্ষামূলক আরো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্ম হলে ভিন্ন ভাষার আগ্রাসন নিয়ে আমাদের আর দুর্ভাবনায় পড়তে হবে না।
এরপর, শিশুশিক্ষা নিয়ে কাজ করছে এমন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়েও বলা প্রয়োজন। বাংলাদেশে শিশুদের নিয়ে বই প্রকাশ করে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু গুটিকয় ব্যতীত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের কাগজ-ছাপা অত্যন্ত নিম্নমানের। তবে, তারচেয়েও ভয়াবহ হলো— অসংখ্য ভুল বানানে সে সব বই প্রতিনিয়ত শিশুর খাদ্য হচ্ছে। শিশুরা শিখছে ভুল বানান, বইপাঠে আগ্রহ হারাচ্ছে মুদ্রণশৈলীর দীনতায়। এসব বইয়ের মান তদারকিতে সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করি। অন্যথায় প্রকাশকদের বাণিজ্যিক প্রলোভনের এই যাত্রা রুদ্ধ হবে না— যার শিকার আমাদের কোমলমতি শিশুরা।
শুরুতেই উল্লেখ করেছিলাম, শিশুরাই আলোকোজ্জ্বল আগামীর নির্মাতা। আগামীতে কেমন হবে আমাদের প্রিয়তম দেশ— তা নির্ধারণ করবে আজকের শিশুরাই। তাই সবার আগে প্রয়োজন এই শিশুদের যথার্থ বিকাশ, প্রকৃত শিক্ষার পথ-নির্মাণ। আমাদের সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও যার-যার অবস্থান থেকে সচেতন সুদৃষ্টিই পারে মাতৃভাষায় শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে সাফল্য বয়ে আনতে। আর সে প্রচেষ্টা এখনই প্রয়োজন, আমাদের স্বার্থেই।
n লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
 
Share:

Sunday, March 1, 2015

সেমিনারে- বক্তারা পাঁচ বছরে সরকারিভাবে আদিবাসী ভাষায় একটি পাঠ্যপুস্তকও হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক| আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুসারে আদিবাসী শিশুদের জন্য মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষার পরিকল্পনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। পাঁচ বছরে সরকারিভাবে আদিবাসী ভাষায় একটি পাঠ্যপুস্তকও প্রণীত হয়নি। এ অবস্থার উন্নতি না ঘটিয়ে ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে গতকাল শনিবার ‘মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা বিস্তার’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ (আরডিসি)। সহযোগিতায় ছিল গণসাক্ষরতা অভিযান।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৌরভ সিকদার ‘বাংলাদেশে আদিবাসী শিশুর জন্য বহুভাষিক শিক্ষা: বর্তমান পরিস্থিতি’ শীর্ষক উপস্থাপনায় বলেন, বাংলাদেশে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ৯৭ শতাংশ শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। অন্যদিকে, আদিবাসী শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে গমনের হার মাত্র ৬৭ শতাংশ। কয়েক বছর ধরেই মনে হচ্ছে বছরের শুরুতে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা তাদের মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক পাবে, কিন্তু তা হচ্ছে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আমাদের দেশে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তাকে অস্বীকার করার প্রবণতা রয়েছে। আদিবাসীদের জন্য পৃথক কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। সংবিধান ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহকে যেসব অধিকার দিয়েছে, সেগুলো নিশ্চিত করার জন্য ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা অধিকার আইন’ নামে পৃথক আইন করা জরুরি।’
‘বাংলাদেশে বহুভাষিক শিক্ষা’ শীর্ষক উপস্থাপনা তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল। তিনি বলেন, বর্তমানে ১০২টি বেসরকারি সংগঠন মোট ৩ হাজার ৪৬৮টি বিদ্যালয়ে বহুভাষিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শফি আহমেদ বলেন, ‘আশা করি ২০১৬ সালে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তক তাদের মাতৃভাষায় পাবে এবং শ্রেণিকক্ষে নিজ ভাষায় শিক্ষক পাবে।
সেমিনারে শফি আহমেদ ও রাশেদা কে চৌধুরীর সম্পাদিত ‘নিজ ভূমে পরবাসী: বাংলাদেশের আদিবাসী’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
 Source: http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/464416/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%9A-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%80-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF
Share:
Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo