Place for Advertisement

Please Contact: spbjouralbd@gmail.com

সান্তালি বর্ণমালার যৌক্তিকতা এবং শব্দ পরমাণু

সমর মাইকেল সরেন
General Secretary at Santali Wiki Bangladesh
March 29, 2014 at 11:19pm
সান্তালি ভাষার লেখ্যরূপের চর্চার সূচনা হয় ১৮০০ সালের দিকে । কিন্তু কালপ্রবাহে উনিশ শতকের দিকে এসে বর্ণমালা বিতর্কের অঙ্কুরোদগম ঘটে ।বর্তমান ভারতেবর্ষেই কয়েকটি লিপির প্রচলন রয়েছে । অলচিকি,রোমান,বাংলা,দেভনাগরী, উড়িয়া প্রভৃতি । বর্তমানে বিতর্কটি প্রকটাকার ধারণ করছে । বাংলাদেশেও এর ধারা চলে এসেছে ।এই বিতর্কে অনেকেই জড়িয়ে পড়েছেন জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারেই । কিন্তু ভাষার অন্তরীক্ষ দর্শনের জায়গাটি কতটুকু স্থান পেয়েছে এই বিতর্কে তাই বিবেচনার বিষয় । আজ বাংলা,রোমান বা অলচিকি কোনটারই পক্ষপাতিত্ব করতে আসি নি । একটি অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে যুক্তির সন্নিবেশ ঘটানোর প্রচেষ্টামাত্র ।

সান্তালি সাহিত্যের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে পাওয়া যায় যে, সান্তালি সাহিত্যগুলো দীর্ঘদিন ধরে মৌখিক সাহিত্যের ওপরই বেঁচে ছিল । বৃটিশভারতেই এই লেখ্যরূপের চর্চা শুরু হয় । এই লেখ্যরূপের সুচনা কিন্তু বাংলা বর্ণমালা দিয়েই ।চিকিৎসক সি আর লেপ্সাস সর্বপ্রথম বাংলা বর্ণমালাটি ব্যবহার করেন এবং পরবর্তীতে তিনিই রোমান হরফের ব্যবহার করেন সান্তালি ভাষার লেখ্যরূপের জন্য । কিন্তু রোমান হরফ সান্তালি প্রকাশের জন্য উপযুক্ত ছিল না তাই তার পরিবর্তন পরিমার্জন করে তৈরি করেনতুল্য(স্ট্যান্ডার্ড) রোমান হরফ যা সান্তালির জন্য উপযুক্ত আর এটিই বর্তমানে প্রচলিত । ইতোপূর্বে দৈনিক প্রথম আলোতে এ সমন্ধীয় আমার একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল । এরপরেও জ্ঞাতর্থে তিনি এই হরফটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন Vocabulary of Santali Language এ ।তৎকালীন বিদেশী মিশনারীরাও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তা জে ত্রইজি এবং পিও বোড্ডিং ও স্ক্রেফস্রুড সাহেবের লেখাগুলোতেও পাওয়া যায় । অপরদিকে বিশ্লেষণ করলে দুটি দৃষ্টিভঙ্গীর সন্ধান পাওয়া যায় একটি হল তাদের সুবিধার্থে রোমান এর আশ্রয় গ্রহণ অর্থাৎ যেহেতু তারা রোমানের সাথে অভ্যস্ত । দ্বিতীয়ত, ভুবনীকরণের জন্য রোমান(যেমনঃইংরেজী) এর প্রয়োজনীয়তা ।কেননা, রোমানকে সংস্কার করেই যেহেতু তুল্য রোমান সান্তালি বর্ণমালা করা হয়েছে তদ্রূপ বাংলাকেও সংস্কার করে তুল্য বাংলা সান্তালি বর্ণমালা করা সম্ভব ছিল । কিন্তু তা করা থেকে বিরত থাকলেন ।


অপরদিকে সান্তালি লেখ্য সাহিত্যের বড় অংশই রোমান সান্তালির সাথে জড়িত । অনেক সান্তালদের শিরায় শিরায় এর অনুপ্রবেশ ঘটেছে । এই বর্ণমালায় বাইবেল প্রকাশিত হওয়ায় তা আরও ব্যাপকতা পেয়ে যায় । ধর্মীয় অনুভূতি জড়িয়ে পড়ে এতে । গড়ে ওঠে সম্ভ্রম । অপরদিকে স্থানীয় ভাষাগুলোর সাথেও পরিচয় ঘটে সান্তালদের ।সেগুলোর সাথেও সম্ভ্রম ঘটে যেমনঃ বাংলা,উড়িয়া, হিন্দী, দেভনাগরী প্রভৃতি। ভুবনগাঁয়ে প্রভাবশালী স্থানীয় ভাষারসাথে পরিচয় ঘটে । এদের সাথে আত্মীয়তার, সখ্যতার এমনকি প্রভু ভৃত্যের পরিচয় ছিল ভারতবর্ষে আদি আর্যদের প্রবেশের পর পরই । বর্তমানে সান্তালি ভাষার ওপর এসব ভাষার ভারতবর্ষ ও বাংলাদেশের পাড়ায় পাড়ায় মাস্তানির প্রভাব উত্তরত্তোর বৃদ্ধি পেয়েই যাচ্ছে । অপরদিকে ভুবনীকরণে(গ্লোবালাইজেশনে) রোমান বর্ণমালার বিস্তর প্রভাব রয়েছে । এর মাস্তানি ঘটছে বিভিন্ন দেশীয় সীমারেখার ভাষাগুলোর ওপর । বাংলা ভাষাও এর ঘায়ে কাবু হয়ে পড়ে অনেক সময় ।কিন্তু এমন পরিস্থিতেও সান্তালি ভাষার ধ্বনিগুলো এগিয়ে যায় বিভিন্ন প্রকার মস্তান ভাষার বর্ণমালা আঁকড়ে ধরে । ভাষা ও বর্ণমালা উভয়ই বিদিশাগ্রস্ত হয় । অবশেষে এরূপ বিদিশাগ্রস্ততা থেকে মুক্ত হতে পন্ডিত রঘুনাথ মূর্মু ১৯২৫ সালে অলচিকি বর্ণমালা তৈরী করেন । এর পূর্বে সাধু রামচাদ মূর্মু ১৯২৩ (মতান্তরে ১৯২১) সালে 'মজ দাঁদের আঁক' তৈরি করেছিলেন । কিন্তু রামচাঁদ এর বর্ণমালাটি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিকশিত হবার সুযোগটি হারায় । তলিয়ে পড়ে । অপরদিকে অলচিকির উতপত্তিস্থল হল ময়ুরভাঞ্জ । ডক্টর অরুণ ঘোষ অলচিকিতে এই অঞ্চলের উচ্চারণভঙ্গীতার কথা উল্লেখ করেছেন । তাই অনেকসময় এটিকে সার্বজনীন বলেও মেনে নিতে পারেন না । কিন্তু এর মধ্যে একটি জাতীয়তাবোধ খুজে পাওয়া যায় । যেটি এর মহত্ব । কিন্তু এতেও কিঞ্চিৎ সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে আঞ্চলিকতার দরুণ । অনেকেই মনে করেন রোমান যেরূপে সকলের উপযোগী করে তোলা হয়েছিল এটিকেও সেরূপ সংস্কারের প্রয়োজন । আবার কট্টরপন্থীরা মনে করেন যে, এর সংশোধন আনা হলে এর মৌলতা হারাবে বা স্বকীয়তা হারাবে ।দূর্বীন সরেন কলকাতার একটি আর্টিকেলে প্রকাশ করেন যে, অলচিকি অনুকরনীয় কোন বর্ণমালা কেননা সিএস উপাসক রচিত The History and Paleography of Muryan Brahmi Script এ উল্লেখ করেন যে ব্রাহ্মী লিপির সাথে এর মিল রয়েছে তাই এটি অনুকরন বা কপি করা হয়েছে!?কিন্তু প্রাচ্যের লিপির সাথে প্রাচ্যের সম্পর্ক থাকাটাইতো স্বাভাবিক ।
অপরদিকে রোমান সান্তালি হরফে সান্তালি বর্ণমালাকে প্রকাশ করা হলেও বর্গীয় বর্ণমালার সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে বাংলার ক চ ট ত প ধাঁচে । রহস্যটা কি? হ্যাঁ এ দেশেরই একটি দর্শন কাজ করেছে । প্রাচীন ভারতের । মিশনারীরা এর সাথে পরিচিত ছিলেন কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিতের সন্নিবেশ পাওয়া যায় না । অন্তত সান্তালিতে এই বর্গীয় বর্ণমালার সন্নিবেশন কিঞ্চিৎ ভাবিয়ে তোলে। সংস্কৃত বা বাংলা অথবা ভারতীয় দর্শণের ওপর গড়ে ওঠা বর্ণমালাগুলোকে বিশ্লেষণ করলেই উত্তরটি পাওয়া যাবে । প্রাচীন ভারতীয় অনার্যবা সান্তালদেরও এই দর্শণের সাথে এবং এর উৎপত্তিস্থল প্রাচ্যের ঘটনার সঙ্গে যে সম্পর্ক ছিল না তা বললে একেবারেই ভূল হবে ।
কেননা আদি অনার্য ও আদি আর্য ভাষাগুলোর সংস্কারেই সংস্কৃত ভাষার জন্ম । বাংলারও মিল মিশ রয়েছে এসব ভাষার সাথে । তাই সান্তালি ধ্বনির সাথে প্রাচ্যের দর্শণের পরিচয় বা সখ্যতা যে আত্মার সাথে দেহের সম্পর্কের ন্যায় থেকে গেছে অব্যাক্তভাবে। ওপরের দেহের ওপর নানা প্রকার বর্ণমালার লেবাশ চড়ালেও এই আত্মা রয়ে গেছে । তখন পঞ্চকোষে পঞ্চকপালে পঞ্চযজ্ঞে পঞ্চকর্ম ইত্যাদিতে পঞ্চদেবতা পঞ্চজন ইত্যাদিরা পঞ্চগুণকে পঞ্চযামে পঞ্চরাত্রে পঞ্চপর্বে পঞ্চগব্যে পঞ্চপুষ্প ইত্যাদিতে পরিণত করে পঞ্চগৌড়ে পঞ্চনদে প্রবাহিত করে । পঞ্চমুখে পঞ্চস্বরে সেকথা বলে বলে পঞ্চলক্ষণে লিখিত হয় । এই পঞ্চতত্ত্বের প্রতিনিধিত্বকারী যে পঞ্চবর্গ তারাই ক চ ট ত প । ভগবতে একথা বলা হয়েছে যে এই পঞ্চ পঞ্চ(৫x৫=২৫) উপাদান বিশিষ্ট গৃহকে যে চেনে না, সে প্রজাসৃষ্টি করতে পারে না ।অপর দিকে এই প্রাচ্যেই বেদের শুরু । জ্ঞানের শুরু । স্পেনে তখন মাত্র আঠারোটি বই নিয়ে ইউরোপের সর্ব্বৃহৎ লাইব্রেরী গড়ে উঠেছিল । অথচ আমাদের এই ভারতবর্ষে তখন দেড়শতাধিক তন্ত্রের চর্চা হত! আজ সেই ইতিহাসের সাথে বিচ্ছেদের দরুণ পাশ্চাত্যকেই গুরু বলি প্রাচ্যকে বলি গরু । কারণ গরু নাকি নিজের আঙিনার ঘাঁস খায় না । বাংলায় অ মানে যে রক্ষা করে ব মানে বাহক শ মানে যে শুয়ে আছে দ মানে দাতা কিন্তু ইংরেজীতে abcd অবশদ এর কোন মানে নেই । উপরন্তু যেহেতু অনার্য সান্তালি শব্দের সংস্কার ঘটে বাংলা ও সংস্কৃতে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে । যেমনটি ডক্টর শহীদুল্লাহ,সুনীতিকুমার চট্টোপাধায়ের মত বিজ্ঞ পন্ডিতরাও স্বীকার করেছেন । তাই সান্তালি ভাষার প্রত্যেকটির মানে আছে ক্রিয়া আছে ঘটনা আছে । অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমীর ডক্টর ক্ষুধিরাম দাস,সান্তালি ব্যাকরণজ্ঞ আর এম ম্যাকফাইল উভয়ই উল্লেখ করেছেন যে, সান্তালি ক চ ট ত প এর অর্ধস্বরগুলো বাংলায় হসন্ত উচ্চারণের ন্যায় নয় । কেননা বাংলা হসন্ত উচ্চারণের শেষে সংক্ষিপ্ত অ ধ্বনির আগমণ ঘটে থাকে ।
১৮৯৪ সালে সান্তালি কাব্য সাহিত্যে একটি মাইলস্টোন স্থাপিত হয় । মিশনারীদের প্রবল প্রভাব সত্ত্বেও মাঝি রামদাস টুডু রেস্কা রচনা করেন কালজয়ী 'খেরোয়াল বংশা ধরম পুথি'। এ গ্রন্থটি কিন্তু বাংলা বর্ণমালায় করা হয়েছিল । আর এখানেই নীহিত রয়েছে সান্তালদের আদি ইতিহাস ।কিন্তু চিনতে পারছি না । কারণ আমরা বিবরণমূলক ইতিহাস চর্চার সাথে জড়িত ব্যাখ্যামূলক ইতিহাসে নেই । উপরন্তু এই গ্রন্থ প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন বাংলা গদ্য সাহিত্যের বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং রাহুল সাংস্কৃত্যায়ন ।  রামদাস টুডুর দর্শন নিশ্চয় সীমিত গন্ডীবদ্ধ ছিল না । অপরদিকে এই গ্রন্থটি বর্তমান প্রতীকি শব্দ দ্বারা অধ্যয়ন করলে ছেলে ভুলোন গল্প বলেই মনে হয় । যেমনটি মনে হয় বাতসায়নের কামসুত্র বা মহাভারতের কাহিনীগুলোকে । কেননা প্রতীকি শব্দ দ্বারা এসব অধ্যয়ন করলে যথাক্রমে যৌন উত্তেজক গ্রন্থ বা ঘুম পাড়ানী ভারতীয় মিথ বলে মনে হয় ঠিক তেমন । এল ও স্ক্রেফস্রুড বা বর্তমান অনেক লেখকই এই গ্রন্থের ঘটনাগুলোকে মিথ বলে আখ্যায়িত করে ভ্রম ঘটান । অথচ মেটাফিজিক্স বা অধিবিদ্যার ভেতর দিয়ে গেলে অন্য চিত্রকে খুজে পাওয়া যায় ।
পাশ্চাত্যেও ততদিনে শুরু হয়ে গিয়েছিল পদ অর্থের রহস্য বা আত্মা খোঁজার আপ্রাণ প্রচেষ্টা । ১৮৯১ সালে নোম চমস্কি জিবি থিওরী দাঁড় করান । শব্দার্থ তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কেবল সারফেস স্ট্রাকচারের ওপর নির্ভর করে বলে ঘোষণা দেন । অপরদিকে ডীপ স্ট্রাকচার ডিবেটে(১৯৬০-১৯৮৫) কেউ কেউ দেখালেন শব্দকে বাক্য প্রসবের এককরূপে গড়ে তোলার ক্ষেত্রটি যত না ব্যাকরণ[=সিন্ট্যাক্স] নির্ভর তার চেয়ে বেশী শব্দার্থ নির্ভর । তাই আমাদের সান্তালি ধ্বনিগুলোর ওপর যত বর্ণমালাই চড়ানো হোক না কেন এদের অন্তরীক্ষ দর্শন ব্যাতীত বর্ণমালা গ্রহণের বিষয়ে একমত হবার বিষয়টি বিদিশাগ্রস্তেই নিমজ্জিত থাকবে । বাংলা বা সংস্কৃত কিন্তু এই প্রকৃয়াটি আবিস্কার করে ফেলেছে । সান্তালি কবে করবে?
বর্তমান বাংলাদেশে যে, বর্ণমালা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে তাতে কতটুকু তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ রয়েছে ? বাংলা এবং রোমান বর্ণমালা কোনটির যৌক্তিকতা বেশী তা নিয়ে যুক্তির প্রতিযোগীতা চলছে । আমিও এতে জড়িয়েছিলাম এখনও আছি । কিন্তু যুক্তিগুলো অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে হওয়া উচিৎ । রোমান পন্থীরা বাংলা পন্থীদের কোন কোন মহলের(এনজিও,গবেষক) পক্ষপাতপুষ্ট বলে আখ্যায়িত করছে । আবার বাংলা পন্থীরাও বিভিন্ন মানববন্ধনে চার্চ সংশ্লিষ্ট খ্রিষ্টিয় মৌলবাদীতার প্রভাব বলে আখ্যায়িত করছেন । উভয়ই সমান । আবার চার্চ বিগত দিনগুলোতে স্কুলগুলোয় রোমানের চর্চা করেছে সত্য কিন্তু বর্তমানে তাদের চর্চায় ভাটা পড়েছে । অপরদিকে বাংলাপন্থীরা একসময় কয়েকটি স্কুলে পাইলট প্রজেক্ট চালানোর পর বন্ধ করে দেয় । গত বছর সান্তালি বর্ণমালা সিদ্ধান্তে ঐক্যমতে না আসতে পারার কারণে উভয় পক্ষই মনের দূঃখে বনে গমণ করেছেন । অর্থাৎ নিজ নিজ চিন্তাধারার এনজিওতে সান্তালি চর্চা স্ব স্ব বর্ণমালায় শুরু করলেন । কিন্তু ব্যাপক অর্থে বর্ণমালা ঐক্যে পৌছানোও গেল না । প্রতিষ্ঠাতো দূরেই থাক ।
প্রকাশ্যেই বলি, নীরব হলেও এহেন বিতর্কে খুজে পাওয়া যায় সাম্প্রদায়িকতা । এই সাম্প্রদায়িকতা একটি বর্ণমালা কাঠামোর সাম্প্রদায়িকতা । আমি প্রকাশ্যে ঘোষণা করছি আমি এরূপ সাম্প্রদায়িকতা থেকে ইস্তফা দিচ্ছি অন্তত যুক্তির ক্ষেত্রে । এই সাম্প্রদায়িকতাতে বিরাজ করে একটি ভয় । আর ভয় থেকেই জন্ম নেয় প্রতিযোগীতার । যেমন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রোমান পন্থীদের চার্চের তাবেদার, সাম্রাজ্যবাদীর দোসর বলে রোমানেও খুঁজে পান একটি সাম্রাজ্যবাদী গন্ধ । অপরদিকে রোমান পন্থীরা জাতীয় আদিবাসী পরিষদকে দোষারোপ করছেন যে, তারা ডনারদের অর্থ হজম করছে । খ্রিষ্টানদের অর্থ নিয়ে খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে কথা বলছে ইত্যাদি ইত্যাদি ।  তাহলে বিভাজনকারী কে? যারা একই দিকে বাংলাপন্থীদের সহায়তা করছেন অপরদিকে রোমান পন্থীদেরও পৃষ্ঠপোষকতা করছেন ! নিঃসন্দেহে দাতাগোষ্ঠী । আর আমরা শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ বের না করেই একটি বিবাদে জড়িয়ে আছি । বাংলাদেশে বানান নীতি নিয়েও স্পষ্ট কোন বিধি নেই ।

ব্যাকরণ চর্চার চরম অপ্রতুলতা । বইয়ের জন্য এখনও ভারতের ওপর নির্ভরশীল ।
উপরন্তু জাতিস্বত্তার স্বীকৃতি বা ভাষার স্বীকৃতি না পেলে আমাদের দেশের প্রভাবশালী বাংলা ভাষা আমাদের ভাষাকেও হজম করে ফেলবে । সান্তালির ক্ষেত্রে তা যেকোন বর্ণমালাই প্রতিষ্ঠা পাক না কেন । উপরন্তু পুরাতনের চর্চাই হবে । কারখানার মত স্কুলগুলো থেকে বর্ণমালা নিয়ে বের হবে বছর বছর হাজার হাজার শিশু । প্রয়োগের জায়গাটা খুজে না পেয়ে কারখানার পণ্যের ন্যায় মালিকের জিহ্বা ধার করে দাম জাহির করবে । অথবা আবারও বিদিশাগ্রস্ত হবে । এখনও আমরা রাজবৃত্তের(এনজিও,চার্চ,দাতাসংস্থা,রাজধানী কেন্দ্রিক রাজনীতি) আবর্তেই রয়েছি । আমাদের ইতিহাসগুলো ধুকে ধুকেই মরছে । দিন দিন ইতিহাস পরিণত হচ্ছে মিথোলজিতে । বিবরণমূলক ইতিহাস বা প্রথাকেন্দ্রিকতা আমাদের পিছু ছাড়ছে না । ব্যাখ্যামূলক ইতিহাস চর্চায় মনোনিবেশ প্রয়োজন । শব্দ পরমাণুর খোঁজ বা বুৎপত্তিকে বাদ দিয়ে এক ইঞ্চিও আগানো সম্ভব নয় ।অন্তত ভাষার ক্ষেত্রে । প্রচুর গবেষণার প্রয়োজন ।

তথ্যসুত্রঃ

১। সাঁওতালি সাহিত্যের ইতিহাস, পরিমল হেম্ব্রম,পশ্চিমবঙ্গ ।

২।খেরোয়াড় বংশা ধরম পুথিঃ রামদাস টুডু রেস্কা, ভাষান্তর সারদা প্রসাদ কিস্কু ।

৩।সাঁওতালি বাংলা সমশব্দ অভিধান, ডক্টর ক্ষুধিরাম দাস, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমী ।

৪।বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ।

৫। পরমা ভাষা সংকেত- কলিম খান ।

৬।সান্দেশ-২০১৩

৭।Horkoren Mare Hapramkoak katha- L.O Skrefsrud.

৮। Santali a natural language, Dr. PC Hembrom

৯।The Santals,Reading in tribal life, Volume VII: Language and Physical Characteristics- J Troisi(1979).

১০। Gee J.P and Grosjean F.(1983), Performance Structures: a psycholinguistic appraisal.

১১। ভগবত গীতা

১২। বঙ্গীয় শব্দকোষ- হরিচরণ বন্দোপাধ্যায় ।

১৩। Herder J.G(1891),On the origin of language.

১৪।Ibid.

টীকাঃ

জিবি থিওরীঃ নোম চমস্কীর গভর্নমেন্ট বাইন্ডিং থিওরী ।

ডীপ স্ট্রাকচার ডিবেটঃ অন্তরঙ্গ গঠনের বিতর্ক । এটি ১৯৬০ তে শুরু হয়ে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বিতর্কটি চলতে থাকে । বিশ্বের প্রায় সকল ভাষাতাত্ত্বিক জড়িয়ে পড়েন এতে ।              



উৎস: https://www.facebook.com/notes/samar-m-soren/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AF%E0%A7%8C%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%B6%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A6-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%81/750604091631124?ref=notif&notif_t=note_tag
Share on Google Plus

About Tudu Marandy and all

0 comments:

Post a Comment