Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Thursday, July 28, 2016

তেভাগা আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধে সাঁওতালদের অবদান অবিস্মরণীয়

স্টাফ রিপোর্টার : ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ ও সিঁধু-কানু দিবসকে সামনে রেখে গতকাল রোববার বোচাগঞ্জ উপজেলা হাটরামপুরে রিসার্চ ইনিসিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব) ও ব্লাস্ট এর যৌথ আয়োজনে আদিবাসী মেলায় সিঁধু-কানু’র যুগোল মুড়াল উদ্বোধন করা হয়।

যুগোল মুড়াল উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি রিইব-এর চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ড. শামসুল বারী। বিশেষ অতিথি হেসেবে উপস্থিত ছিলেন ৬নং রণগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আনিসুর রহমান ও রিইব আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মতিউর রহমান। এছাড়া রিইব ও ব্লাস্ট পরিচালিত কমিউনিটি লিগ্যাল সার্ভিসেস প্রকল্পের আওতায় বোচাগঞ্জ উপজেলার হাটরামপুর, সাদা মহল কাটাবাড়ী, বিরল উপজেলার রাজারামপুর এবং দিনাজপুর সদর উপজেলার ফার্মের হাট আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আদিবাসী মেলার আয়োজন করা হয়। যুগোল মুড়াল উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধান অতিথি ড. শামসুল বারী বলেন, সাঁওতাল হুলে সাঁওতালরা পরাজয় বরণ করলেও তারা শোষকদের কাছে আত্মসমর্পন করেননি। তারই ধারাবাহিকতায় তেভাগা আন্দোলন ও আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাঁওতালদের অবদান অবিস্মরণীয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশে এই লড়াকু জাতি আজও নিপীড়িত এবং শোষণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। তাই ১শ ৬১ বছর পরও সাঁওতাল জাতিসত্তা, তথা বিশে^র স্বাধীনতাকামী মানুষ আজও বীর সিঁধু-কানুদের বুক ভরে শ্রদ্ধায় স্মরণ করে আসছে। আদিবাসী মেলায় তাদের জীবন, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মানবাধিকার, ন্যায় বিচার ও আইনী সহায়তা বিষয় স্টলগুলোতে আদিবাসী ও বাঙ্গালীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

Source: http://bdtodays.com/news/39528
Share:

Sunday, July 17, 2016

লিপি নিয়ে বিরোধ মেটাতে পারেনি সাঁওতালরা: এবার মাতৃভাষায় বই পাচ্ছে পাঁচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা

মোশতাক আহমেদ | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ
নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০১৭) থেকে মাতৃভাষায় পড়ার সুযোগ পাচ্ছে পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা। এই নৃগোষ্ঠীগুলো হলো চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), গারো ও ওঁরাও (সাদরি)। এই পাঁচ জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি। এর মধ্যে চাকমা ও মারমা ভাষার বইগুলো তাদের নিজস্ব লিপিতে লেখা। কিন্তু বাকি তিনটি নৃগোষ্ঠীর বইগুলো লেখা হচ্ছে কোনোটি বাংলা লিপিতে, কোনোটি রোমান হরফে।
আগামী বছর শুধু প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় বই দেওয়া হবে। পরের বছর (২০১৮) প্রথম শ্রেণি ও এর পরের বছর দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বইও মাতৃভাষায় ছাপিয়ে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে। তবে এরপর ধীরে ধীরে সবাইকে জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বই পড়তে হবে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৌরভ সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটার জন্য আমরা অনেক দিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। এটা হলে খুবই ভালো হবে। তবে শুধু বই হলেই মাতৃভাষায় শিক্ষা হয়ে যাবে এমনটা নয়। এখনো শিক্ষক প্রশিক্ষণ হয়নি। সেটা না হওয়া পর্যন্ত এটা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে যাবে।’
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবির) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তা প্রথম আলোকে এই তথ্য জানান। তাঁরা বলেন, ইতিমধ্যে পাঠ্যসূচি অনুযায়ী বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়েছে। এখন চাহিদা অনুযায়ী বই ছাপানো হবে। পাণ্ডুলিপিতে দেখা যায়, নিজস্ব সংস্কৃতির চিত্রসহ আনুষঙ্গিক বিষয় দিয়ে বইগুলো সাজানো হয়েছে।
এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, চাকমা ভাষার বইয়ের চিত্রগুলো করার কাজে যুক্ত ছিলেন শিল্পী কনকচাঁপা চাকমা। মারমা ভাষার বই লেখার কাজ সমন্বয় ও সম্পাদনা কমিটির প্রধান খাগড়াছড়ির মহালছড়ির পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা অংক্যজাই মারমা।
জানতে চাইলে অংক্যজাই মারমা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, কাজটি বেশ কঠিন। প্রায় দেড় বছর কাজ করার পর গত ৯ মে বইটি এনসিটিবিতে দাখিল করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিকের জন্য জাতীয়ভাবে প্রণীত বইয়ের আদলেই এসব বইয়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়েছে। তবে বর্ণভিত্তিক পরিচয়গুলো দেওয়া হয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতির।
এনসিটিবির একাধিক শিক্ষা বিশেষজ্ঞ বলেন, শিশুকে শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়া জরুরি। এরপর সে ধীরে ধীরে মাতৃভাষার সঙ্গে অন্য ভাষায় (বাংলাদেশের জন্য বাংলা) শিক্ষা নেবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সময় সাত বছর। এই সময়টাকে বলে ‘ব্রিজিং পিরিয়ড’। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষানীতির আলোকে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি—এই পাঁচটি ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু করবে। কিন্তু এত দিনেও তা চূড়ান্ত করতে পারেনি।
এনসিটিবির একজন শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতিতে মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু যখন শিক্ষানীতি অনুমোদিত হয়, তখন শিক্ষাক্রম সংশোধনের কাজ শুরু হয়ে যায়। এ জন্য তখন সিদ্ধান্ত হয়, শিক্ষাক্রম সংশোধন হয়ে গেলে সে অনুযায়ী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় বই দেওয়া হবে। কিন্তু শিক্ষাক্রম তৈরির পর এ ধরনের বই লেখার মতো ভালো লেখক পাওয়া যাচ্ছিল না। তা ছাড়া লিপি একটা বড় সংকট হয়ে দেখা দেয়। চাকমা ও মারমাদের মৌখিক ও লিখিত উভয় রূপ থাকলেও ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি নৃগোষ্ঠীর ভাষার নিজস্ব লিপি নেই। কোন লিপিতে তাদের ভাষার পাঠ্যবই লেখা হবে, এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বেশ সময় লেগে যায়।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, দেশে ৩৭টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থাকলেও বেশির ভাগেরই নিজস্ব লিপি নেই। সাঁওতালদের নিজস্ব লিপি না থাকায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোন লিপি গ্রহণ করা হবে, এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দেয়। একটি পক্ষ বাংলা লিপি গ্রহণের পক্ষপাতী হলেও আরেকটি পক্ষ রোমান হরফ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়। এ বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় সাঁওতাল ভাষার পাঠ্যপুস্তক এবার বের করা সম্ভব হচ্ছে না।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, আটটি বিষয় নিয়ে মাতৃভাষায় বই দেওয়ার প্যাকেজটি করা হয়েছে। বইয়ের পাণ্ডুলিপি থেকে শুরু করে ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু ছাপার কাজ বাকি। এই কাজে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ।
এনসিটিবির সদস্য রতন সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ইতিমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে শিক্ষার্থী ও বইয়ের চাহিদা দিতে বলেছে এনসিটিবি। শিগগির এই তালিকা পাওয়ার পর বই ছাপানোর কাজ শুরু হবে।
জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর বলেন, শিক্ষার্থী ও বইয়ের সংখ্যার চাহিদা শিগগিরই দেওয়া হবে।
Source:http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/910780/
 
Share:

Thursday, July 14, 2016

সাঁওতাল

সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী। তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়। প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর; পরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সাঁওতাল পরগনায়। তবে ১৮৮১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায় যে পাবনা, যশোর, খুলনা, এমনকি চট্টগ্রাম জেলায়ও অল্প সংখ্যায় সাঁওতালদের বসতি ছিল। ১৯৪১ সালের জরিপ অনুযায়ী বর্তমান বাংলাদেশ এলাকায় সাঁওতালদের সংখ্যা প্রায় আট লক্ষ। দেশ বিভাগের পর লোকগণনার সময় সাঁওতালদের স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে গণ্য না করার ফলে বহুদিন তাদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় নি। আশির দশকে খ্রিস্টান মিশনারিদের গৃহীত হিসাব অনুযায়ী উত্তরবঙ্গে সাঁওতাল জনসংখ্যা লক্ষাধিক। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী সাঁওতাল জনসংখ্যা দুই লক্ষের বেশি। ২০০১ সালের জরিপে এদের মোট সংখ্যা জানা যায় নি।
সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর। সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য (তাদের ভাষায় সিং বোঙ্গা) তবু পর্বত দেবতাও (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে। সাঁওতালদের বিশ্বাস আত্মা অমর এবং সেই অনৈসর্গিক আত্মাই (বোঙ্গা) সব ঐহিক ভালমন্দ নির্ধারণ করে থাকে। তাই দৈনন্দিন পূজা-অর্চনায় বোঙ্গা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তাদের গৃহদেবতা হিসেবে তাই ‘আবে বোঙ্গা’র যথেষ্ট প্রতাপ। এছাড়া লৌকিক হিন্দু দেবদেবীর প্রভাবও তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে দেখা যায়। সাঁওতাল নর-নারী আসলে ধর্মবিশ্বাসের দিক থেকে সর্বপ্রাণবাদী ও প্রকৃতি উপাসক, আবার তারা ‘ঠাকুরজিউ’-কে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মান্য করে। তাদের ধর্মাচরণে মূর্তিপূজার প্রচলন নেই।
সাঁওতালরা খুবই উৎসবপ্রিয় জাতি। বাঙালিদের মতো এদেরও বারো মাসে তেরো পার্বণ। তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব যা নৃত্যগীতবাদ্য সহযোগে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। নববর্ষের মাস ফাল্গুনে যেমন অনুষ্ঠিত হয় স্যালসেই উৎসব, তেমনি চৈত্রে বোঙ্গাবোঙ্গি, বৈশাখে হোম, আশ্বিনে দিবি, পৌষ শেষে সোহরাই উৎসব পালিত হয়। সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়। ফসলের দেবতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশও এ অনুষ্ঠানের অঙ্গ। নাচ-গান-বাদ্য আর ফুলের মনোরম শোভায় এবং সেইসঙ্গে আহার্যে-পানীয়ে উৎসবটি হয়ে ওঠে জমজমাট। সম্ভবত এর বড় আকর্ষণ সাঁওতাল তরুণীদের দলবদ্ধ নৃত্য। সাঁওতালদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের নাম বাহা অর্থাৎ ফুলফোটার উৎসব। বসন্তের শুরুতে এ উৎসবের উদ্দেশ্য নানা রঙের ফুলফোটার সৌন্দর্যকে অভ্যর্থনা ও অভিনন্দন জানানো। এখানেও থাকে নাচ-গান ও বাদ্যের সমারোহ।
বসন্ত উৎসবের অন্যতম দিক হলো তরুণ-তরুণীদের জন্য চিত্তবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা। এ ধরনের চিত্তবিনিময় বা সঙ্গী-সঙ্গিনী নির্বাচনের কেন্দ্রস্থল হলো ‘আখড়া’। সাঁওতাল সমাজে তরুণ-তরুণীর বিবাহ-পূর্ব স্বাধীন মেলামেশায় কোনো বাধা নেই। সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদের বিধান রয়েছে। বিয়েতে কনেকে পণ দেওয়ার রীতি এখনও লোপ পায় নি, তবে তা অতিসামান্য। বিধবা কিংবা তালাকপ্রাপ্তদের পুনর্বিবাহের অধিকার স্বীকৃত।
সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি। তবু পারিবারিক জীবনে নারীর ভূমিকা কম নয়। জীবিকা অর্জনে বা কর্মজীবনে নারীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাঁওতালদের ঘর ছোট, কিন্তু গৃহাঙ্গন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন। মাটির দেয়ালে নানারকম কারুকার্য চিত্রণ সাঁওতাল নারীর সৌন্দর্যস্পৃহা ও শিল্পমনের পরিচয় তুলে ধরে। ঘরের  আসবাবপত্র খুবই সাদামাটা যা তাদের সরল জীবনরীতির পরিচায়ক। সাঁওতাল সমাজ এখনও ঐতিহ্যবাহী পঞ্চায়েতি ব্যবস্থায় পরিচালিত এবং গ্রামপ্রধান সমাজে বিশেষ মর্যাদা ভোগ করে থাকে। সাঁওতালদের মধ্যে এখনও ১২টি গোত্রবিভাগ রয়েছে। সাধারণ নিয়মে একই গোত্রের ছেলেমেয়ের মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ। কিন্তু এসব অনুশাসন এখন ততটা সচল নয়।
সাঁওতাল সমাজ প্রধানত কৃষিজীবী। কিন্তু আর্থ-সামাজিক কারণে দারিদ্র্য তাদের নিত্যসঙ্গী। তাই বাধ্য হয়ে অতি অল্প বিনিময়মূল্যে এরা চা বাগানে বা অন্যত্র শ্রম বিক্রয় করে। এছাড়া এরা মাটি কাটে, মোট বয় বা অনুরূপ দিনমজুরির কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখে। এরা কঠোর পরিশ্রমে অভ্যস্ত। সাঁওতাল নারী-পুরুষ ওরাওঁদের মতো দেহে উল্কিচিহ্ন ধারণ করে।
সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রিক ভাষার পরিবারভুক্ত। কোল ও মুন্ডারি ভাষার সঙ্গে সাঁওতালি ভাষার সাদৃশ্য রয়েছে। সাঁওতালদের সংস্কৃতিচর্চায় লিখিত সাহিত্যের বিকাশ না ঘটলেও লোকগীতি ও লোককাহিনীর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। সাঁওতালদের যেমন ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই। খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা তাদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারিত হচ্ছে। প্রতিরোধ সংগ্রাম সত্ত্বেও জোতদার-মহাজনদের শাসন-শোষণ থেকে সাঁওতাল সমাজ মুক্ত হতে পারে নি। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ সাল অবধি বাংলাদেশে তেভাগা আন্দোলনে সাঁওতালদের ব্যাপক অংশগ্রহণের কথা এক্ষেত্রে স্মরণযোগ্য।
সাঁওতাল সমাজে মৃতদেহ আগুনে ভস্মীভূত করার প্রথা প্রচলিত ছিল। গ্রামের কোন সদস্য মারা গেলে গ্রামপ্রধানকে সেখানে উপস্থিত হয়ে মৃতকে যথোচিত মর্যাদায় সৎকারের ব্যবস্থা করতে হয়। পরে সুবিধাজনক কোন এক সময় শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের রীতিও তাদের সমাজে রয়েছে।  [আহমদ রফিক]
উৎস: http://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2


Share:
Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo