Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Tuesday, December 20, 2016

মুক্তিযুদ্ধ: ‘স্বাধীন দেশে নিজের মাটিই বেদখলে’

১৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৩:৪১ | আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৩:৪৯
সালেক খোকন |

শীতের কেবল শুরু। হালকা কুয়াশা জাল বুনেছে মাত্র। শিশির ভেজা ঘাস আর কুয়াশার জাল ভেঙে চলছে গ্রামের মানুষ। এমনই এক সকালে আমরা পা রাখি দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সাকইরডাঙ্গা গ্রামে। এই গ্রামেই বসবাস করেন খ্রীস্টফার মুর্মূ। তিনি শুধু একজন আদিবাসীই নন, বরং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও। স্মৃতির পাখায় ভর করে তিনি জানালেন শৈশব, কৈশোর ও মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নানা ঘটনাপ্রবাহের কথা।
জোয়াকিম মুর্মূ ও মারিয়া মার্ডির পঞ্চম সন্তান খ্রীস্টফার। সাঁওতাল রীতিতে বাবার টাইটেল লাভ করায় পুরোনাম হয় খ্রীস্টফার মুর্মূ। বাবার ছিল ১২-১৩ বিঘা জমির গৃহস্ত। গ্রামে তখন ৫০ ভাগই সাঁওতাল। সনাতন-রীতির বাহাপরব আর সোহরাই উৎসব চলত ধুমধামের সঙ্গে। আমোদ-প্রমোদ আর ঢোল-খোলের বাদ্যিতে বাড়ি বাড়ি আসর জমত আদিবাসী নৃত্যের।
মা-বাবার আদরের সন্তান ছিলেন খ্রীস্টফার। অন্য ভাইবোনরা গৃহস্তর কাজ দেখাশোনা করত। কিন্তু পরিবারের ইচ্ছায় তিনি সুযোগ পান লেখাপড়ার। সেটিও খুব সহজ ছিল না। ১০ মাইল দূরে দিনাজপুর শহর। হেঁটে ও নদী পার হয়ে প্রতিদিন খ্রীস্টফার যেতেন ওখানকার সেন্ট ফিলিপ স্কুলে। অবসর কাটত পাড়ার বন্ধু হাকিম, জব্বার, মণ্ডল, রমজানের সঙ্গে। জাতিভেদ শব্দটি তখনো জন্ম হয়নি। আদিবাসী-বাঙালিতেও ছিল না কোনো সংঘাত। তাই বাঙালি বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে বারণ ছিল না। ফুটবল খেলা আর দলভেদে পুনর্ভবা নদীতে মাছ ধরার আনন্দের মাঝেই কেটে যায় খ্রীস্টফারের শৈশব ও কৈশোর।
কথার সঙ্গে কথা এগোয়। খ্রীস্টফার মুর্মূ বলেন স্কুলজীবনের নানা কথা। তাঁর ভাষায়, ‘সাঁওতালদের মধ্যে শিক্ষার হার ছিল কম। তাই তারা জমিজমা সুরক্ষা করতে পারত না। মুখের কথাই ছিল সব। মানুষের মাঝে ছিল সততা আর বিশ্বাস। সাঁওতালদের মধ্যে সে সময় একমাত্র আমিই স্কুলে যাই। সঙ্গে যেত একই গ্রামের পশর উদ্দিনের ছেলেমেয়েরা। ১৯৭১ সালে আমি ছিলাম দিনাজপুর সেন্ট ফিলিপ স্কুলের ক্লাস টেনের ছাত্র।’
স্কুল থেকে মাঝেমধ্যেই মিছিলে যেতেন খ্রীস্টফার। দিনাজপুরের ইউসুফ প্রফেসরসহ নেতাদের মুখে শুনে আসতেন নানা বৈষম্যের কথা। তিনি বলেন, ‘কাগজ পূর্ব পাকিস্তানে তৈরি হলেও আমাদেরই বেশি দামে কিনতে হতো। পশ্চিম পাকিস্তানে ছিল কম দাম। একই অবস্থা ছিল চিনিতে। দিনাজপুরে ছিল বিহারিদের আধিপত্য। তারা ছিল পাকিস্তানপন্থী। একবার বিহারিদের ইকবাল স্কুলের সঙ্গে আমাদের সেন্ট ফিলিপ স্কুলের মারামারি হয়। চলার পথে ওরা নানাভাবে আমাদের কটূক্তি করত।’
ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের দিনাজপুর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকণ্ঠ কুঠিবাড়ীতে। ২৮ মার্চ, ১৯৭১। বাঙালি অফিসার ও জওয়ানদের বিরুদ্ধে ওখানে অস্ত্র ধরে পাঠান-পাঞ্জাবিরা। শুরু হয় গোলাগুলি। সেখান থেকে বাঙালি ইপিআর জওয়ান হাতিয়ারসহ বেরিয়ে আসে ব্যারাক থেকে। নিজের বাড়ি ফেলে খ্রীস্টফাররা পরিবারসহ তখনই আশ্রয় নেন বর্ডারের কাছাকাছি, ধর্মজায়েন গ্রামে। অতঃপর মে মাসের প্রথম দিকে চলে যান ভারতে।

ট্রেনিংয়ে যাওয়ার কথা শুনি মুক্তিযোদ্ধা খ্রীস্টফার মুর্মূর জবানিতে। তাঁর ভাষায়, “ভারতে বেকার সময় কাটাচ্ছি। হঠাৎ দেখা জর্জদার (জর্জ আর এন দাশ) সঙ্গে। তিনি ছিলেন ইপিআরে। বললেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প করতে চাই। তোমরাও আসো।’ ফুফাতো ভাই পিউস হেমব্রম ও জন মার্ডিসহ পরদিনই চলে গেলাম শিববাড়ীতে। তখনো ক্যাম্প হয়নি। কয়েকটি অস্ত্র সংগ্রহ করে জর্জদা ট্রেনিং শুরু করেন। ১৫-২০ দিন শিখলাম শুধু লোড, আনলোড আর পজিশন। ধীরে ধীরে লোক বাড়তে থাকল। খাবারের কষ্ট ছিল বেশি। শিববাড়ী মিশন থেকে পাওয়া রিলিফের চালই তখন ভরসা। পরে আমাকে হায়ার ট্রেনিংয়ের জন্য পাঠানো হয় ভারতের পতিরাম ক্যাম্পে। সেখানে ট্রেনিং নিই এক মাস। রাইফেল, এলএমজি, এসএলআর, স্টেনগান চালোনো শিখি। থ্রিনটথ্রি ভালো চালাতাম। ওই ক্যাম্পের ইনচার্জ ছিলেন ক্যাপ্টেন শ্রী হরি। আর ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন এক বাঙালি সেনা। দুষ্টুমি করে আমরা তাকে ‘পাংগাস’ বলে ডাকতাম। ট্রেনিং শেষে আমাদের পাঠানো হয় হামজাপুর ক্যাম্পে। ৭ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর ছিল সেটি। সেখান থেকেই পাই অস্ত্র।”
মুক্তিযোদ্ধা খ্রীস্টফার মুর্মূদের ১২ জনের দলের কমান্ড করতেন ইয়াকুব ও আনোয়ার। তাঁরা অপারেশন করেন ৭ নম্বর সেক্টরের হিলি, স্কুলপাড়া, বিরলসহ দিনাজপুর এলাকায়।
একবার তাঁদের দলটি অল্পের জন্য রক্ষা পায় পাকিস্তানি সেনাদের হাত থেকে।
পলাশবাড়ীর পূর্বপাশে ছিল সালাম পুকুর। পাকিস্তানি আর্মিদের ক্যাম্প ছিল সেখানে। সেই ক্যাম্প দখলে নিতে হবে। তাই গেরিলা সেজে খ্রীস্টফাররা গ্রামের এক পরিচিত লোকের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ওই লোকটির নাম ছিল কফিল হাজি। তিনি যে পাকিস্তানি সেনাদের পক্ষে কাজ করেন, এটা তাঁদের জানা ছিল না। তিনি একটি ঘরের ভেতর মুড়ি-গুড় খেতে দেন। ক্ষুধার মধ্যে খ্রীস্টফাররা মুড়ি খাওয়ায় ব্যস্ত। সে সুযোগে কফিল হাজি বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে দেন। অতঃপর খবর দিতে চলে যান পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে। খানিক পরেই তার পরিকল্পনা বুঝে যান খ্রীস্টফাররা। বহু কষ্টে জানালা ভেঙে তাঁরা আশ্রয় নেন নদীর ধারে। পাকিস্তানি সেনারা ঘরে ঢুকে মুক্তিযোদ্ধাদের না পেয়ে কফিল হাজির ওপরই চড়াও হয়। পরে খ্রীস্টফাররা ওই পাকিস্তানি দালাল কফিল হাজিকে তুলে নিয়ে যান কালিয়াগঞ্জ শালবনে।
দিনাজপুর মুক্ত হওয়ার বর্ণনা দেন এই বীর সূর্যসন্তান। তিনি বলেন, ‘হামজাপুর ক্যাম্প থেকে সুন্দরায় বর্ডার হয়ে আমরা বাংলাদেশে প্রবেশ করি। উদ্দেশ্য, দিনাজপুর শহর দখলে নেওয়া। বিভিন্ন দলে আমরা ৬০ জনের মতো মুক্তিযোদ্ধা। পেছনে ভারতীয় সেনাবাহিনী। রাতে এসেই পজিশন নিই সদরের স্কুলপাড়ায় খালের পাড়ে। খালের এক পাশে ছিল পাকিস্তানি সেনাদের শক্তিশালী ঘাঁটি। দুপাশে চলে সম্মুখ যুদ্ধের তুমুল প্রস্তুতি। ভোর হতেই শুরু হয় গোলাগুলি। তা চলে বিকেল পর্যন্ত । বড় যুদ্ধ ছিল ওইটা। মাথার ওপর দিয়ে শোঁ শোঁ করে গুলি চলে। একটু উনিশ-বিশ হলেই মারা পড়তে হতো। সন্ধ্যার আগেই আমরা দখলে নিই ঘুঘুডাঙ্গা পর্যন্ত। সেখান থেকে আমাদের দলটি নদীর পশ্চিম অংশ দিয়ে শহরের দিকে আসতে শুরু করে। বিরল থেকে আরেকটি দলও এগিয়ে আসে। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১। ভোরবেলা। কুঠিবাড়ী দিয়ে ষষ্ঠীতলা হয়ে আমরা শহরের মডার্ন মোড়ে এসে পজিশন নিই। বিরল মুক্ত হয় তারও এক-দুদিন আগে।’
মৃত্যুকে তুচ্ছ করে দেশকে শক্রমুক্ত করেছেন এই আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু স্বাধীন দেশে নিজের দুই একর ২৬ শতক জমিই আজ স্থানীয় বাঙালিদের দখলে। আদালতের রায় পেয়েও দখল নিতে পারছেন নানা হুমকির মুখে। তবুও এই দেশকে স্বাধীন করে তৃপ্ত খ্রীস্টফার মুর্মূ। শুধু বললেন, ‘আমার দেশের মাটি আমাকেই রক্ষা করতে হবে। তাই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি। দেশ পেলাম। কিন্তু স্বাধীন দেশে নিজের মাটিই আজ বেদখলে। এই দুঃখ কাকে বলব, দাদা। ভেবেছি, দেশ স্বাধীন হবে। শক্রমুক্ত থাকবে। সমঅধিকার থাকবে। দলাদলি বা বিভেদ থাকবে না। এখন তো তার বিপরীতে। ছোট্ট একটা দেশ অথচ কত দল। তাদের হানাহানিতে মরছে সাধারণ মানুষ। এটা তো আশা করিনি।’
আট হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আর গ্রিলের ব্যবসা করে যা আয় করেন, তাই দিয়েই চলছে এ মুক্তিযোদ্ধার পাঁচ সদস্যের পরিবার। ভাতা বৃদ্ধির জন্য তিনি কৃতজ্ঞ বর্তমান সরকারের প্রতি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি মনে করেন, রাজনীতিবিদদের মধ্যে সত্যিকারের দেশপ্রেম থাকলে, স্বার্থপরতা আর দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে এবং দল থেকে আগাছা দূর করতে পারলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। পরবর্তী প্রজন্মের প্রতি পাহাড়সম আশা আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা খ্রীস্টফার মুর্মূর। মনেপ্রাণে তিনি বিশ্বাস করেন, প্রজন্মরাই সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়বে।
লেখক : সাংবাদিক
http://www.ntvbd.com/opinion/99743/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%87-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%96%E0%A6%B2%E0%A7%87 

Share:

Sunday, December 18, 2016

Santal Report: DC apologises for derogatory term, Now HC seeks explanation from SP

Staff Correspondent.

The High Court yesterday exempted the Gaibandha deputy commissioner from personal appearance before it after he apologised to the court for a derogatory term he used in a report over a November 6 attack on the Santals in the district's Gobindaganj upazila.
In the report submitted to the HC on November 30, Deputy Commissioner Md Abdus Samad had stated that Santals and "Bangalee miscreants" locked in a clash with workers of a sugar mill.
Hearing a petition on December 6, the HC said the Pakistani occupation forces used such words as "Bangalee dushkritikari" (Bangalee miscreants).
Accepting the apology made by DC Md Abdus Samad as per the court's December 6 order, the HC bench of Justice Obaidul Hassan and Justice Krishna Debnath yesterday summoned the district's superintendent of police asking him to appear before it on January 2 and explain the reasons for using such terms after Samad said he used the words as the SP used similar words in his report submitted to the local administration.
The judges passed the order when hearing the petition filed by three rights bodies including Ain o Salish Kendra seeking necessary order on the Santal issue and fixed December 14 for passing next order.
The clash broke out among the Santals, Rangpur Sugar Mills staff and police over the eviction of the ethnic minority community from a disputed land in the upazila, leaving three Santal men dead and 20 others, including nine policemen, injured.
Following the rights bodies' petition, the HC on November 17 directed the government to ensure security and free movement of the Santals, to allow them to harvest paddy and to submit a report on legal steps taken as regards the attack.

 http://www.thedailystar.net/city/dc-apologises-hc-1329442
Share:

Santal Report: DC apologises for derogatory term, Now HC seeks explanation from SP

Staff Correspondent.
The High Court yesterday exempted the Gaibandha deputy commissioner from personal appearance before it after he apologised to the court for a derogatory term he used in a report over a November 6 attack on the Santals in the district's Gobindaganj upazila.
In the report submitted to the HC on November 30, Deputy Commissioner Md Abdus Samad had stated that Santals and "Bangalee miscreants" locked in a clash with workers of a sugar mill.
Hearing a petition on December 6, the HC said the Pakistani occupation forces used such words as "Bangalee dushkritikari" (Bangalee miscreants).
Accepting the apology made by DC Md Abdus Samad as per the court's December 6 order, the HC bench of Justice Obaidul Hassan and Justice Krishna Debnath yesterday summoned the district's superintendent of police asking him to appear before it on January 2 and explain the reasons for using such terms after Samad said he used the words as the SP used similar words in his report submitted to the local administration.
The judges passed the order when hearing the petition filed by three rights bodies including Ain o Salish Kendra seeking necessary order on the Santal issue and fixed December 14 for passing next order.
The clash broke out among the Santals, Rangpur Sugar Mills staff and police over the eviction of the ethnic minority community from a disputed land in the upazila, leaving three Santal men dead and 20 others, including nine policemen, injured.
Following the rights bodies' petition, the HC on November 17 directed the government to ensure security and free movement of the Santals, to allow them to harvest paddy and to submit a report on legal steps taken as regards the attack.

 http://www.thedailystar.net/city/dc-apologises-hc-1329442
Share:

Santals have right to save their property: Says NHRC boss

Our Correspondent, Gaibandha.
[ Carrying their traditional weapons, bows and arrows, Santals of Gaibandha's Gobindaganj march at Madarpur in the upazila yesterday demanding return of their properties. Photo: Star ]
 
The Santal community has every right to save their property, but attacks on them are not acceptable and the matter should not be taken easily, said Kazi Reazul Hoque, chairman of National Human Rights Commission Bangladesh.
He was addressing a Santal gathering on Madarpur Church premises yesterday after visiting two Santal villages of Joypurpara and Madarpur in Gobindaganj upazila.
A ten-member probe team led by Reazul Hoque visited the Santal villages and talked to the villagers. The team went there to probe the Santal eviction incident from Sahebganj cane farm.
Earlier, hundreds of Santal people staged a protest demonstration equipped with bows, arrows and lethal weapons and demanded their ancestors' property back. Later they gathered in front of the Madarpur Church.
The authorities of Rangpur Sugar Mill leased out the government-acquired land breaching the terms of contract agreement, the NHRC chairman said, asking why the Santal community would not get their ancestral land back as per the agreement.
The probe committee would submit its report to the government and the parliamentary committee on Adivasi affairs, he added.
“You have been evicted from your ancestral land and suffering from insecurity of life and property.You are now protecting yourselves with bows and arrows, but you should not take the law in your hand,” he told the Santal community.
Those who have evicted the Santal community did something beyond their jurisdiction and would be brought under the rules of law, the chairman said, urging the government to ensure security and rehabilitation of the affected Santal families.
The human rights chairman also alerted the local administration to protect the Santal community.
The probe body recorded witnesses of 10 Santal victims of eviction, arson and looting.
The rights chairman was accompanied by Director (investigation and complaint) Sharif Uddin, lawmaker Fazley Hossain Badsha,convener, parliamentary committee on Adivasi affairs,lawmaker Tipu Sultan and Prof Mesbah Kamal of Dhaka University.
On November 6, a clash between the Santals and sugar mill labourers as well aspolice took place at Sahebganj cane farm of Rangpur Sugar Mills that left two Santal men dead and 30 people, including eight policemen, injured. Six Santal men have also been missing since then.
The police evicted 1,500 Santal families from the cane farm, while houses of Santal community were looted and came under arson attack.
Earlier on July 1, demanding their ancestral land, the Santal community occupied more than 100 acres of land at Sahebganj cane farmand erected makeshift sheds there. They also cultivated aman paddy on the land.
The Santal community still demands rehabilitation on the land, from which they have been evicted.
 
 

Share:

Santal House: Al Jazeera video shows arson in cop presence: Police deny allegation

Staff Correspondent.
Exclusive Al Jazeera footage appears to show police helping set fire to a Santal home in Gaibandha's Gobindaganj upazila.
In a 2:21-minute Al Jazeera video report, broadcast on December 11, a man in a pink T-shirt is seen trying to set a shanty on fire right in front of a group of armed policemen.
Later, a policeman in uniform and another man in a half-sleeve shirt and black pants are seen apparently joining the first man in the act. The shanty catches fire.
Although the Al Jazeera report does not mention the date when the footage was captured, it is thought to be of November 6 when law enforcers evicted Santals from a disputed land of Sahebganj-Bagda sugarcane farm which belongs to the Rangpur Sugar Mills in Gobindaganj.
Three Santal men were killed and four others were injured in clashes that day. Several Santal homes were burned down.
The Daily Star could not independently verify if the Al Jazeera footage was of any Gaibandha village or Santal home.
Several other videos have appeared in the social media where a policeman is seen throwing some liquid apparently at the same shanty before setting it afire. This newspaper could not verify any of them.
Contacted, police said they did not know who set the shanty on fire and that the Al Jazeera footage needed to be examined.
Ashraful Islam, superintendent of police in Gaibandha, said, “We have no such report, but we don't know from where Al Jazeera got the information after such a long time. It will be verified.”
Asked, Khandker Golam Faruq, deputy inspector general (Rangpur rage), said police did not set fire to any home.
He said police went to the villages in Gaibandha following a clash between Santals and Bangali settlers along with staff of Rangpur Sugar Mills over land dispute on November 6.
He claimed that the Santal houses in the villages were set afire by criminals, not police.
“Police are investigating the incident based on two cases filed by the Santals and police themselves. We will catch the criminals,” he said.

http://www.thedailystar.net/frontpage/gaibandha-santal-house-al-jazeera-video-shows-arson-cop-presence-1329346
Share:

Wednesday, December 14, 2016

গোবিন্দগঞ্জে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নিরাপত্তার জন্য তির–ধনুক ব্যবহার করা লজ্জার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ 
তির, ধনুক, লাঠি হাতে গতকাল সোমবার সকাল থেকেই অপেক্ষা করছিলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর গ্রামের সাঁওতালেরা। সকাল ১০টার দিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক সেখানে পৌঁছান। এরপর হত্যা, ঘরে আগুন ও লুটপাটের ঘটনার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন দুই শতাধিক সাঁওতাল।
মাদারপুর গির্জার সামনে আয়োজিত সমাবেশে কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক তির–ধনুক–লাঠি নিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে সাঁওতালেরা একযোগে বললেন, নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই এভাবে এসেছেন। শোনার পর চেয়ারম্যান বললেন, বিষয়টি সবার জন্য ‘লজ্জার’।
কমিশনের চেয়ারম্যান সমাবেশে বলেন, এই ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আজকে সরেজমিনে ঘটনা দেখে অনেক অন্যায় চোখে পড়েছে। সত্য ঘটনা উদ্ঘাটন করে আমরা শক্তভাবে তা সরকারের কাছে তুলে ধরব।’ সমাবেশের পর মাদারপুর গির্জার ভেতরে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর সাতজন নারী ও পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
গতকাল মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিলেন আদিবাসী–বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশাসহ আরও অনেকে।
ক্ষমা চেয়ে অব্যাহতি: ঢাকায় নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে শব্দচয়নের ব্যাপারে হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে অব্যাহতি পেয়েছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক। তলব পেয়ে গতকাল হাইকোর্টে হাজির হন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক। তাঁকে গতকাল আদালতে হাজির হতে ৬ ডিসেম্বর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
 
Share:

সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ অস্বীকার বাংলাদেশ পুলিশের

Share:

গোবিন্দগঞ্জে খামারের কাঁটাতারের পিলার ভাঙচুর

গাইবান্ধা প্রতিনিধি | আপডেট:
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামারের কাঁটাতারের বেড়ার ২৬টি পিলার ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ মঙ্গলবার ভোর রাতে এই ঘটনা ঘটে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ ও চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে স্থানীয় লোকজন সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামার সংলগ্ন জয়পুর গ্রামের দক্ষিণ অংশে কিছু পিলার ভাঙচুর অবস্থায় জমিতে পড়ে থাকতে দেখে চিনিকল কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়। পরে চিনিকল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে একই দৃশ্য দেখে।

গত ৬ নভেম্বর পুলিশের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষের পর চিনিকল কর্তৃপক্ষ মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামের চারদিকে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেয়। সিমেন্ট ও রডের তৈরি পিলারে কাঁটাতার আটকানো হয়। 
দুর্বৃত্তরা আজ ভোরে খামারের পশ্চিম অংশে সাঁওতাল পল্লি জয়পুর গ্রাম সংলগ্ন ২৬টি পিলার ভাঙচুর করে। এ ব্যাপারে সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামারের উপব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আউয়াল আজ রাত দশটার দিকে মোবাইল ফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সকালে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পিলার ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার টাকা। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত সরকার প্রথম আলোকে বলেন, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন সাঁওতাল নিহত হন। ঘটনার ১১ দিন পর স্বপন মুরমু বাদী হয়ে প্রায় ৬০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি ও ২৬ নভেম্বর থমাস হেমব্রম বাদী হয়ে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সাংসদ আবুল কালাম আজাদ, সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহমেদসহ আরও ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে পৃথক দুইটি মামলা করেন।

http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1039551/%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%97%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%87-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%B0

Share:

ভিডিওচিত্রে নতুন তথ্য গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ঘরে পুলিশের আগুন!

গাইবান্ধা প্রতিনিধি | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ 
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ঘরে আগুন দেওয়ার বিষয়ে নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গতকাল সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরাই আগুন দিচ্ছেন। তবে পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রায় সাড়ে তিন মিনিটের ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা দলবল নিয়ে চিনিকলের জমিতে তোলা সাঁওতালদের ঘরের দিকে যাচ্ছেন। ফাঁকা গুলি চালাতে দেখা যায় তাঁদের। সাঁওতালদের ঘরের কাছে পৌঁছে তিনজন পুলিশ সদস্য একটি ঘরে লাথি মারেন এবং ঘরের বেড়া টেনে ভাঙচুর করেন। পরে এক পুলিশ সদস্য আগুন লাগিয়ে দেন। অন্যরা ঘরের খড়ে আগুন বিস্তারে সহায়তা করেন। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। ভিডিওতে পুলিশের সঙ্গে সাদাপোশাকের পুলিশও দেখা যায়।
ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, সাদাপোশাকের একজন গিয়ে ওই ঘরের আগুন নিয়ে অন্য ঘরে লাগানোর জন্য এগিয়ে যাচ্ছেন। এরপর মুহূর্তের মধ্যে অন্যান্য ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের সামনে কিছু পুলিশ সদস্য হাঁটাহাঁটি করছেন। কিছু পুলিশ সদস্য গুলি ছুড়ছেন। অনেক ঘর আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। আগুন দেখে সেখানে থাকা গরু-ছাগল ছোটাছুটি করছে। কোনো পুলিশ সদস্যকে আগুন নেভাতে দেখা যায়নি ওই ভিডিওচিত্রে। দুদিক থেকে পুলিশকে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলতে দেখা যায়। ভিডিওচিত্রে একটি বাড়ির চুলার পাশে রাখা রান্নার জন্য হাঁড়িপাতিল পুড়ে যেতে দেখা যায়।
সাঁওতালদের ঘরে পুলিশের আগুন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত সরকার মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে পুলিশ আগুন দেয়নি।’ গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ভিডিওচিত্রটি এত দিন দেখলাম না কোথাও? এটা কারও বানানো কি না, কোনো মেকানিজম কি না বুঝতেছি না। ভিডিওচিত্রটি প্রশ্নবিদ্ধ। তবে পুলিশ ঘরে আগুন দেয়নি। কে বা কারা দিতে পারে।’
ভিডিওচিত্র প্রসঙ্গে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহসভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, ‘ওই ভিডিওচিত্রে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে পুলিশ, স্থানীয় সাংসদ ও ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন আমাদের ঘরে আগুন দিচ্ছেন। ঘটনাটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।’
 
Share:

গোবিন্দগঞ্জে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান: নিরাপত্তার জন্য তির–ধনুক ব্যবহার করা লজ্জার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ
তির, ধনুক, লাঠি হাতে গতকাল সোমবার সকাল থেকেই অপেক্ষা করছিলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর গ্রামের সাঁওতালেরা। সকাল ১০টার দিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক সেখানে পৌঁছান। এরপর হত্যা, ঘরে আগুন ও লুটপাটের ঘটনার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন দুই শতাধিক সাঁওতাল।
মাদারপুর গির্জার সামনে আয়োজিত সমাবেশে কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক তির–ধনুক–লাঠি নিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে সাঁওতালেরা একযোগে বললেন, নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই এভাবে এসেছেন। শোনার পর চেয়ারম্যান বললেন, বিষয়টি সবার জন্য ‘লজ্জার’।
কমিশনের চেয়ারম্যান সমাবেশে বলেন, এই ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আজকে সরেজমিনে ঘটনা দেখে অনেক অন্যায় চোখে পড়েছে। সত্য ঘটনা উদ্ঘাটন করে আমরা শক্তভাবে তা সরকারের কাছে তুলে ধরব।’ সমাবেশের পর মাদারপুর গির্জার ভেতরে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর সাতজন নারী ও পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
গতকাল মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিলেন আদিবাসী–বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশাসহ আরও অনেকে।
ক্ষমা চেয়ে অব্যাহতি: ঢাকায় নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে শব্দচয়নের ব্যাপারে হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে অব্যাহতি পেয়েছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক। তলব পেয়ে গতকাল হাইকোর্টে হাজির হন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক। তাঁকে গতকাল আদালতে হাজির হতে ৬ ডিসেম্বর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
Share:

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের মতসাঁওতালদের উচ্ছেদ আইনি প্রক্রিয়ায় হয়নি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ আইনি প্রক্রিয়ায় হয়নি।
বিরোধপূর্ণ ওই জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের পাঁচ সপ্তাহ পর সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে এ কথা বলেন তিনি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অপর সদস্যরা ছাড়াও আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাস কমিটি ও ইউএনডিপির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে ছিলেন।
রিয়াজুল হক বলেন, 'সাঁওতালরা বৈধ বা অবৈধ যেভাবেই চিনিকলের খামারের জমিতে বসতি গড়ে তুলুক না কেন, তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ করা হয়নি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হতো।'
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, জোর করে কাউকে কোনো এলাকা থেকে উচ্ছেদ করার ক্ষমতা রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি।
'সাঁওতাল পল্লীর উচ্ছেদ ঘটনায় মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। উচ্ছেদের সময় ঘরবাড়িতে আগুন ও হত্যাসহ অনেক অন্যায় আমাদের চোখে প্রাথমিকভাবে ধরা পড়েছে।'
সাঁওতাল ও বাঙালিদের ১৮টি গ্রামের এক হাজার ৮৪০ দশমিক ৩০ একর জমি ১৯৬২ সালে অধিগ্রহণ করে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ চাষের জন্য সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তুলেছিল। সেই জমি ইজারা দিয়ে ধান ও তামাক চাষ করে অধিগ্রহণের চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে তার দখল ফিরে পেতে আন্দোলনে নামে সাঁওতালরা।
এরপর সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে বিরোধপূর্ণ চিনিকলের জন্য অধিগ্রহণ করা ওই জমিতে কয়েকশ ঘর তুলে সাঁওতালরা বসবাস শুরু করেন। গত ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সময় সাঁওতালদের বাড়িঘরে লুটপাট হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়। ওই ঘটনায় নিহত হন তিন সাঁওতাল, আহত হন অনেকে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর গুলিবর্ষণের ওই ঘটনায় সমালোচনা হয় দেশজুড়ে। ঢাকাসহ দেশে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালিত হয়।
অন?্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একটি 'স্বার্থান্বেষী মহল' জমি উদ্ধার করে দেয়ার কথা বলে সাঁওতালদের সংগঠিত করে চিনিকলের জমিতে অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করিয়েছিল। ওই জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতেই উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হয়েছে।
উচ্ছেদের পর মাদারপুর গ্রামের গির্জার সামনে যে মাঠে অনেক সাঁওতাল আশ্রয় নিয়েছেন, সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রিয়াজুল হক বলেন, সংবিধান অনুযায়ী এদেশে সাঁওতাল, গারো, চাকমা, হিন্দু, মুসলিম সবার সমান অধিকার। কিন্তু সাঁওতাল পল্লীতে সরকারি উদ্যোগ 'যথেষ্ট হয়নি'।
'চিনিকল বন্ধ কিংবা অন্য কোনো কারণে মিলের জমি যদি লিজ দিতে হয়, তবে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাঁওতালদের দিতে পারত। কিন্তু কোনোভাবেই প্রভাবশালীদের দেয়া ঠিক হয়নি।'
উচ্ছেদের পর ওই জমি দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলারও সমালোচনা করেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম?্যান।
তিনি বলেন, 'কাঁটাতারের বেড়া মানুষের শক্তির কাছে তুচ্ছ। তারা কি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে নিজেদের নিরাপদে রাখতে চাচ্ছে? নাকি অন্য কিছু বোঝাতে চাচ্ছে?
চেয়ারম্যান জানান, পরিদর্শক দলের সদস্যরা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও কথা বলেছেন।
'আমরা এখানে এসেছি প্রকৃত ঘটনা জানতে। এ ঘটনায় যেই জড়িত থাকুন না কেন, তাকে শাস্তি দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেছি, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে আটক করে যেন হয়রানি না করা হয়।'
আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাস কমিটির আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, 'নিরাপত্তার জন্য এখনো সাঁওতালদের তীর-ধনুক নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। এটা রাষ্ট্রের জন্য চরম লজ্জার।'
তদন্ত দলের সদস্যরা রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ, সাঁওতাল ও বাঙালিদের সঙ্গেও কথা বলেন।
রিয়াজুল হক সাংবাদিকদের বলেন, 'সাতজনের সঙ্গে কথা বলেছি। সবার বক্তব্য প্রায় একই রকম।'
প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে আরও যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন আছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'তদন্তের স্বার্থে এখনই সব বলা যাচ্ছে না। তবে উচ্ছেদ ঘটনায় নির্যাতনের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।'
আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাস কমিটির সদস্য এ কে ফজলুল হক, টিপু সুলতান, ককাসের টেকনোক্র্যাট সদস্য অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) শরিফ উদ্দিন, ইউএনডিপির চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর (হিউম্যান রাইটস) শর্মিলা রাসুল, প্রোগাম কো-অর্ডিনেটর তাসলিমা নাসরিন ও কমিউনিটি অ্যান্ড মাইনোরিটি এক্সপার্ট শংকর পাল এই পরিদর্শক দলে ছিলেন।
পরিদর্শক দল মাদারপুর থেকে ফিরে যাওয়ার সময় সাঁওতালরা তীর-ধনুক ও লাঠি নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। তারা সাঁওতালদের ওপর 'হামলাকারী ও হত্যাকারীদের' দ্রুত বিচার ও জমি ফেরতের দাবি জানিয়ে সস্নোগান দেয়। বিক্ষোভ মিছিলটি মাদারপুর সাঁওতাল পল্লী প্রদক্ষিণ করে।
সংঘর্ষের পর গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই কল্যাণ চক্রবর্তী ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে সাড়ে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ চার সাঁওতালকে গ্রেপ্তার করার পর তারা জামিনে মুক্তি পান।
অন?্যদিকে হামলা, অগি্নসংযোগ, লুট ও উচ্ছেদের ঘটনায় গত ১৬ নভেম্বর স্বপন মুরমু নামে একজন অজ্ঞাতনামা ৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা এখন কারাগারে।
এরপর গত ২৬ নভেম্বর সাঁওতালদের পক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত থোমাস হেমরম বাদী হয়ে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে ৫০০-৬০০ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি এজাহার দাখিল করেন, যা এখনো তদন্তাধীন আছে বলে পুলিশের ভাষ?্য।
http://www.jaijaidinbd.com/?view=details&type=single&pub_no=1750&cat_id=1&menu_id=14&news_type_id=1&news_id=268719&archiev=yes&arch_date=13-12-2016
Share:

পুলিশের আগুনে পুড়ল সাঁওতাল বসতি, তদন্ত রিপোর্টে কেন নেই? (ভিডিও)

চৌধুরী আকবর হোসেন২২:৫৬, ডিসেম্বর ১২, ২০১৬ 
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল উচ্ছেদের ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেছে। অথচ এখনও উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসা শীতের মধ্যে  খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন সাঁওতালরা। সাপমারা ইউনিয়নের জয়পুরপাড়া ও মাদারপুর গ্রামের গির্জার সামনে আশ্রয় নেওয়া ৪০০ শতাধিক সাঁওতাল পরিবার কোনও রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে আশপাশের গ্রাম ও পরিত্যক্ত স্কুল ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যরাই আগুন দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সাঁওতালরা। বাংলা ট্রিবিউন পুলিশের আগুন দেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ফলে এ ঘটনার দায়িত্বে থাকা পুলিশের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাঁওতাল, আইনজীবি, মানবাধিকার কর্মীরা নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিও তুলেছেন।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে গত ৬ নভেম্বর আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ, বসতঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে তিনজন সাঁওতাল মারা যান, গুলিবিদ্ধ হন চারজন। নয় পুলিশ সদস্য তীরবিদ্ধ হন। এছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় কমিশন চেয়ে গত ২১ নভেম্বর দ্বিতীয় রিট করেন আহত দ্বিজেন টুডোর স্ত্রী অলিভিয়া হেমব্রম ও গণেশ মুরমোর স্ত্রী রুমিলা কিসকুর পক্ষে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। এ রিটের শুনানি নিয়ে পরদিন ২২ নভেম্বর সাঁওতালদের ওপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, গুলি ও হত্যা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
স্বরাষ্ট্র সচিব, শিল্প সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার, গোবিন্দগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মহিমাগঞ্জ সুগার মিলের ম্যানেজারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা বলছি পুলিশ দায়ী। আমাদের কাছে ভিডিও বা ছবি ছিল না। কিন্তু আমাদের পিটিশনে বলেছি জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি করার জন্য। বাংলা ট্রিবিউনে দেখলাম ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। আমরা আগামী বুধবার কোর্টে এ ভিডিও উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো। আশা করছি, জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির অর্ডার পাবো।’
পুলিশ আগুন লাগানোয় জড়িত থাকলে তদন্ত কতটা সুষ্ঠু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, ‘সেটা আমরাও সন্দেহ করছি। যদি এটা বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়, তাহলে অন্ততপক্ষে একটা স্বস্তির জায়গা হলো যে বিচারকরা তদন্ত করবেন। পুলিশ তো নিজের বিরুদ্ধে  তদন্ত করবে না। বাংলাদেশে এমন নজির নেই যে পুলিশ পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত করে রিপোর্ট দিয়েছে যে তারা জড়িত।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে বা ঘটনা ছোট হলে হয়তো কিছু উদাহরণ আছে। বড় ধরণের ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশ পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত করে রিপোর্ট দেবে না। এ কারণে আমরা কোর্টে বলেছি, সত্যিকার বিচার হবে না। বিচারের বিষয়টি ভীষণ রাজনৈতিক। যদি ক্ষমতাসীন দল মনে করে বিচার করবে, কেবল তখনই বিচার করতে পারবে। বিভিন্ন রকম প্রভাব বিস্তার বা সমস্যা তৈরির ফলে বিচার হতে পারে না। জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি অনেক হয়েছে বাংলাদেশে, অনেক ক্ষেত্রে সে সব রিপোর্ট  প্রকাশ হয়নি। আমরা চাই এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক। আসামী কারা, কারা এ ঘটনায় জড়িত ছিল সেটা চিহ্নিত করাও জরুরি।’
গত ২৮ নভেম্বর প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির ২৪ পাতার প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সকাল সাড়ে ১০টায় চিনিকলের আখ মাড়াই কর্মসূচি উপলক্ষে কাটা-ফাঁসিতলা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল পুলিশ। বেলা সাড়ে ১১টায় শ্যামল হেমব্রমসহ আরও অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারশ ‘বেআইনি জনতার’ একটি ‘সংঘবদ্ধ আদিবাসী ও বাঙালি দুষ্কৃতিকারী দল’ পুলিশ ও চিনিকলের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নয় জন পুলিশ সদস্য ও তিন জন সাধারণ জনগণসহ ১২ জন তীরবিদ্ধ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে প্রথমে লাঠিচার্জ ও পরে ১০টি সাউন্ড গ্রেনেড, ৫টি গ্যাস শেল, ৪০ রাউন্ড বেডবল, ৩৫ রাউন্ড রাবার বুলেট, ১২ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি ফায়ার করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বিকেল পাঁচটার সময় বাগদা ফার্ম এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চার জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ অফিসার ও ফোর্স গেলে পাঁচ থেকে ছয়শ উচ্ছৃঙ্খল আদিবাসী ও ‘বাঙালি দুষ্কৃতকারী’ একত্রিত হয়ে চারদিক থেকে তীর-ধনুক নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ‘অবৈধ জনতাকে’ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ফোর্স বিভিন্ন পর্যায়ে ৫০ রাউন্ড গ্যাস সেল, ২২ রাউন্ড বেডবল, ২৬ রাউন্ড রাবার বুলেট, ৪৭৭টি শটগানের গুলি, ৪১ রাউন্ড এসএমজি এবং চায়না রাইফেলের ২০৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। ফলে উচ্ছৃঙ্খল আদিবাসী পিছু হটে যায়। পরে আদিবাসী ও উচ্ছৃঙ্খল জনতার কার্যকলাপে ক্ষুদ্ধ হয়ে এলাকাবাসী অবৈধ স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
রংপুর চিনিকলের জমি নিয়ে সাঁওতালদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর জেলা প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্থানীয় সাপমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগ সভাপতি শাকিল আকন্দ বুলবুলকে মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল অংশে রংপুর চিনিকলের জমি নিয়ে এ পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী করা হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবকেও। ঘটনার কয়েক মাস আগেই পুরো পরিস্থিতি জানানো হয়েছিল তাকে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন (৬ নভেম্বর) পুলিশ-ম্যজিস্ট্রেটের ওপর হামলা করা হয়েছে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শাহজাহান আলী প্রধানের হুকুমে। হামলা চালিয়েছে ‘আদিবাসী ও বেআইনি বাঙালি দুষ্কৃতকারী’।
তদন্ত প্রতিবেদনের মূল অংশে বলা হয়, গত ১২ জুলাই (ঘটনার প্রায় চার মাস আগে) আখ খামারে উচ্ছেদ অভিযানে গেলে ক্ষুদ্ধ হয়ে সাহেবগঞ্জ খামারের অফিস চত্বরে প্রবেশ করে সাঁওতালরা। পুলিশ টিয়ারসেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে ওই স্থান ত্যাগ করে তারা। সাঁওতালরা তিন লাখ টাকার মালামালও লুট করে, এমন অভিযোগ আসে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে।
সোমবার (১২ ডিসেম্বর) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও ইউএনডিপির একটি প্রতিনিধি দল। তারা ক্ষতিগ্রস্ত মাদারপুর ও জয়পুরপাড়া সাঁওতাল পল্লী ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের সঙ্গে কথা বলেন।
সেখানে এক সমাবেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সাঁওতালদের সম্পত্তি রক্ষা করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু তাদের ওপর হামলা, ঘরবাড়িতে আগুন ও গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা খুবই অন্যায় ও ন্যক্কারজনক যা সহজে মেনে নেওয়া যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাঁওতালদের অধিগ্রহণ করা জমি চিনিকল কর্তৃপক্ষ শর্ত ভঙ্গ করে অনেকের নামে লিজ দিয়েছেন। তারা যদি জমি লিজ গ্রহণ করতে পারেন, তবে সেই জমি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাঁওতালরা কেন পাবেন না? সাঁওতালদের ওপর হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন সরকার ও সংসদীয় কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে।’
সাঁওতালদের উদ্দেশে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘বাপ-দাদার জমি থেকে আপনাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখন আপনারা সকলে জীবন ও জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখনও জীবন রক্ষার্থে সঙ্গে তীর-ধনুক ও লাঠি হাতে পাহারা দিচ্ছেন। তবে আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। যারা আইন হাতে তুলে নিয়ে একটি ঘটনা ঘটিয়ে আপনাদের উচ্ছেদ করেছে, তাদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’
সাঁওতালদের জান-মাল রক্ষা,  নিরাপত্তা,  ক্ষতিপূরণ ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত ১৬ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে প্রথম রিটটি দায়ের করা হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে  আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ঘটনার তদন্ত নিরপেক্ষ করার স্বার্থে খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা চাইবো বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক। তবে মনে রাখতে হবে,  মামলার ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত সর্বশেষ তদন্ত না। মূল ঘটনা উদঘাটনের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাবো। ইতোমধ্যে হাইকোর্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে তলব করেছে। বাংলা ট্রিবিউনে যে খবর আজকে প্রকাশিত হয়েছে, আমরা সেটা আদালতের দৃষ্টিতে আনবো। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করবো। কিন্তু এ মামলার তদন্ত  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই করতে হবে।’
তদন্ত  প্রক্রিয়া  প্রসঙ্গে  জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি  রবীন্দ্রনাথ  সরেন  বাংলা ট্রিবিউনকে  বলেন, ‘পুলিশের কোনও ভূমিকা নেই। পুলিশ বরং যারা নিরীহ মানুষ, যারা এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত না তাদের গ্রেফতার করছে।  সাঁওতালদের গ্রামে উত্তেজনা তৈরি করছে, গ্রামে ঘনঘন যাচ্ছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আসল কাজ তো তারা (পুলিশ) করছে না।  সাঁওতালদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনার মূল হোতাদের কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক, একেবারেই সাঁওতালদের বিপক্ষে। এ ঘটনার জন্য পুলিশ দায়ী। বিচারের জন্য আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখবো। থানায়  মামলাও করা হয়েছে।’
অন্যদিকে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক বলে দাবি করছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত সরকার। অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেদিন থানা পুলিশ,  জেলা পুলিশ,  র‌্যাব সকলের অংশগ্রহণে অভিযান হয়েছিল। আগুন নেভানোর জন্য দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা আসার আগেই সব পুড়ে যায়।’ পুলিশ সদস্যরা আগুন দিয়েছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে সুব্রত সরকার বলেন,  ‘পুলিশ আগুন দেওয়ার কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি।’
মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সাইন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দেশে সাধারণত মামলার তদন্ত করে পুলিশ। যদি কোনও ঘটনায় কোনও সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তবে তদন্তের ক্ষেত্রে তারা না থাকাই ভালো। এ ক্ষেত্রে সরকারের  বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে তদন্ত হতে পারে। বিচার বিভাগীয় তদন্তও হতে পারে।’
গত রোববার (১১ ডিসেম্বর) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক  সাংবাদিকদের বলেন, ‘নাসিরনগর ও গোবিন্দগঞ্জের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব ঘটনায় যারা লিপ্ত ছিলেন, তাদেরকে অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় আনা হবে। তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ার জন্য যা যা করতে হয় তাই করা হবে। তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হলে তা উদাহরণ হিসেবেও থাকবে।’

http://www.banglatribune.com/national/news/165027/%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A7%9C%E0%A6%B2-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%A4%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87



<iframe width="560" height="315" src="https://www.youtube.com/embed/UvtsSAoeUA8" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>




Share:

আলজাজিরার ভিডিও নিয়ে তোলপাড় সাঁওতালদের ঘরে আগুন দেয় পুলিশ! বিষয়টি প্রমাণ হলে কঠোর ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষুখামারে ৬ নভেম্বর আখ কাটা নিয়ে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় তিন সাঁওতাল নিহত ও গুলিবিদ্ধ হন কয়েকজন। পাল্টা হামলায় আহত হন কয়েক পুলিশ সদস্যও।

পরে আইনশৃংখলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে। এ সময় তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়। এসব বসতিতে পুলিশ সদস্যরাই আগুন দেন এমন অভিযোগ শুরু থেকেই করছে ক্ষুদ্র এ নৃগোষ্ঠী। ওই ঘটনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

প্রতিবেদনটি রোববার তারা ইউটিউবে আপলোড করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছেন। এতে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান যুগান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। যেহেতু ইউটিউবে এ ধরনের ছবি দেয়া হয়েছে বলে আপনি বলছেন, অবশ্যই আমরা খতিয়ে দেখব।’

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তে পুলিশের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলে অবশ্যই তা চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’

২ মিনিট ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ফুটেজের প্রথম ৩৭ সেকেন্ডের দিকে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা রাস্তা দিয়ে সাঁওতালদের বসতঘরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এরপর পোশাক পরিহিত এক পুলিশ সদস্যসহ তিনজন ঘরে আগুন দিচ্ছেন। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন আরও অনেক সদস্য। এরপর আশপাশের আরও অনেক বাড়িঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

১ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের দিকে দেখা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দিজেন টুটু নামে এক সাঁওতাল সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলছেন। এরপর বিস্তীর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। পরে আবদুল জলিল নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলেন।

আরেকটি সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ৩ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিও দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা সাঁওতালদের ঘরে লাথি মারছেন। এ সময় কয়েক সদস্য কুঁড়েঘরের খড় টেনে ছিঁড়ছেন।

৩৫ সেকেন্ডের দিকে দেখা যায়, এক পুলিশ সদস্য একটি কুঁড়েঘরের খড়ে লাইটার জ্বেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু লাইটার দিয়ে আগুন দিতে পুরোপুরি সফল না হওয়ায় তাকে সাহায্য করতে গোলাপি টি-শার্ট পরা আরেক ব্যক্তি এগিয়ে যান এবং পরে আগুন জ্বলে। পরে সাদা পোশাক পরা একজন গিয়ে আগুনটি ভালোভাবে ধরেছে কিনা তার তদারকি করেন। এরপর মুহূর্তেই পুরো ঘরে আগুন লেগে যায়। এরপর সেখান থেকে আগুন নিয়ে সাঁওতালদের অন্য ঘরেও আগুন দেন তারা।

১ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের দিকে দেখা যায়, আগুন লাগানো ঘরগুলোর সামনে দিয়ে হাঁটছেন পুলিশ সদস্যরা। ১ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের দিকে দেখা যায়, অনেকগুলো ঘর আগুনে পুড়ছে, গবাদি পশুগুলো চিৎকার করে ছুটছে।

২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের দিকে দেখা যায়, সাঁওতালদের বসতিতে আগুন জ্বললেও তা নেভানোর চেষ্টা করছেন না কোনো পুলিশ সদস্য। ৩ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের দিকে দেখা যায়, দাউ দাউ করে পুড়ছে অনেকগুলো ঘর।

এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত সরকার বলেন, গোবিগঞ্জের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। সেদিন আগুন নেভোনোর জন্য দমকল বাহিনীকে খবর দেয়া হয়। কিন্তু তারা আসার আগেই সব পুড়ে যায়।

পুলিশ সদস্যরা আগুন দিয়েছেন এমন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন,  এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, পুলিশ ওই ঘটনার জন্য দায়ী। মামলা হলেও এখনও কেউ আটক হয়নি। বরং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আটক করা হচ্ছে নিরীহ মানুষকে।

সংঘর্ষের ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই কল্যাণ চক্রবর্তী ঘটনার দিন রাতেই ৩৮ জনের নামোল্লেখসহ সাড়ে ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ পর্যন্ত পুলিশ চার সাঁওতালকে গ্রেফতার করে। তারা এখন জামিনে মুক্ত।

অপরদিকে অগ্নিসংযোগ, লুট ও উচ্ছেদের ঘটনায় ১৬ নভেম্বর স্বপন মুরমু নামে একজন ৬০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সাঁওতালদের পক্ষে মামলা করেন। এ মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সাঁওতালদের দাবি, তারা স্বপন নামে কাউকে চেনেন না।

২৬ নভেম্বর দুপুরে সাঁওতালদের পক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত থোমাস হেমরম স্থানীয় এমপি, ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩৩ জনের নামোল্লেখসহ অন্তত ৬০০ জনকে অজ্ঞাত পরিচয়ে থানায় এজাহার দাখিল করেন। এটি এখনও তদন্তাধীন।

সংঘর্ষের পর থেকেই সাঁওতাল পরিবারগুলোর কেউ কেউ খামারের পাশে সাঁওতাল পল্লী মাদারপুর গির্জার সামনের মাঠে কলাগাছের পাতা দিয়ে খুপড়ি বানিয়ে, কেউ ত্রাণের তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকের ঠাঁই হয়েছে পরিত্যক্ত বিদ্যালয়ে।

http://www.jugantor.com/online/national/2016/12/12/33682/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%98%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A7%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B6!
Share:

সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশের আগুন: তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশের অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বিষয়ে গাইবান্ধার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
 
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
 
অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তদন্ত করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৮ জানুয়ারি দিন ধার্য্য করেছেন হাইকোর্ট ।
 
এছাড়া গত ২৬ নভেম্বর স্থানীয় সাঁওতাল টমাস হেমব্রমের থানায় করা আবেদনকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
 
পুলিশ সুপারের নীচে নয় এমন কোনো কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। 
 
আদালতে আসকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আবু ওবায়েদুর রহমান। সাঁওতালদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।  
 
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, আদালত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে সুনির্দিষ্টভাবে আগুনের ঘটনাটি তদন্ত করতে বলেছেন।
 
উল্লেখ্য, গত ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীর চিনিকল কর্তৃপক্ষের জমি দখলে নিতে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় গোলাগুলিতে তিন সাঁওতাল নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ৩০ জন।
http://www.jugantor.com/online/national/2016/12/14/33755/
Share:

সাঁওতালদের ওপর হামলা ন্যাকারজনক: কাজী রিয়াজুল হক

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঁওতাল পল্লী পরিদর্শনকালে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সম্পত্তি রক্ষা করার অধিকার রয়েছে সাঁওতালদের। তারাও এদেশের নাগরিক। তাদের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া, সম্পদ লুটপাট, গুলি করে তাদের হত্যার যে ঘটনা ঘটেছে তা ন্যাক্কারজনক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। এ হামলার ঘটনাকে মেনে নেওয়া যায় না।

সাঁওতাল পল্লী পরিদর্শনকালে মাদারপুর গির্জার সামনে সোমবার অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সাঁওতালদের অধিগ্রহণ করা জমি চিনিকল কর্তৃপক্ষ শর্ত ভঙ্গ করে অনেকের নামে লিজ দিয়েছেন। যদি লিজও দিতে হয় তা পাওয়ার অধিকার সাঁওতালদেরও রয়েছে। কিন্তু তাদের তা দেওয়া হয়নি কেন? সাঁওতালদের ওপর হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন সরকার ও সংসদীয় কমিটির কাছে তা উপস্থাপন করা হবে।

এসময় তিনি আদিবাসি সাঁওতালদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাপ-দাদার জমি থেকে আপনাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখন আপনারা জীবন ও জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখনো জীবন রক্ষার্থে আপনারা তীর-ধনুক ও লাঠি হাতে পাহারা দিচ্ছেন। তবে আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।

প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাঁওতালরা আর যাতে কোন হামলা এবং ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার না হয় তা দেখার দায়িত্ব আপনাদের।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আধিবাসী বিষয়ক সংসদীয় কমিটির ককাস কমিটি ও ইউএনডিপি’র ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্থ মাদারপুর ও জয়পুর সাঁওতাল পল্লী ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ সাঁওতালদের খোঁজখবর নেন।

গত ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ও সাঁওতালদের সংঘর্ষ থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। এতে তিন সাঁওতাল নিহত হন, আহত হন অনেকে। পরে পুলিশ-র‌্যাব ওইদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে।

http://bangla.samakal.net/2016/12/12/255535
Share:

সাঁওতাল পল্লীতে আগুন: চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের নির্দেশ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে কারা আগুন লাগিয়েছে এবং এই আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জড়িত কিনা তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই ঘটনা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 
 
এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেয়।
 
একই সঙ্গে স্বপন মুর্মু  ও থমাস হেমব্রমের করা মামলা পিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
 
গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। রংপুর সুগার মিলের ইক্ষু মাড়াইকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়।
 
এই ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-সহ তিনটি বেসরকারি সংঘটন এই রিট আবদেন দায়ের করে। আবেদনের ওপর শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আবু ওবায়দুর রহমান সেতু। তিনি আদালতে বলেন, ৬ নভেম্বর সংঘর্ষের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ ও সচিত্র প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সাঁওতাল পল্লীতে আগুন লাগানোর ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকতে দেখা গেছে। এই ঘটনা পুলিশ দিয়ে তদন্ত করলে সুষ্ঠু তদন্ত হবে না। পরে হাইকোর্ট উপরিউক্ত আদেশ দেয়। 

Share:

সাঁওতালদের উপর হামলা ন্যাকারজনক ঘটনা: কাজী রিয়াজুল হক

প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা ॥ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঁওতাল পল্লী পরিদর্শনকালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সম্পত্তি রক্ষা করার অধিকার রয়েছে সাঁওতালদের। তারাও এদেশের নাগরিক। তাদের উপর হামলা, ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া, সহায় সম্পদ, লুটপাট, গুলি করে তাদের হত্যার যে ঘটনা ঘটেছে তা ন্যাক্কারজনক ও মানবাধিকার লংঘন। এ হামলার ঘটনাকে মেনে নেয়া যায় না। সাঁওতাল পল্লী পরিদর্শন কালে মাদারপুর গির্জার সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সোমবার গোবিন্দগঞ্জের জয়পুর ও মাদারপুর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উপস্থিত সাঁওতাল ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘সাঁওতালদের অধিগ্রহণ করা জমি চিনিকল কর্তৃপক্ষ শর্ত ভঙ্গ করে অনেকের নামে লিজ দিয়েছেন। যদি লিজও দিতে হয় তা পাওয়ার অধিকার সাঁওতালদেরও রয়েছে। কিন্তু তাদেরকে তা দেয়া হয়নি কেন?। সাঁওতালদের উপর হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত করে আমলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন সরকার ও সংসদীয় আদিবাসীদের ককাসের কাছে তা উপস্থাপন করা হবে।
তিনি সাঁওতালদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাপ-দাদার জমি থেকে আপনাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখন আপনারা সকলে জীবন ও জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। এখনো জীবন রক্ষার্থে আপনারা তীর-ধনুক ও লাঠি হাতে পাহাড়া দিচ্ছেন। তবে আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। যারা আইন হাতে তুলে নিয়েছে, একটি ঘটনা ঘটিয়েছে আপনাদের উচ্ছেদ করেছে তাদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিৎ।
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সাঁওতালরা আর যাতে কোন হামলা এবং ভয়ভীতি বা হয়রানীর শিকার না হয় তা দেখার দায়িত্ব আপনাদের।
সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আধিবাসী বিষয়ক সংসদীয় কমিটির ককাস কমিটি ও ইউএনডিপি’র ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্থ মাদারপুর ও জয়পুর সাঁওতাল পল্লী ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ সাঁওতালদের খোঁজ খবর নেন।
সমাবেশ শেষে মাদারপুর গির্জার ভেতরে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পুরুষ ও ৫ নারী সাঁওতালের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা ও তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন প্রতিনিধি দলটি। পরে প্রতিনিধি দলটি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সাথে দেখা করেন। ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, পরিচালক (তদন্ত ও অভিযোগ) শরিফ উদ্দিন, উপ-পরিচালক মো. আশিক, আধিবাসী বিষয়ক সংসদীয় কমিটির ককাস কমিটির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, সংসদ সদস্য টিপু সুলতান, অধ্যাপক মেজবাহ কালাম, একেএম ফজলুল হক ও ইউএনডিপি’র চীফ টেকনিশিয়ান শর্মিলা রাসুল, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তাসরিমা নাসরিন, কমিউনিটি এন্ড মাইরেনেট এ পার্ট শংকর পাল।
এদিকে এর আগে সাঁওতালরা তীর ধুনক ও লাঠি হাতে নিয়ে বাপ-দাদার জমি ফেরত ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি জয়পুর ও মাদারপুর পল্লী প্রদক্ষিণ করে মাদারপুর গির্জার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তারা সমাবেশে অংশ নেয়। 



Share:

গোবিন্দগঞ্জে কাজী রিয়াজুল: সাঁওতালদের ওপর হামলা মেনে নেওয়া যায় না

গাইবান্ধা প্রতিনিধি, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঁওতালপল্লী পরিদর্শনকালে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সম্পত্তি রা করার অধিকার রয়েছে সাঁওতালদের। তারাও এ দেশের নাগরিক। তাদের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া, সহায়সম্পদ, লুটপাট, গুলি করে তাদের হত্যার যে ঘটনা ঘটেছে, তা ন্যক্কারজনক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এ হামলার ঘটনাকে মেনে নেওয়া যায় না। গতকাল সাঁওতালপল্লী পরিদর্শনকালে মাদারপুর গির্জার সামনে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
কাজী রিয়াজুল বলেন, ‘সাঁওতালদের অধিগ্রহণ করা জমি চিনিকল কর্তৃপ শর্ত ভঙ্গ করে অনেকের নামে লিজ দিয়েছে। যদি লিজ দিতেই হয়, তাহলে তা পাওয়ার অধিকার সাঁওতালদেরও রয়েছে। কিন্তু তাদের দেওয়া হয়নি কেন? সাঁওতালদের ওপর হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত করে আমলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন সরকার ও সংসদীয় আদিবাসীদের ককাসের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
এ সময় তিনি সাঁওতালদের উদ্দেশে বলেন, বাপ-দাদার জমি থেকে আপনাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখন আপনারা সকলে জীবন ও জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখনো জীবন রার্থে আপনারা তীর-ধনুক ও লাঠি হাতে পাহারা দিচ্ছেন। তবে আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। যারা আইন হাতে তুলে নিয়েছে, আপনাদের উচ্ছেদ করেছে, তাদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আধিবাসীবিষয়ক সংসদীয় কমিটির ককাস কমিটি ও ইউএনডিপির ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল তিগ্রস্ত মাদারপুর ও জয়পুর সাঁওতালপল্লী ঘুরে দেখেন এবং তিগ্রস্ত সাঁওতালদের খোঁজখবর নেন।
সমাবেশ শেষে মাদারপুর গির্জার ভেতরে তিগ্রস্ত ৫ পুরুষ ও ৫ নারী সাঁওতালের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা ও তাদের স্যাগ্রহণ করে প্রতিনিধি দলটি। পরে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, পরিচালক (তদন্ত ও অভিযোগ) শরিফ উদ্দিন, উপ-পরিচালক মো. আশিক, আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় কমিটির ককাস কমিটির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, সংসদ সদস্য টিপু সুলতান, অধ্যাপক মেজবাহ কালাম, একেএম ফজলুল হক ও ইউএনডিপির চিফ টেকনিশিয়ান শর্মিলা রাসুল, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তাসরিমা নাসরিন প্রমুখ।
এর আগে সাঁওতালরা তীর-ধুনক ও লাঠি হাতে নিয়ে বাপ-দাদার জমি ফেরত ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিােভ মিছিল বের করে। মিছিলটি জয়পুর ও মাদারপুরপল্লী প্রদণি করে মাদারপুর গির্জার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তারা সমাবেশে অংশ নেয়।
http://www.dainikamadershomoy.com/todays-paper/more-news/52965/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%93%E0%A6%AA%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%A8%E0%A6%BE

Share:

সাঁওতালদের ‘বাঙালি দুষ্কৃতিকারী’ সম্বোধন: হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন গাইবান্ধার ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬
সাঁওতালদের ‘বাঙালি দুষ্কৃতিকারী’ বলার জন্য আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আব্দুস সামাদ। একই শব্দের জন্য গাইবান্ধা পুলিশের বিশেষ শাখার সুপারকেও তলব করেছেন হাইকোর্ট। তাকে আগামী ২ জানুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় গুলির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের আদেশে তাদের বাঙালি দুষ্কৃতিকারী বলেছিলেন গাইবান্ধার ডিসি। এ জন্য তাকে হাইকোর্টে তলব করা হয়। গতকাল তিনি হাজির হয়ে হাইকোর্টের কাছে নিঃশর্ত মা চান। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন।
ওই উচ্ছেদের ঘটনায় করা দুটি রিট আবেদনের শুনানিতে গত ৬ ডিসেম্বর গাইবান্ধার ডিসির দেওয়া একটি প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর হাইকোর্ট তাকে তলব করেন। সেদিন আদালতের আদেশে বলা হয়, ‘বাঙালি দুষ্কৃতিকারী’ একটি উন্নাসিক শব্দ। এ ধরনের শব্দ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা ব্যবহার করত। জেলা প্রশাসক ‘আইন অমান্যকারী’ বা অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করতে পারতেন। তা না করে কেন তিনি ‘বাঙালি দুষ্কৃতিকারী’ লিখেছেন, তার ব্যাখ্যা জানা প্রয়োজন।’
সাঁওতালদের পে করা প্রথম মামলার বাদী স্বপন মরমুকেও ১২ ডিসেম্বর আদালতে হাজির করতে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার ও গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী গাইবান্ধার ডিসি গতকাল সকালে হাইকোর্টে উপস্থিত হন। স্বপন মরমুকেও আদালতে নিয়ে আসে স্থানীয় প্রশাসন। ডিসি আদালতকে বলেন, ‘গাইবান্ধা পুলিশের বিশেষ শাখার সুপার যে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন, তাতে ‘বাঙালি দুষ্কৃতিকারী’ শব্দটি ছিল, যা তদন্ত কমিটি গঠনের চিঠিতেও ‘অসাবধানতাবশত’ চলে আসে। এ কারণে আদালতের কাছে নিঃশর্ত মা প্রার্থনা করছি।’ ডিসির বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের বিশেষ শাখার প্রতিবেদনেও ওই শব্দ থাকায় সংশ্লিষ্ট সুপারকে এর পর তলব করেন আদালত। বিষয়টি আগামীকাল ১৪ ডিসেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য রাখা হয়েছে।
http://www.dainikamadershomoy.com/todays-paper/firstpage/53005/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%83%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%BF

Share:

ডিসির পর এবার তলব গাইবান্ধার এসপিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক। মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬
একটি প্রতিবেদনে ‘বাঙালি দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে উল্লেখ করার ঘটনায় হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুস সামাদ। গতকাল তিনি আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে ডিসিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এদিকে একই ধরনের শব্দ ব্যবহার করায় গাইবান্ধার স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) পুলিশ সুপারকে (এসপি) তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ২ জানুয়ারি তাকে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আদালতে ডিসির পক্ষে আইনজীবী নূরুল ইসলাম সুজন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে ৬ ডিসেম্বর গাইবান্ধার জেলা প্রশাসককে তলব করে হাইকোর্ট। জানা গেছে, সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনায় ৩০ নভেম্বর গাইবান্ধার  জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে হামলার ঘটনা সম্পর্কে বলা হয়, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য ও বাঙালি দুষ্কৃতকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যসহ মিল কর্তৃপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। ’ ক্ষমা চেয়ে ডিসির করা আবেদনে জানানো হয়, স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসপির প্রতিবেদনের আলোকে ওই প্রতিবেদন করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসপিকে তলব করে। এর আগে আসকসহ তিনটি সংগঠনের করা এক রিটের শুনানি নিয়ে ১৭ নভেম্বর সাঁওতালদের ধান কাটার সুযোগ দিতে অথবা ধান কেটে সাঁওতালদের বুঝিয়ে দিতে চিনিকল কর্তৃপক্ষসহ বিবাদীদের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাঁওতালদের অবাধে চলাফেরার অধিকার নিশ্চিতে নির্দেশ  দেওয়া হয়। গত ১৬ নভেম্বর আইন ও শালিস  কেন্দ্র (আসক), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করা হয়।
Share:

সাঁওতালদের ওপর নিপীড়নে জনপ্রতিনিধি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন যন্ত্রই স্থানীয় সরকারদলীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালদের ওপর হামলা, অত্যাচার ও নিপীড়ন চালিয়েছে। আমরা এই অত্যাচার-নিপীড়নের তীব্র নিন্দা জানাই।
গতকাল গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লী পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ৯ সদস্যের  পরিদর্শক দলের সঙ্গে আসা বিএনপি রংপুুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আমরা স্বচক্ষে দেখলাম সাঁওতালদের বাড়ি নাই  ঘর নাই খাওয়ার পাতিল পর্যন্ত নাই। অথচ সরকার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করছে। আমাদের দাবি সাঁওতালদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তার জন্য বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি করতে হবে। পুলিশ তদন্ত করলে হবে না। এ ছাড়া প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জেলা বিএনপি সভাপতি আনিছুজ্জামান খান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান মণ্ডল, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
http://www.bd-pratidin.com/first-page/2016/11/19/185904
Share:

সাঁওতালদের ওপর হামলাকারীরা রাজাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত বলেছেন, সাঁওতালদের ওপর যারা হামলা করেছে, আগুন দিয়েছে তারা আলবদর, রাজাকার। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
‘সচেতন নাগরিকবৃন্দ’ এর আয়োজন করে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র নৃ-গোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার করে যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা যখনই ঘটে, সরকার চোখ বন্ধ করে থাকে। নৃ-গোষ্ঠীরা সৎ। এ জন্য তারা তীরের ডগায় বিশেষ কিছু ব্যবহার করেনি। ব্যবহার করলে যারা তীরবিদ্ধ হয়েছে, তারা সবাই মারা যেত। অথচ পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে তিনজনকে হত্যা করেছে। সেখানে সাড়ে পাঁচ হাজার একর জমির মধ্যে সাড়ে চার হাজারই নৃ-গোষ্ঠীদের। সরকারের পক্ষ থেকে সেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। অর্থনৈতিক অঞ্চল করার শর্ত হচ্ছে তিন ফসলি জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে না। কিন্তু তাদের জমিগুলো সবই তিন ফসলি। অর্থনৈতিক অঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক থাকতে হবে। কিন্তু এসব জমির ৫০ কিলোমিটারের মধ্যেও তা নেই। নাব্যতাসহ নদী থাকতে হবে, সেটাও নেই। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কলামিস্ট ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য। সংবাদ সম্মেলনে সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে তিনজন সাঁওতালের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা; এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো; নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, পূর্ণ নিরাপত্তাসহ আবারও তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে বসবাসের পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া; সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সার্বিক দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে; সব মিথ্যা মামলা অনতিবিলম্বে বাতিল করা ইত্যাদি। বক্তারা বলেন, গোবিন্দগঞ্জে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে তিনজন সাঁওতালের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের কাঠগড়ায় আনতে হবে, সর্বোপরি আদিবাসীদের নিরাপত্তা দিতে হবে। অনুষ্ঠানে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
http://www.bd-pratidin.com/first-page/2016/11/20/186143
 

Share:

পুলিশের আগুনে পুড়েছিল সাঁওতালদের বাড়ি: আল জাজিরার ভিডিওতে চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
[ সাঁওতালদের একটি ঘরে আগুন দেয় পুলিশ। আল জাজিরা টিভিতে প্রচারিত ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি। ] 
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে পুলিশ। এরকম একাধিক ছবি ও ভিডিওসহ একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরা।
  গত ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার পুলিশের আগুনে পুড়েছিল গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে ইক্ষু কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতাল মারা যান। গুলিবিদ্ধ হন আরও চারজন। সাঁওতালদের ছোড়া তীরে আহত হন নয় পুলিশ। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে ইক্ষু খামারের জমি থেকে সাঁওতালদের বসতি উচ্ছেদ করে। এ সময় তাদের বসত-ঘরগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ সদস্যরাই এসব বসতিতে আগুন দিয়েছিল বলে প্রথম থেকেই অভিযোগ করে সাঁওতালরা। আল জাজিরায় প্রচারিত সংবাদ ও ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের  সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগাতে দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দাঙ্গা পুলিশের ২০-৩০ সদস্যের একটি দল রাস্তা ধরে সাঁওতালদের বসতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একপর্যায়ে কয়েকটি বাড়ির সামনে পুলিশ সদস্যদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের সঙ্গে সাদা পোশাকধারী দুই পুলিশ সদস্যকেও দেখা গেছে। একজন সাদা পোশাকধারী পুলিশ আগুন লাগায়। তাকে পোশাকধারী এক দাঙ্গা পুলিশ সাহায্য করে। মুহূর্তেই দাউ দাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সেখান থেকে আগুন নিয়ে সাঁওতালদের অন্যান্য ঘরেও তা  দেওয়া হয়। ভিডিওতে একটা পর্যায়ে গোটা পল্লীতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। আর পুলিশের সদস্যরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখছে। তাদের সামনেই ঘরগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়।    হামলার পর থেকেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে শত শত সাঁওতাল পরিবার। ওই পরিবারগুলোর কেউ কেউ খামারের পাশে সাঁওতাল পল্লী মাদারপুর গির্জার সামনের মাঠে কলাগাছের পাতা দিয়ে ছোট্ট ছোট্ট কুঠরি বানিয়ে, আবার কেউ কেউ ত্রাণে পাওয়া তাঁবু টানিয়ে কোনো রকমে ঠাঁই নিয়ে আছেন। অনেকে থাকছেন পরিত্যক্ত স্কুলঘরে খড় বিছিয়ে।
http://www.bd-pratidin.com/first-page/2016/12/13/192076

Share:

Monday, December 12, 2016

সাঁওতালদের গণশুনানি করছে ককাশ

আপডেটঃ ডিসেম্বর ১২, ২০১৬ ১৩:০৩
                                                         [ সাঁওতালরা মাদারপুর গির্জা চত্বরে ] 
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ইক্ষু খামার সংলগ্ন মাদারপুর ও জয়পুর সাঁওতালপল্লি পরিদর্শন করেছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাশের প্রতিনিধিদলও এলাকা পরিদর্শন করছেন।


ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজনদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা জানতে সকাল ১০টায় তারা সাঁওতালপল্লিতে যান। তারা আদিবাসীদের ঘরবাড়ি ঘুরে দেখেন ও তাদের সাথে কথা বলেন। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সংসদের প্রতিনিধিরা সাঁওতালপল্লিতে আসছেন এমন খবরে সকাল থেকে সাঁওতালরা মাদারপুর গির্জা চত্বরে সমবেত হন। প্রতিনিধিদলটি গির্জায় গণশুনানি করছে।
http://www.independent24.tv/details/1523

Share:

Sunday, December 11, 2016

অধিগ্রহণ করা জমি ফেরতের সুযোগ নেই সাঁওতালদের: ডেপুটি স্পিকার

কালের কণ্ঠ অনলাইন , ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ ২২:২২ 
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেছেন, ‘১৯৫৫-৫৬ সালে বাজার মূল্যে সাঁওতাল ও মুসলমানদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করে রংপুর সুগার মিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ৭০ বছর পর সেই জমি কিভাবে নিজেদের দাবি করে ফেরত চায় সাঁওতালরা। অধিগ্রহণ করা জমি কাগজ কলমে ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই সাঁওতালদের। ’
আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের মহিমাগঞ্জ ক্যান-ক্যারিয়ার প্রাঙ্গণে চলতি আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘১৯৫৫-৫৬ সালে মিল কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণের সময় সাঁওতালদের জমি ছিল ৪ থেকে ৫ শতাংশ। আর বাকি জমি ছিল এলাকার মুসলমানদের। সেই সময়ের বাজার মূল্যে এসব জমি অধিগ্রহণ করে মিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সাঁওতালরা যে কারো উস্কানিতে জমি ফিরে পাওয়ার আশায় আন্দোলন শুরু করেছে। সাঁওতালরা যদি কাগজে কলমে দেখাতে পারে এই জমি তাদের, তাহলে অবশ্যই তারা জমি ফেরৎ পাবে। ’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও বিএসএফআইসি ঢাকার পরিচালক (উৎপাদন ও প্রকৌশল) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবর রহমান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক (অতিরিক্ত) রাজস্ব আলহাজ ছামছুল আজম, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ প্রধান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ হোসেন ফকু, গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যাপক আবু তাহের, আখ চাষী কল্যাণ গ্রুপের সভাপতি জিন্নাত আলী প্রধান, রংপুর চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল।
প্রসঙ্গত, রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৯৫৫-৫৬ সালে আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ (বাগদা-কাটা) এলাকায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ১৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে। পরে এসব জমি বাপ-দাদার দাবি করে আন্দোলনে নামে আদিবাসী (সাঁওতাল) সম্প্রদায়ের লোকজন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা ১ জুলাই এই খামারের প্রায় ১০০ একর আবাদী জমিতে ছোট ছোট কুড়ে ঘর নির্মাণ করে। পরে ৬ নভেম্বর পুলিশ পাহারায় রংপুর চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী জমিতে আখ রোপণ করতে গেলে সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৯ পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এরপরেই রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ-র‌্যাব ও স্থানীয় কতিপয় লোকজনের সহায়তায় খামার এলাকায় থাকা শতশত ছোট এক চালা ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
http://www.newspapers71.com/345090/%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A6%A3%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE%20%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%20%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%20%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%3A%20%E0%A6%A1%E0%A7%87%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%BF%20%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0
 
Share:

Tuesday, December 6, 2016

মামলা করায় ‘অবরুদ্ধ’ সাঁওতালরা

০৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩:০৯
আওয়ামী লীগের ওই সংসদ সদস্যের নামে মামলা করায় গ্রাম থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন রংপুর চিনিকলের জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর মাদারপুরে গির্জার মাঠ ও স্কুলে আশ্রয় নিয়ে থাকা সাঁওতালরা।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকল সংলগ্ন গ্রামটিতে শনিবার গিয়ে দেখা যায়, গির্জার সামনের মাঠে কেউ কেউ কলাগাছের পাতা দিয়ে ছোট ছোট কুঠুরি বানিয়ে, আবার কেউবা ত্রাণ হিসেবে পাওয়া তাঁবু টানিয়ে আশ্রয়স্থল বানিয়েছে। অনেকে থাকছেন পরিত্যক্ত স্কুলঘরে খড় বিছিয়ে। 
মাদারপুর গ্রামের বার্নাবাস টুডু বলেন, “মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম দুটি ঘিরে রয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের লোকজন। তাদের কাজ সাঁওতালদের বাইরে যেতে বাধা দেওয়া ও অন্য কাউকে গ্রামে ঢুকতে না দেওয়া। ফলে প্রায় এক মাস ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছি আমরা”।
তিনি জানান, গত সোমবার উত্তরাঞ্চলজুড়ে ‘আদিবাসীদের’ ডাকা প্রতিবাদ সমাবেশের অংশ হিসেবে গাইবান্ধায় মানববন্ধনে অংশ নিতে বাধা ও হুমকির পর থেকে সাঁওতালরা ভয় ও আতঙ্কে রয়েছে।
সাঁওতালদের অভিযোগ, মামলার অভিযোগ থেকে সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের নাম প্রত্যাহারের জন্য নানারকম চাপ দেওয়া হচ্ছে তাদের।
সাঁওতালদের মামলার ওই আবেদন থেকে আওয়ামী লীগের ওই সংসদ সদস্যের নাম প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হতে দেখা যায় গোবিন্দগঞ্জে।
মাদারপুর গ্রামের বাসিন্দা রুমিলা কিসকু বলেন, “আমাদের ওই দিকে (ইক্ষু খামার) যাইতে দেয় না। গত ২৯ দিনেও আমরা ওই দিকে যাইতে পারি নাই। আপনারা আসছেন বলে এইখানে (মাঠের পাশে) দাঁড়াইতে দিছে। না হলে গালি দিয়ে সরাই দিত।”
রুমিলা কিসকু উচ্ছেদের জন‌্য চিনিকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুলিশকেও দায়ী করেন, “পুলিশেরাই আমাদের গুলি করছে। আগুন জ্বালায়া দিছে। যখন আগুন লাগে, তখন আমি এখানে দাঁড়ায়া দেখতেছিলাম। প্রশাসনের লোকেরা এবং পুলিশ প্রথমে আগুন দেয়, পরে গুলি চালায়।”
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
সাঁওতালদের চলাচলে বাধার অভিযোগের বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার বলেন, “চলাচলে কোনো বাধা নেই। এ ধরনের কোনো অভিযোগও আমার জানা নেই।”
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র সরেন বলেন, "গত ২৬ নভেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের পক্ষে থোমাস হেমরম বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় অভিযোগ দাখিলের পর থেকে দৃশ্যপট বদলাতে থাকে। প্রায় প্রতিদিনই অভিযোগ থেকে এমপির নাম প্রত্যাহারের দাবিতে গোবিন্দগঞ্জে এমপির লোকজনরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করার পাশাপাশি সাঁওতালদের হুমকি দিচ্ছে।”



Share:

Sunday, December 4, 2016

সাঁওতালদের ভূমির অধিকারই মূল: জ্যোতির্ময় বড়ুয়া

১৩:৪৭, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৬ 
গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল ও বাঙালি বাড়ির ওপর হামলা ও তাদের ঘর ছাড়া করার অভিযোগের কথা আপনারা এখন সবাই জানেন। একদিকে ঘর, আরেকদিকে সংসারের মালামাল লুট হলো। এসব নিয়ে সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া জরুরি।বাংলা ট্রিবিউন কার্যালয়ে আয়োজত বিশেষ বৈঠকি ‘অধিকার: সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু’ শীর্ষক আলোচনায় ব্যারিস্টারর জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ আন্দোলন মোটেও একা সাঁওতালের না, বাঙালি সাঁওতাল সম্মিলিত আন্দোলন ছিল।কিন্তু এটাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এখনে বাঙালি ও সাঁওতাল এতদিন ধরে মিলিতভাবে কাজটা পারল তাতে বোঝা যায় একসঙ্গে কাজ করা যায়। স্বার্থ যদি থাকে অস্তিত্বের লড়াই। এ লড়াইটাই তারা লড়ছিল। কিন্তু প্রশাসন থেকে শুধু সাঁওতাল বলে চিহ্নিত করলে সংখ্যাগত দিক থেকে দুর্বল অবস্থান তৈরি করা যায়। পুরো আন্দোলন কর্নার করার জন্য সাঁওতালদের সঙ্গে বাঙালিরাও আছে সেটা জানতে দেওয়া হচ্ছে না।
তাদের কোথায় বসতি, কোথায় যাবে, এটা মূল আন্দোলন না। দশ একর জমি দেওয়ার ও প্রস্তাব তাদের দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে কী করবে। কৃষক পরিবার বস্তিতে থাকার অভ্যাস করতে পারবে?
বাংলা ট্রিবিউন আয়োজিত নিয়মিত বৈঠকিতে আলোচনা করছেন অধিকারকর্মী, গবেষক, আইনজীবী থেকে শুরু করে দেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ে যারা নিরন্তর কাজ করছেন তারা। মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে অংশ নিচ্ছেন হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী রুমীন ফারহানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাদেকা হালিম এবং জোবাইদা নাসরীন, আদিবাদী নেতা সঞ্জীব দ্রং ও রবীন্দ্রনাথ সরেন এবং বাংলা ট্রিবিউনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জুলফিকার রাসেল। বৈঠকি চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত।
‘অধিকার: সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু’ শীর্ষক এই বৈঠকি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ৭১ সরাসরি সম্প্রচার করবে বেলা ১১টা ১০ মিনিট থেকে। সরাসরি বৈঠকি দেখতে চোখ রাখুন চ্যানেল ৭১ এর পর্দায় এবং এ সম্পর্কিত সব সংবাদ পড়ুন www.banglatribune.com এ।
/ইউআই/এফএএন/

http://www.listofnews.com/details/10008062/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%93%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%82%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%87-%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2-%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%9F-%E0%A6%AC%E0%A7%9C%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE

Share:

আগে পরে আসা দিয়ে আদিবাসী চিহ্নিত হয় না: জোবাইদা নাসরিন

১২:৫৬, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৬ 
মানুষ একসময় এক জায়গা থেকে আরেক গেছে নিজের প্রয়োজনে, নিজের মতো করে। সেসময় রাষ্ট্রের ধারণা ছিল না, সীমানা ছিল না। তাকে ধীরে ধীরে সীমানায় ধরে ফেলা হয়েছে।
বাংলা ট্রিবিউন কার্যালয়ে আয়োজিত অধিকার সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু বিশেষ বৈঠকিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের জোবাইদা নাসরিন এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আইএল কনভেনশন যখন ঠিক করে দেয়, বৃটিশ শাসনের মধ্যে যেসব দেশ বাস করেছে সেসব দেশের মানুষেদের বাসের নিয়ম ও সময় দিয়ে আদিবাসী বলে চিহ্নিত করে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয়, যে মানুষ সঙ্গে মাটি ও সংস্কৃতিক যে মিল,  তেমনি তুরা পাহাড়ের সঙ্গে পূজার মিল, জুম এবং জীবযাপনের অধিকার আছে।
সাঁওতাল এলাকায় নতুন ঘর করে দেওয়া হবে বলা যাচ্ছে। তার মধ্যে যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে সেটার কি হবে।
জোবাইদা বলেন, এক সাঁওতাল মা বলছেন, আমার ছেলের পা ব্যাথা করলে আমারও পা ব্যাথা করে। সহিংসতার স্মৃতি কিন্তু এমনিতে সেটা নাই হয়ে যায় না। তাকে বিল্ডিং করে দিলেও সে পুরোনো অভিজ্ঞতায় যেতে পারে না। আমি চামকা, আমি নারী, আমি প্রান্তিক হিসেবেইতো আছি। যখন সরকার আদিবাসীও বলতে দিচ্ছে না কিন্তু সহিংসতা ভুলতেও দিচ্ছে না। তখন আমি সেটা রাখবো কোথায়? তখন আমার পরিচয় কি?
বাংলা ট্রিবিউন আয়োজিত নিয়মিত বৈঠকিতে আলোচনা করছেন এর সঙ্গে সম্পৃক্ত অধিকারকর্মী, গবেষক, আইনজীবী থেকে শুরু করে দেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ে যারা নিরন্তর কাজ করছেন তারা। মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে অংশ নিচ্ছেন হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী রুমীন ফারহানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাদেকা হালিম এবং জোবাইদা নাসরীন, আদিবাদী নেতা সঞ্জীব দ্রং ও রবীন্দ্রনাথ সরেন এবং বাংলা ট্রিবিউনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জুলফিকার রাসেল। বৈঠকি চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত।
‘অধিকার: সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু’ শীর্ষক এই বৈঠকি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ৭১ সরাসরি সম্প্রচার করবে বেলা ১১টা ১০ মিনিট থেকে। সরাসরি বৈঠকি দেখতে চোখ রাখুন চ্যানেল ৭১ এর পর্দায় এবং এ সম্পর্কিত সব সংবাদ পড়ুন www.banglatribune.com এ।
/ইউআই/এফএএন/
http://www.banglatribune.com/national/news/162329/%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%80-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%B9%E0%A7%9F-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%9C%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A6%E0%A6%BE

Share:

গোবিন্দগঞ্জে ইক্ষু খামারের জমি ঘিরে মহাপরিকল্পনা

১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ 
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের সেই জমি ঘিরে গ্রিন প্রকল্প করার উদ্যোগ নিয়েছে রংপুর সুগার মিল কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ জমিতে ইকো পার্ক, পাঁচতারা ও চারতারা সমমানের একাধিক মোটেল, বিদেশে রপ্তানির জন্য মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে গুড অ্যাকুয়াকালচার প্র্যাকটিসেস নামের মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে চীনের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের চার প্রকৌশলী গত আগস্টে ইক্ষু খামার এলাকা ঘুরে গেছেন। রংপুর চিনিকলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। রংপুর চিনিকলের আওতায় সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খমারে জমির পরিমাণ এক হাজার ৮৪২ দশমিক ৩০ একর। চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণের শর্ত লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগে স্থানীয় সাঁওতাল সম্প্রদায় ওই জমির মালিকানা দাবি করে আন্দোলন করছে। গত জুলাইয়ে সাঁওতালরা ইক্ষু খামারের জমিতে বসতি গড়ে তোলে। গত ৬ নভেম্বর তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে তিন সাঁওতাল নিহত হয়। সেদিন দুর্বৃত্তরা সাঁওতালদের বাড়িঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেয় এবং তাদের সব মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। উচ্ছেদের পর অসহায় লোকজন পাশের সাঁওতালপল্লীতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আর নতুন করে আখ চাষ শুরুর কথা বলে খামারের জমি কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে ফেলেছে মিল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত মে মাসে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিনিকলের জমি অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত দেখিয়ে সেখানে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের কাছে। পরে অবশ্য গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ জানান যে ওই প্রস্তাব বাতিল হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইক্ষু খামারের জমিতে ইকো পার্ক, মোটেল, মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্ট, পর্যটন এলাকাসহ বহুমুখী প্রকল্পের প্রস্তুতি চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে ৬২৩ কোটি টাকা। পরে এ খরচ আরো বাড়তে পারে। চিনিকল কর্তৃপক্ষ তাদের তত্ত্বাবধানে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
এ বিষয়ে রংপুর চিনিকলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জাহিদ আনসারী কালের কণ্ঠকে জানান, এত দিন জমিগুলো (এক হাজার ৮৪২ দশমিক ৩০ একর) ব্যবহার না করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। পড়ে থাকা জমিতে ইজারাদাররা বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছিল। একই অবস্থা ছিল এ জমিতে থাকা বেশ কিছু পুকুরের ক্ষেত্রে। এখন এসব জমি-পুকুর পরিকল্পনামতো কাজে লাগানো হবে। এরই মধ্যে গুড অ্যাকুয়াকালচার প্র্যাকটিসেস নামের প্রকল্পে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর তত্ত্বাবধানে খামারের ভেতরে পুকুর খনন ও পাড় বর্ধনের কাজ চলছে।
সাঁওতালদের দাবি, চিনিকলের এসব জমি ছিল তাদের পূর্বপুরুষদের। রংপুর চিনিকলের জন্য সাহেবগঞ্জের এক হাজার ৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে ১৯৬২ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের চুক্তি হয়। এর ৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, জমিগুলো শুধু রংপুর চিনিকলের আখ চাষের জন্যই ব্যবহৃত হবে। এ জমিতে আখ চাষ না করা হলে ভবিষ্যতে পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন জমি সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে এবং সরকার মালিকদের কাছে জমি ফিরিয়ে দেবে। মাঝে লোকসানের কারণে সাময়িকভাবে চিনিকলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আর চিনিকল কর্তৃপক্ষ সেখানে আবাদযোগ্য দেড় হাজার একরের পুরোটাই অন্য ব্যক্তিদের কাছে ইজারা দেয়। ইজারারদারা সেখানে ধান, পাট, তামাক, সরিষাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছে। এ ছাড়া খামারের জমিতে অন্তত ১২টি পুকুর খনন করা হয়েছে।
চিনিকল কর্তৃপক্ষ চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করায় জমি ফেরতের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছে সাঁওতালরা।
গত মার্চে গুড অ্যাকুয়াকালচার প্র্যাকটিসেস নামে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন আকরাম হোসেন। তিনি জানান, চিনিকলের গ্রিন প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে খামারের ভেতরে থাকা আট থেকে ১৬ বিঘার বিস্তৃত পুকুর বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের জন্য সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়। প্রকল্প পরিকল্পনা অনুসারে খামারের মধ্যে এ ধরনের পুকুর করা হবে ২৬টি। এসব পুকুরে উৎপাদিত মাছ বিদেশে রপ্তানি করা হবে। স্বাভাবিক কারণে এখানে ফিশ প্রসেসিং প্লান্টও থাকছে। একটা একটা করে প্রজেক্ট বাড়বে। প্রথমে মাছ চাষ, পরে ফিশ ফিড মিল (মাছের খাবারের জন্য) করা হবে। এরপর বসবে ফিশ প্রসেসিং (রপ্তানির জন্য মাছ প্রক্রিয়াকরণ) প্লান্ট।
রংপুর চিনিকলের জেনারেল ম্যানেজার (ফিন্যান্স) নাজমুল হুদা বলেন, চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অবহেলিত এ অঞ্চলটি যাতে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায় সে লক্ষ্যেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখানে চীনের কারিগরি সহায়তায় পুকুরের ওপর দিয়ে কেবল কার থাকবে। নিচে ফলদ গাছ লাগানো হবে বনভূমি আকারে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মনোযোগ আকর্ষণে ও তাদের থাকার সুব্যবস্থার জন্য তারকা মানের মোটেল থাকবে একাধিক। ৬২৩ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অবহেলিত এ অঞ্চলের দুর্নাম ঘুচবে।
জানা গেছে, এরই মধ্যে গুড অ্যাকুয়াকালচার প্র্যাকটিসেস প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন প্রকল্পে সাত কোটি ৭৬ লাখ, ফিশারিজ অপারেশনাল প্রকল্পে এক কোটি ৮৭ লাখ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক তৈরিতে দুই কোটি এবং প্রকল্পের অন্য আনুষঙ্গিক কাজে ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ৬২৩ কোটি টাকার প্রকল্পের বাইরে রয়েছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। এর জন্য সম্ভাব্য বাজেট এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
গুড অ্যাকুয়াকালচার প্র্যাকটিসেস প্রকল্পের মৎস্য কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, ‘এখন আমাদের লক্ষ্য হলো সাঁওতালদের কাজে যুক্ত করা। তাদের বোঝাচ্ছি, এ খামার আসলে তাদের খামার। জমি বড় কথা নয়, খামার রক্ষা করাই বড় কাজ। পুকুর সংস্কারে, ফলদ বাগান, আখের বীজ লাগানোতে, ফসল কাটতে তাদের ধাপে ধাপে যুক্ত করার কাজ চালাচ্ছি। এখন তারা এটি না মানলে বাধ্য হয়ে বাইরের শ্রমিককে কাজে লাগাতে হবে। ’
সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ইক্ষু খামার ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহসভাপতি আদিবাসী নেতা ফিলিমন বাস্কে বলেন, ‘আমরা দেখেছি ওই জমিতে মিলের জন্য ইক্ষুু চাষ না করে ধান ও তামাক চাষ চলছে। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনও মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। মিল চুক্তি ভঙ্গ করেছে। এরপর এখন নতুন করে গ্রিন প্রজেক্ট হচ্ছে। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে তারা আসলে যেকোনো মূল্যে জমি দখল নিতে চাচ্ছে। ইক্ষু চাষ একটা ফন্দি মাত্র। ’
সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ইক্ষু খামার ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটির আহ্বায়ক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া জানান, এখনো গ্রিন প্রজেক্টের কাগজপত্র তিনি হাতে পাননি। তবে এ ধরনের পরিকল্পনা নেওয়ার কথা শুনেছেন।
জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাঁওতাল ও বাঙালিদের ১৮টি গ্রামের এক হাজার ৮৪০ দশমিক ৩০ একর জমি ১৯৬২ সালে অধিগ্রহণ (চুক্তিনামা) করে আখ চাষের জন্য সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তুলেছিল। চুক্তির শর্তে উল্লেখ আছে, এসব জমি অধিগ্রহণ করা হলেও কখনো যদি ওই কাজে জমি ব্যবহার করা না হয়, তাহলে অধিগ্রহণকৃত জমি সরকারের কাছে ফেরত যাবে। পরে সরকার জমি আগের মালিকের কাছে ফেরত দেবে। এখন অর্থের অভাবে যারা চাষাবাদ করতে পারে না, সেই চিনিকল এ মহাপরিকল্পনা (গ্রিন প্রজেক্ট) গ্রহণ করে কিভাবে? আসলে সাঁওতালদের গুলি করে মারা তাদের এ দখলপ্রক্রিয়ার একটি অংশ ছিল মাত্র। আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেব। ’
http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2016/12/01/435630

Share:
Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo