Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Monday, February 23, 2015

বিশ্বব্যাপী ইংরেজি ভাষার দাপটে শঙ্কিত জার্মানরা

ঢাকা, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
ইনকিলাব ডেস্ক : ইংরেজির ভাষার দৌরাত্ম্যে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে জার্মান ভাষা। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন জার্মানদের। সারাবিশ্বের সমস্ত ভাষাকে পিছু হটিয়ে দাপটের সাথে বিস্তার লাভ করে চলেছে ইংরেজি। অর্থনীতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সামাজিক গণমাধ্যম সবখানেই আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজির দৌরাত্ম্যে বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জার্মান ভাষার পাশাপাশি অন্য ভাষাগুলোও। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জার্মানদের অনেকেই আক্ষেপ করে বলেছেন, তাদের ভাষার এই করুণ পরিণতি এর আগে কখনো হয়নি। কেউ কেউ মনে করছেন, তাদের ভাষার ক্ষেত্রে ইংরেজির ক্রমপ্রসারমান আধিপত্যে এক সময় লোপ পাবে জার্মান ভাষা। ভাষা একটি চারাগাছের মত। ঠিকমত পরিচর্যা বা চর্চিত না হলে তা একসময় মরে যায়। ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে প্রচলিত ভাষাগুলোর প্রায় অর্ধেক বিলুপ্তির দারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। পৃথিবীর ৯০ শতাংশ জনগনের ব্যবহৃত প্রায় ৬ হাজার ভাষা ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিন বা ওয়েবসাইটগুলোতে পাওয়া যায় না। ইংরোজি এবং গুটিকয় ভাষা ছাড়া এককথায় ডিজিটাল দুনিয়াতে এগুলোর কোন অস্তিত্বই নেই। ইউনেস্কো বিষয়টিকে বিশ্বের ভাষাগত বৈচিত্রের ক্ষেত্রে একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। গত ১শ বছরে নিউজ, টক, ফান, শো অথবা লাভ এর মত ইংরেজি শব্দগুলো চারশো বছর ধরে জার্মানদের মার্জনা অর্জন করলেও ডিজিটালযুগের ইংরেজি শব্দগুলো মেনে নিতে নারাজ তারা। তাই সচেতন জার্মানরা যার যার মাতৃভাষা রক্ষা করতে নিজস্ব ভাষা এবং এর উপভাষাগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ডয়েচে ভ্যালে।
See more at: http://www.dailyinqilab.com/2015/02/23/241956.php
Share:

Sunday, February 22, 2015

ভাষার দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা

সালেক খোকন

ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৫
সুখদেব পাহানের বয়স তখন ছয়। বাবার ইচ্ছে, ছেলে তার সঙ্গে কাজে যাবে, সংসারে আসবে বাড়তি আয়। কিন্তু ছেলেকে নিয়ে মা ভারতী পাহানের স্বপ্নটা ভিন্ন; বই হাতে ছেলে যাবে স্কুলে, শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে। তখন কেউ আর তাকে ঠকাতে পারবে না। সমাজে পাহানদের সম্মান বাড়বে। আর শিক্ষার আলো ছড়াবে সুখদেব।
দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী গ্রাম গোদাবাড়ী। সুখদেবরা ছাড়াও এ গ্রামে বাস করেন পঁচিশটি মুণ্ডা পাহান পরিবার। এরা কথা বলেন ‘সাদরি’ ভাষায়। এ ভাষাতেই মায়ের ঘুমপাড়ানি গান আর বাবার বকুনি খেয়ে বেড়ে উঠেছে সুখদেব। রাত-দিন মায়ের মুখের কথা আর উৎসব-আনন্দে আদিবাসী গানের সুরের মাঝেই সে খুঁজে পায় তার মাতৃভাষা।

কড়া নৃগোষ্ঠীর শিশুরা
কড়া নৃগোষ্ঠীর শিশুরা
মায়ের ইচ্ছা প্রাধান্য পায়। সুখদেবকে স্কুলে পাঠাতে সম্মতি দেন বাবা খোসকা পাহান। বুকভরা আশা নিয়ে ছেলেকে ভর্তি করান স্থানীয় কালিয়াগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সুখদেব হেসে খেলে বড় হচ্ছিল যে ভাষার আলিঙ্গনে, মায়ের সে ভাষা খুঁজে পায় না বিদ্যালয়ে। সেখানে ছাত্র বা শিক্ষক কেউ কথা বলে না তার প্রিয় ‘সাদরি’ ভাষায়। চারপাশের সকলেই বাংলা ভাষাভাষী। বাংলা তার কাছে অপরিচিত, অন্য জাতির ভাষা। তাই প্রথম দিনেই দুরন্ত সুখদেবের শিশুমনে ছন্দপতন ঘটে। তার সব আনন্দ, হাসি উবে গিয়ে মনের ভেতর জায়গা করে নেয় অজানা আতঙ্ক। শিক্ষালাভ করতে এসে শিশু বয়সেই বাংলা ভাষা তার ওপর আরোপিত হয়।
একে তো ভাষার ভীতি, তার ওপর ক্লাসের বন্ধুদের আচরণে সুখদেব একেবারেই মুষড়ে পড়ে। আদিবাসী বলে তাকে বসতে হয় আলাদা এক বেঞ্চে। কেউ তার বন্ধু হতে চায় না। সবাই তাকে আড়চোখে দেখে। ফলে স্কুলে তার ভাব বিনিময়ের পথও হয় রুদ্ধ।
ক্রমেই স্কুলে যাওয়া তার কাছে রীতিমতো ভয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। প্রথম পরীক্ষাতেই ফেল করে সে। বিদ্যালয়ের দুর্বল ছাত্রদের তালিকায় নাম ওঠে সুখদেবের। কেউ জানতেও পারে না তার পিছিয়ে পড়ার কারণ। কিছুদিনের মধ্যেই সে হারিয়ে ফেলে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ। পড়াশুনায় ইতি। অতঃপর বাবার হাত ধরে শুরু হয় কাজে যাওয়া।
দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী আরেকটি গ্রাম ঝিনাইকুড়ি। এই গ্রামেই ‘কড়া’ নৃগোষ্ঠীর বাস। গোটা দেশে টিকে আছে ওদের মাত্র ১৯ পরিবার। হারিয়ে যাচ্ছে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস। শিতা কড়া আর কোলো কড়ার আদরের সন্তান কৃষ্ণ কড়া। শিশু কৃষ্ণ ভর্তি হয় নিকটবর্তী রাঙ্গন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রথম দিনেই যেন সে সাগরে পড়ে। তার মায়ের ভাষায় বিদ্যালয়ের কেউ কথা বলে না। সকলেই বাঙালি। জাত যাওয়ার ভয়ে কৃষ্ণকে এড়িয়ে চলে সবাই। অবজ্ঞা আর অবহেলায় কষ্ট পায় সে। কিন্তু মায়ের উৎসাহে সাহস হারায় না সে। অজানা বাংলা ভাষা বুঝে পরীক্ষায় পাশ করা– সে এক দুরুহ ব্যাপার! তাই পাশ ফেলের মধ্যেই কেটে যায় তার ৮টি ক্লাস।
সাঁওতাল শিশুরা
সাঁওতাল শিশুরা
হালুয়াঘাটের আচকিপাড়ার গারো নারী সুমনা চিসিম। পেশায় এনজিও কর্মকর্তা। লেখাপড়ায় হাতেখড়ি নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরের বিরিশিরি মিশন স্কুলে। স্কুলে গিয়ে সুমনাও খুঁজে পাননি নিজের মায়ের ভাষা। ফলে প্রথম দিনেই ভড়কে যান তিনি। তাঁর ভাষায়. ‘‘আমার ক্লাস টিচার ছিলেন একজন বাঙালি। ক্লাসে পড়া জিজ্ঞেস করলে, ভাষা বুঝতে না পারায় সঠিক উত্তর দিতে পারতাম না। টিচারদের ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করতাম। এ নিয়ে সবাই হাসাহাসি করত। ‘তুমি’ ও ‘আপনি’র ব্যবহার জানা ছিল না। প্রথম প্রথম বাংলা ভাষা না জানার কারণে নিজেও ছিলাম অন্ধকারে।’’
আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া ওপরের চিত্রগুলোতে নারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের বাস্তব অবস্থা খানিকটা ফুটে উঠেছে। কিন্তু সার্বিকভাবে এ চিত্র আরও করুণ।
শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে মাতৃভাষার ভূমিকাই প্রধান। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘‘শিক্ষা ক্ষেত্রে মাতৃভাষা হচ্ছে মায়ের দুধের মতো। নিজেকে প্রকাশে মাতৃভাষা দেয় সকালে সূর্যের দিগন্তবিস্তারী আলো।’’
কিন্তু এদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য নেই তাদের নিজেদের ভাষায় পুস্তক কিংবা তাদের ভাষাভাষী শিক্ষক। ফলে এসব জনগোষ্ঠীর শিশুরা নিঃশব্দে বঞ্চিত হচ্ছে মাতৃভাষার সেই দিগন্তবিস্তারী আলো থেকে।
শিক্ষার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ভাষা। এই ভাষাই যদি শিশুর কাছে দুর্বোধ্য ও ভীতিকর হয়, তবে প্রথমেই শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। আমাদের দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষার শুরুতেই বোঝার মতো চেপে বসছে বাংলা ভাষা। ফলে বিকশিত না হয়ে অঙ্কুরে বিনষ্ট হচ্ছে ওই শিশুদের স্বপ্ন। বাঙালি সমাজের কোমলমতি শিশুরা যখন শিক্ষার শুরুতেই বিদ্যালয়ে আনন্দ-হাসির মধ্যে নিজের মাতৃভাষায় ছড়া কাটছে, নিজের ভাষায় ভাব জমিয়ে অন্য শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে, তখন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা নিরবে চোখের জল ফেলে বেরিয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয় থেকে। অথচ এদেশের মানুষই মাতৃভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে। প্রতিষ্ঠা করেছে নিজের বর্ণমালা। বাঙালি জাতির সে ইতিহাস আজ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে।
চাকমা ভাষার বর্ণমালা
চাকমা ভাষার বর্ণমালা
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের ২৩ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয় প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের।
আমাদের ভাষা দিবস আজ সারা বিশ্বের মাতৃভাষা দিবস। কিন্তু ভাষার জন্য রক্ত দেওয়া শহীদদের এদেশে রক্ষা পাচ্ছে না অন্য জাতির মাতৃভাষাগুলো, শিশুরাও বঞ্চিত হচ্ছে মাতৃভাষায় শিক্ষালাভ থেকে। এ যেন প্রদীপের নিচে অন্ধকার!
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ১৯৫৭ সালের ৫ জুন ৪০তম অধিবেশনে ১০৭ নং কনভেশনে আদিবাসী ও উপজাতীয় ভাষা বিষয়ে প্রাধান্য দিয়ে কিছু নীতিমালা তৈরি করে এবং এ কনভেশনে বাংলাদেশ স্বাক্ষরকারী অন্যতম দেশ। কনভেশনের অনুচ্ছেদ ২১-এ উল্লেখ রয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সদস্যদের জাতীয় জনসমষ্টির অবশিষ্ট অংশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সকল স্তরে শিক্ষা অর্জন করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’
অনুচ্ছেদ ২৩(১)এ উল্লেখ রয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েদের তাদের মাতৃভাষায় পড়তে ও লিখতে শিক্ষা দান করতে হবে। কিংবা যেখানে এটা সম্ভব নয়, সেখানে তাদের সমগোত্রীয়দের মধ্যে সাধারণভাবে বহুল প্রচলিত ভাষায় শিক্ষা দান করতে হবে।’
অনুচ্ছেদ ২৩(২)এ উল্লেখ রয়েছে, ‘মাতৃভাষা বা আদিবাসী ভাষা থেকে জাতীয় ভাষা কিংবা দেশের একটি অফিসিয়াল ভাষায় ক্রমান্বয়ে উত্তরণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
মারমা ভাষার বর্ণমালা
মারমা ভাষার বর্ণমালা
এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার স্বাক্ষরিত ‘আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ’এর ৩০ নং ধারায় উল্লেখ রয়েছে, ‘যেসব দেশে জাতিগোষ্ঠীগত, ধর্মীয় কিংবা ভাষাগত সংখ্যালঘু কিংবা আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোক রয়েছে, সেসব দেশে ওই ধরনের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত বা আদিবাসী শিশুকে সমাজে তার নিজস্ব সংষ্কৃতি ধারণ, নিজস্ব ধর্মের কথা ব্যক্ত ও চর্চা করা, তার সম্প্রদায়ের অপরাপর সদস্যদের সঙ্গে ভাষা ব্যবহার করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।’
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ‘খ’এর ৩৩ নং ক্রমিকের খ (২) নং উপ-অনুচ্ছেদে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া ২০১০ সালে চালু হওয়া জাতীয় শিক্ষানীতিতে আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আদিবাসী শিশুরা যাতে নিজেদের ভাষা শিখতে পারে সেই লক্ষ্যে তাদের জন্য আদিবাসী শিক্ষক ও পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা করা হবে। সে অনুসারে একটি জাতীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছিল ২০১২ সালে। পরে ২০১৩ সালে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, সাদরি ও গারো শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা আরম্ভ করার সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৪ সালে কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও এখনও সরকারিভাবে তা শুরু করা হয়নি।
অন্যদিকে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষার দিকে যদি আমরা দৃষ্টি দিই তাহলে দেখব, অনেক ভাষাই আজ হারিয়ে যাচ্ছে। সরকারিভাবে তা সংরক্ষণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে কোচ ও রাজবংশীদের ভাষা বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। প্রায় পুরো বিলুপ্ত হয়ে গেছে কুড়ুখ ও নাগরি ভাষা।
রাখাইন ভাষার বর্ণমালা
রাখাইন ভাষার বর্ণমালা
একাধিক তথ্য মতে, এদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৪টি ভাষা পরিবারে প্রায় ৩০টির অধিক ভাষা রয়েছে। এ সব ভাষাকে মূলত ৪টি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়। অস্টো-এশিয়াটিক, তিব্বতি- চীন, দ্রাবিড়, ইন্দো-ইউরোপীয়। বাংলাদেশে অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষাসমূহ আবার মোন-খমের ও মুণ্ডারি দুটি শাখায় বিভক্ত। মোন-খমের শাখার অন্তর্ভুক্ত খাসি ভাষা। সাঁওতালি ও মুণ্ডা ভাষা দুটিই মুণ্ডারি শাখার অন্তর্ভূক্ত। উভয় ভাষারই নিজস্ব হরফ নেই। তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রঘুনাথ মুর্মু ‘অলচিকি’ নামে সাঁওতাল বর্ণমালা তৈরি করেন এবং তা সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে।
চীনা-তিব্বতি ভাষাসমূহ আবার কয়েকটি শাখায় বিভক্ত। মান্দি বা গারো, ককবোরক (ত্রিপুরা), লিঙ্গাম, পাত্র বা লালং, কোচ, রাজবংশী প্রভৃতি ভাষাসমূহ বোডো শাখার মধ্যে পড়ে। মণিপুরী, লুসাই, বম, খেয়াং, খুমি, ম্রো, পাংখো প্রভৃতি ভাষাগুলো কুকি-চীন শাখাভুক্ত। রাখাইন, ওরাওঁদের কুড়ুখ, পাহাড়িয়া ও মাহালি ভাষা দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের। রাখাইন ভাষা অত্যন্ত প্রাচীন ও সমৃদ্ধ একটি ভাষা। রাখাইন ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে। ওরাওঁদের কুড়ুখ ভাষাটি আদি ও কথ্য ভাষা, যা এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।
বাংলা ছাড়াও বাংলাদেশে ইন্দো-আর্য পরিবারভুক্ত ভাষাগুলোর মধ্যে চাকমা ভাষা এবং সাদরি ভাষা রয়েছে। মণিপুরীদের বিষ্ণুপ্রিয়া, হাজং প্রভৃতি ভাষাও এই শ্রেণিভুক্ত।
ভাষা বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে প্রতি দুই সপ্তাহে হারিয়ে যাচ্ছে একটি ভাষা। বিলুপ্তপ্রায় এসব ভাষা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেছে ইউনেসকো। সে বিবেচনায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মাতৃভাষা সংরক্ষণের বিষয়টি অতি দ্রুত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।
আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ভাষা রক্ষা কিংবা তাদের শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের প্রসঙ্গ এলেই প্রশ্ন ওঠে বর্ণ নিয়ে। মজার বিষয় হল, বিশ্বজুড়ে সর্বাধিক প্রচলিত ইংরেজি ভাষারও নেই নিজস্ব বর্ণ। ইংরেজি বর্ণগুলো রোমান হরফ থেকে নেওয়া। তাছাড়া চাকমা, মারমা, রাখাইন, সাঁওতাল, ত্রিপুরা, ম্রো. বম, গারো, খাসিয়া, হাজং, মণিপুরি, ওরাওঁ, মুণ্ডাসহ ১৫টি আদিবাসী ভাষায় লিখিত রচনা এখনও রয়েছে। ভাষা রক্ষা কার্যক্রমে যা সহায়ক হতে পারে।
ত্রিপুরা ভাষার বর্ণমালা
ত্রিপুরা ভাষার বর্ণমালা
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আইনে (২০১০) উল্লেখ আছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও ক্ষুদ্র জাতিসমূহের ভাষা সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং যে সব জাতিগোষ্ঠীর ভাষার লেখ্যরূপ নেই, সে সব ভাষার লেখ্যরূপ প্রবর্তন করা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ২০১০ সাল থেকে সে লক্ষ্য সামনে রেখেই যাত্রা শুরু করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
সরকার সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে নানামুখী প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ এ দেশে মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশু স্কুলে যাচ্ছে। যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ না পাওয়ার কারণে ঝরে পড়ে। তাই প্রয়োজন অতি দ্রুত এই জনগোষ্ঠীগুলোর ভাষা রক্ষার পাশাপাশি তাদের শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের উদ্যোগ গ্রহণ। পাশাপাশি দরকার প্রত্যেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাসের এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপন এবং সেখানে বাধ্যতামূলভাবে তাদের নিজস্ব ভাষার শিক্ষকদের নিয়োগদান।
একুশে ফেব্রুয়ারি সকল মানুষের কথা বলে। তাই আমরা চাই, ভাষার এ দেশে রক্ষা পাক অন্য সব জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা। রক্ত দিয়ে মাতৃভাষা বাংলাকে টিকিয়ে রাখার গৌরবময় ইতিহাসের উত্তরাধিকারীদের এ দেশে সব শিশু তাদের চিরচেনা, চিরআপন মায়ের ভাষায় শিক্ষার সুযোগ পাক।
ছবি ও ভিডিও: সালেক খোকন।
সালেক খোকন: লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক।
Share:

একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন ও মাতৃভাষা চর্চা

বদরুদ্দীন উমর প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ 
একুশে ফেব্রুয়ারি এখন সব ধরনের মধ্যবিত্ত সুবিধাবাদী ও সুবিধাভোগীদের বাংলা ভাষার জন্য কুম্ভীরাশ্রু বর্ষণের দিবস। ছাত্রছাত্রী, তরুণ-তরুণীদের মুখমণ্ডল, হাতে রং-তুলিতে ক খ গ ঘ এঁকে বাংলা ভাষার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের দিবস। বর্ণমালা, শহীদ মিনারসহ নানা ধরনের ছাপ মারা কাপড় পরে উৎসবে মত্ত হওয়ার দিবস। মাথায় পট্টি বেঁধে ঘোরাফেরার দিবস। কিছু ধরাবাঁধা কথার চর্বিত চর্বণ করে বুদ্ধিজীবীদের শূন্যগর্ভ বক্তৃতার দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলা ভাষার জন্য তাদের হায় হায় করার দিবস। ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপিত হতো প্রতিরোধ ও সংগ্রামের দিবস হিসেবে। সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়ে ভাষা আন্দোলন বিকশিত হয়েছিল রাজনৈতিক আন্দোলনে। তখন একুশে ফেব্রুয়ারির রাজনৈতিক পরিচয় ছিল খুব উচ্চারিত। একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ছাত্রছাত্রী, তরুণ-তরুণীরা নিজেদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে বের করতেন অসংখ্য একুশে ফেব্রুয়ারি সংকলন, যাতে থাকত তাদের নিজেদের লেখা। সেগুলোর মধ্যে থাকত গম্ভীরতা, যা সংগ্রামের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।


একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনে তখন জনগণের উদ্যোগ ও প্রাধান্যই ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সব অনুষ্ঠানের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ থাকত জনগণের নানা সংগঠনের। তাতে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকত না। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের পর ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট সরকার এবং পরে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ একুশে উদযাপনের ক্ষেত্রে ছিল না, যদিও সে উপলক্ষে সরকারি অনুষ্ঠানও হতো। কিন্তু ১৯৭২ সাল থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন দাঁড়াল অন্যরকম। আগে যেখানে এ দিবসটি ছিল প্রতিরোধ ও সংগ্রামের এক রাজনৈতিক দিবস, তাকে ঘোষণা করা হল শোক দিবস। বলা হল, স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিষ্প্রয়োজনীয়। কাজেই এ দিবস পালন করা দরকার শোক দিবস হিসেবে। শোকের মধ্যে যে প্রতিরোধ বা সংগ্রামের কোনো প্রেরণা বা উপাদান থাকে না, তা বলাই বাহুল্য। একুশে ফেব্র“য়ারির ভোরবেলা ঢাকাজুড়ে যে প্রভাতফেরি বের হতো গান গেয়ে গেয়ে, তা বাস্তবত উঠে গেল এক সরকারি সিদ্ধান্তে। ভোরবেলার পরিবর্তে মধ্যরাতে, বারোটার সময়, শুরু হল প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। প্রভাতফেরি নামে এখন যা চালিয়ে দেয়া হয় তার সঙ্গে আগেকার প্রভাতফেরির কোনো মিল আর থাকল না। ১৯৭২ সাল থেকে একুশে উপলক্ষে ছাত্রছাত্রী, তরুণ-তরুণীদের সংকলন প্রকাশের রেওয়াজ উঠে গেল। নামে শোক দিবস হলেও একুশে ফেব্র“য়ারি পরিণত হল এক বিচিত্র উৎসবে। সরকারি তৎপরতার মাধ্যমে একুশে ফেব্রুয়ারির সংগ্রামী ঐতিহ্য হারিয়ে গেল।

বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেন, তাদের শ্রেণী চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এই পরিবর্তন ছিল সঙ্গতিপূর্ণ। ভোলার উপায় নেই যে, স্বাধীন বাংলাদেশে লুটপাট, চুরি-দুর্নীতি, মিথ্যাচার, প্রতারণা ও তার প্রয়োজনে সন্ত্রাসের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল নব্য শাসকশ্রেণীর শাসন। এই শাসনে শুধু যে মানুষের নৈতিক চরিত্রের দ্রুত অবক্ষয় শুরু হল তাই নয়, তার সঙ্গে দেখা দিল সমাজে অপরাধ প্রবণতা ও অপরাধের বিস্তার। সমাজবিষয়ক চিন্তার পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থ চিন্তা হল নতুন শাসকশ্রেণীর ছত্রছায়ায় গড়ে উঠতে থাকা নব্য মধ্যবিত্ত ও নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক চিন্তাভাবনার নিয়ামক। গম্ভীর চিন্তার পরিবর্তে স্থূলতা ও লঘুত্বই আচ্ছন্ন করল বাংলাদেশের সমগ্র মধ্যশ্রেণীর ভাবনার জগৎকে। এর পরিণতিই আমরা দেখছি বর্তমান পরিস্থিতিতে। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রতিদ্বন্দ্বী দিবস হিসেবে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসের আবির্ভাব, চিন্তা-চেতনার অবক্ষয় এবং গম্ভীরতার পরিবর্তে ফুর্তির প্রতি নতুন প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান আকর্ষণ এই পরিণতির একটা উল্লেখযোগ্য দিক।

হঠাৎ করে এখন দেখা যাচ্ছে মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনের সময় বাংলাদেশের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষার প্রতি দরদ! শোনা যাচ্ছে সব মাতৃভাষার সমান অধিকারের কথা!! আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শুধু বাংলার প্রতি নয়, অন্যান্য ভাষার বিকাশও যে প্রয়োজন এ বিষয়টি আমলে আনার কারণেই এসব কথা শোনা যাচ্ছে। কোনো কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবসা জমানোর চেষ্টাও করছে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে খোদ বাংলা ভাষাই যেখানে উপেক্ষিত, বাংলা ভাষা চর্চা যেখানে সংকটের সম্মুখীন, বাংলা ভাষার দুরবস্থার কথা বলে যেখানে লেখক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা হায় হায় করছে, সেখানে অন্য ভাষার চর্চা এবং উন্নতির কথা ভণ্ডামি ও ভাঁওতাবাজি ছাড়া আর কী? এটা এক ভণ্ডামি এ কারণও যে, বাংলাদেশের শাসক শ্রেণী প্রথম থেকেই এ দেশে বসবাসরত অন্যান্য জাতিসত্তার প্রতি শত্র“তামূলক আচরণই করে এসেছে এবং এখনও করছে। এই উগ্র জাতীয়তাবাদী শাসকরা এখন নির্দেশ জারি করেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের সঙ্গে বিদেশীরা তো বটেই, এমনকি বাঙালি পর্যন্ত কথাবার্তা বা আলাপ-আলোচনা স্বাধীনভাবে করতে পারবে না! সেনাবাহিনী বা প্রশাসনের লোকদের উপস্থিতিতেই সেটা করতে হবে!! ১৯৭২ সালেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামের নেতা সংসদ সদস্য মনিরেন্দ্র লারমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, বাঙালি ছাড়া অন্য কারও স্থান বাংলাদেশে নেই। সবাইকেই বাঙালি হয়ে যেতে হবে!!! ওপরে যে সরকারি নির্দেশের কথা উল্লেখ করা হল, সে নির্দেশ যে শেখ মুজিবের এই ঘোষণার সঙ্গে ষোল আনা সঙ্গতিপূর্ণ এটা বলাই বাহুল্য।

ভাষার অধিকার মানুষের অন্যান্য অধিকারের সঙ্গেই সম্পর্কিত। কাজেই যেখানে বাঙালি ছাড়া অন্য কোনো জাতি বা জাতিসত্তার কোনো স্বতন্ত্র অস্তিত্বেরই স্বীকৃতি নেই, যেখানে তাদের জীবন ও জীবিকার কোনো নিরাপত্তা নেই, যেখানে তাদের জমিজমা ও ভিটেমাটি দখলের এক মহোৎসব দেখা যাচ্ছে শাসক শ্রেণীর রাজনৈতিক দল ও তাদের সঙ্গে সম্পর্কিতদের দ্বারা, সেখানে তাদের মাতৃভাষা চর্চা, মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার কথা বলা এক চরম ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ধাপ্পাবাজিই এখন জোরেশোরে শুরু হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা ও মারমা ভাষাই তুলনায় কিছু উন্নত, যদিও তার বিকাশ অনেক আগে থেকেই রুদ্ধ। মাতৃভাষায় শিক্ষার জন্য চাই সে ভাষায় বইপত্র, অন্তত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বইপত্র। চাকমা ও মারমা ভাষায় সে রকম বইপত্র আজ পর্যন্ত নেই। তার কোনো চেষ্টাও সরকারিভাবে হয়নি এবং এক্ষেত্রে সরকারি নীতি, পরিপ্রেক্ষিতে কোনো বেসরকারি উদ্যোগও দেখা যায় না। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে লাখ লাখ সাঁওতালের বসবাস। বাংলাদেশে সাঁওতালী ভাষার চর্চা না হলেও ভারতে সাঁওতালী ভাষার লিপি আছে, রোমান ও বাংলালিপিতে সেখানে সাঁওতালী ভাষার বইপত্র পাওয়া যায়। বিহার ও পশ্চিম বাংলায় অনেক স্কুলে সাঁওতালী ভাষার মাধ্যমে শিক্ষাও দেয়া হয়। এই সুবিধাজনক অবস্থায় বাংলাদেশে সাঁওতালী ভাষা চর্চার অনেক সুযোগ আছে। কিন্তু সে সুযোগ থেকে সাঁওতালরা সরকারি নীতি অনুযায়ীই বঞ্চিত। যেখানে তাদের জীবন-জীবিকার কোনো নিশ্চয়তা নেই, যেখানে তাদের জমিজমা ও ভিটেমাটির ওপর আক্রমণ এই মুহূর্তেও অব্যাহত আছে, সেখানে মাতৃভাষায় সাঁওতালদের শিক্ষা দান ব্যবস্থার কথা বলা এক বড় ভণ্ডামি এবং লোক দেখানো ব্যাপার ছাড়া আর কী?

 বাংলা ভাষার যে দুরবস্থার কথা এখন শাসক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীরাও বলছেন, তার জন্য হায় হায় করছেন, সে অবস্থা বাংলাদেশের জনগণের দুর্নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। কারণ ভাষা এবং ভাষা চর্চা আকাশের ব্যাপার নয়। মাটির সঙ্গে, মানুষের জীবনের সঙ্গেই তার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। কাজেই বাংলাদেশে বাংলা ভাষার দুরবস্থার জন্য এ দেশের জনগণের অবস্থা, এ দেশে শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থার দিকে ঠিকমতো তাকাতে হবে। কিন্তু এসব নিয়ে হায় হায় করার উৎসাহ লেখক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীদের যত আছে, এই দুরবস্থার কারণ বিশ্লেষণ ও চিহ্নিত করার কোনো ইচ্ছা ও ক্ষমতা এদের নেই। কারণ সে কাজ করতে গেলে এটা পরিষ্কার ধরা পড়বে যে, এর জন্য এই লেখক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা এবং এরা যে শাসক শ্রেণীর সঙ্গে সম্পর্কিত, তারাই দায়ী। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হওয়ার আশংকাই এদেরকে এ প্রচেষ্টা থেকে বিরত রাখে।
২১.০২.২০১৫
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল 

See more at: http://www.jugantor.com/sub-editorial/2015/02/22/224532
Share:

Tuesday, February 10, 2015

বিলুপ্তপ্রায় ‘রেংমিটসা’ ভাষার শেষ ৩০ জন!

বান্দরবানে ‘রেংমিটসা’ নামে বিলুপ্তপ্রায় একটি ভাষা খুঁজে পাওয়া গেছে। এই ভাষায় কথা বলা ৩০ জন মানুষেরও সন্ধান মিলেছে। তবে তাঁরা সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে ম্রো ভাষায় কথা বলেন। তাঁদের বংশধরেরাও এই ভাষা জানে না। গবেষকদের আশঙ্কা, এখন পর্যন্ত যে ৩০ জনের খোঁজ মিলেছে, তাঁদের মৃত্যু হলে রেংমিটসা ভাষাও বিলুপ্ত হবে।
ভাষা-গবেষক যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজের লিঙ্গুইস্টিকস অ্যান্ড কগনিটিভ সায়েন্সের অধ্যাপক ডেভিড এ পিটারসন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে বান্দরবানের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে গবেষণা করছেন।
ডেভিড এ পিটারসন জানান, ১৬ বছর ধরে খুমি, খিয়াং, বম ও ম্রো আদিবাসী ভাষা নিয়ে কাজ করার সময় তিনি ম্রোদের সঙ্গে মিশে যাওয়া রেংমিটসাভাষীদের খুঁজে পান। তাঁরা নিজেদের ম্রো পরিচয় দিলেও তাঁদের ভাষা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। এ ভাষার সঙ্গে খুমি ভাষার কিছুটা মিল আছে। ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৩০ জন নারী-পুরুষ ছাড়া এ ভাষা এখন আর কেউ জানে না।


আলীকদমের রেংমিটসাভাষী রেংপুং ম্রো (৬২), কুনরাও ম্রো (৫৬) বলেন, তাঁরা এখন নিজেদের ম্রো পরিচয় দিয়ে থাকেন। রেংমিটসা ভাষার মানুষ সংখ্যায় কম। ম্রোদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকায় তাঁদের ছেলেমেয়েরা এখন কেউ রেংমিটসা ভাষা জানে না। তাঁদের পরিবারের সবাই ম্রো ভাষায় কথা বলে।
পার্বত্য বান্দরবানে সবচেয়ে অনগ্রসর কিন্তু আদিবাসীদের মধ্যে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ম্রো আদিবাসীদের নিয়ে ষাটের দশকে গবেষণা করেছেন জার্মান ভাষাবিদ লরেন্স জি লোফলার এবং ক্লাউস ডিটার ব্রাউনস। আশির দশকে তাঁদের প্রকাশিত দ্য ম্রো গ্রন্থে রেংমিটসা সম্পর্কে লেখা হয়, আরাকান থেকে খুমিদের সঙ্গে ছোট একটি দল বান্দরবানে আসে। তারা ছিল রেংমিটসাভাষী। পরে তারা মাতামুহুরী নদীর উজানের ম্রোদের সঙ্গে প্রায় মিশে যায়।
গত ১১ জানুয়ারি ডেভিড পিটারসন বান্দরবান প্রেসক্লাবে রেংমিটসা ভাষাভাষী চারজন নারী-পুরুষকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নায়রা খানও উপস্থিত ছিলেন।
নায়রা খান জানান, ষাটের দশকে রেংমিটসাভাষীদের প্রথম খুঁজে বের করেন জার্মান ভাষাবিদ লরেন্স জি লোফলার। এরপর এ ভাষা নিয়ে আর খুব একটা কাজ হয়নি। দেড় দশক ধরে মার্কিন গবেষক ডেভিড এ পিটারসন বান্দরবানের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বিপন্নপ্রায় এই ভাষার মানুষকে আবারও খুঁজে বের করেন। এখন পর্যন্ত এই ভাষার যে ৩০ জনকে খুঁজে পাওয়া গেছে, তাঁদের সবার বয়স ৫০-এর ওপর। তবে তাঁরা ভাষাটি জানলেও কথা বলেন ম্রো ভাষায়। সন্তানেরা না শেখায় তাঁদের মৃত্যুর পর ভাষাটি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে ডেভিড বলেন, জার্মান ভাষাবিদ লরেন্স জি লোফলারের একটি নিবন্ধ থেকে প্রথম রেংমিটসা ভাষা সম্পর্কে জানতে পারেন। এর পর থেকে এ নিয়ে গবেষণা করছেন। খুমি ও খিয়াং ভাষায় অভিধান ও ব্যাকরণ লিখেছেন তিনি। এখন ম্রো ও রেংমিটসা ভাষা নিয়ে কাজ করছেন।
ম্রো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ইতিহাস গবেষক সিংয়ং ম্রো বলেন, রেংমিটসা আলাদা ভাষা। এই ভাষাভাষীরা আলাদা জনগোষ্ঠী। সংখ্যায় কম হওয়ায় তারা এখন ম্রোদের সঙ্গে মিশে গেছে। একসময় এই ভাষাভাষীরা নিজেদের রেংমিটসা হিসেবে পরিচয় দিত। সম্ভবত আরাকানে তারা ম্রো-খুমি পরিচয় দিয়ে থাকে এবং সেখানে এ ভাষার আরও লোকজন থাকতে পারে।
ূগজপডে: http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/448057/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC-%E2%80%98%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%82%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E2%80%99-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7-%E0%A7%A9%E0%A7%A6-%E0%A6%9C%E0%A6%A8
Share:

ভাষার রাস্তায় কতটা এগোলাম আমরা?

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম| আপডেট:




২.
যে জাতির ভাষায় শৃঙ্খলা নেই, সৌন্দর্য নেই। তার কাজকর্মেও কোনো শৃঙ্খলা অথবা সৌন্দর্য থাকে না। যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে মনের ভাবটি প্রকাশ করতে অপারগ, তার পক্ষে বড় কল্পনা করা এবং সৃজনশীলতার উচ্চতায় যাওয়াটা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
আমরা যে বাংলা বলি, তা এক বিপন্ন প্রজাতির বাংলা। এর ভিত্তি দুর্বল, এটি মার খায় ইংরেজির কাছে। আজকাল হিন্দিও ঢুকছে বাংলায়, বোধ করি উর্দুও। বিয়ের শাড়ি যেদিন বদলে লেহেঙ্গা হয়ে গেল, গায়েহলুদের অনুষ্ঠান হয়ে গেল মেহেন্দি মাহফিল, সেদিন আমরা নিজেদেরই যেন একটা বাণী দিলাম: ভাষা নিয়ে আমাদের একটা আবেগ আছে বটে, কিন্তু ভাষা নিয়ে কোনো পরিশ্রম করতে আমরা রাজি নই। আরও একটা বাণীও আমরা নিজেদের শোনালাম: আমরা সৃজন থেকে অনুকরণে বেশি পারদর্শী। অনুকরণটা আবার তৃপ্তির হয়, যদি তা হয় টেলিভিশনে ভেসে আসা চটকদার কোনো কিছুর।
ভাষার রাস্তাটা তৈরি করে দিয়েছিলেন আমাদের ভাষাশহীদেরা। স্বাধীনতা তাকে রাজপথে পরিণত করল। কিন্তু এই রাজপথ আরও প্রশস্ত ও মসৃণ করতে আমাদের যেসব উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল, তা আমরা নিইনি। অপব্যবহারে এর পিচ নষ্ট হয়ে খোয়া বেরিয়ে গেছে। এখন ইংরেজির আলকাতরা দিয়ে ঢেকে কতটা একে চলাচলযোগ্য করা যায়?
ষাটের দশকে যেভাবে এগোচ্ছিলাম আমরা, ভাষার রাস্তা দিয়ে, সে রকম এগোনোর ইচ্ছাটাও যেন এখন নেই। বাংলা ভাষা এখন শ্রীহীন হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য সব ভাষার ক্ষেত্রে। আমাদের প্রতিবাদের বা রাজনীতির ভাষাও তো এখন বর্ষায় মুগদাপাড়া অথবা নূরেরচালার পানিকাদা জমা, আবর্জনা উপচে পড়া রাস্তার মতো।
একটা আরেকটাকে টেনে তোলে। আমরা যদি আমাদের মাতৃভাষাটা সেভাবে ব্যবহার করতাম, যেমন করে চেকরা অথবা জাপানিরা করে তাদের ভাষাটি, তাহলে আমাদের সব ভাষাই সুন্দর হতো।
৩.
ভাষা নিয়ে রচনা লেখা প্রসঙ্গে স্যারদের হাতে মার খাওয়া পর্যন্ত যে গিয়েছিলাম, তার একটি কারণ আছে এবং তা নিশ্চয় এতক্ষণে পরিষ্কার হয়েছে। ভাষাকে যদি আমরা একটা মর্যাদা, শুদ্ধতা এবং শক্তির জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমাদের শুরু করতে হবে সেই স্কুল থেকে, স্কুলজীবনের একেবারে গোড়া থেকে। আমাদের শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আনতে হবে মনোযোগের মূল কেন্দ্রে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এমনভাবে বাড়াতে হবে, যাতে মেধাবী শিক্ষকদের একটা বড় সমাবেশ ঘটানো যায় প্রাথমিক পর্যায় থেকেই। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যদি বাংলা শেখানো হয় যত্ন নিয়ে, শিক্ষকেরা নিজেরাও যদি সচেতন হন তঁাদের ভাষা নিয়ে, যদি প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি গ্রন্থাগার থাকে, বই পড়ার প্রতিযোগিতা এবং উৎসব হয়, যদি বাংলার প্রতি ভালোবাসাটা আবেগের পথ ছেড়ে পরিশ্রমের পথে যায়, তবেই ভাষাশহীদদের বানানো পথটাকে আমরা দিগন্তছোঁয়া রাজপথের মর্যাদায় উন্নত করতে পারব।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: কথাসাহিত্যিক। অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
Source: http://www.prothom-alo.com/opinion/article/447565/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A6%BE
Share:

Monday, February 9, 2015

আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের দিনাজপুর আদিবাসী পল্লী পরিদর্শন

সোমবার , ফেব্রুয়ারী ৯ ২০১৫
 দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদিবাসীদের তীরের আঘাতে একজন নিহত হওয়ার পর আদিবাসী গ্রামে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে উত্তেজিত জনতা। এই ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার আতঙ্ক ও হামলার ভয়ে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে চিড়াকুটা গ্রামটি। গ্রামে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের পর অর্ধাহারে-অনাহারে ও খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হচ্ছে আদিবাসীদের। মিডিয়ায় সংবাদটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারের পর ঘটনার ১০ দিনের মাথায় গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসে আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা নির্ভয়ে থাকাসহ আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস ও ওই জমির সঠিক মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে পার্বতীপুর উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের ২১ একর জমি নিয়ে আদিবাসীদের সঙ্গে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনের বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৪ জানুয়ারি সকালে ওই জমিতে পানি সেচ দিতে যায় জমির মালিকানা দাবিকারী জহুরুল হক ও তার ছেলে সোহাগ। এ সময় আদিবাসীরা বাধা দিতে গেলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আদিবাসীদের ছোড়া তীরের আঘাতে শফিউল ইসলাম সোহাগ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এই ঘটনায় আহত হয় আরও চারজন। এ সময় উত্তেজিত বিক্ষুব্ধ জনতা আদিবাসীদের চিড়াকুট গ্রামটিতে হামলা চালায়। তারা আটটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ৩৬টি পরিবারে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। বাধা দিতে গেলে মহিলাসহ আদিবাসীদের মারধর ও নির্যাতন করে তারা।
পরে পুলিশ এসে তাদেরকে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্রেফতার ও হামলার ঘটনার পর থেকেই পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে আদিবাসী গ্রামটি। নির্যাতন, হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর থেকেই আশঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছে আদিবাসীরা।


পরিদর্শন দলে ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, নাজমুল হক প্রধান এমপি, মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি ও ককাসের টেকনোক্র্যাট সদস্য প্রফেসর মেসবাহ কামাল এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হেকসের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিক আসাদ ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার মনজুন নাহার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আহম্মেদ শামীম আল-রাজী, পুলিশ সুপার রুহুল আমিন প্রমুখ।
পরিদর্শনে আসা প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, জমি নিয়ে নতুন করে কোনো বিরোধ যাতে না হয় সেজন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র দেখেশুনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, কোনোভাবেই যেন নির্দোষ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।
তিনি মুসলিম এবং আদিবাসীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নতুন করে কোনো সংঘাতে জড়াবেন না। আমরা বিরোধপূর্ণ জমিতে রিসিভার নিয়োগ করব। যতদিন এই জমির মামলা শেষ হবে না ততদিন রিসিভার নিয়োগ থাকবে। পুড়ে যাওয়া বাড়িগুলো মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি পরিবারকে সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসীদের কৃষি সহায়তাও দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক জানালেন, কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য তারা দৃষ্টি রাখছেন।
প্রফেসর মেসবাহ কামাল বললেন, আদিবাসীদের ভূমি কমিশনের খুবই প্রয়োজন। এটি না হলে এদেশ থেকে আদিবাসীরা ক্রমাগত উত্খাত হবে।
Source: http://shokalerkhobor24.com/?p=40747
Share:

সিপিবির উদ্যোগে পার্বতীপুরের চিড়াকুটা গ্রামে আদিবাসীদের মাঝে হরিকেন বিতরণ

Posted by on ফেব্রুয়ারী ৪, ২০১৫ in খবর, বাংলাদেশ, রাজনীতি
জিন্নাত হোসেন : ৪ ফেব্রুয়ারী বুধবার বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি, সিপিবি দিনাজপুর জেলা কমিটির উদ্যোগে পার্বতীপুর উপজেলার হাবিবপুর চিড়াকুটা গ্রামে আদিবাসীদের উপর ব্যাপক হামলা, ভংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রন্থ ৫৪টি পরিবারকে ৫৪টি হারিকেন বিতরণ করেন জেলা সভাপতি মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ মেহেরুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বাদল, সদর উপজেলা নেতা ইকবাল হাসান সিদ্দিকী, ছাত্র নেতা ফিরোজ সরকার ও নির্মাল চন্দ্র রায়।
ত্রাণ বিতরণ শেষে অদিবাসীদের সাথে আলোচনা সভায় জেলা সভাপতি মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন বলেন যে, ক্ষয় ক্ষতির ব্যাপকতার মাত্রা অনুযায়ী সরকারী ত্রাণ পর্যাপ্ত নয়। তিনি অবিলম্বে ত্রাণ তৎপরতা জরদার করার দাবী জানান। আদিবাসীদের ব্যাপকভাবে লুটপাট হয়ে যাওয়া গরু-ছাগল, ধান, চাউল, টাকা, টিন খুব অল্প পরিমাণ পুলিশ উদ্ধার করতে পেরেছে। আদিবাসীদের উপর হামলা, ব্যাপক ভংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের দায়ের করা মামলায় খুব কম সংখ্যক আসামী ধরা পড়েছে। তিনি অবিলম্বে সকল আসামীকে গ্রেফতার করার ও নিরাপত্তা জোরদার করার জোর দাবী জানান।
Source: http://birganjpratidin.com/%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A6%AA/
Share:

পার্বতীপুর আদিবাসী পল্লীর ১০ পরিবারের খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন

বগুড়া শুক্রবার | ২৪ মাঘ ১৪২১ | ১৬ রবিউস সানি | ১৪৩৬ হিজরি | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি :
উত্তরের হিমেল বাতাস ও হাড়কাঁপা প্রচন্ড শীতে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তাফাপুর ইউনিয়নের হাবিবপুর আদিবাসী সাঁওতাল পল্লীতে অগি্নসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সবচেয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক শ্রেণীর লোকেরা। ১৩দিন পরও আতংক কাটেনি আদিবাসীদের। গত ২৪ জানুয়ারি হাবিবপুরে জমি সংক্রান্ত এক ঘটনায় দুর্বৃত্তরা আদিবাসীদের মারপিট, অগি্নসংযোগ ও লুটপাট করে ৯টি বাড়িতে। হামলাকারীরা ভাঙচুর করে গ্রামের বিষ্ণু মন্দিরের মূর্তি ও এনজিও পরিচালিত কারিতাস ও ব্র্যাক স্কুল। বন্ধ হয়ে অর্ধশতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়া। আগুনে সর্বশান্ত হয়ে যাওয়া পরিবারগুলো মধ্যে উত্তর চিড়াকুটা সাঁওতাল গ্রামের কালুস সরেনের স্ত্রী প্রমিলা মুরমু বলেন, দাদা আমাদের সাথে তাদের কোন বিরোধ ছিল না। এখন আমি বাড়ীসহ আসবাবপত্র পুড়ে যাওয়ায় ছেলে-মেয়ে পরিবার পরিজন খোলা আকাশের নিচে এই শীতে দিনাতিপাত করছি। সরেন মুরমু'র স্ত্রী ফুলমতি হাসদা অগি্নসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ধানচাল টাকা পয়সা লুটপাট হওয়ায় অভাব দেখা দিয়েছে। সুরজ জোয়ানি বলেন, লুটপাট করে বাড়িতে অগি্নসংযোগ করে হামলাকারীরা গ্রামের সব টিউবয়েল খুলে নিয়ে যাওয়ায় পানি পর্যন্ত খেতে পারছেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের হাবিবপুর উত্তর চিড়াকুঠা, দক্ষিণ চিড়াকুঠা ও পূর্ব চিড়াকুঠা আদিবাসী পাড়া গ্রামের দুরদর্শার এ চিত্র দেখা যায়।

রংপুর কারমাইকেল কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী দিপালী টুডু বলেন, তার ইন্টারমেডিয়েট প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত মেজ ভাই এমোলিউস টুডু ও এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোট ভাই এন্টানিউস টুডুকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এদিকে প্রশাসন ও এনজিও গুলো হাড়ি পাতিল ও শীত নিবারনের জন্য কম্বল বিতরণ করেন। এব্যাপারে চিড়াকুটা সাঁওতাল পল্লীতে অস্থায়ী ক্যাম্প ইনচার্জ পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল আলম জানান, খোয়া যাওয়া গরু, ছাগল, ভেড়া, চাল, ধান, সেলাই মেশিন, শ্যালো মেশিন, রিকশা ভ্যান ও বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পুলিশ ফোর্স রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয় পর্যন্ত তারা এখানে অবস্থান করবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জানুয়ারি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মোস্তফাপুর ইউনিয়নের হাবিবপুরে ১৪ একর জমি নিয়ে আদিবাসী সাঁওতালদের সাথে বড়দল সরকার পাড়া গ্রামের লোকজনের সংঘর্ষ বাধে। এতে তীরবিদ্ধ হয়ে জহুরুল হকের ছেলে শাফিউল ইসলাম সোহাগ মারা যায়।
Source: http://www.karatoa.com.bd/details.php?pub_no=1883&menu_id=3&val=236779&view=archiev&arch_date=06-02-2015http://www.karatoa.com.bd/details.php?pub_no=1883&menu_id=3&val=236779&view=archiev&arch_date=06-02-2015
Share:

মাতৃভাষায় শিক্ষালাভ মানবাধিকার

বাঁধন আরেং প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ 
 শিশু শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে শিক্ষালাভ করতে পারে না, যদি তারা শিক্ষক বা পাঠ্যপুস্তকের ভাষা যথাযথভাবে বুঝতে না পারে। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। হয়তো এ কারণেই বিশ্বব্যাপী শিশুদের জন্য স্ব-স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষার কথা ভাবা হয়। আমাদের দেশেও বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুরা যেন অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে নিজ নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষালাভ করতে পারে- এ নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। এর গুরুত্ব আরও বেশি অনুধাবন করা যায় জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ আদিবাসী শিশুদের স্ব-স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের সুযোগ সরকারিভাবে ব্যবস্থা করার সুস্পষ্ট ঘোষণার মধ্য দিয়ে। অবশ্য বেসরকারিভাবে আরও আগে থেকেই সীমিত পরিসরে হলেও বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী নিজ নিজ ভাষায় শিশুদের শিক্ষাদান কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।


মাতৃভাষায় শিক্ষালাভ মানবাধিকার এবং শিশু অধিকারের একটি বিষয়। শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা, মেধা বিকাশ এবং আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা করা অপরিহার্য। নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে শিশুর বিকাশ পরবর্তী সময়ে অন্য সংস্কৃতির সঙ্গে তালমিলিয়ে চলতে সহায়তা করে। গবেষণায় এমন আশাব্যঞ্জক বিষয়গুলোই লক্ষ্য করা যায়। দেশ ও জাতির উন্নয়ন সামনে রেখে গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করার প্রয়োজনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েদের স্ব-স্ব মাতৃভাষায় পড়ালেখা শেখার সুযোগ সৃষ্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, সমাজ ও অর্থনৈতিক কাঠামো, ভূমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়ের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা বিশ্লেষণ করেই বিভিন্ন দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আÍপরিচয়সহ তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার জন্য জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) আদিবাসীবিষয়ক কনভেনশন ১৯৫৭, (কনভেনশন নং ১০৭) এবং এর সংশোধিত সংস্করণ কনভেনশন ১৯৮৯ (কনভেনশন নং ১৬৯) গ্রহণ ও ঘোষণা করে। কনভেনশন নং ১০৭-এর ২৩ অনুচ্ছেদের (১)-এ বলা আছে, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর শিশুদের তাদের মাতৃভাষায় পড়া ও লেখার জন্য শিক্ষাদান করতে হবে। উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালের ১০৭নং আইএলও কনভেনশন নামে বহুল পরিচিত এ দলিলে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার অনুস্বাক্ষর করে। কনভেশন নং ১৬৯-এর ২৮ অনুচ্ছেদের (১)-এ বলা আছে, সংশ্লিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের বাস্তবসম্মত উপায়ে তাদের নিজস্ব আদিবাসী ভাষায় অথবা তাদের জনগোষ্ঠী কর্তৃক সাধারণভাবে বহুল ব্যবহৃত ভাষায় পড়া ও লেখার জন্য শিক্ষাদান করতে হবে। একই অনুচ্ছেদের (৩)-এ বলা আছে, সংশ্লিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর আদিবাসী ভাষা উন্নয়ন ও চর্চা সংরক্ষণ করা ও প্রসার ঘটানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রের (২০০৭) অনুচ্ছেদ ১৪-এর ১, ২ ও ৩-এ আদিবাসী শিশুদের তাদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষা প্রদানের জন্য তাদের সাংস্কৃতিক রীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ পাঠদান ও শিক্ষাপদ্ধতি অনুসারে শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং সেসবের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণের অধিকার, বৈষম্যহীনভাবে রাষ্ট্র প্রদত্ত সর্বস্তরের ও সব ধরনের শিক্ষালাভের অধিকার ও সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বের বিষয়ে বলা হয়েছে। শিশু অধিকার সনদের ৩০ অনুচ্ছেদেও আদিবাসী শিশুদের নিজের মাতৃভাষা ব্যবহারের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ (খ)-এ সমাজের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথভাবে সব নাগরিকের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়রা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে সরকারিভাবে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের স্ব-স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের ব্যবস্থা করার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী দেশের অন্য ভাষার সব শিশুর জন্য তাদের নিজস্ব ভাষায় পড়ালেখা শেখার ব্যবস্থা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন (২০১৩)। কার্যক্রমটি বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কারণ জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এ শিক্ষানীতিতে নৃতাত্ত্বিক ছেলেমেয়েদের তাদের নিজস্ব ভাষায় পড়ালেখা শেখানোর জন্য সরকারিভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ থাকায় তা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী (২০১৩)। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে অন্তত ৫টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম সরকারিভাবে চালু করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। সরকারি ও পাঁচটি ভাষাগোষ্ঠীর বিশিষ্টজনদের নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গণসাক্ষরতা অভিযান প্রকাশিত পহর নামে একটি নিউজ লেটারে পাঁচটি ভাষাগোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি) লেখকদের নিয়ে লেখক প্যানেল মনোনয়ন-সংক্রান্ত একটি নামের তালিকা লক্ষ্য করা গেছে। গত ২৯ জুন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এক সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের বাজেট না থাকার বিষয় উল্লেখ করেন। এ অবস্থায় ২০১৫ সালেও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম সরকারিভাবে শুরু হবে কি-না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

তবে ৩ পার্বত্য জেলায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পার্বত্য জেলা পরিষদের পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের স্ব-স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। গণসাক্ষরতা অভিযানের উদ্যোগে ২০১০ সালে দেশের সব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের স্ব-স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের অধিকারের নিশ্চয়তা ও কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের আহ্বানে ন্যাশনাল এমএলই ফোরাম নামে একটি সংগঠন গড়ে ওঠে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা বিষয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সংগঠনটির সদস্যভুক্ত হয়। মাতৃভাষায় শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম সরকারিভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ফোরামের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। সমন্বয় ছাড়াও নীতিমালা ও কারিকুলাম তৈরির বিষয়ে এমএলই ফোরাম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে।

অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে দেশের বিভিন্ন ভাষাভাষী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের উদ্যোগে তিন দশকেরও বেশি সময় স্ব-স্ব ভাষায় ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা শেখার ব্যবস্থা করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আশা করে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং তাদের সন্তানদের মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের ব্যবস্থা করে দেশে বহু সংস্কৃতির সৌন্দর্য বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টি করবে। নিজেরা প্রয়াস চালিয়ে সীমিত আকারে হলেও বৃহত্তর ময়মনসিংহের গারো, হাজং ও কোচ; উত্তরবঙ্গের সাঁওতাল, ওঁরাওন, কোলকোদা, মাহ্লে এবং বৃহত্তর সিলেটের মণিপুরি গোষ্ঠীর মানুষ নিজস্ব উদ্যোগে ছেলেমেয়েদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ৩ পার্বত্য জেলায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় স্ব-স্ব মাতৃভাষায় শিশুদের শিক্ষাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য স্ব-স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন প্রয়াসের সঙ্গে যুক্ত অনেকের মনে সরকারিভাবে মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

বাঁধন আরেং : লেখক, গবেষক cultural.development.cds@gmail.com

Source: http://www.jugantor.com/window/2015/02/09/218002
Share:

Thursday, February 5, 2015

Heinous attack on Santals

Azharul Azad Jewel, Nadeem Naqueeb, and Shanu Mostafiz with Philip Gain

Thursday, February 5th, 2015
Devastated adivasis after the attack.
Both Bengalis and Santals have lately paid a high price in violent conflicts over land in Dinajpur. A Bengali young man, hit by Santal’s arrow breathed his last in the crop field he vied for. The Santal’s Bengali neighbours, angered by the murder, swarmed in thousands to retaliate against their minority brethren.

The fateful date was January 24, 2015 in a small Santal-polli called Chirakuta in Habibpur, a village in Parbatipur upazila in Dinajpur district.



On the day, Zahirul Haque along with his son Shofiul Haque Shohag and other family members went to irrigate some disputed land at around 8 am. It was actually an attempt on the part of Zahirul to establish his claim over land the Santals of Chirakuta had been tilling for long. The Santals in their attempt to resist them ran into a violent conflict with Zahirul, his son and others who came with him. At one stage arrows launched by the Santals hit Shohag who died on the spot. Zahirul too received severe injuries in the head from a sharp weapon.

The police from Parbatipur Thana arrived shortly and immediately arrested 19 Santals. Some policemen were left behind to maintain a vigil and ensure law and order. But Shohag lying dead with an arrow through his his chest, turned Bengalis of nearby villages into mobs who stormed the Santal houses reportedly in thousands (about two and half thousand according to an estimate). The assailants, apparently stoked in their anger by the murder of Shohag, included women and children.

They ignored the police and abandoned all scruples. They looted ornaments, cash, grains, clothes, utensils along with some 200 cows of 55 Santal households. They also burned 15 houses. In addition, they looted nine shallow machines and the tube-wells. Two schools operated by Caritas and BRAC were demolished. As the Santal men deserted the village, they took their anger out on the women.

Dipali Tudu, a second year honours student of economics at the Carmichael College of Rangpur, was severely beaten by the assailants with rod and stick. Her mother Maria Hembrom was also beaten while she tried to rescue Dipali. Other Santal women who suffered similarly included Samagada Mardi (52), Bimala Murmu (42), Pauli Tudu (30), Elizabeth Hajda (31) and Ashunta Tudu (72). Ashunta Tudu complains that some of the attackers tried to slit her throat after beating her to the ground. However, others saved her.

The long and short of it

The Santals of Chirakuta and Zahirul’s family had been engaged in a dispute over about 21 acres of land for a long time. The Santals claim that they have taken lease of this khas (public) land from the government.  On the other hand, Zahirul claims that Santals have no lease documents for the land, and that it is actually private property. “A case was filed against the government’s decision of declaring the land as khas. A verdict was given against government’s decision and my father bought the land from the owner. The Santals are occupying the land illegally,” Zahirul claims.

On the other hand: “We have been using and cultivating that land since the Pakistan period. We had lease papers in support of our claim. The assailants have burnt all the legal documents during the attack. They filed cases for the land several times and lost in all cases. A case is pending at this moment. Let that case be settled. If they win they will get the land. But for the time being the land is ours. Why should they come to grab our land?” That’s according to Paskal Tudu, a Santal of Chirakuta.

“Zahirul and his men went to irrigate our land on the day of the incident. We had our irrigation pipe installed there. We went there when we heard the news. As we exchanged arguments, Shohag took out a dagger and attacked our boy Rakib Soren. Then we launched arrows in self-defence and Shohag was hit. Our boy would have been killed if we didn’t launch arrows. We never had an intention to kill anyone. We shall accept whatever verdict is given to us for this murder. But those who have burnt and looted our homes and beaten our women shall be punished,” Paskal Tudu added, in defence of the Santals’ use of arrows.

Zahirul’s younger brother Mahmudul complains, “We, six, were present on the day of the incident while brother Zahirul was irrigating the land. At that time some 15 Santals armed with bows and arrows came and switched off the pump. The Santals launched arrows when Shohag wanted to know why they stopped the pump. We attempted to call ambulance but Shohag stopped us saying ‘uncle there is no need to call ambulance, I will not survive’. He died soon after. At the same time, Bachhu, who came with the Santal, hit my brother in the head from behind with a Chinese axe.”

The police personnel as well as Motiar Rahman, the chairman of the Mustafapur Union to which Chirakuta belongs, were present when the assailants started the carnage. The Santals complain that the chairman supported the attack. “The attack on us started only after arrest of our fathers and uncles. The police, UP chairman as well as a member were present during the attack,” alleges Dipali Tudu.

Motiar Rahman disagrees and terms the allegation of the Santals as `baseless’. While contacted over phone, he says, “I didn’t know anything about the dispute over the land between the Bengalis and the Santals. Nobody ever filed a complaint with me. I rushed to the spot with chowkidars in the morning of 24 January when I heard the news of the trouble and murder. I even informed the police over mobile phone and the police came.”

Motiar Rahman also says, “Police arrested 19 Santals in suspicion of murder and some of the policemen stayed behind on the spot for security reasons. I also stayed there to control the situation. The assailants attacked the santal village at around 10 am. I tried my best to protect the Santals. But the assailants were so large in number that it was impossible to control them. People from the adjacent Habra Union (No.8) joined the assailants.”

The district administration had no clear idea about the conflict over the land that took a serious turn on January 24. “I learned about the land dispute between Santals and Bengalis; but never received any formal complaint. Land dispute is a legal issue. If the Santals have taken lease of land, it means that it’s khas land and they received it as landless. If others claim the land as theirs, it has to be resolved legally,” says Enamul Haque, the Additional District Commissioner (Revenue) of Dinajpur.

It is needless to say that killing of a Bengali by the Santals’ arrows worked to provoke the adjacent Bengali community. But different organizations representing adivasi communities and human rights groups have protested the way the Bengalis have reacted and indiscriminately attacked the entire Santal village. They should not have taken law into their own hands. They organized human chains and press conference to lodge their protest. “When the Bengali land grabbers killed Thudu Soren of Nawabganj last year, the adivasis went to the court of law. They did not attack the homes of the Bengalis. Then, why shall the Santals’ homes be indiscriminately attacked?” questioned Rabindranath Soren, president of Jatiyo Adivasi Parishad in a press briefing in Dinajpur.

Shohag’s uncle Mahmudul Haque filed a murder case with Parbatipur police station with 28 accused. Of the 19 arrested on the day of incident, Antonas Tudu, an SSC examinee got bail from the court to attend his exams. On the other hand, a Santal woman Nilima Hembrom filed a case on behalf of the Santals for attack on their homes, torching their property and molestation of women. “A case has been filed against 3,074 individuals for looting and torching the Santal village. Seven of them were arrested from different villages,” informed the officer in-charge (OC) of the Parbatipur Model Thana.

The investigating officer (IO) and inspector (investigation) of the same Thana M. Abdur Razzak said, “Police have recovered 40 cows, 12 goats, 2 sheeps, 15 sacks of rice, 10 sacks of paddy, 3 sewing machines, 4 shallow machines, 5 rickshaw vans and 2 bicycles, which were looted from the Santal village. ”

Attempt at reconciliation

A three-member investigation committee headed by M. Towhidul Islam, the Additional District Magistrate of Dinajpur was formed on February 2. The Deputy Commissioner Ahmed Shamim Al-Raji informed, “The committee has been ordered to submit a report within 15 days. The members of the committee have already started their work.”

Primary and Mass Education Minister Advocate Mustafizur Rahman accompanied by a team of Adivasi related parliamentary caucus visited Habibpur village in the afternoon of 2 February. He visited both Shohag’s part of Habibpur village and Chirakuta, the Santals’ part of the village and spoke to the people in public. He also listened to both Bengalis and the Santals and with their consent advised the Deputy Commissioner (DC) to appoint a receiver (custodian to represent the administration) for disputed land.

The minister, in a long speech in Chirakuta, declared that land at the roots of the murder and attack on the Santals shall be kept under a receiver appointed by the government administration. The land will be handed over to its legitimate owner when its ownership is determined by the court of law or any other means. The minister also advised everyone not to get provoked and to maintain peace. “Justice will be done as per the law for the murder and the attacks. No one shall be treated unjustly,” said the minister. He also asked the police to stay neutral and take action only against those who are truly criminal.

Those who accompanied the minister included the convener of Adivasi-related parliamentary caucus and MP Fazle Hussain Badsha and Mesbah Kamal, Rabindranath Shoren, central organizing secretary of Awami League MP Khalid Mahmud Choudhury, MP of Panchagarh-1 Najmul Haque Prodhan, another MP Manaranjanshil Gopal, and Deputy Commissioner Ahmed Shamim Al-Raji.

The Santals were not happy about the minister’s visit and speech, informed the chairman of the Jatiyo Adivasi Parishad, Rabindranath Shoren. He himself was unhappy about the minister being the lone speaker who gave a long speech from the kholan (open space at the Chirakuta village) and did not enter any of the wrecked homes of Santals. In reference to his conversation with the DC, Rabindranath Soren said, “It is mainly the Santals who should file a case to restrict access of any party to the disputed land.”

The administration is still in the dark regarding the 21 acres of disputed land. The Santals claim that the Hindu owners handed over the land to them before they migrated to India. But the Bengalis manufactured fake title deeds and sold it. Now the district administration will seek a solution after necessary paperwork and legal measures.

Till then, let us hope the uneasy calm prevails.

Source: http://www.dhakacourier.com.bd/heinous-attack-on-santals-in-dinajpur/
Share:

Tuesday, February 3, 2015

কেন আদিবাসীদের গ্রামে হামলা হয়

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ০০:০০:০০
দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামে (আদিবাসীদের কাছে চিড়াকুটা নামে পরিচিত) ২৪ জানুয়ারি সকালবেলায় ভূমিদস্যুরা হামলা চালিয়ে আদিবাসীদের ৬০টির অধিক ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার হতে শুনিনি। আদিবাসীদের লুট হয়ে যাওয়া কিছু গরু, ছাগলসহ বেশ কিছু জিনিসপত্র পুলিশ উদ্ধার করলেও কারা লুট করল তাদের একজনকেও ধরতে পারেনি। এখন পর্যন্ত যেটুকু পুলিশ উদ্ধার করেছে সেটা তারা কোথায় পেয়েছে। কার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সে সম্পর্কেও আমরা কিছু জানি না। আইনের মারপ্যাঁচে ফেলে পুলিশ প্রশাসন খুব সহজেই বলছে, যেহেতু লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়নি, তাই কাউকে ধরা যাচ্ছে না। আদিবাসীরা মামলা করার পর প্রশাসন হয়তো আইনের নতুন কোনো ফাঁক খুঁজে বের করবে। আদিবাসীদের জীবনে এটাই যেন সত্য। আদিবাসীরা অপরাধ করলে তাদের শাস্তি পেতেই হবে আর অন্যরা করলে তাদের শাস্তি না দিয়ে উৎসাহী করা হবে। এর আগেও আমাদের এ এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আদিবাসীদের পক্ষ হয়ে এত কম কথা বলা হয় যে সেটা প্রশাসনের কানে গিয়ে পৌঁছায় না। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং দোষীদের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।
মোস্তফা হাসান, কালীবাড়ি, দিনাজপুর।

Source: http://www.kalerkantho.com/print-edition/letters/2015/02/01/182404/print
Share:

Sunday, February 1, 2015

3074 people sued

Friday, 30 January 2015
A Santal woman filed a case on Wednesday night against several hundred people implicating them in attacks on members of the tribal community in retaliation to the death of a Bengali youth in clash on Saturday over a land dispute in Parbatipur. Nilima Hembram, daughter of Joseph Hembrom of Habibpur Chirakutipara village, filed the case with Parbatipur police on Wednesday night accusing 74 identified and 3000 unidentified people. Meanwhile, several hundred ethnic people of Phulbari, Birampur, Nawabganj, Hakimpur, Ghoraghat and Parbatipur upazilas besieged the upazila nirbahi officer’s office in Phulbari at 1.00pm yesterday.
A human chain also formed inside the complex. Later, a memorandum with four-point demands was submitted to the minister of home through Phulbari UNO Moniruzzaman.



The demands include cancellation of fake land documents of one Jahrul Islam and hand over the land documents unconditionally to respective ethnic land owners, arrest of Jahrul Islam and his exemplary punishment for inciting people to indulge in arson, looting and destroying houses of the ethic minority, proper compensation for the affected people and ensure security for them and establishment of separate ministry and land commission for ethnic minority.
The ethnic people alleged that the incident of attack could have been averted if local administration had sincerely wanted. “I called many officials when I heard about the impending attacks, but all skipped it saying they were busy”, said Albert Soren, president of Bangladisham Santal Baisi of Naogaon. Officer-in-Charge of Parbatipur police Mahbubur Alam said police are yet to arrest any person in connection with the incident despite several raids.  “A woman of the affected village has filed the case as the male members fearing arrest have been staying away from home”, said Chunnu Tudu, president of Phulbari Upazila Adibasi Unnyan Samity. On the other hand, Entalus Tudu, who was arrested along with 18 Santal men following clash between Bangalis and Santals, got bail yesterday from Dinajpur court to sit for SSC examination under Dinajpur Education Board commencing from February 2. Co-ordinator of Bangladesh Legal Aid and Services Trust Sirajum Munira have helped to secure his bail.
Besides, the Santal homes damaged in attacks have not been repaired leaving 55 Santal families of Habibpur Chirakutipara village in dire strait. “How can we repair houses; it’s the job of men”, said Monika Hasda.

Source: http://theindependentbd.com/index.php?option=com_content&view=article&id=246104:3074-people-sued&catid=161:region&Itemid=193
Share:
Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo