728x90 AdSpace

Latest News

Wednesday, November 18, 2015

কৃষি কাজে পুরুষের চেয়ে সাঁওতাল নারীরা এগিয়ে

এম তারেকুজ্জামান : রংপুরে কৃষি কাজে পুরুষের চেয়ে নারী সাঁওতাল শ্রমিকের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজে ফাঁকি না দেয়া ও পরিশ্রমী হওয়ায় কৃষি কাজে নারী শ্রমিকদের কদর এখন সবচেয়ে বেশি। সাঁওতাল নারী শ্রমিকরা ঘরের কাজ করার পাশাপাশি অন্যের জমিতে কাজ করে সংসারের আয় বৃদ্ধি করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে সাঁওতাল নারীদের কৃষি কাজে নিয়োগ নিয়ে কৃষকরা বেশ স্বস্তিতে আছে। এবিষয়ে রংপুরের কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষি থেকে ঘর গোছানো সবই এখানকার সাঁওতাল নারীরা নিজের হাতে করে। তাদের দেখলেই মনে হয়, এরা কাজ পাগল মানুষ। সব কাজ নিজ দায়িত্বে করে এবং করতে সাচ্ছন্দবোধও করে।
পীরগঞ্জের চতরা এলাকার সাঁওতাল নারী রিতা সরেন বলেন, নিজের ঘর সামলেও যেটুকু সময় পাওয়া যায় তখন অন্যের কাজ করে থাকি। তিনি বলেন, আমরা মোটেও কাজে ফাঁকি দেই না। কারণ যে শ্রমে মাটিতে শস্য ফলে, সেই শস্য খেয়েই আমরা বেচে আছি। মাটিতে শস্য ফলাতে নিজের শ্রম দিতে ভালোই লাগে। সারা বছরই সাঁওতাল নারীদের চাহিদা থাকলেও বিশেষ করে ধান লাগানোর সময় আমাদের চাহিদা বেশি বেড়ে যায়। তাই তখন আর কোন কিছু করার ফুসরত থাকে না।
জানা গেছে, কৃষি থেকে ঘর গোছানো সবই এখানকার সাঁওতাল নারীরা নিজের হাতে করে। এসব কাজ নিজ দায়িত্বে করেন এবং করতে সাচ্ছন্দবোধও করেন। পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি সংসার গোছাতে পটু।
চতরা বাজারের লোকনাথ নামে এক ব্যবসায়ী জানান, সাঁওতাল নারীদের শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানোর মুল কারণ-তারা সৎ। এদের আর একটি বিশেষ গুণ কোন কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করেই যান। ধান রোপনে এদের নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এদের হাতে ধানের চারার সারি সোজা থাকে। ফলে সে জমিতে ধানের ফলও বেশি হয়।
তবে সাঁওতাল নারীদের এতো গুণ থাকলেও আছে বঞ্চনার নিরব গাঁথাও। সাঁওতাল নারীরা উৎপাদন করেন ঠিকই কিন্তু ভোগ করতে পারেন না। তারা কাজে পারদর্শী হলেও পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তাদের হাতে থাকে না। তাদের জন্য আলাদাভাবে নেই কোন ঋণের ব্যবস্থাও।
স্থানীয় আরেক সাঁওতাল নারী শ্রমিক বলেন, ‘মাঠে-ঘাটে কাজ করি, সংসারের কাজ শেষ করার পর যে সময়টুকু পাই বাইরে কাজ করি। পুরুষরা যে কাজ করে তার চেয়ে বেশিই করি। কিন্তু আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। স্বামী আমাদের কোন দামই দেয় না।’
তিনি আরও বলেন, সরকারের তরফ থেকেই আমাদের জন্য কোন কিছুর ব্যবস্থা নেই। আমরা সুযোগ-সুবিধা পেলে কৃষি উৎপাদনে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবো।
এ বিষয়ে চতরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাজু আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, শুধু সাঁওতাল মেয়েদের জন্য আমরা কম্পিউটার এবং সেলাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া তাদের জন্য বিশেষভবে কোন প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই বলেও জানান তিনি।
রংপুরের পীরগঞ্জের সমাজসেবা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বা ও নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্টী নিয়ে কাজ করার আছে। আমি এখানে আসার পর নিজ উদ্যোগে এদের ডাটাবেজ তৈরি করার কাজ করছি। উপজেলা প্রশাসন আমাকে এ কাজে সহযোগীতা করছে।
তাদের সামাজিকভাবে আরও প্রতিষ্ঠা পাবার জন্য কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওদের যে সামাজিক ব্যবস্থা বা সামাজিক প্রথা আছে সেখান থেকে বের করে নিয়ে এসে মূল ধারার সমাজের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করাসহ নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছেন বলেও জানান জয়নাল আবেদীন।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র ঘোষ আমাদের সময় ডটকমকে ফোনালাপে জানান, এখানকার ১৫টি ইউনিয়নের ৪টিতে সাঁওতালদের বসবাস। এদের পুরুষরা একটু অলস প্রকৃতির হলেও নারীরা অনেক পরিশ্রমী। তিনি বলেন, সাঁওতাল নারীরা সংসার সামলানোর পাশাপাশি সব ধরনের কৃষিকাজে পারদর্শী। আমরা কৃষিকাজে তাদের সহযোগীতা করে থাকি।
Source: http://www.amadershomoy.biz/unicode/2015/11/17/35020.htm#.V-EPQjXm3IU
  • Blogger Comments
  • Facebook Comments

0 comments:

Post a Comment

Item Reviewed: কৃষি কাজে পুরুষের চেয়ে সাঁওতাল নারীরা এগিয়ে Description: Rating: 5 Reviewed By: Tudu Marandy and all
Scroll to Top