Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Thursday, February 23, 2017

The Santals of Bangladesh Observing The International Mother Language Day, GOGO PẠRSI MÃHÃ



The Santals of Bangladesh Observing The International Mother Language Day, GOGO PẠRSI   MÃHÃ

   *******************************************************************************************
    ****************************************************************************************

Share:

Wednesday, February 1, 2017

সাঁওতালপল্লীতে পুলিশের আগুন: তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর আদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি


  নিজস্ব প্রতিবেদক । ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
 গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কিছু পুলিশ সদস্য সরাসরি জড়িত মর্মে হাইকোর্টে পেশ করা তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর আদেশের জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এই আদেশ দেন। গত সোমবার আদালতে ওই প্রতিবেদন পেশ করেন
গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্লাহ।
এ ব্যাপারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দাখিল করা প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত ৭ ফেব্রুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেছেন।
এদিকে ৬৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোর ঘটনার জন্য স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এবং ঘটনার সময় দায়িত্বরত দুজন পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) ১ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আল জাজিরা টেলিভিশনে সম্প্রচার করা ভিডিও ক্লিপ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু পুলিশ সদস্য এবং ২ জন সিভিল পোশাকধারী ব্যক্তি সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোয় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। আরও কিছু পুলিশ সদস্য কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেননি।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, চামগাড়ি বিল ও কুয়ারমারা নামক স্থানে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে। সাহেবগঞ্জ ও হরিণমারী এলাকায় সন্ধ্যা ৭টার পরে আগুন লাগানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখে বসতি স্থাপনকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে প্রাণ বাঁচানোর জন্য আগুন লাগানোর আগেই তাদের স্থাপনা থেকে প্রায় ৫০০/৬০০ গজ দূরে মাদরপুর ও জয়পুর গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় আশ্রয় নেয় বলে সাক্ষীদের বক্তব্যে সুস্পষ্ট হয়েছে।

তবে কোনো কোনো সাক্ষী তাদের জবানবন্দিতে আগুন লাগানোর ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলেও তাদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পোশাক পরিহিত থাকায় সাঁওতালদের স্থাপনায় তাদের সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঘটনার পর গত ১৪ ডিসেম্বর পুলিশ জড়িত কিনা সে বিষয়ে তদন্তের জন্য গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
http://www.dainikamadershomoy.com/todays-paper/firstpage/61821/%E0%A6%A4%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%93%E0%A6%AA%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A7%AD-%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF
Share:

সাঁওতালপল্লীতে অগ্নিসংযোগ: জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই

গাইবান্ধার সাঁওতালপল্লীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের কিছু সদস্য সরাসরি জড়িত—বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশের একজনসহ তিন পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এলেও তাদের নাম নিশ্চিত করে বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি।
এর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দিন সেখানে কারা কর্তব্যরত ছিলেন সে তালিকা পুলিশের কাছে চাওয়া হয়েছিল। তালিকা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটিকে পুলিশ দেয়নি। এই অসহযোগিতা দুঃখজনকই শুধু নয়, উদ্বেগজনকও। সাঁওতালপল্লীতে অগ্নিসংযোগের ভিডিও ধারণ করা আছে। খতিয়ে দেখলে অগ্নিসংযোগকারীদের পরিচয় অবশ্যই জানা যাবে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পোশাক পরে, ব্যাজ লাগিয়ে যারা এমন জঘন্য অপরাধে জড়াতে পারে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতেই হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি পরবর্তী শুনানির দিনে দুজন বিচারপতির হাইকোর্ট বেঞ্চে উত্থাপন করা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, বিচারিক প্রক্রিয়ায় অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে। আইনের চোখে সবাই সমান। দায়ী পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহির আওতায় আনার সঙ্গে পুলিশের ভাবমূর্তি ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টিও জড়িত। আইনের রক্ষকরাই সংঘবদ্ধভাবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা হুমকির মধ্যে পড়ে। বিপদগ্রস্ত মানুষ তখন আরো বেশি করে বিপন্ন বোধ করে। পুুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা অনেক আগেই তলানিতে পৌঁছেছে। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনসহ অনেক ঘটনায় আইনের রক্ষকদের জড়িত থাকার ঘটনায় মানুষ অসহায় বোধ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুদায়িত্ব কারো কারো জন্য হয়ে উঠেছে অপকর্মের অস্ত্র। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, শ্লীলতাহানি, জমি ও ফ্ল্যাট দখল, গ্রেপ্তার বাণিজ্য—এমন কোনো অপরাধ নেই তারা জড়াচ্ছে না। কনস্টেবল থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। বিষয়টি উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে গেলেও প্রতিরোধব্যবস্থাগুলো সন্তোষজনক নয়। হাতে গোনা কিছু ক্ষেত্রে চাকরিচ্যুতি, তিরস্কার ও সতর্ক করার মতো লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। মনে করা হয়, মামলা গ্রহণ, তদন্ত ও অভিযোগপত্র তৈরির কাজটি নিজেদের দায়িত্বে থাকায় অসৎ সুবিধা নিচ্ছেন পুলিশের অপরাধী সদস্যরা।
এই নৈরাজ্য থেকে বেরোনোর বাস্তবসম্মত পথ করতে হবে। পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন করারও দাবি জানাচ্ছেন অনেকে। তদন্তের নির্দেশ দিলেই চলবে না, সহযোগিতা বাধ্যতামূলক করতে হবে। পুলিশকে কেউ ক্ষমতা বা আর্থিক স্বার্থে ব্যবহার করলে তাদেরও ছাড় দেওয়া যাবে না।

http://www.kalerkantho.com/print-edition/editorial/2017/02/01/458643
Share:

ভাষার মাস: একুশের চেতনা ও মাতৃভাষার ব্যবহার

রিজওয়ানুল ইসলাম | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ
 একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে গিয়ে দেখেছিলাম একটি বর্ণিল প্রাচীরপত্রে লেখা: Love Bangla, use English. শ্রেণিকক্ষের সামনে দেয়ালে লেখা We shall communicate in English. কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হতেই পারে। সেটি মনে করিয়ে দেওয়ার মধ্যেও আপত্তির কিছু দেখছি না। শুধু যে ইংরেজি ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে তা-ই নয়, বাংলাকে ভালোবাসতেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তবে বাংলা ভাষাকে ভালোবাসলেই যে তার সঠিক ব্যবহার করতে পারব—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই| বাংলায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোই তার উদাহরণ। ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের উল্লেখ করে লেখা হতে পারে: ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য তারা (তাঁরা নয়) জীবন দিয়েছেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রায়ই ক্যামব্রিজ লেখা হয়। অর্থনীতির সংবাদে লেখা হয়: প্রথম প্রান্তিকে প্রবাসী আয় কমেছে। ইংরেজি quarter বা চতুর্থাংশের বাংলা হিসেবে প্রান্তিক শব্দটির ব্যবহার এখন প্রচলিত এবং তা নিয়ে কাউকে কোনো প্রশ্ন করতে শুনিনি। অথচ এই দুটি শব্দ সমার্থক, এ কথা কি কেউ বলতে পারবে?
ইংরেজি রেমিট্যান্স শব্দটি বাংলায় লেখা হয় অথবা তার বদলে প্রবাসী আয় শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়। প্রবাসীর পুরো আয়ই রেমিট্যান্স হিসেবে পাঠানো হয় কি? আসলে আমরা বলতে চাই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। হয়তোবা কোনো একসময় রেমিট্যান্স শব্দটিই বাংলা অভিধানে ঢুকে যাবে, যেমনটা হয়েছে চেয়ার, টেবিল এসব শব্দের বেলায়। আর এভাবেই একটি ভাষার বিকাশ ঘটে এবং তার ভান্ডার সমৃদ্ধ হয়। তবে আমার বইয়ের সম্পাদক যখন বলেন, ভাষার ব্যাপারে সতীত্বের প্রয়োজন নেই (যার অর্থ, কিছু ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করতে আপত্তি থাকা উচিত নয়), তখন আমি শঙ্কিত না হয়ে পারি না।
কয়েক বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলাম একজন শিক্ষক-বন্ধুর আমন্ত্রণে। প্রস্তুতি নিয়ে গিয়েছি বাংলায় বক্তৃতা দেওয়ার জন্য, অথবা আংশিকভাবে হলেও বিষয়গুলো বাংলায় ব্যাখ্যা করার জন্য। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের মতামত নিয়ে দেখা গেল যে কেউ বাংলায় প্রশ্নোত্তর লেখার পরিকল্পনা করছে না এবং বাংলায় বক্তৃতার বিশেষ কোনো চাহিদা নেই। অথচ সত্তরের দশকে, যখন আমি সেখানে শিক্ষক ছিলাম, চিত্রটি ছিল ভিন্ন। অনেক ছাত্রছাত্রী বাংলায় প্রশ্নপত্রের উত্তর দিত এবং শিক্ষকেরাও তাঁদের বক্তৃতায় বাংলা ভাষা ব্যবহার করতেন।
কেন এই বিপরীতমুখী প্রবণতা? একুশের চেতনা কি তাহলে ফিকে হয়ে গেছে?
রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে বাঙালি বুকের রক্ত দিয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে উন্মেষ ঘটেছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের, শুরু হয়েছিল স্বাধীনতাসংগ্রামের। একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি নিজেদের জন্য একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলা ভাষার যথাযোগ্য মর্যাদা এবং স্থান নিঃসন্দেহে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কিন্তু ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনে, অর্থাৎ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা কতটা সফল হয়েছি? এ বিষয়ে আমাদের যে কোনো সাফল্য নেই, তা নয়। তবে আমাদের অর্জন কি সন্তুষ্ট হওয়ার মতো? স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র অর্জনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অর্জন করেছি। তা সত্ত্বেও বাংলা ভাষার ব্যবহারকে সর্বজনীন করা এবং ভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ব্যাপারে আমাদের অগ্রগতি কতটা, এ নিয়ে প্রশ্ন করা যায়।
শিক্ষার দিকটিই দেখা যাক। উচ্চশিক্ষায় বাংলার ব্যবহারের প্রধান বাধা হচ্ছে প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই ও সহায়ক পুস্তকের স্বল্পতা। সেটা কাটিয়ে ওঠার জন্য এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করা দরকার ছিল শিক্ষক সম্প্রদায়ের। তার সঙ্গে প্রয়োজন ছিল বিভিন্ন বিষয়ে পরিভাষা প্রণয়নে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে উদ্যোগ। এ বিষয়ে স্বাধীনতা-উত্তরকালে যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নয়। কিন্তু সেখানে প্রয়োজন ছিল ধারাবাহিকতা এবং প্রাথমিক কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেখানেই আমাদের ব্যর্থতা। আর তার ফলে কী হয়েছে? যাঁরা বাংলা ভাষায় লিখছেন, তাঁরাও অনেক সময় ইংরেজি শব্দ মিশিয়ে সৃষ্টি করছেন একটি সংকর ভাষা। তা ছাড়া, নিজেরা বাংলা প্রতিশব্দ সৃষ্টি করতে গিয়ে জন্ম দিচ্ছেন ভুল প্রতিশব্দের। আর একবার কোনো প্রতিশব্দ চালু হয়ে গেলে সেটি ভুল কি শুদ্ধ, তা-ও বিচার করা হচ্ছে না। এই লেখার শুরুতেই সংবাদপত্রের ভাষা থেকে যে উদাহরণগুলো দিয়েছি, তা থেকে পাঠক নিশ্চয় কিছুটা আন্দাজ করতে পারছেন, আমি কী বলতে চাইছি।
শিক্ষা, পাঠ্যপুস্তক ও সংবাদপত্রের মতো আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রগুলোতে বাংলার ব্যবহারের যা অবস্থা তা থেকে অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রগুলোতে কী হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ঢাকা শহরের দোকানপাটে বাংলাতেই প্রায় সব নামফলক (সাইনবোর্ড) টাঙানো থাকত। সময়ের সঙ্গে সে ক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়েছে অনেক; বাংলাকে সরিয়ে এসেছে ইংরেজি, বিশেষ করে শহরের অভিজাত অঞ্চলগুলোতে। আর বাংলায় লিখলেও অনেকগুলোতে দেখা যায় ভুলের ছড়াছড়ি, যা কখনো কখনো হাস্যকর বা আপত্তিকর পর্যায়েও চলে যেতে পারে। বাংলা আমার মাতৃভাষা। সুতরাং আমি ভাবি, বাংলা লেখায় আমার ভুল হবে কেন! ভাষায় দক্ষতা আছে এমন কাউকে লেখাটি দেখিয়ে নিলেই যে ভুল এড়ানো যেতে পারে, সে কথাও আমাদের অনেকের মনে হয় না।
এই লেখায় যে অবস্থা বর্ণনা করা হলো তা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী? প্রথমত, সকল পর্যায়ে চাই আমার ভাষার প্রতি ভালোবাসা এবং অঙ্গীকার। আর সেটা শুধু ফেব্রুয়ারিতে নয়, সব সময়ই। দ্বিতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রয়োজন আরও সক্রিয়তা। এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করব বিভিন্ন বিষয়ে পরিভাষা নির্মাণের জন্য আরও কাজ করা। সে কাজ করতে হবে যত্ন ও নিষ্ঠার সঙ্গে, সম্পৃক্ত করতে হবে শুধু ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের নয়, প্রাসঙ্গিক বিষয়ের পণ্ডিতদেরও। তৃতীয়ত, জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে ভাষা শিক্ষায় শিক্ষকদের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ব্যবহারিক জীবনে তেমনি সংবাদপত্রগুলো ভাষা সঠিকভাবে ব্যবহারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সকল পর্যায়ে প্রয়োজন সদিচ্ছা, সচেতনতা এবং সক্রিয় উদ্যোগ।
রিজওয়ানুল ইসলাম: অর্থনীতিবিদ, ছড়াকার ও গল্পকার।
Share:

একুশের মুহূর্ত: আন্দোলনের তাত্ত্বিক পর্ব যেভাবে শুরু

 
আহমদ রফিক | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার পক্ষে নানা স্তরে লড়াই শুরু হয়েছিল বাহান্নরও বহু আগে থেকে। ভাষা আন্দোলনের বাঁকবদলের মুহূর্তগুলো নিয়ে আমাদের বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন—

পূর্ব বাংলায় ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রতিবাদী প্রকাশ হঠাৎ হাওয়ার আবির্ভাবের মতোই অভাবিত। কেউ এর জন্য প্রস্তুত ছিল না, ভাবনা বা পরিকল্পনা দূরে থাক। এর পূর্বাপর বৈশিষ্ট্য ঘটনার আকস্মিকতা ও প্রতিক্রিয়ার স্বতঃস্ফূর্ততা এবং তাতে অন্তর্নিহিত বাঙালিত্বের ভাষিক জাতীয়তাবোধ। তবে এ কথা ঠিক যে এ আন্দোলন একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধের মতো সশস্ত্র চরিত্রের নয়। বরং এটি ছিল শুরুতে নিরস্ত্র বাঙালি বুদ্ধিজীবীর কলমের লড়াই, পরে ছাত্র বুদ্ধিজীবী ও জনতার সম্মিলিত নিরস্ত্র লড়াই।
সূচনায় এ লড়াই অনেকটা বহুকথিত প্রবাদবাক্যের মতো ‘রাম জন্মাবার আগে রামায়ণ’ রচনার মতো ঘটনা। তাই দেখা যায়, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাস কয়েক আগেই পাকিস্তানের সম্ভাব্য রাষ্ট্রভাষার দাবিতে বিতর্ক ও বাদ-প্রতিবাদ মূলত বিবৃতি, মন্তব্য ও লেখার মাধ্যমে। পাকিস্তানবাদী রাজনৈতিক নেতা এবং পাকিস্তানি ভাবাদর্শের অনুসারী ও সমর্থক বুদ্ধিবৃত্তিক বলয়ের বিশিষ্টজনদের তাঁদের আগ বাড়িয়ে কথাবার্তা রাষ্ট্রভাষাবিষয়ক বিতর্ক ও প্রতিবাদের সূচনা ঘটায়। বাংলার পক্ষে প্রতিক্রিয়াও ঘটে যথারীতি।
এ জাতীয় ঘটনা শুধু যে রাষ্ট্রভাষাবিষয়ক বিতর্ক উসকে দিয়েছে তাই নয়, পূর্ববঙ্গে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং অবশেষে সংগঠিত আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে, ইতিহাস তৈরি করেছে। আর সে ইতিহাসের বাঁকফেরা সন্ধিক্ষণ হিসেবে কিছু ঘটনা তো বিশেষ মর্যাদায় চিহ্নিত হওয়ার যোগ্য। এমনকি এগুলোকে বলা যায় ইতিহাস-সৃষ্টির চালিকাশক্তির অনুঘটক।
ভারতে প্রায় দুই শতকের দীর্ঘ বিদেশি শাসনের অবসান ঘটে রক্তাক্ত ভূরাজনৈতিক বিভাজনের মাধ্যমে। ইতিহাসবিদগণ এ ঘটনাকে চিহ্নিত করেছেন ঐতিহাসিক ‘দক্ষিণ এশিয়া ট্র্যাজেডি’ হিসেবে। পশ্চাৎপদ বাঙালি মুসলমান দেশবিভাগ ও স্বতন্ত্রভুবন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মধ্যে তাদের অর্থনৈতিক ইচ্ছাপূরণের স্বপ্ন দেখেছিল। তাই পাকিস্তানের পক্ষে তাদের এককাট্টা ভোট-সমর্থন। কিন্তু এ ঘটনা নিশ্চিত হতে না হতে দেখা দেয় দুর্যোগের আভাস এবং তা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে।
এ সম্পর্কে দুটো বাঁকফেরা ঘটনা রাষ্ট্রভাষাবিষয়ক প্রতিবাদের জন্ম দেয়, যদিও তা তাত্ত্বিক চরিত্রের। ১৯৪৭ সালের ১৭ মে মুসলিম লীগের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা চৌধুরী খালিকুজ্জামান এক বক্তৃতায় বলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। এ বক্তব্য পূর্ববঙ্গবাসী বাঙালি আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের জন্য যে অশনি সংকেত, তেমন উপলব্ধি অন্তত কিছুসংখ্যক বাঙালি বুদ্ধিজীবী তথা কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকের প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশ পায়।
তখনো দেশবিভাগের কাটাকুটির কাজ বাস্তবে শুরু হয়নি। কলকাতা তখনো অবিভক্ত বঙ্গের রাজধানী। কিন্তু হাওয়ায় ভাসছে দেশবিভাগজনিত অস্থিরতা। এ পরিস্থিতিতে ভাষিক চেতনার আবেগে উদ্দীপ্ত হয়ে লেখক-সাংবাদিক আবদুল হক রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে যুক্তিতথ্য-সহকারে গোটা চার প্রবন্ধ লেখেন। প্রথমটির শিরোনাম ‘বাংলা ভাষাবিষয়ক প্রস্তাব’। এটি ১৯৪৭ সালের জুন মাসে দুই কিস্তিতে দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকায় ছাপা হয়।
একই লেখকের দ্বিতীয় প্রবন্ধ ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ ১৯৪৭ সালের ৩০ জুন দৈনিক আজাদ-এ ছাপা হয়। মাস খানেক পর ইত্তেহাদে-এ প্রকাশিত হয় তাঁর তৃতীয় প্রবন্ধ ‘উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে’। একই সময়ে একই বিষয়ে ইত্তেহাদ-এ তরুণ সাংবাদিক মাহবুব জামাল জাহেদী লেখেন রাষ্ট্রভাষাবিষয়ক প্রস্তাব। উল্লিখিত প্রথম লেখক শুধু বাংলাকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান। দ্বিতীয়জন উর্দুর পাশে বাংলা অর্থাৎ অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার দাবি তুলে ধরেন। এ সময়ে এ বিষয়ে লেখেন আরও কয়েকজন। সংস্কৃতি অঙ্গনে দেখা দেয় চাঞ্চল্য।
আর এতে জ্বালানি যোগ করেন বহুভাষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। আলীগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর পক্ষে অভিমত প্রকাশ করলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের জুলাইয়ে দৈনিক আজাদ-এ প্রবন্ধ লেখেন। শিরোনাম ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা’। এ ছাড়া এ সময় এ কে নুরুল হক, আবদুল মতীন (‘রাষ্ট্রভাষা মতিন’ নন) প্রমুখ বাংলা ভাষার পক্ষে সোচ্চার হন। সাপ্তাহিক মিল্লাত কড়া ভাষায় সম্পাদকীয় লিখে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করে।
অপেক্ষাকৃত ছোট পরিসরে হলেও প্রাক-পাকিস্তান পর্বে এ ঘটনাগুলো পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রভাষাবিষয়ক বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি করে, এমনকি অনুঘটকের ভূমিকাও পালন করে। বাংলা রাষ্ট্রভাষার পক্ষে এ জাতীয় তৎপরতা কারও মতে ‘ভাষা আন্দোলনের আদিপর্ব’, আমরা বলি ‘তাত্ত্বিক পর্ব’, যেহেতু প্রতিবাদ লেখার মাধ্যমে। এসব ঘটনা দ্রুতই রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে সচেতনতা সৃষ্টি করে, পরোক্ষে প্রেরণা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও আন্দোলনের। এ প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় পরবর্তী কয়েক মাসে বিশিষ্টজনের লেখালেখিতে।
আহমদ রফিক: ভাষাসংগ্রামী, কবি ও রবীন্দ্র-গবেষক
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1071805/%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81

Share:

তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন, আদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি: গাইবান্ধায় সাঁওতালপল্লিতে আগুনে জড়িত তিন পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: | প্রিন্ট সংস্করণ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন এবং ওই সময় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য দায়ী বলে বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে। আর আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে দুই পুলিশ ও এক ডিবি সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত বলা হয়েছে। তবে তাঁদের শনাক্ত করা যায়নি।
গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। আদালত ৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রেখেছেন।
আগুন দেওয়ায় পুলিশ সম্পৃক্ত বলে গণমাধ্যমে আসা খবর যুক্ত করে রিট আবেদনকারীদের করা এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেন।
আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত ও এতে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত কি না, তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ২৯ জানুয়ারি গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল দপ্তরে প্রতিবেদনটি জমা দেন, গতকাল তা আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু প্রতিবেদনের মতামত অংশ তুলে ধরে বলেন, আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে দুই পুলিশ ও এক ডিবি সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত বলা হয়েছে। তবে তাঁদের শনাক্ত করা যায়নি।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও আইনজীবী সামিউল আলম সরকার প্রতিবেদনের কপি পাননি বলে জানান। এরপর আদালত সংশ্লিষ্ট শাখাকে প্রতিবেদনের অনুলিপি ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পক্ষগুলোকে সরবরাহ করতে বলেন।
মোতাহার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবেদনের মতামত অংশে দেখা যায়, স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি ও পুলিশ সদস্যের মধ্যে দুজন এবং এক ডিবি সদস্য সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে প্রতিবেদনে তাঁদের নাম আইডেনটিফাই (চিহ্নিত) করা যায়নি। কারণ, তাঁরা হেলমেট পরা ছিলেন। এমনকি ভিডিওটি অনেক দূর থেকে ধারণ করা, তাই তদন্ত কমিটি এটা ডিটেক্ট (নাম শনাক্ত) করতে পারেনি। ওই ঘটনার দিন কারা দায়িত্বে ছিলেন ও তাঁদের তালিকার বিষয়ে এক প্রশ্নে মোতাহার হোসেন বলেন, ওই দিন যাঁরা কর্মরত ছিলেন, তাঁদের তালিকা পুলিশ সুপারের কাছে চাওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় আরেকটি তদন্ত কার্যক্রম চলছিল, ওই তালিকা সেখানে সরবরাহের কারণে তাৎক্ষণিক তা করা যায়নি।
গত বছরের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত ও কয়েকজন সাঁওতাল নিহত হন। এরপর সাঁওতালদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত ১৬ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্রতী সামাজিক কল্যাণ সংস্থা ও অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট একটি রিট করে।
 
Share:

সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশের আগুন দেয়ার বিষয়ে সুপ্রীমকোর্টে শুনানি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লীতে আগুন লাগানোর ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য ও দুইজন (ডিবি) গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যসহ মোট তিনজন জড়িত উল্লেখ করে সুপ্রীমকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনের বিষয়ে মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ঠিক করেছেন আদালত। জীবন বাঁচানোর তাগিদে ওষুধ প্রস্তুতকারী ২০টি কোম্পানির ওষুধ নিয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার অন্যতম আসামি র‌্যাব-১১-এর চাকরিচ্যুত অধিনায়ক তারেক সাঈদ ও পুলিশের এসআই পুর্ণেন্দ্র বালা খালাস চেয়ে আপীল করেছেন হাইকোর্টে। রেন্ট এ কারের চালক খুনের মামলায় চার আসামির ফাঁসি বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে এদের প্রতি অনুকম্পা দেখানোর কোন সুযোগ নেই। মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চগুলো এ আদেশ প্রদান করেছেন।
গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লীতে আগুন লাগানোর ঘটনায় প্রতিবেদন মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদেশের জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষে ও বিপক্ষের সকলকে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদনের কপি দেয়ার জন্যও বলা হয়েছে।
আদালতে মঙ্গলবার সাঁওতালদের পক্ষে ছিলেন- এএম আমিন উদ্দিন ও সামিউল আলম সরকার। অন্যদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে রবিবার সুপ্রীমকোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দাখিল করার পর সোমবার এফিডেভিট আকারে হাইকোর্টে এই প্রতিবেদন দাখিল করেন গাইবান্ধার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শহিদুল্লাহ। প্রতিবেদনের মতামত অংশে বলা হয়েছে, সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন লাগানোর ঘটনার জন্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি এবং ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য দায়ী। এই আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে এক জন পুলিশ সদস্য ও দুই জন ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত।
এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনায় পুলিশ জড়িত কিনা সে বিষয়ে তদন্তের জন্য জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। পাশাপাশি সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহার দুটি সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের ব্যবস্থা করতে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে নির্দেশ দেয়া হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, এ্যাডভোকেট সামিউল আলম সরকার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

তারেক সাঈদ ও এসআই বালার খালাস চেয়ে আপীল
 
মুখ্য বিচারিক হাকিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেদিন দুইজন পুলিশ সদস্য ও একজন ডিবি সদস্য যখন আগুন দিচ্ছিলেন, আরও কিছু পুলিশ সদস্য কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন যারা আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহণ না করলেও তা নেভানোর চেষ্টা করেননি। আর যারা আগুন দিচ্ছিলেন তাদের মাথায় হেলমেট থাকায় এবং অনেক দূর থেকে ঘটনাটি ভিডিও করায় ওই পুলিশ সদস্যদের চেহারা শনাক্ত করতে পারেনি তদন্ত কমিটি। অন্যদিকে ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘ওই দিন ঘটনাস্থল এলাকায় যারা দায়িত্বরত ছিলেন তাদের তালিকা পুলিশ সুপারের কাছে কমিটির পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় আরেকটি তদন্ত যেহেতু কাজ করছিল, ওই তালিকা সেখানে সরবরাহের কারণে এখানে তা করতে পারেনি।’
১৯৬২ সালে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাঁওতাল ও বাঙালীদের ১৮টি গ্রামের ১ হাজার ৮৪০ দশমিক ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করে আখ চাষের জন্য সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তুলেছিল। ওই জমি ইজারা দিয়ে ধান ও তামাক চাষ করে অধিগ্রহণের চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে তার দখল ফিরে পেতে আন্দোলনে নামে সাঁওতালরা। পরে সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে বিরোধপূর্ণ চিনিকলের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে কয়েকশ’ ঘর তুলে বসবাস শুরু করে তারা। গত ৬ নবেম্ব^র চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সময় সাঁওতালদের বাড়িঘরে লুটপাট হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়। ওই ঘটনায় নিহত হন তিন সাঁওতাল, আহত হন অনেকে। সংঘর্ষের পর গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই কল্যাণ চক্রবর্তী ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে সাড়ে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় চার সাঁওতালকে গ্রেফতার করার পর তারা জামিনে মুক্তি পান। অন্যদিকে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুট ও উচ্ছেদের ঘটনায় মুয়ালীপাড়া গ্রামের সমেস মুরমুর ছেলে স্বপন মুরমু গত ১৬ নবেম্বর অজ্ঞাতনামা ৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন; তার মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।দশদিন পর গত ২৬ নবেম্বর সাঁওতালদের পক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত টমাস হেমব্রম বাদী হয়ে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে ৫০০-৬০০ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ দাখিল করেন। এছাড়া হাইকোর্টে দুটি রিট আবেদন হয়।
আইনজীবী সামিউল আলম সরকার জানান, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হয়। এটা নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদপত্রেও লেখালেখি হয়। সেই ভিডিও ফুটেজ আদালতে দাখিল করলে উপরোক্ত আদেশ আসে। এর আগে সাঁওতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা পৃথক রিটের শুনানি নিয়ে সাঁওতালদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা নিশ্চিত করতে ও ধান কাটার সুযোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। প্রসঙ্গ, ৬ নবেম্বর গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতালের মৃত্যু হয়। পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়।
২০ কোম্পানির ওষুধ ॥ জীবন বাঁচানোর তাগিদে ওষুধ প্রস্তুতকারী ২০টি কোম্পানির ওষুধ নিয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। ওইদিন জানা যাবে এই ২০ কোম্পানিতে ওষুধ উৎপাদন হবে কি না। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোঃ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মোঃ আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে আদেশ দেন। পরে আইনজীবী এ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সাঈদ তারেকের আপীল ॥ নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার অন্যতম আসামি র‌্যাব-১১-এর চাকরিচ্যুত অধিনায়ক তারেক সাঈদ ও পুলিশের এসআই পুর্ণেন্দ্র বালা খালাস চেয়ে আপীল করেছেন হাইকোর্টে। সোমবার সন্ধ্যায় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপীল করা হয় বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন তারেকের আইনজীবী আহসান উল্লাহ। এর আগে সোমবার দুপুরে খালাস চেয়ে আপীল করেন এ মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন।
চারজনের মৃত্যুদ- বহাল ॥ রেন্ট এ কারের চালক খুনের মামলায় চার আসামির ফাঁসি বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে এদের প্রতি অনুকম্পা দেখানোর কোন সুযোগ নেই। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহীদুল করিমের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় দেয়। রায়ে আসামি তৈয়ব আলম, আনোয়ার হোসেন, আহমদ শরীফ ও শাহীন ওরফে গড্ডুর ফাঁসির রায় বহাল রাখে হাইকোর্ট। তবে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আরেক আসামি বিল্লাল হোসেন ওরফে সুমনকে খালস দেয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ শুনানি করেন। আসামিপক্ষে ছিলেন এস এম মুক্তার কবির খান।
Share:
Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo