Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Wednesday, November 18, 2015

কৃষি কাজে পুরুষের চেয়ে সাঁওতাল নারীরা এগিয়ে

এম তারেকুজ্জামান : রংপুরে কৃষি কাজে পুরুষের চেয়ে নারী সাঁওতাল শ্রমিকের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজে ফাঁকি না দেয়া ও পরিশ্রমী হওয়ায় কৃষি কাজে নারী শ্রমিকদের কদর এখন সবচেয়ে বেশি। সাঁওতাল নারী শ্রমিকরা ঘরের কাজ করার পাশাপাশি অন্যের জমিতে কাজ করে সংসারের আয় বৃদ্ধি করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে সাঁওতাল নারীদের কৃষি কাজে নিয়োগ নিয়ে কৃষকরা বেশ স্বস্তিতে আছে। এবিষয়ে রংপুরের কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষি থেকে ঘর গোছানো সবই এখানকার সাঁওতাল নারীরা নিজের হাতে করে। তাদের দেখলেই মনে হয়, এরা কাজ পাগল মানুষ। সব কাজ নিজ দায়িত্বে করে এবং করতে সাচ্ছন্দবোধও করে।
পীরগঞ্জের চতরা এলাকার সাঁওতাল নারী রিতা সরেন বলেন, নিজের ঘর সামলেও যেটুকু সময় পাওয়া যায় তখন অন্যের কাজ করে থাকি। তিনি বলেন, আমরা মোটেও কাজে ফাঁকি দেই না। কারণ যে শ্রমে মাটিতে শস্য ফলে, সেই শস্য খেয়েই আমরা বেচে আছি। মাটিতে শস্য ফলাতে নিজের শ্রম দিতে ভালোই লাগে। সারা বছরই সাঁওতাল নারীদের চাহিদা থাকলেও বিশেষ করে ধান লাগানোর সময় আমাদের চাহিদা বেশি বেড়ে যায়। তাই তখন আর কোন কিছু করার ফুসরত থাকে না।
জানা গেছে, কৃষি থেকে ঘর গোছানো সবই এখানকার সাঁওতাল নারীরা নিজের হাতে করে। এসব কাজ নিজ দায়িত্বে করেন এবং করতে সাচ্ছন্দবোধও করেন। পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি সংসার গোছাতে পটু।
চতরা বাজারের লোকনাথ নামে এক ব্যবসায়ী জানান, সাঁওতাল নারীদের শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানোর মুল কারণ-তারা সৎ। এদের আর একটি বিশেষ গুণ কোন কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করেই যান। ধান রোপনে এদের নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এদের হাতে ধানের চারার সারি সোজা থাকে। ফলে সে জমিতে ধানের ফলও বেশি হয়।
তবে সাঁওতাল নারীদের এতো গুণ থাকলেও আছে বঞ্চনার নিরব গাঁথাও। সাঁওতাল নারীরা উৎপাদন করেন ঠিকই কিন্তু ভোগ করতে পারেন না। তারা কাজে পারদর্শী হলেও পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তাদের হাতে থাকে না। তাদের জন্য আলাদাভাবে নেই কোন ঋণের ব্যবস্থাও।
স্থানীয় আরেক সাঁওতাল নারী শ্রমিক বলেন, ‘মাঠে-ঘাটে কাজ করি, সংসারের কাজ শেষ করার পর যে সময়টুকু পাই বাইরে কাজ করি। পুরুষরা যে কাজ করে তার চেয়ে বেশিই করি। কিন্তু আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। স্বামী আমাদের কোন দামই দেয় না।’
তিনি আরও বলেন, সরকারের তরফ থেকেই আমাদের জন্য কোন কিছুর ব্যবস্থা নেই। আমরা সুযোগ-সুবিধা পেলে কৃষি উৎপাদনে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবো।
এ বিষয়ে চতরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাজু আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, শুধু সাঁওতাল মেয়েদের জন্য আমরা কম্পিউটার এবং সেলাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া তাদের জন্য বিশেষভবে কোন প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই বলেও জানান তিনি।
রংপুরের পীরগঞ্জের সমাজসেবা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বা ও নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্টী নিয়ে কাজ করার আছে। আমি এখানে আসার পর নিজ উদ্যোগে এদের ডাটাবেজ তৈরি করার কাজ করছি। উপজেলা প্রশাসন আমাকে এ কাজে সহযোগীতা করছে।
তাদের সামাজিকভাবে আরও প্রতিষ্ঠা পাবার জন্য কাজ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওদের যে সামাজিক ব্যবস্থা বা সামাজিক প্রথা আছে সেখান থেকে বের করে নিয়ে এসে মূল ধারার সমাজের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করাসহ নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছেন বলেও জানান জয়নাল আবেদীন।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র ঘোষ আমাদের সময় ডটকমকে ফোনালাপে জানান, এখানকার ১৫টি ইউনিয়নের ৪টিতে সাঁওতালদের বসবাস। এদের পুরুষরা একটু অলস প্রকৃতির হলেও নারীরা অনেক পরিশ্রমী। তিনি বলেন, সাঁওতাল নারীরা সংসার সামলানোর পাশাপাশি সব ধরনের কৃষিকাজে পারদর্শী। আমরা কৃষিকাজে তাদের সহযোগীতা করে থাকি।
Source: http://www.amadershomoy.biz/unicode/2015/11/17/35020.htm#.V-EPQjXm3IU
Share:

Sunday, November 1, 2015

‘হুদুরদুরগা’ এ বার তথ্যচিত্রে

কিংশুক গুপ্ত

প্রামাণ্য ইতিহাসে তাঁর নাম নেই। কিন্তু সাঁওতালদের লোকশ্রুতি অনুযায়ী তিনিই জঙ্গলখণ্ডের বীরযোদ্ধা-শেষ রাজা ‘হুদুরদুরগা’। সুদূর অতীতে জঙ্গলমহলের মূলবাসী এই রাজার শোকে এখনও বার্ষিক শোকপালন করেন সাঁওতাল সম্প্রদায়। বলা হয়, পরাক্রমী আদিবাসী রাজা হুদুরের বিনাশকে ঘিরেই এখানে আর্য-অনার্যের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। সাঁওতাল সমাজের জনশ্রুতি, ‘দেবাংশী’ আর্যরা কৌশলে হুদুরকে হত্যা করে দখল করেছিল সমগ্র জঙ্গলখণ্ড। তারপর থেকেই চরম অত্যাচারিত মূলবাসীরা নিজভূমে পরবাসী হয়ে যান। এক সময় এলাকা থেকে বিতাড়িত হওয়ার কারণেই কী সাঁওতাল সমাজের একাংশ এখনও ভীষণ রকম আত্মকেন্দ্রিক? তথাকথিত উচ্চবর্ণের ছোঁয়াচ থেকে নিজেদের সমাজ-সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্যই কী আদিবাসী সমাজের মধ্যে এত আগল? এত সামাজিক বিধিনিষেধ? উত্তর খুঁজছেন জঙ্গলমহলেরই সাঁওতাল সম্প্রদায়ের যুবক সুমন্ত মুর্মু। বছর তিরিশের সুমন্তের বাড়ি ঝাড়গ্রাম শহরের উত্তর বামদায়। তবে রাজ্য বিদ্যুত্‌ বন্টন সংস্থায় চাকরির সূত্রে থাকেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে।
[তথ্যচিত্রের একটি দৃশ্যে হুদুরের ভূমিকায় সুমন্ত মুর্মু।— নিজস্ব চিত্র।]

সুমন্তর ছোটবেলা কেটেছে বেলপাহাড়ির পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা ঠাকরানপাহাড়ি গ্রামে। ফলে নিজের সম্প্রদায়ের মানুষজনের জীবনযন্ত্রণার বারোমাস্যা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। পরে সমাজবিজ্ঞানের স্নাতক হয়ে নিজের সম্প্রদায়ের শিকড় সন্ধানে গত পাঁচ বছর ধরে ক্ষেত্রসমীক্ষার কাজ করে চলেছেন। সেই নিরিখেই সুমন্ত ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। ‘হি ওয়াজ় নট এ ডেমন, হুদুরদুরগা: এ গ্রেট ট্র্যাইবাল কিং’ শিরোনামে দশ মিনিটের তথ্যচিত্রটিতে হুদুরের ভূমিকায় অভনয় করছেন সুমন্ত নিজে। মুখ্য প্রযোজক ও পরিচালকও তিনি। বেলপাহাড়ির পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে বেশ কিছু দৃশ্যগ্রহণের কাজ হয়ে গিয়েছে। আগামী বছরের গোড়ায় ইউটিউবের মাধ্যমে সাঁওতালি ও ইংরেজি দ্বিভাষিক এই তথ্যচিত্রটি দেখতে পাবেন দর্শকরা। সুমন্তর কথায়, “আদিবাসী সংস্কৃতিকে আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদেই তথ্যচিত্রটি বানাচ্ছি। একদিকে সাঁওতাল সমাজের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসের কথা থাকছে। অন্যদিকে, যুক্তি দিয়ে মুক্ত চিন্তা-চেতনার পক্ষে কিছু সওয়ালও করা হবে।” বছর খানেক আগে এক বন্ধুর ক্যামেরা ধার করে প্রথমবার একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র বানিয়েছিলেন সুমন্ত। ইউটিউবে ওই তথ্যচিত্রটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। এবারও বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে তথ্যচিত্রের কাজ শুরু করেছেন তিনি। পরে কিনে নিয়েছেন একটি ক্যামেরাও। সুমন্তের টিমে রয়েছেন পেশায় ডাক বিভাগের কর্মী সুশান্ত টুডু, প্রাথমিক পার্শ্বশিক্ষক প্রদীপ মুর্মু, বেসরকারি সংস্থার কর্মী জোনা মাণ্ডি, কৃষ্ণ মুর্মু, বিদ্যুত্‌ দফতরের কর্মী শতদল সাঁতরা, প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক জয়ন্ত সিংহ-রা।
কিন্তু হঠাত্‌ করে কেন এমন একটি বিষয়কে নির্বাচন করলেন? সুমন্ত জানাচ্ছেন, হাজার বছর ধরে নিজেদের আদবাসী সমাজকে স্বতন্ত্র করে রাখার ফলে বাইরের মুক্ত চিন্তাধারার সঙ্গে পারস্পরিক তুল্যমূল্য বিচারের সুযোগ ততটা নেই। যে কারণে গ্রামাঞ্চলে নানা ধরনের সংস্কার ও প্রথাকে আঁকড়ে রয়েছেন একটি অংশ। ফলে, শিক্ষিত প্রজন্মের একাংশের মনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তাই নিয়ে রক্ষণশীল ও চিন্তাশীলদের মধ্যে যুক্তিসংঘাত বাধছে। এখনও আদিবাসী সমাজে শিক্ষার হার আশানুরূপ নয়। আধুনিক চিকিত্‌সা বিজ্ঞানের যুগেও ওঝা, ঝাড়ফুঁক, গুণিন নির্ভর সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটানো যায়নি। বাল্যবিবাহ-সহ নানা কুপ্রথার বাড়বাড়ন্ত ঠেকানো যায়নি। এই আবহে পরাক্রমী রাজা হুদুরদুরগার কাহিনি দিয়েই নতুন প্রজন্মকে উজ্জীবিত করতে চান সুমন্ত। সুমন্তর কথায়, “কেন আমরা এখনও অনেকটা পিছিয়ে রয়েছি, সেই বিশ্লেষণও থাকবে তথ্যচিত্রে। থাকবে এগিয়ে চলার বার্তাও।”
ঝাড়গ্রাম মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক আজিজুর রহমান বলেন, “সুমন্তবাবুরা তথ্যচিত্রটির কাজ শুরু করেছেন বলে শুনেছি। তথ্যচিত্রটি ইউটিউবে দেখার জন্য
অপেক্ষায় রয়েছি।”

Source:http://www.anandabazar.com/entertainment/%E0%A6%B9-%E0%A6%A6-%E0%A6%B0%E0%A6%A6-%E0%A6%B0%E0%A6%97-%E0%A6%8F-%E0%A6%AC-%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%A5-%E0%A6%AF%E0%A6%9A-%E0%A6%A4-%E0%A6%B0-1.261537#

 

Share:

পুজোয় মহিষাসুর স্মরণ

চারদিকে যখন অসুরদলনী দুর্গার পুজো চলছিল, সেই সময় অন্য পুজো হল কাশীপুর থানার ভালাগোড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। বৃহস্পতিবার পূজিত হলেন হুদুড় দুর্গা। উদ্যোক্তাদের কথায়, মহিষাসুরের স্মরণ দিবস। মহানবমীর দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন বলে তাঁদের আদিপুরুষ ঘোরাসুর তথা মহিষাসুরকে স্মরণ করলেন আদিবাসীরা। উদ্যোক্তা শিকার দিশম খেড়ওয়াল বীর লাকচার কমিটি।
আদিবাসীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আর্য রমণীর দ্বারা অন্যায় ভাবে নিধন করা হয়েছিল তাঁদের আদিপুরুষ হুদুড় দুর্গাকে (মহিষাসুর)। শিকার দিশম খেড়ওয়াল বীর লাকচার কমিটির তরফে অজিতপ্রসাদ হেমব্রমের কথায়, ‘‘দুর্গার হাতে নিহত হন আমাদের আদিপুরুষ হুদুড় দুর্গা। যিনি ঘোরাসুর বা মহিষাসুর নামেও পরিচিত। আমরা মনে করি নীতিহীন যুদ্ধে তাঁকে মারা হয়েছিল। তাতে ভারতের ভূমিপুত্র খেড়ওয়ালরা দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হারিয়েছিলেন। ঘোরাসুরকে এই যুদ্ধে পরাজিত করার পরে আর্যাবর্ত নামে আর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন আর্যপক্ষ বিজয় উৎসবে মেতে উঠেছিল। সেই সময় সাঁওতাল, মুন্ডা, কোল, কুড়মি, মাহালি, কোড়া প্রভৃতি খেড়ওয়াল গোষ্ঠীর আদিবাসীরা বশ্যতা স্বীকার না করে নিজেদের নিজেদের মান বাঁচানোর উদ্দেশ্যে নারীর ছদ্মবেশে দাঁশাই নাচ, কাঠি নাচের মাধ্যমে অন্তরের দুঃখ নিয়ে আনন্দের অভিনয় করতে করতে সিন্ধু পাড় ছেড়ে আসম, কাছাড়, ওড়িশা, বঙ্গদেশ ও দক্ষিণ ভারতের বনে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিল।’’ অজিতবাবুর দাবি, অনার্যরা কখনও মহিলাদের আক্রমণ করে না। সেই বিশ্বাস থেকেই পুরুষেরাও নারীর ছদ্মবেশে এ ভাবে নারী বস্ত্র পরিধান করে সেরেঞ বা ভুয়াং হাতে দলবদ্ধ ভাবে হায়রে হায়রে শব্দ করতে করতে এই উৎসবের সময়ে অর্থাত দুর্গা পুজোর সময়ে দাঁশাই নাচেন। এই নাচ তাঁদের সম্প্রদায়ের কাছে দুঃখ-দাঁশাই নামেও পরিচিত। সেই পরাজয়ের ব্যাথা বুকে নিয়ে আজও তাঁদের সমাজের লোকজন দাঁশাই নাচেন। তাঁর কথায়, ‘‘হুদুড় দুর্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে পরম শ্রদ্ধেয় ও পূজ্য। আমরা মনে করি, তিনি ছিলেন বলেই তাঁরই প্রবর্তিত সমাজনীতির গুণে ভারতের আদিবাসী দলিত জনগোষ্ঠীর সমাজ হাজারো বঞ্চনার মধ্যে শান্তিতে বসবাস করছে।’’
মহানবমীর দিনে দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন বলে সেই দিনটিকেই তাঁরা আদিপুরুষকে স্মরণ করার দিন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। স্মৃতিচারণা, কাঠি নাচ, করম নাচ, কবিগান, ছৌ নাচ-সহ নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভালাগোড়া স্কুল মাঠে দিনভর এই শ্রদ্ধার্পণ অনুষ্ঠান হয়। যোগ দিয়েছিলেন এই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার আদিবাসীরাও।
শত্রুঘ্ন মুর্মু, বীরবল মুর্মু, সুবোধ মুর্মু প্রমুখের কথায়, ‘‘আমাদের আদিপুরুষকে এই দিনে নিধন করা হয়েছিল বলে এই দিনে আমরা তাঁকে স্মরণ করি।’’ ঝাড়গ্রাম থেকে আসা কেশব সোরেন বলেন, ‘‘এই দিনটির তাৎপর্য মানুষের জানা প্রয়োজন। পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, ‘‘আদিপুরুষ ঘোরাসুরকে অন্যায় ভাবে হারানো হয়েছিল। কারণ তিনি কোনও নারীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতেন না। কেউ তাঁকে হারাতে না পেরে একজন নারীকে তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করতে পাঠানো হয়েছিল। নীতিহীন যুদ্ধের এই পরাজয় আমরা মানতে পারিনি। তাই এই স্মরণ অনুষ্ঠান।’’
Source:  http://www.anandabazar.com/district/purolia-birvhum-bankura/%E0%A6%AA-%E0%A6%9C-%E0%A7%9F-%E0%A6%AE%E0%A6%B9-%E0%A6%B7-%E0%A6%B8-%E0%A6%B0-%E0%A6%B8-%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A6%A3-1.228012#
Share:

শহীদ মহিষাসুর

- ছন্দক চট্টোপাধ্যায়
টবেলা থেকেই ‘মেঘনাদ বধ’ আমার প্রিয় কাব্যি । লালকমল নীলকমলের খোক্কসগুলো ভারী প্রিয় । কী ঐশ্বর্য আছে রাজকুমারিতে যত আছে ঠাকুমার ঝুলির দত্যি দানোয় । মহালয়াও যখন টিভিতে দেখেছি পক্ষ নিতে ইচ্ছা করেছে রক্তবীজের । ওরে বাবা রে, সে কি কাণ্ড । একফোঁটা রক্ত মাটিতে পড়লেই পুনর্জন্ম । সে জায়গায় ভো-কাট্টা দুর্গা । আর চিরকালই দেবতাদের চোর চোট্টা মনে হয়েছে। অসুরগুলো ধ্যান জপে বসবে, তাদের ধ্যান ভঙ্গ করতে মেনকা,উর্বশীদের লেলিয়ে দেওয়া হবে । দুই পক্ষ মিলে সমুদ্র মন্থন করে অমরত্বের ভাণ্ড সংগ্রহ করবে, দেবতারা ছল করে অসুরদের তা পান করতে দেবে না । এগুলো কী ? এতো পাড়ার ক্রিকেটের মতো, আমি বড় লোকের ব্যাটা, আমার ব্যাট বল তাই আমি আউট হলেও আউট নয় । তাই বুকের ধন আমার মেঘনাদ বধ । পাষণ্ড, জাতিবিদ্বেষী, পুরুষতন্ত্রের প্রতিভূ ফ্যাসিস্ট রামের পরাজয় । সমগ্র পুঁজিবাদের মধ্যে একখণ্ড সমাজবাদ যেন ।

তাই মহিষাসুরের শহীদদিবস আমায় উৎফুল্ল করেছিলো । মহালয়ার দিন শুভ শারদীয়ার মেসেজের জবাবে আমি লিখেছিলুম, ‘আমায় এই মেসেজ পাঠিও না, আমি বীর শহীদ হুদুর দুর্গার পক্ষে’। পৌঁছতে পৌঁছতে উৎসব খতম হয়ে গিয়েছিল বটে, কিন্তু বীরদর্পে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মহিষাসুর । গোটা পশ্চিমবঙ্গ যখন ‘দেবী বন্দনায়’ মাতোয়ারা তখন পুরুলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ‘মহিষাসুর স্মরণ দিবস’। অনুষ্ঠানের মূল সংগঠক চেরিয়ান মাহাতো, অজিত হেমব্রমদের সাথে কথা বলে জেনেছি, ২০১১ থেকে ‘শিকর দিসম খেরওয়াল বীর লাকচার কমিটি’র পরিচালনায় এঁরা এই অনুষ্ঠানটি সংগঠিত করছেন। অনুষ্ঠানটির নাম সচেতন ভাবেই শহীদ দিবস, অসুর পুজো নয় । কারন ওনারা মনে করেন ‘পুজো’র মধ্যে একটা অলৌকিকের উপাসনার ব্যাপার আছে, এই দর্শনের সঙ্গে তারা একমত নন । অসুর তাদের পূর্বপুরুষ, এবং এক যুদ্ধে তিনি নিহত হয়েছিলেন, তাই তিনি বীর শহীদ ।

খেরওয়াল আদিবাসীদের মধ্যে বিশেষত সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাঁও প্রভৃতি জনজাতির মানুষেরা ষষ্টী থেকে দশমী পর্যন্ত নারী পোষাক পরে দলবদ্ধভাবে ‘দাঁশাই’ নাচ করে। আবার কুড়মি কোবিলার জন-গোষ্ঠী এবং কোড়া কোবিলার, বাউরী, সহিস, মুদি প্রভৃতি ভূমিপুত্ররা একইভাবে নারী পোষাক পরে দলবদ্ধভাবে ‘কাঠি নাচ’ করতে করতে গ্রামে-গ্রামে ভিক্ষা করে বেড়ায়। যদিও এই কটা দিন ছাড়া খেটে খেতেই তারা পছন্দ করেন এবং ভিক্ষাবৃত্তি পাপ বলেই মনে করেন । ‘দাঁশাই’ নাচ ও ‘কাঠি নাচ’কে দূর্গোৎসবের স্বপক্ষে আদিবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বলে অনেক কাগজে প্রচার করা হয়ে থাকে কিন্তু ওনাদের বক্তব্য সেটি একেবারেই ভুল। পূজোর মাসটিকে এরা ‘দাশাঁইমাস’ বলে থাকেন অর্থাৎ দু:খের মাস । আদিবাসীদের আদিপুরুষ হুদুরদুর্গা ঘোরাসুর তথা মহিষাসুর বিদেশী আর্য নারী দ্বারা নিধনের ফলে ভূমিপুত্র আদিবাসীরা রাষ্ট্র ক্ষমতা হারিয়েছিল।

মহালয়ার মেলোড্রামায় যেমন দেখানো হয়, অসুর আ হা হা হা…একজন নারী, একজন নারী নাকি আমায় হত্যা করবে বলে তিড়িং বিড়িং করে নাচছে । বিষয়টি ঠিক তেমন নয় । আসল কথা হল আদিকালে যুদ্ধের কতকগুলো রুল বীর যোদ্ধারা ফলো করতেন । যেমন যোদ্ধা ছাড়া কারু গায়ে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হবে না । নারী এবং শিশুদের সঙ্গে যুদ্ধ করা হবে না । সূর্য ডুবে গেলে অস্ত্র সম্বরন করতে হবে । যার একটি আইনও মানেননি ‘মহারথি’ বলে  পরিচিতরা।  নাহলে কোনদিনই ভীষ্মকে হারাতে পারতেন না কাপুরুষ অর্জুন । রথের সামনে তিনি সেদিন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ শ্রীখণ্ডী কে খাড়া করেছিলেন যাতে ভীষ্ম অস্ত্রের ব্যবহার না করতে পারেন । মহামহিম ভীষ্ম অস্ত্র না ধরলেও অর্জুন তা করতে কসুর করেননি । বান বর্ষণে ধরাশায়ী করে সে কি বাবা গো মা গো ন্যাকা কান্না । মহাভারতে এভাবেই কোতল করা হয়েছিলো জয়দ্রথকে । সূর্য ডোবার ভান করিয়েছিলেন কৃষ্ণ । এনারা বাপের ব্যাটাও নন । পাড়ার বেচু মস্তান অন্তত দু চার খিস্তি আউরে বলে আয় কে আছিস সম্মুখ সমরে । ছিঃ । তো যা বলছিলাম ঘটনা হলো  মহিষাসুর বীরবিক্রমে আকাশ পাতাল এক করে ফেলেছেন, কোন বিদেশি যোদ্ধাই ভারতের আদিবাসী নেতা কে হারাতে পারছেন না । তখন ছল করে একজন মেয়েকে পাঠানো হয় । কোন মেয়েকে যুদ্ধে পাঠালে অসুর অস্ত্র ধরবেন না, সেই ফাঁকে তাকে খতম করা হবে । এই ছিল ফন্দি । তাই হয়েছিলো । আর্যপক্ষ যখন ছল চাতুরি করে, বিজয় উৎসবে মেতে উঠেছিল সেই সময় আদিবাসীরা বশ্যতা স্বীকার না করে মান বাঁচাবার উদ্দেশ্যে নারী ছদ্মবেশে ‘দাঁশাই’ নাচ ও ‘কাঠি নাচ’-এর মাধ্যমে সিন্ধু পাড় ছেড়ে আসাম, বঙ্গদেশ ও দক্ষিণ ভারতের বনে-জঙ্গলে আশ্রয় নেয় । মাতৃতান্ত্রিক সমাজের বাসিন্দা হিসাবে তাদের ধারনা ছিল তারা যেহেতু কোন নারীর গায়ে হাত তোলেন না, তেমনই নারীর ছদ্মবেশ ধরলে তারাও বেঁচে পালাতে পারবেন কিন্তু সেই পথে বহু মহিলাকে লাঞ্চিত হতে হয় আর্যদের হাতে।
এই ঘটনার স্মরণেই আজও আদিবাসী পুরুষরা মেয়েদের পোশাক পরে বুক চাপড়ে হায় হায় বলতে বলতে দশাই নাচ নাচেন । সরকার স্বীকৃত ৪০টি শিডিয়ুল ট্রাইব গোষ্ঠীর মধ্যে একটির নাম ‘অসুর’ সেকথাই এই বাংলার অনেকে জানেন না ।

আর একটা গল্পের কথা কোথাও কোথাও শোনা যায় । কোন ইতিহাস পাঠ্যে এটি নথিভুক্ত নয়, কিন্তু গানে- লোকাচারে- উৎসবে শোনা যায় । যে বৃদ্ধা কখনও ইস্কুলের চৌকাঠে পা দেননি তার স্মরণে অমলিন । প্রাচীনকালে এই দেশের নাম নাকি ছিল ‘বোঙ্গাদিশম’ । যার সম্রাট ছিলেন বোঙ্গাসুর বা মহিষাসুর । হুদুর শব্দের অর্থ বজ্র ধ্বনি । বজ্রের মতো প্রতাপ যার তার নাম ছিল হুদুর দুর্গা । মহাতেজ এই রাজার কাছে আর্যরা পর্যুদস্ত হন । কোনভাবেই যখন বোঙ্গাদিশম জয় সম্ভব হচ্ছে না তখন স্বর্গের অপ্সরা মেনকা কন্যা দুর্গাকে মহিষাসুর বধে পাঠানো হয় । কথিত আছে আর্যরা ভারতীয় আদিবাসী রাজাদের পরাজিত এবং নিহত করবার পরে তাদের স্ত্রী এবং নারীদের নিজেদের দুর্গে নিয়ে গিয়ে যথেচ্ছ যৌন নিগ্রহ করে তাদের দাসী বা নর্তকী তে পরিনত করতো । লক্ষ করুন, কোডগুলি, যেমনভাবে আমরা দেখেছি হারেম গড়ে উঠছে বিভিন্ন সম্রাটের প্রাসাদে তেমন করেই কিন্তু পতিতালয় তৈরি হয়েছিলো স্বর্গে (আর্যদের বাসস্থান)। পরবর্তী কালে এই সব হতভাগীকেই যুদ্ধের প্রকৌশল হিসাবে ব্যবহার করা হত । দুর্গাও তেমনই এক নারী । দেবতাদের (আর্য) পতিতালয়ে তিনি থাকতেন, তিনি প্রেমের ছলনা এবং যৌন সংসর্গ করে সুযোগ বুঝে মহিষাসুর কে হত্যা
করেন।
আজ আমরা বাপের মৃত্যুতে তা থৈ নাচছি । মহিষাসুর কি মোষরূপী অসুর ? বেশীর ভাগ মানুষ সদর্থক উত্তর দেবেন । আসলে যেমন করে ঢাক ঢোল পিটিয়ে কারণবারি খাইয়ে
সতীদাহকে লেজিটিমেট করা হয়েছিলো । তেমন করেই ঢাক বাদ্যি পিটিয়ে ধূপ ধুনো দিয়ে এক ইতিহাস  বিস্মরণের চক্রান্ত রচনা করেছেন বামুনরা । তারপর বেতার যন্ত্রের সহযোগিতায় একটা ফ্যান্টাস্টিক ক্যাম্পেনের মাধ্যামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে অশুভের নাশ কে । নতুন করে আজ একটা দাবী খুব জোরের সাথে উঠছে, আদিবাসী মানুষরা তুলছেন । তাদের বীর যোদ্ধা কে দুর্গার পায়ের তলা থেকে সরিয়ে নিতে হবে, কোন মূর্তিতে অসুর কে তারা নতজানু দেখতে রাজি নন । কারু ভাবাবেগে তারা আঘাত করতে চান না, কেউ যদি দুর্গা উপাসক হন,তিনি কেবলমাত্র দুর্গা মূর্তির পূজা করুন, কিন্তু পায়ের তলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক অন্য এক তিলকা মাঝি, সিধু কানহু কে…
Source: http://agamikal.com/?p=855


 

Share:

Durga Puja: celebration of a Santal king’s betrayal?

Editor’s note: Last year this time, the office of Dalit-Bahujan magazine Forward Press was raided on the complaint of hurting Hindu sentiments. Forward Press had published stories countering the mainstream narratives on Dussera/Durga Puja, essentially asserting that Mahisasura was an popular adivasi king who was killed by the brahminic Hindus by deception. The Asur tribe in Jharkhand has similar story to tell about its martyr Mahisasura. Here is a counter-narrative on Durga Puja from West Bengal –


It is the time of Durga Pujo, and the streets of Kolkata are filled with stunningly beautiful and creative images of the warrior goddess. I want to share with you, however, a story told by Santal musical genius Bajar Hembrom to Kunal Deb about the Dashoi festival, which Santals observe on the last day of Durga Pujo. Santal men dress as women, hide weapons under their clothes, and go about singing and dancing from village to village. The songs and dances are mournful and heavy. Bajar Hembrom is no more, but this is the story that he told, and, as you shall see, it is a powerful reminder of the expulsion of Adivasis from the bounty that was once theirs.

” A long, long time ago there was the Har kingdom on earth.That is, a Santhal Raj. Our king was Adur. He was also called Raja Debi. He was as famed for his governance–for the way he looked after his people–as for his heroism. He could fight a tiger with his bare hands; he could alone stop the rampages of crazed elephants. His soldiers too were very fierce. Nobody could beat them in battle. Raja Indra had been crushed many times in battle against him.
“But Indra too was not someone to give up. This time, in order to defeat Raja Debi and seize the Santal kingdom, he resorted to deceit and trickery. He sent the dancer Durga from his heavenly court to earth. One of her assistants put her on elephant back and sent her to the jungle palace of Raja Debi. Another of her helpers covered the skies with an intoxicatingly beautiful moonlight, yet another spread music in the air. A fourth filled the surroundings with dancing peacocks. In such a heady atmosphere, Durga had no difficulty in seducing Raja Debi with her beauty and dance.
“Not long after Raja Debi got married. His queen was Durga. She started sending news to Indra about when the raja slept, when he was unarmed, when festivals preoccupied his soldiers and commanders, and so on. Indra linked these snippets of intelligence with one another to formulate a plan. He decided the day and time, and one day he imprisoned Raja Adur in a sudden attack. The soldiers were taken by surprise and could not recover from that assault. Debi’s kingdom was easily seized. Our Santal ancestors lost their king and their kingdom. Everyone scattered where they could.
“The trusted guards and friends of the king started to look for their beloved monarch. Disguised as women, their weapons concealed, they wandered and danced in villages and towns, in many places, always searching. If they hear the faintest reply to their mournful song, from the imprisoned raja, out will come the weapons from under the feminine clothes of the warriors. They will fight and recover their lost kingdom. And when Raja Adur Debi returns, they will get back their Santal Raj, their lost wealth, their forests, their rivers, everything.
“The Dashoi dance is on the last day of Durga Puja. You worship Durga. We search for, we still search for, our lost Raja Debi. You call him Asur.”

–Translated from the Bengali essay Dhulo Megh Pathor Brishti by Kunal Deb.
  Source: http://www.indiaresists.com/durga-puja-celebration-santhal-kings-murder/



Share:
Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo