Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Saturday, April 30, 2016

নতুন আয়নায় সাঁওতালদের সংস্কৃতি

সালমা জামাল | আপডেট:
রাজধানীর ইএমকে সেন্টারের এই প্রদর্শনীতে ঢুকে প্রথমেই চোখে পড়ল কামরুজ্জামান স্বাধীন ও রবেন মুর্মুর যৌথ একটি স্থাপনাশিল্প। এখানে দেখা গেল শত শত মাটির ইঁদুর ছেয়ে ফেলেছে ঘরবাড়ি, ফসলের ঢিবি। শিল্পীর ভাষায়, ‘যে ইঁদুর একসময় সাঁওতাল গোষ্ঠীরা শিকারের জন্য খুঁজে বেড়াত, আজ সেই ইঁদুর তাদের মাটির ঘরে। যথেচ্ছা বনবাদাড় উজাড় করার ফলে হারিয়ে গেছে প্যাঁচা, ইগল, চিল। এই প্রাণীরাই তো নিয়ন্ত্রণ করত ইঁদুরদের। এই সর্ববিধ্বংসী লোভ একদিন মানুষের নিজের ঘরবাড়িই দখল করে নেবে।’
শিল্পীর কথা শুনে আমরাও ভাবি, আসলেই তো, এভাবেই তো হারিয়ে যাচ্ছে অনেক কিছু—ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্য, আচার-আচরণ, কৃষ্টি-সংস্কৃতি।

Share:

Wednesday, April 20, 2016

নারী চা শ্রমিকদের মধ্যে তিনিই প্রথম মুক্তিযোদ্ধা

January 5, 2016 

দেশের নারী চা-শ্রমিকদের মধ্যে তিনিই প্রথম মুক্তিযুদ্ধে নাম লেখান। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের মুক্তি যোদ্ধা হিরামনি সাঁওতাল দেশের জন্যে লড়েছেন, শুধু হিরামনি নয়, ১৯৭১ সালে জান বাজি রেখে লড়েছিলো চান্দপুরের অনেক চা শ্রমিক। সেই লড়াইয়ের সাক্ষী হয়ে ছিলেন হিরামনি আর আছে চান্দ পুরের গণকবর।স্বাধীনতার জন্যে কেউবা হারিয়েছেন সম্ব্রম, সম্ভ্রম হারানো নারীদের মধ্যে বেশির ভাগেরই হয়েছে মৃত্যু, যারা ছিলেন তাদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা হিরামনি সাঁওতাল একজন।
ইতিহাসবেত্তা অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বলেছেন, আমরা বিজয়ের কথা বলি কিন্তু নির্যাতনের কথা বেশি প্রচার করতে চাইনা, তিনি আরো বলতে চেয়েছেন যে বাংলাদেশের যত গণকবর আছে,যত বধ্য ভূমি আছে সকল কিছু সং রক্ষণ করে যেতে হবে,প্রকাশ করে যেতে হবে মাত্র ৯ মাসে কত বীভত্স ভাবে হত্যা,নিপীড়ন আর ধর্ষণ চলেছিল, তাহলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্বাধীনতাকে মূল্যায়ন করতে পারব, পাকিস্তান কে চিনতে পারব !
৭২ সালে অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসক ডা.জিওফ্রে ডেভিস দেশজুড়ে তার চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতায় এবং জেলায় চালানো নমুনা জরিপের মাধ্যমে পরিসংখ্যান তৈরি করে জানান, ৪ থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার নারী মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।সামান্য উদাহরণ দিলে উঠে আসবে সমগ্র দেশের ভয়াবহতা, সাংবাদিক রণেশ মৈত্রের এক অনুসন্ধান থেকে জানা যায়,রংপুর ক্যান্টনমেন্ট এবং আর্টস কাউন্সিল ভবনটি নারী নির্যাতনের জন্য ব্যবহার করা হত। এখানে বন্দী ছিল প্রায় একশ মেয়ে এবং প্রতিদিনই চলত নির্যাতন,যারা অসুস্থ হয়ে পড়ত তাদের হত্যা করা হত সাথে সাথেই।যশোর ক্যান্টনমেন্টে বন্দী থাকা হারেছউদ্দিনের ভাষ্যে জানা যায় ক্যান্টনমেন্টে ১২ থেকে ৫০ বছর বয়সের ২৯৫ জন মেয়েকে আটক রাখা হয়েছিল,তাদের উপর নির্যা তন চলত প্রতি রাতেই অনেকবার নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে কম যায়নি বিহারীরাও।এরকম যৌনদাসীর শিকার হয়েছেন হবিগঞ্জের লস্করপুর চা বাগানের অনেক শ্রমিক ।
মুক্তিযুদ্ধের জন্য ত্যাগী বীরাঙ্গনা হীরামনি সাঁওতালসহ ৬ জন নারীর সন্ধান পান কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরীর কন্যা বর্তমানে এমপি কেয়া চৌধুরী । ২০০৬ সালে তিনি ৬ জন নারীর মুক্তিযোদ্ধার অধি কার আদায়ে কাজ শুরু করেন। ২০০৯ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে ২০১২/ ৯ ডিসেম্বর, ৬ জন বীরনারীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটভুক্ত করার কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন।স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা হলেন ফারিজা খাতুন, মালতি রানি, শুক্ল বৈদ্য, পুস্পরাণী শুক্লবৈদ্য, রাজিয়া খাতুন, হীরামনি সাওতাল ও সাবেত্রী নায়েক।
এখানে উল্লেখ করে রাখি, এরকম ই একজন মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনার কথা আমরা লিখেছিলাম, ১৭ ডিসে ম্বর, ২০১৫ সালে, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার পূর্ব নবাইদ গ্রামের রাজিয়া বেগম কমলা বয়স ৬০ বছর।দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে বীরাঙ্গনারা যে আশায় বুক বেঁধেছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন শেখ হাসিনার সরকার।অবশেষে বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছেন সরকার। রাজিয়া বেগম কমলারও সাধ ছিল মরার আগে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নাম টা দেখার ! কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি ! কিশোরগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেহেদি হাসান কমলার নাম তুলতে মূল্য বাবদ দাবি করেন ২ লাখ টাকা।প্রথম আলো একবার সংবর্ধনা সমেত রাজিয়া বেগম কমলাকে কিছু টাকা দেয়, ওই টাকা আর বাকি ধার-দেনা করে ২০ হাজার টাকা দিলেও পুরো টাকা না দিতে পারায় ওই তালি কায় এখনো নাম উঠেনি এ বীরাঙ্গনার,, মেলেনি মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ জেলা শহরে পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকার আবাসন পল্লীতে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সম্পাদক আব্দুর রবের অফিসে ফাইফরমাস খাটেন, আমরা যোগাযোগ করলে আব্দুর রব বলেন,নিয়মানুযায়ী কিশোর গঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে নাম নিবন্ধন করতে হবে, তিনি বলেন কমলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে জাতিসংঘে সভা করতে গিয়েছিলেন কম্বোডিয়া, তারপরেও কেউ সাহায্য করলো না মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তার নাম গেজেটভুক্ত করতে। আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের ছাত্রলীগের একজন নেতা, ময়মনসিংহ থেকে নিয়ে এসে নাম নিবন্ধন করার আশ্বাস দেন, কয়েকদিন আশ্বাস দিয়ে তিনি আর আমাদের ফোন ওঠালেন না ! সিলেটের কেয়া চৌধুরীর মত কেউ কমলার ভাগ্যে নাই, কিন্তু আমরা জানি কমলা মারা গেলে তার নাম এ সভা হবে – ফুলের স্তুপ জমবে !
আজ যেমন আমরা লিখছি হিরামনির কথা ! এম পি কেয়া চৌধুরীকে শুভেচ্ছা, আমরা কৃতজ্ঞ।হীরা মনি সাঁওতাল ৩ মার্চ বৃহস্পতিবার ভোর নিজ ঘরে মারা যান।এ সংবাদ জানার পরই হীরামনির বাড়িতে ছুঁটে যান এমপি কেয়া চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা রাজিয়া খাতুন, সাবিত্রী নায়েক সহ বিভিন্ন স্তরের লোকেরা। কেয়া চৌধুরী সকল ব্যবস্থা করেন।পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দেশের প্রথম নারী চা-শ্রমিক মুক্তি যোদ্ধা হীরামনি সাঁওতালকে সমাহিত করা হয় । হীরামনির জন্ম মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপ জেলার হুগলি ছড়া চা বাগানে।বাবার নাম অর্জুন সাঁওতাল। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রায় ২ মাস পূর্বে তার বিয়ে হয় হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার চান্দপুর চা বাগানের চৌকিদার লক্ষণ সাঁওতালের সঙ্গে।স্বামী লক্ষণ সাঁওতাল জীবনের শেষদিন পর্যন্ত স্ত্রীর পাশে ছিলেন, ধর্ষণে অন্ত স্বত্তা কে ছেড়ে যান নাই, স্ত্রীর পুত্র সন্তান হলে তাকেও লক্ষণ নিজের ছেলেমেয়ের সাথে মানুষ করেন । ছেলে বড় হতে হতে বাগানের মানুষের কাছ থেকে নিজের জন্ম বৃত্তান্ত জেনে ক্ষুব্ধ হয়ে বেছে নেয় নেশা ও মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা যায়, বৃদ্ধ লক্ষণ সাঁওতালও জীবনের শেষলগ্নে এসে উপার্জনক্ষম ছেলের মৃত্যুশোক সইতে পারলেন না।কিছুদিনের মধ্যে তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।লক্ষণ সাঁওতালের মৃত্যুতে দুই মেয়ে সহজ মনি ও সজনীকে নিয়ে অথৈ সাগরে হীরামনি। নতুন করে শুরু তার জীবন যুদ্ধ। দুই মেয়ে ও নিজে কাজ করে সংসারটা টেনে নিতে শুরু করলেন।তারা বড় হলো।তাদেরকে বিয়ে দিলেন। হীরামনি কখনও ভিক্ষের ঝুলি আবার কখনও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালিয়ে নিয়েছেন । সেখানে আমাদের দেশে আজ কোন অবস্থানে যুদ্ধাপরাধী রাজাকার আলবদর আর তাদের সন্তানেরা, বিদেশে তাদের হয় পড়াশোনার ব্যবস্থা, কোটি কোটি টাকার বিত্তবৈভবে বড় হয় তাদের নরম শরীর !
শেষ দিনগুলিতে ? শোনা যায়, হিরামনি উদ্বিগ্ন ছিলেন চা শ্রমিকদের ধানের জমি নিয়ে। দেড়শো বছর আগে পূর্বপুরুষদের জঙ্গল কেটে এই জমিতে আবাদ করেছিলেন তারা। কোম্পানীকে খাজনা দিয়ে ঐ জমিতে ফসল ফলান সেই শ্রমিকদের উত্তরপুরুষেরা।সম্প্রতি সেই চাষের জমিটিুকু অকৃষিজমি দেখিয়ে সেখানে স্পেশাল ইকোনমিক জোন ঘোষণা করা হয়েছে।হিরামনি কি ভাবতেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সর কার সুবিচার করবে !
Source: http://spordha.com/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%9A%E0%A6%BE-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%A7%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A6%A4/
Share:

Tuesday, April 19, 2016

দুঃখের পরব দাঁশায়

পরিমল হেমব্রম
 আশ্বিন মাস সাঁওতাল জনজীবনে অন্যমাত্রা নিয়ে আসে কেন না এই মাসেই অনুষ্ঠিত হয় তাদের অন্যতম প্রধান উৎসব বা পরব দাঁশায়। এ কারনেই আশ্বিন মাসকে সাঁওতালরা "দাঁশায় বঙ্গা" অর্থাৎ দাঁশায় মাস বলে থাকে।
সাধারানত এই মাসে প্রকৃতির কোল জুড়ে সবুজের সমারোহে মনে খুশির হিমেল আভাস থাকলেও প্রসন্ন প্রকৃতির ছায়ামাখা ভুখন্ডে ভূমিপুত্ররা "দাঁশায়" এর আবেশে আচ্ছন্ন হলেও খুশীর হিন্দোলে দোল খাওয়ার মানসিকতা তাদের থাকে না কারন "দাঁশায়" তাদের কাছে দুঃখের পরব হিসেবে চিহ্নিত। দুঃখের পরব দাঁশায়। তাই তো সাঁওতাল অধ্যুষিত পল্লীতে পল্লীতে ধ্বনিত হয় "হায় হায় হায়রে হায়" সুরের করুন রেশ। দাঁশায় পরবের সমস্ত গানের শুরুতেই স্বজন হারানোর এই ব্যাথা মথিত আকুতির মুর্ছনা ঝংকৃত হয়। দুঃখের মাঝেই যেমন থাকে সুখের পরশ, ব্যাথার মধ্যে খুশীর, তেমনই দাঁশায় পরবও পালন করা হয় দুঃখের মাঝে সুখের স্পর্শানুভুতির মধ্য দিয়ে। ব্যাথা মলিন মনে আনন্দময় হাসির মধ্য দিয়ে। তাই তো দলবদ্ধ মানুষ গান গায় নাচে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আশ্বিনের হিমেল হাওয়ায় কাশফুলের দোলা মনের মধ্যে মায়ের আগমন বার্তা জানিয়ে দেয় তখনই সারা বাংলা তথা পূর্ব ভারত আনন্দে মেতে ওঠে। সবুজ প্রকৃতির পল্লী ও কংক্রিটের শহর সর্বত্রই দুর্গাপূজোকে কেন্দ্র করে খুশীর আমেজ বয়ে বেড়ায়। এমনই খুশীর উৎসবে প্রতিবেশী সাঁওতাল সমাজে দেখি অন্য চিত্র। এখানে পালন করা হয় দুঃখের উৎসব। দুর্গাপূজার ষষ্ঠীর দিন থেকে দাঁশায় নাচ। বিজয়া দশমীতে শেষ হয়।

এই প্রবের নৃত্যগীতে প্রধান বিশেষত্ব হল এতে কেবল পুরুষেরাই অংশ গ্রহণ করে এবং এতে বয়সের তারতম্য বাধার সৃষ্টি করে না। অপর বিশেষত্ব হল-গীত সহযোগে নৃত্যে পুরুষেরা মহিলাদের পোষাকে সজ্জিত হয়। যদিও শাড়ী পরা হয় ধুতির মতোন করে। ব্লাউজ থেকে শুরু করে অন্যান্য মহিলা-অলঙ্কারাদিও ব্যবহৃত হয়। তৃতীয় বিশেষত্ব হল-"ভুয়াং" বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার যা দাঁশায় ছাড়া সাঁওতাল জনজীবনের অন্য কোন পরবে ব্যবহৃত হয় না। "ভুয়াং" হল ধনুক আকৃতির বাদ্যযন্ত্র বিশেষ। ধনুকের মাঝ বরাবর যেখানে তির রেখে জ্যা যুক্ত করা হয়, ঠিক ঐ জায়গায় অর্থাৎ জ্যা-এর ঠিক বিপরীতে বড় আকারের শুকনো লাউ-এর খোল বিশেষ উপায়ে লাগানো থাকে। এবার জ্যা ধরে টান দিয়ে ছেড়ে দিলে অদ্ভুত মন মাতানো সুরের সৃষ্টি হয়। ভুয়াং ধবনির নির্দিষ্ট ছন্দে নাচ ও গানে যে সব বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয় তা হল - বাঁশী, বানাম (বেহালা জাতীয় বাদ্যযন্ত্র ), কাঁসার থালা (ঘন্টার মতো করে বাজান হয়)। এ প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন - "ভুয়াং" কে মূল বাদ্যযন্ত্র রেখে বাঁশী, বানাম, কাঁসার থালা সহযোগে যে দাঁশায় নাচ ও গান নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে বলা হয় "ভুয়াং নাচ"। অপর দিকে ধামসা, মাদলকে মূল বাদ্যযন্ত্র রেখে বাঁশী, বানাম, করতাল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র সহযোগে যে দাঁশায় নাচ ও গান নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে বলা হয় "লবয়" ।

উভয় ক্ষেত্রেই নিজস্ব ভঙ্গী অনুযায়ী দাঁশায় গান ও নাচের ছন্দ ঘণীভুত হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দাঁশায় নাচের ভিন্ন ভিন্ন তালের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নর্তকের শরীর ছন্দও হয় ভিন্ন ভিন্ন। অপর দিকে গানের মধ্যেও রয়েছে বৈচিত্র। যেমন - কোন কোন গানে ফুটে উঠেছে দুঃখের ব্যাথা ভরা কাহিনি, কোনটাতে বা রাজার যুদ্ধের প্রসঙ্গ আবার কোন কোন গানে রয়েছে প্রকৃতি বন্দনা, সৃষ্টি কাহিনী এমন কি সাঁওতাল জনজীবনের সঙ্গে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত স্থান এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য্য বস্তুরও উল্লেখ রয়েছে দাঁশায় গানে।

অনেকে মনে করেন, দাঁশায় গানে সাঁওতাল জাতীর ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে। জাতীর উৎস সন্ধানে দাঁশায় গান সহায়াক। এখানে একটা গানের উল্লেখ করা হল -

" হায়রে হায়রে
তকা দিশম ধুঁদেনা হায়রা হায়
তকা দিশম মালটেনা হায়রা হায়
দিশম দ দিশম লেলেঁগেৎ--
হায়রে হায়
তুড়ুক দিশম ধুঁদেনা হায়রা হায়
'গাঁগি চাঁওরিচ' মালটেনা হায়রে হায়
দিশম দ দিশম লেলেঁগেৎ।"

এই গানের ভাবার্থ এ রকম - কোন দেশ অন্ধকার হল। কোন দেশ ধ্বংস হল। 'গাঁগি চাঁওরিচ' দেশ ধ্বংস হল। গানটিতে "গাঁগি চাঁওরিচ" দেশের উল্লেখ রয়েছে। এই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে জানা যায় না। ইতিহাসেও এর কোনও উল্লেখ নেই। সাঁওতালদের সঙ্গে এদেশের সম্পর্ক কি কিংবা এই দেশের বাসিন্দারাই বা কারা? এ সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে সাঁওতাল জাতীর ইতিহাস সন্ধান হয়তো সহজ হত। এহো বাহ্য।

সাঁওতাল জনজীবনের অন্যতম উৎসব দাঁশায় যা দুঃখের পরব হিসেবে চিহ্নিত। এর অন্তরালে যে কাহিনী প্রচলিত তা এই রকম -

এক রাজা নাম তার দুরগা। প্রচন্ড শক্তিশালী এই রাজা মায়াবলে বিভিন্ন রুপ ধারন করতে পারত। যেমন, অনাবৃষ্টির সময়ে মেঘের রুপ ধারন করে বৃষ্টিপাত ঘটাত,। যুদ্ধের সময় কালোমেঘের ভেতরে প্রবেশ করে তা থেকে শিলাবৃষ্টি রুপে আক্রমন করে শত্রুপক্ষকে পরাস্ত করত। এছাড়াও বিভিন্ন ভয়ংকর জন্তু জানোয়ারের রুপ অনায়াসে ধারন করে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে হারিয়ে দিত। এ সবের কারনে রাজা 'দুরগা' কে সকলেই সমীহ করত। ভয় পেত। কিন্তু রাজার এক মস্তবড় গুন ছিল তা হল কোন অবস্থাতেই মহিলাদের আক্রমন করত না বা তাদের ক্ষতি করত না। মহিলাদের প্রতি রাজার এই দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর প্রয়াসে শত্রুপক্ষ একজোট হয়ে দুজন মহিলাকে 'দুরগা'র বিপক্ষে যুদ্ধের জন্য পাওয়া যায়। একজনের নাম "লাংতিতি লুখী", অপর মহিলার নাম "দিবি"। ভয়ংকর যুদ্ধে দুই মহিলাই পরাস্ত হয় এবং তাদের বন্দি করা হয়। পরে রাজা 'দুরগা' দিবিকে সসম্মানে স্ত্রীর আসন অলংকৃত করার প্রস্তাব দেয়। 'দিবি' সম্মতি জানায়। আসলে, দুরগাকে স্বামী হিসাবে স্বীকার করার অন্তরালে রয়েছে দুরগা নিধন। দিবি তাই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। ঘটনাচক্রে, একদিন রাজা দুরগা আবেগবশতঃ 'দিবি' কে তার মহিষরুপ ধারনের গোপন ক্ষমতার কথা জানায় এবং এ নিয়ে খেলায় মেতে ওঠে। খেলাটি এই রকম - রাজা দুরগা তার মায়াবলে মহিষরুপ ধারন করে মহিষদলের ভিড়ে মিশে যাবে। এরই মাঝখান থেকে দিবি তাকে চিনতে পারবে কিনা - এই খেলা শুরু হয়।

হাতে চাঁদ পেল দিবি কেননা সে এই ধরনের সুযোগের অপেক্ষাতেই দিন গুনছিল। খেলা শুরু হল। চলতে থাকে। দিবি আসলটিকে চেনার চেষ্টা করে। একদল মহিষের মাঝে দুরগাকে চিনতে পেরে এবং পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অস্ত্রের এক কোপে মহিষরুপী দুরগার মুন্ডকে ধড়হীন করে দেয়। রাজা দুরগার মৃত্যু হয়।

এরপর থেকে 'দিবি'-র পরিচয় হয় 'ঠাকরান ' বা 'দেবী' নামে। এরপর থেকেই আতঙ্ক ছেয়ে গেল সর্বত্র। দুরগা নিধনের পর অজ্ঞাত কারনে দেবী সমস্ত পুরুষদের একের পর এক হত্যা করতে লাগল। হাহাকার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতে লাগল আকাশে বাতাসে। দেবীর ক্রোধাগ্নী থেকে মহিলারা পরিত্রান পাওয়ায় পুরুষেরা প্রাণভয়ে মহিলাদের পোষাক পরিধান করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে।

গল্পের শেষ এখানেই। মহিলাদের পোষাকে সজ্জিত হওয়ার অন্তরালে এই কাহিনী ছাড়াও অন্য কাহিনী সাঁওতাল জনজীবনে প্রচলিত। পরিশেষে বলা যায়, দাঁশায় নাচের জন্য এক একটি গ্রামের পুরুষেরা একত্রিত হয়ে এক একটি দল তৈরী করে। এভাবে অসংখ্য দল গ্রাম থেকে গ্রামে নৃত্যগীত পরিবেশন করে এবং বিনিময়ে রীতি অনুযায়ী দলকে ঘর পিছু চাল দেওয়া হয়।

ইদানিং রাজনৈতিক কারনে গ্রামের একতা ভঙ্গ হওয়াতে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবক্ষয় শুরু হয়েছে। এর রক্ষা কবচ সম্পর্কে সাঁওতাল বুদ্ধিজীবিদের চিন্তা করার সময় এসেছে।

উৎস: http://sabjanta.info/index.php/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7-Bangla-short-stories/%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%83%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%AC-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A7%9F.html

Share:
Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo