Place for Advertisement

Please Contact: spbjouralbd@gmail.com

আদিবাসী দিবসের সমাবেশ: শিক্ষা ও ভূমির অধিকার দাবি


নিজস্ব প্রতিবেদক |
রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি এবং শিক্ষা ও ভূমির অধিকারের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা এ দাবি জানান।
আদিবাসী ফোরাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘আদিবাসীদের শিক্ষা, ভূমি ও জীবনের অধিকার’ প্রতিপাদ্যে এবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘কেন আমরা আদিবাসী কথাটা স্বীকার করি না, আমার কাছে স্পষ্ট নয়। এই অস্বীকৃতির মধ্য দিয়ে প্রশাসনের কাছেও ভিন্ন বার্তা যাচ্ছে। আমি চাই আদিবাসী-বাঙালি এক হয়ে বাংলদেশ গড়ে তুলব।’
অনুষ্ঠানে জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা বলেন, সরকার ও প্রশাসন আদিবাসীদের অধিকারের প্রশ্নে আন্তরিক নয়। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পার্বত্য বান্দরবান জেলার নেতারা মিথ্যা মামলা দিয়ে জনসংহতি সমিতির নেতাদের জেলে পাঠাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে নিজের প্রয়োজনেই সংগ্রামী হতে হবে, সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকতে হবে।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘কোনো জনগোষ্ঠীর অধিকার হরণ করে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। সে রাষ্ট্রটি মাথা উঁচু করেও বিশ্বের দরবারে দাঁড়াতে পারে না। শুধু ভূমি নিষ্পত্তি আইন করেই আদিবাসী সমস্যা সমাধান করা যাবে না। আইনটির যথাযথ প্রয়োগ থাকতে হবে।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে আদিবাসীরা সংগ্রাম করছে। দেশ স্বাধীন হলেও তাদের সেই সংগ্রাম শেষ হয়নি।’
অনুষ্ঠানে মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, ‘সম্প্রতি কিছু আদিবাসী তাদের নিজস্ব ভাষার শিক্ষার উদ্যোগ নিলেও অধিকাংশ আদিবাসী তা পাচ্ছে না। বৃহত্তর এই জনগোষ্ঠীকে মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব না।’
নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, ‘পার্বত্য শান্তিচুক্তিতে যে নিয়মকানুন হয়েছে তার কোনোটিই তেমনভাবে কার্যকর হয়নি। অথচ তা হলে আদিবাসীদের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনমান আরও উন্নত হতো, আমরাও সমৃদ্ধ হতাম।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বেসরকারি আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডালেম চন্দ্র বর্মন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সাদেকা হালিম, মেসবাহ কামাল, উন্নয়ন ও মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচর্য প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা। আলোচকদের বক্তব্য শুরুর আগে গণসংগীত পরিবেশন করে মাদল ও গিরিসুর শিল্পী গোষ্ঠী।  
উৎস: http://www.prothom-alo.com/
Share on Google Plus

About Tudu Marandy and all

0 comments:

Post a Comment