Online Santal Resource Page: the Santals identity, clans, living places, culture,rituals, customs, using of herbal medicine, education, traditions ...etc and present status.

The Santal Resource Page: these are all online published sources

Santal Gãota reaḱ onolko ńam lạgit́ SRP khon thoṛ̣a gõṛ̃o ńamoḱa mente ińaḱ pạtiạu ar kạṭić kurumuṭu...

Monday, February 22, 2016

হতাশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী :মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হলো না

আনোয়ার হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ | আপডেট:


Share:

Thursday, February 18, 2016

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংস্কৃতির সমীক্ষা চলছে

আজিজুল পারভেজ   
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০
 
দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য দেশব্যাপী চলছে সমীক্ষা। এ সমীক্ষা থেকে ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর অবস্থান ও সংখ্যার তথ্য যেমন মিলবে, তেমনি জানা যাবে ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নানামাত্রিক তথ্য। ঢাকায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এই ‘বাংলাদেশের নৃ-ভাষাবৈজ্ঞানিক সমীক্ষা’ পরিচালনা করছে।
একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভের প্রেক্ষাপটে স্থাপিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ২০১০ সালে যাত্রা শুরুর পর এটিই তাদের ব্যাপকভিত্তিক কার্যক্রম। ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী এ ব্যাপারে বলেন, ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের একটি অন্যতম কাজ। এ জন্য বাংলাদেশে কী কী ভাষা রয়েছে, সেসব ভাষায় কী পরিমাণ মানুষ কথা বলে—এই সংক্রান্ত তথ্য জানাটা জরুরি। এসব তথ্য সংগ্রহের জন্যই একটি সমীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। সমীক্ষার তথ্যানুসারে হুমকির মুখে থাকা ভাষা সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ সমীক্ষার আওতায় বাংলাদেশে অবস্থিত সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সম্প্রদায়, বর্ণ পেশাজীবী ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ জন্য এই প্রথমবারের মতো দেশে গ্রামভিত্তিক সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। যেসব গ্রামে ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের বাস রয়েছে, সেখানে চলছে খানা জরিপ। এ জরিপের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী/সম্প্রদায়ের সংখ্যা, পরিচিতি, ভাষা, সংস্কৃতি, উৎসব, হেরিটেজ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেবল তাই নয়, জিপিএস ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে ওই গ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানও চিহ্নিত করা হচ্ছে।
দেশের সমতল অংশে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার গ্রাম চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে এ পর্যন্ত চিহ্নিত হয়েছে প্রায় তিন হাজার ৮০০ গ্রাম। এর বাইরে সারা দেশে প্রায় তিন হাজার গ্রাম পাওয়া গেছে, যেখানে বর্ণ পেশাজীবী কিংবা ধর্মীয় গোষ্ঠী রয়েছে।
সমীক্ষাটি শুরু হয়েছে ২০১৪ সালের জুন মাসে। আগামী জুনের মধ্যে তা শেষ হওয়ার কথা। ১১ জন ভাষা ও নৃবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞের অধীনে ২০ জন ফিল্ড সুপারভাইজার ও ১২০ জন গবেষণা সহকারী মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন।
প্রকল্পের ফেলো হাসিনা বেগম জানান, সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সমীক্ষাটি পরিচালিত হচ্ছে। অনলাইনে ডাটাবেজও তৈরি করা আছে। মাঠপর্যায় থেকে গবেষণা সহকারীরা তথ্য সংযুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে তা কেন্দ্রীয় তথ্য-ব্যাংকে জমা হয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্পর্কে বৈচিত্র্যপূর্ণ নানা তথ্য আসছে। কিন্তু চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, এ সমীক্ষার পর অনেক বিষয়ের ইতিহাসই নতুন করে বিন্যাস করতে হতে পারে।
Source:http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2016/02/16/325437
 
Share:

Wednesday, February 17, 2016

শিশুশিক্ষায় মাতৃভাষা ও আমাদের করণীয় শিশুশিক্ষা

০৩ মার্চ, ২০১৫ ইং 
ড. হিমেল বরকত
শিশুশিক্ষার জন্য সবচেয়ে সঙ্গত, স্বাভাবিক ও কার্যকরী মাধ্যম হলো স্ব-স্ব মাতৃভাষা। এই সত্য শিশুর ভাষাশিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণা দ্বারা আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পাই (এখানে বলে নেয়া প্রয়োজন, বাংলাদেশ একটি বহু ভাষা-অধ্যুষিত দেশ। এখানকার আদিবাসী শিশুদেরও নিজ-নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষাগ্রহণ করা জরুরি। এ প্রসঙ্গটিও বিস্তৃত আলোচনার দাবি রাখে। বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় কেবল বাংলাদেশের বাঙালি শিশুর ভাষাশিক্ষা-সংক্রান্ত), এদেশের সত্তর/আশি ভাগ বাঙালি শিশু গ্রামে বাস করে এবং তাদের ভাষামাধ্যম বাংলা। বাকি ত্রিশ/বিশ ভাগ বাঙালি শিশু রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে বাস করে। এদের ভাষামাধ্যমও বাংলা কিন্তু এদের অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ভুল দৃষ্টিভঙ্গির ফলে এসব শিশুদের ভাষাশিক্ষা যথার্থ পথে বিকশিত হচ্ছে না। শহুরে বাঙালি উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ভেতর শিক্ষামাধ্যম হিসেবে বাংলাকে বাদ দিয়ে ইংরেজি ভাষার প্রতি আসক্তি ক্রমশ বেড়ে চলেছে। মনে রাখতে হবে, ইংরেজি ভাষা শুধু নয়, অন্য একাধিক যেকোনো ভাষায় শিশুর দক্ষতা অর্জন অবশ্যই প্রশংসনীয়, তবে কোনো অবস্থাতেই তার মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে নয়।

আমরা জানি, ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনসূত্রে ইংরেজি ভাষা রাজভাষার মর্যাদা পাওয়ায় সেকালের উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকেই খ্যাতি, ক্ষমতা, অর্থনৈতিক লিপ্সায় ইংরেজি ভাষায় শিক্ষাগ্রহণকে শিরোধার্য করে নিয়েছিল। কিন্তু এই প্রবণতা প্রত্যক্ষ কিছু লাভ যুক্ত করলেও পরিণামে হয়ে উঠেছিল আত্মঘাতী। সেকালের ‘নববাবু’রা ইংরেজিয়ানার দাপটে মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করতে শিখেছিল। বাংলা না-জানাটা তাদের কাছে পরিণত হয়েছিল গর্বের বিষয়ে। উপনিবেশিত মনের এই বিভ্রম উপলব্ধি করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত, লিখেছিলেন— ‘যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যারে ফিরি ঘরে’। রবীন্দ্রনাথও সেই ঔপনিবেশিক কালেই শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন মাতৃভাষাকে। ‘তোতা-কাহিনী’ রচনার মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন ভিন্ন ভাষায় শিক্ষাগ্রহণের পরিণাম আদতে মৃত্যু। শৈশবে ভিন্ন ভাষায় শিক্ষা লাভের ফলে ভাব ও ভাষার প্রকৃত সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে না। এর করুণ পরিণতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধে লিখেছেন— ‘আমাদের বাল্যকালের শিক্ষায় আমরা ভাষার সহিত ভাব পাই না, আবার বয়স হইলে ঠিক তাহার বিপরীত ঘটে, যখন ভাব জুটিতে থাকে তখন ভাষা পাওয়া যায় না।’ ফলে ভাব ও ভাষার সুষম বিকাশের লক্ষ্যে প্রয়োজন শিশুকে তার মাতৃভাষায় যথার্থ শিক্ষিত করে তোলা।

শিক্ষার শুরুতেই শিশুর ভাষামাধ্যম সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন বাবা-মা বা অভিভাবকদের। কেননা, পরিবারের মাধ্যমেই শিশুশিক্ষার সূচনা ঘটে। শিশুর ভাষাশিক্ষা আয়ত্তিকরণ বিষয়ে গবেষকদের মত হলো, অনুকরণের মাধ্যমে শিশুরা ভাষাকে ধাপে-ধাপে রপ্ত করে থাকে। এ কারণে পরিবারের ভেতর বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনেরা কীভাবে ও কী ভাষায় কথা বলছেন, সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকেই শিশুরা আয়ত্ত করে ভাষা ও বাচনিক ভঙ্গি। এমনকি, গৃহপরিচারক/গৃহপরিচারিকার ভাষা থেকেও শিশুরা প্রভাবিত হয়ে থাকে। ফলে, শিশুকে মার্জিত ও প্রমিত বাংলা শেখানোর জন্য গৃহপরিচারক/গৃহপরিচারিকাদের ভাষা-ব্যবহারেও (অন্তত শিশুর সঙ্গে ও শিশুর সামনে) সতর্ক থাকা জরুরি। পাশাপাশি, পরিবারের সদস্যরা প্রচারমাধ্যমে কোন ভাষায় খবর, নাটক, সিনেমা দেখছেন সেটাও শিশুর ভাষাশিক্ষায় প্রভাব বিস্তার করে থাকে। আজকাল শহুরে পরিবারে বিরতিহীন হিন্দি সিরিয়াল দেখার ফলে শিশুদের হরহামেশা হিন্দি-বাংলা মিলিয়ে এক অদ্ভুত ভাষায় কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। অভিভাবকরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই দুর্লক্ষণ থেকে শিশুদের মুক্ত করতে পারেন। একইভাবে, শিশুর শিক্ষা ও খেলার জন্য কোন ভাষার উপকরণ (বই, সিডি, খেলনা ইত্যাদি) কেনা হবে— সে বিষয়েও বাবা-মা সচেতন থাকলে শিশুর ভাষাশিক্ষায়ও তা সহায়ক হবে। আবার, শিশুরা যেহেতু অনুকরণপ্রিয়, তাই বাড়িতে বাবা-মাকে নিয়মিত পড়াশুনা করতে দেখলে শিশুরাও পাঠের প্রতি মনোযোগী হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে বাবা-মা কী ভাষায় বই-পত্রিকা পড়ছেন সেটিও শিশু লক্ষ্য করে। তাই, একটি শিশুর ভাষা-অর্জনের প্রারম্ভ থেকেই বাবা-মা-সহ পরিবারের সকলের শিশুর মাতৃভাষায় শিক্ষা-অর্জনের যথার্থ পরিবেশ সৃষ্টি সম্পর্কে সজাগ থাকা জরুরি। পরিবারের পরই আসে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও শিক্ষকের প্রসঙ্গ। এখন শহুরে বাবা-মা সাড়ে তিন বা চার বছর বয়সেই শিশুকে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে চান। এসব কিন্ডারগার্টেন ও প্রি-স্কুলের শিক্ষকদেরও দায়িত্ব শিক্ষার্থীকে মাতৃভাষায় শিক্ষাগ্রহণের বিবেচনাটিকে অগ্রাধিকার দেয়া। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিশুরা যেকোনো শিক্ষা যত দ্রুত হূদয়াঙ্গম করতে পারবে, অন্য কোনো ভাষাতে তা সম্ভব নয়।

শিশুশিক্ষায় আজকের দিনে আরেকটি শক্তিশালী প্রভাবক— প্রচারমাধ্যম ও প্রযুক্তি। এদেশের শহরগুলোতে খেলার মাঠ ক্রমশ বিরল হয়ে উঠছে। ফলে শহুরে শিশুর বিনোদন গড়ে উঠছে টেলিভিশন, কম্পিউটর, স্মার্টফোন, ভিডিও গেমস, ইন্টারনেট ঘিরে। এই প্রভাবের নেতিবাচকতায় বিচলিত না-হয়ে, একে কীভাবে শিশুশিক্ষায় ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যায় সেদিকেই আমাদের এখন মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। আমরা দেখেছি, কিছুদিন আগে হিন্দি ভাষায় ডাবিংকৃত জাপানি কার্টুন ‘ডোরেমন’-এর কী দুর্দান্ত প্রতাপ! এই কার্টুনের জনপ্রিয়তায় শিশুরা হিন্দি ভাষা রপ্ত করে ফেলেছিল এবং দৈনন্দিন জীবনে সে ভাষার প্রয়োগেও দক্ষ হয়ে উঠেছিল। এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখির চাপে বাংলাদেশ সরকার ডোরেমন প্রচার স্থগিত করেছিল। যদিও বর্তমানে বাংলায় ডাবিং-কৃত ‘ডোরেমন’ প্রচারিত হচ্ছে দেশের একটি টিভি চ্যানেলে। অবশ্য বিশ্বায়নের এই যুগে কোনো কিছু নিষিদ্ধ করে পার পাওয়ার উপায় নেই। ঠিকই কিন্তু ডোরেমনের আদলে তৈরি হয়েছে আরেক কার্টুন। আমার বিবেচনায়, ভিন্ন ভাষার এই আগ্রাসন রোধে নিজেদের মেধা-শক্তি নিয়োজিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমরা দেখেছি, ‘মীনা’ কার্টুনটি বাংলাদেশের শিশুরা সানন্দে গ্রহণ করেছে, যদিও এ কার্টুনে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। ‘টোনাটুনি’র বিভিন্ন বই-সিডিও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে, সবকিছু ছাপিয়ে ‘সিসিমপুর’-এর নিয়মিত প্রযোজনা ও ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা এদেশের শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর সুবাতাস বলে মনে করি। বাংলা ভাষায় ও বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচের আদলে নিত্য নতুন উদ্ভাবনী আনন্দ দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান মন জয় করে নিয়েছে শিশুদের। টেলিভিশনে নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রচার ছাড়াও তারা প্রকাশ করছে শিশুশিক্ষার উপযোগী সিডি, বই, খেলার মাধ্যমে শেখার বিভিন্ন উপকরণ। শিশুর মনস্তত্ত্ব নিয়ে গবেষণার ছাপ এসব প্রকাশনায় সুস্পষ্ট। এদের নির্মিত অনুষ্ঠানগুলোও ছড়া-গান-গল্প-অভিনয়-জাদু সব মিলিয়ে সত্যিই শিশুদের আনন্দরাজ্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এনে দিচ্ছে। সবচে’ বড় কথা, এই আনন্দ উদযাপনের মধ্য দিয়ে শিশুর মাতৃভাষার শিক্ষাও যেমন সম্পন্ন হচ্ছে; তেমনি সম্পন্ন হচ্ছে বর্ণমালা, গণিত, বিজ্ঞান, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, জেন্ডারসমতা, সামাজিক আচরণ, সৃজনশীল ভাবনার প্রয়োজনীয় পাঠগ্রহণ। আমার বিশ্বাস, সিসিমপুরের এই প্রযোজনা বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়মিত প্রচার করা গেলে এবং সিসিমপুরের মতো শিশুশিক্ষামূলক আরো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্ম হলে ভিন্ন ভাষার আগ্রাসন নিয়ে আমাদের আর দুর্ভাবনায় পড়তে হবে না।

এরপর, শিশুশিক্ষা নিয়ে কাজ করছে এমন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়েও বলা প্রয়োজন। বাংলাদেশে শিশুদের নিয়ে বই প্রকাশ করে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু গুটিকয় ব্যতীত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের কাগজ-ছাপা অত্যন্ত নিম্নমানের। তবে, তারচেয়েও ভয়াবহ হলো— অসংখ্য ভুল বানানে সে সব বই প্রতিনিয়ত শিশুর খাদ্য হচ্ছে। শিশুরা শিখছে ভুল বানান, বইপাঠে আগ্রহ হারাচ্ছে মুদ্রণশৈলীর দীনতায়। এসব বইয়ের মান তদারকিতে সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করি। অন্যথায় প্রকাশকদের বাণিজ্যিক প্রলোভনের এই যাত্রা রুদ্ধ হবে না— যার শিকার আমাদের কোমলমতি শিশুরা।

শুরুতেই উল্লেখ করেছিলাম, শিশুরাই আলোকোজ্জ্বল আগামীর নির্মাতা। আগামীতে কেমন হবে আমাদের প্রিয়তম দেশ— তা নির্ধারণ করবে আজকের শিশুরাই। তাই সবার আগে প্রয়োজন এই শিশুদের যথার্থ বিকাশ, প্রকৃত শিক্ষার পথ-নির্মাণ। আমাদের সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও যার-যার অবস্থান থেকে সচেতন সুদৃষ্টিই পারে মাতৃভাষায় শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে সাফল্য বয়ে আনতে। আর সে প্রচেষ্টা এখনই প্রয়োজন, আমাদের স্বার্থেই।

n লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ,

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Source: http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/sub-editorial/2015/03/03/35143.html
 
Share:

শিশুশিক্ষা ও আদিবাসীদের মাতৃভাষা

Share:

সকল ভাষার সমান অধিকার : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতিপাদ্য

আনওয়ারুল ইসলাম রাজু
 “নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা ” ভাষা মানুষের মনের ভাব প্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আর এক্ষত্রে মাতৃভাষা হলো এই উদ্দেশ্য সাধনের সবচেয়ে মাধ্যম। মানুষের জন্ম ও বিকাশের সাথে তার মাতৃভাষার প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। শিশু এই পৃথিবীতে এসে প্রথম যেই ভাষার, যেই ধ্বনির সাথে পরিচিত হয় তা তার মাতৃভাষা হতেই আসে, সবচেয়ে ভালোবাসা আর উষ্ণতা লাভ করে যে মায়ের কাছ থেকে তার ভাষাই তার আপন হয়ে ওঠে অনেক বেশি। বহু ভাষা, বহু জাতি, বহু সংস্কৃতি আর ধর্মে সমৃদ্ধ বৈচিত্রপূর্ণ একটি দেশ, আমাদের এই বাংলাদেশ। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই দেশের পার্বত্য এলাকাসহ সমতল অঞ্চলে মুল জনজাতি ধারা বাঙালির পাশাপাশি বসবাস আরও অন্তত ৪৫টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, যাদের মাতৃভাষা বাংলা নয়। এদের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১.১০ শতাংশ। এদের মধ্যে- চাকমা, মারমা , ত্রিপুরা, মুরং, রাখাইন, গাড়ো, হাজং, খাসিয়া, মণিপুরী, সাঁওতাল, ওরাঁও, মু-া ইত্যাদি প্রধান। এদের প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব মাতৃভাষা ও বিশেষ বৈশিষ্টম-িত নিজস্ব সংস্কৃতি । কিন্তু মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে যে দেশের মানুষ, সেই দেশে বসবাসকারী এসব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষাগুলো আজও যথাযথ মর্যাদা পায়নি। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও চর্চার অভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীয় ভাষাগুলোকে সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে কোচ ও রাজবংশীদের ভাষা বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। প্রায় পুরো বিলুপ্ত হয়ে গেছে কুরুখ ও নাগরি ভাষা। এ অবস্থা শুধু আমাদের দেশেই নয়;সারা পৃথিবী জুড়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীয় ভাষাগুরো আজ চরম হুমকির মখে রয়েছে। ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে প্রতি দুই সপ্তাহে হারিয়ে যাচ্ছে একটি ভাষা। বিলুপ্তপ্রায় এসব ভাষা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেছে ইউনেস্কো। এ ভাষাগুলো চিরদিনের মতো হারিয়ে গেলে তা মানবজাতির জন্য হবে বিপর্যয়কর ও দুর্ভাগ্যজনক। সে বিবেচনায় বাংলাদেশের আদিবাসীদের মাতৃভাষা সংরক্ষণের বিষয়টি অতি দ্রুত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। গবেষকদের মতে আমাদের দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মাতৃভাষায় শিক্ষার অভাব, নিজস্ব বর্ণমালা ও শক্তিশালী সংগঠন না থাকা এবং জনসংখ্যা হ্রাস, সংস্কৃতিচর্চার অভাব ও সমপ্রদায়গুলোর আর্থিক দুরবস্থার কারণে তাদের মাতৃভাষা ক্রমেই কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। এসব ভাষা বাঁচিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তা আলোর মুখ দেখছে না। আদিবাসী বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্মন জনগোষ্ঠীর ‘বর্মন’ ভাষা, মাহাত সমপ্রদায়ের ‘মাহাত’ ভাষা এক রকম বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে তাদের দুটি ভাষা হারিয়ে গেছে, প্রায় মরে যেতে বসেছে পাহাড়িয়া, মুসাহর, কোচ, হাজং, তুরী, বাগদি প্রভৃতি ভাষাসহ অন্তত আরও ১০টি ভাষা।
 জাতিগতভাবে পাংখো, খেয়াং, কুমি আছে প্রান্তিক পর্যায়ে। কোচ সম্প্রদায়ের ভাষা এখন দু-একজন বয়স্ক ছাড়া কেউ জানে না। নতুন প্রজন্ম কথা বলে বাংলা বা চাকমা ভাষায়। উরাও জাতির প্রায় ২ লাখ লোকের মধ্যে বড়জোর ১৫ হাজার লোক নিজেদের ‘কুরখ’ ভাষায় কথা বলতে পারে। বাকিরা কথা বলে সাদ্রী ভাষায়। মাতৃভাষার স্বীকৃতি না থাকায় বাধ্য হয়ে ক্ষুদ্র্র এসব জনগোষ্ঠী ঝুঁকে পড়ছে বাংলা, চাকমা, মারমা কিংবা অন্য ভাষার দিকে। গবেষকদের মতে, আর্থিক দুরবস্থার কারণে আদিবাসী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলো তাদের ভাষা ধরে রাখতে পারছে না। পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোকে উন্নত সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে পূর্বপুরুষের বসতভিটা থেকে নিয়ে আসা হয় অন্য জায়গায়। এতে ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সংস্পর্শে এসে পশ্চাৎপদ জাতির লোকজন ভুলে যাচ্ছে তাদের মায়ের ভাষা।নিজ জাতির বাইরে গেলেই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর বাংলা কিংবা চাকমা-মারমা ভাষায় কথা বলা ছাড়া উপায় থাকে না। যেমন চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা এবং মারমা ও রাখাইনরা একই ভাষায় কথা বলে। সাদ্রী ভাষা ব্যবহার করছে প্রায় ১০টি জনগোষ্ঠী। একইভাবে আরো কয়েকটি সম্প্রদায় আছে যাদের জাতিগত ভিন্নতা থাকলেও মুখের ভাষা এক। কিন্তু চাকমা ও মারমা ছাড়া আর কারো বর্ণমালা নেই। প্রকৃত নিজস্ব বর্ণ আছে চাকমাদের। মারমারা ব্যবহার করে বার্মিজ বর্ণ। নিজস্ব বর্ণমালা না থাকায় অন্য গোষ্ঠীগুলো রোমান বা বাংলা বর্ণে তাদের ভাষা লিখে থাকে।

 ভাষা আন্দোলনের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত এই দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ তাদের তাদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় লেখাপড়ার অধিকার থেকে আজও বঞ্চিত হচ্ছে। আদিবাসী শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের লেখা-পড়া শিখতে হয় সম্পূর্ণ অপরিচিত ভাষা বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় । ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা যখন নতুন ভর্তি হয় তখন তারা যে ভাষা-অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে তা তাদের পরিবার ও সমাজের প্রচলিত ভাষা, যা তার পাঠ্য বইয়ের ভাষা বা পাঠদান মাধ্যম হিসেবে প্রচলিত ভাষা হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যার কারণে আদিবাসী শিশুরা পাঠের বিষয়বস্তুর সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না এবং যে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করার কথা তা করতে পারে না। ফলে পরবর্তী শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হবার পর আরো বেশী অসহায় হয়ে পড়ে। ভাষা সমস্যার কারণে আদিবাসী শিশুদের লেখা-পড়াতো পরের কথা, স্কুলে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে প্রয়োজনীয় ভাবের আদান-প্রদানও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পরে। এক গবেষণা জরিপ রিপোর্টে জানা গেছে, স্কুলে গিয়ে অনেক সময় আদিবাসী শিশুরা প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে যাওয়ার কথাটিও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ঠিকমত বুঝাতে না পেরে শ্রেণিকক্ষেই মলমূত্র ত্যাগ করে ফেলে। মুলত ভাষা বেঁচে থাকে চর্চার মধ্যদিয়ে। যথাযথ চর্চার অভাবে আদিবাসী ভাষাগুলো আজ কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে, পাশাপাশি লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির বিকাশও ব্যাহত হচ্ছে। ভাষা শুধুমাত্র ভাব প্রকাশ মাধ্যমই নয়, বরং ভাষা প্রকাশের বিষয়কে নতুন রূপ দিয়ে অর্থবহ করে তোলে। তাই শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে মাতৃভাষার ভূমিকাই প্রধান। কিন্তু এদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীয় শিশুদের জন্য নেই কোনো মাতৃভাষায় বই-পুস্তক কিংবা তাদের ভাষাভাষী কোন শিক্ষক। অতি সম্প্রতি সরকারি ও বেসরকারিভাবে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। ফলে আদিবাসী শিশুরা নিঃশব্দে বঞ্চিত হচ্ছে মাতৃভাষার দিগন্ত বিস্তারী আলো থেকে।
বাঙালি সমাজের কোমলমতি শিশুরা যখন শিক্ষার শুরুতেই বিদ্যালয়ে আনন্দ-হাসির মধ্যে নিজের মাতৃভাষায় ছড়া কাটছে, নিজের ভাষায় ভাব জমিয়ে বন্ধুত্ব করছে অন্য শিশুদের সঙ্গে তখন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীয় শিশুরা নীরবে, নিস্তব্ধে চোখের জল ফেলে কষ্ট নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয় থেকে। এমন দৃশ্য যেকোনো বিবেকবান মানুষকে নাড়া দেবে। আমাদের দেশে সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ককরার হয়েছে। অথচ মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিশু স্কুলে যায়। যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ মাতৃভাষার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই ঝরে পড়ে। তাই প্রয়োজন নৃগোষ্ঠীর ভাষাগুলো রক্ষার পাশাপাশি শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীয় শিক্ষক নিয়োগ প্রভৃতি। এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগগুলোরও দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। শুধু একুশে ফেব্রুয়ারিতেই নয়, সব সময়ই আমরা চাই- রক্ত দিয়ে মাতৃভাষা বাংলাকে টিকিয়ে রাখার গৌরবময় ইতিহাসের উত্তরাধিকারীদের এ দেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা পড়ুক তাদের চিরচেনা মায়ের ভাষায়। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালির আত্মদানের দিনটি আজ সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মূলত সকল জনগোষ্ঠির মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার কথাই বলে ।
লেখক : সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। উপদেষ্টা সম্পাদক, উত্তরবাংলা ডট কম।
Source: http://www.uttorbangla.com/?p=60886
Share:

Monday, February 15, 2016

আদিবাসী মুক্তি মোর্চার সংবাদ সম্মেলন; সাঁওতাল শিশুদের শিক্ষার জন্য রোমান বর্ণমালায় পাঠ্যপুসত্মক রচনার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষার জন্য রোমান বর্ণমালায় পাঠ্যপুসত্মক রচনাসহ সাত দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে আদিবাসী মুক্তি মোর্চা নামের একটি সংগঠন। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো-বিভাগীয় শহর রাজশাহীসহ সকল জেলা শহরে সাঁওতালি ভাষা একাডেমি স্থাপন, সরকারি উদ্যোগে সাঁওতালি ভাষায় শব্দকোষ ও পুসত্মক রচনার উদ্যোগ গ্রহণ, সাঁওতালি সংস্কৃতি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ, ভাষা উন্নয়নে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, আমর্ত্মজাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের আওতায় আদিবাসী ভাষা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করে ভাষা সংরক্ষণ, ব্যবহার ও বিকাশে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ গঠন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাঁওতাল জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে কোন ভূঁইফোড় জনগোষ্ঠী নয়। এই বঙ্গ ভারতের মাটিতে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর রয়েছে হাজার হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শক্ত শিকড়। এই শিকড়ের ধারাবাহিকতায় সমতল ভূমিতে বসবাসরত সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কালের পরিক্রমায় শাসক ও শোষকগোষ্ঠী সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতিরপরিচয় মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী আদিবাসীদের নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার যে উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেছে তাকে সাদুবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে সাঁওতাল আদিবাসীদের প্রাথমিক পাঠ্য পুসত্মক রচনায় রোমাণ বর্ণমালা ব্যবহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আদিবাসী মুক্তি মোর্চা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক যোগেন্দ্রনাথ সরেন। এসময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়াস ডুমরী, সাঁওতালি ল্যাঙ্গুয়েজ ডেভেলেপমেন্ট কমিটির সভাপতি গাব্রিয়েল হাঁসদা, মাহালে ল্যাঙ্গুয়েজ ডেভেলেপমেন্ট কমিটির সভাপতি মেরিনা হাঁসদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
Share:

সাঁওতালি স্যার নেই?

সাঁওতালি ভাষা শুনে স্যার বলছেন, কী যে বলিস ভাই’ (আবাপ ৪-৩) শিরোনামে সংবাদটি পড়ে দুঃখিত হলাম। শিক্ষার নামে এ কী রকম প্রহসন চলছে! জঙ্গলমহলের স্কুলগুলিতে সাঁওতালি না-জানা শিক্ষকদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হল সাঁওতাল আদিবাসী ছেলেমেয়েদের সাঁওতালি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়ার জন্য।
এ রকম আরেকটি তুঘলকি কাণ্ড চলছে সরকারের ইদানীংকালে গ্রামাঞ্চলে ইংলিশ মিডিয়াম মডেল স্কুলগুলি স্থাপনের মধ্য দিয়ে। গ্রামের ছেলেমেয়েরা এমনিতেই ইংরেজিতে কাঁচা, তার উপর তাদের জন্য ক্লাস সিক্স থেকে ইংলিশ মিডিয়াম মডেল স্কুল চালু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের
অনুন্নত পশ্চিম মেদিনীপুর-বাঁকুড়া-বীরভূম-পুরুলিয়া প্রভৃতি জেলায়। আবার কারা পড়াচ্ছেন এ সব স্কুলে? বাংলা মিডিয়াম স্কুল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা, যাঁদের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ানোর বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা নেই।
যেমন সাঁওতালি ভাষা জানা উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের কি অভাব ছিল? তেমনই ইংলিশ মিডিয়াম থেকে পাশ করা যোগ্য বেকার শিক্ষকদের কি মডেল স্কুলে নিযুক্ত করা যেত না? এ কি সরকারের দলদাসদের পাইয়ে দেওয়ার নীতি?
সুরুচি সরকার। স্কুলডাঙা, বাঁকুড়া-৭২২১০১ 

Source: http://www.banginews.com/web-news?id=9a9de143cde3a9299e9c019aac2943f63ca06d3b 
Share:

আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু বিষয়ে সেমিনার

সিএইচটি টুডে ডট কম ডেস্ক। “আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুকরণ ঃ বর্তমান প্রেক্ষিত ও করণীয়” শীর্ষক জাতীয় সেমিনার আজ বুধবার সকালে দি ডেইলি স্টার ভবনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও কাপেং ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর সহযোগিতায় এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 
 
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফজলে হোসেন বাদশা, এমপি ও সভাপতি, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস। সম্মানিত অতিথিবৃন্দ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. জ্ঞানেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, অতিরিক্ত সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ডা. শামীম ইমাম, পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। 
 আলোচকবৃন্দ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. নারায়ণ চন্দ্র পাল, চেয়ারম্যন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড; প্রিয়জ্যোতি খীসা, যুগ্ম সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়; অধ্যাপক ড. সৌরভ সিকদার, ভাষাতত্ত্ব বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; তপন কুমার দাশ, উপ-পরিচালক, গণ স্বাক্ষরতা অভিযান; ওয়াসিউর রহমান তন্ময়, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, নির্বাহী পরিচালক, জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পল্লব চাকমা, নির্বাহী পরিচালক, কাপেং ফাউন্ডেশন। 
 
 ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা আন্দোলনের সাথে আমি প্রায় ২৪ বছর ধরে জড়িয়ে আছি। বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজ যে প্রকৃত সমাজ সেটা নিয়ে এখনো কিছু মানুষ খুব মেনে নিতে পারেনা। সাঁওতালদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত হয়ে আছে ভেবে মনটা খুব খারাপ লাগে। মাতৃভাষায় শিক্ষা আদিবাসী ছেলেমেয়েদের উচ্চ শিক্ষা অর্জনে সহায়তা করে। আমরা আদিবাসীদের ভাষাকে গলা টিপে ধরার যে চেষ্টা করছি তাতে করে পািকস্তানি ধ্যান ধারনার মিল পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে কি আমরা পাকিস্তানি হয়ে যাচ্ছি। রোমান এবং বাংলা বর্ণমালা’কে পাশাপাশি রেখে সাঁওতালদের জন্য পাঠ্যপুস্তক রচনা করতে হবে, কেননা সাঁওতালদের বাদ দিয়ে আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম খুব বেশী প্রশংসার দাবি রাখবে না। 
 ড. জ্ঞানেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, মালদ্বীপের শিশুরা তাদের মাতৃভাষা জানতো না। বর্তমানে তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে নিজস্ব ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, সকলের নিজের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের অধিকার রয়েছে। আজকে চাকমা’রা সবচেয়ে উন্নত এবং শিক্ষিত। কিন্তু নিজেরাই তাদের মাতৃভাষায় পড়তে লিখতে জানেনা। তাহলে এই উদ্যোগ কতদূর এগুবে সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ হচ্ছে। ‘এমএলই ফোরাম’ এর সদস্যরা সরকারকে যদি আরেকটু চাপে রাখেন তাহলে আমাদের কাজ দ্রুত হবে। শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পরবর্তী ক্লাসের জন্য পুস্তক রচনার কাজ শুরু করা ইত্যাদি বিষয় এখন থেকেই শুরু করতে হবে। সরকারের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান নিজেরা নিজেরা কাজ করে, কিন্তু অর্থ বরাদ্দ শেষ হলে তারা সরকারকে সেটা নিতে বলে। কিন্তু এটা এভাবে সম্ভব হয়না। সরকারকে জানিয়ে করলে সরকার সেটি বিবেচনায় রাখে।<br />
অধ্যাপক ড. নারায়ন চন্দ্র পাল বলেন, এমএলই এবং এনসিটিবি যৌথভাবে কাজ করছে এবং সেটি প্রায় শেষ। ২০১৬ সালে আমরা অবশ্যই আদিবাসী শিশুদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে পারবো। কিন্তু প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় শেষ করার পরে শিশুরা প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হবে। সেটির পুস্তক রচনা করার ব্যাপারটিও এখন থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 
 অধ্যাপক ড.সৌরভ সিকদার বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর মধ্য দিয়ে যে আমাদের গন্তব্য তৈরী হয়েছিল সেদিকে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। প্রাক-প্রাথমিক এর জন্য বই তৈরির কাজও প্রায় শেষ। কোন ভাষায় কত জন শিক্ষক প্রয়োজন সে জন্য শিক্ষদের চাহিদা নিরূপণ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে সমস্যা হতে পারে। তবে সেটি শুরু করতে হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ হয়নি। কোন কোন বিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় মিক্ষা কার্যক্রম হবে সেটিও নির্ধারিত হয়নি। দ্বিতীয় পর্যায়ে সাঁওতালি ভাষা যেন বাদ না যায় তার জন্য এখন থেকে কাজ করতে হবে। একইসাথে দুই বর্ণমালায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু করাটা বিজ্ঞান ভিত্তিক হবেনা। 
 প্রিয়জ্যোতি খীসা বলেন, সরকার খুবই আন্তরিক। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। 
 মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাসদের রাজেকুজ্জামান রতন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মঙ্গল কুমার চাকমা, হ্যাপি দেওয়ান (সেভ দ্যা চিলড্রেন), নিখিল চাকমা (মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন)। মঙ্গল কুমার চাকমা বলেন, বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন ১১টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ভাষার মাতৃভাষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অথচ মথুরা ত্রিপুরার তথ্য মতে এখনো ৫টি ভাষার শিক্ষাও শুরু হয়নি। 
 সভাপতির বক্তব্যে সঞ্জীব দ্রং বলেন, গত ৪/৫ বছর হয়ে গেল আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেভাবে কোন কার্যকর পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করতে পারেনি। আদিবাসীদের অনেকেরই নিজস্ব বর্ণমালা নেই। এখানে বিভিন্ন বর্ণমালাকে ব্যবহার করেই আদিবাসীরা তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা চর্চার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিবে। 
 মূল প্রবন্ধে মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, তিন পার্বত্য জেলা, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল, বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা ও কক্সবাজার, বরগুনা, পটুয়াখালী, রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, বগুড়া, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, শেরপুর, জামালপুর, গাজীপুর, রাজবাড়ি, কুমিল্লা, চাঁদপুর ইত্যাদি অঞ্চলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ আদিবাসী জাতিসমূহের বসবাস এবং তাদের প্রত্যেকের আলাদা ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে। তাঁদের সাক্ষরতার হার সঠিকভাবে জানা যায় না। তবে সাম্প্রতিক জনগণনা জরিপ অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাক্ষরতার হার ৪৩.৯ শতাংশ, যা জাতীয় হার হতে ৭.৯ শতাংশ কম এবং চট্টগ্রাম বিভাগে হার থেকে ৮.৮ শতাংশ কম (জাতীয় হার ৫১.৮% এবং চট্টগ্রাম বিভাগের হার ৫২.৭%)। 
 আমাদের মহান সংবিধানে ‘শিক্ষা’-কে নাগরিকদের জীবন ধারনের মৌলিক উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ১৫) এবং ‘শিক্ষা’-কে সার্বজনীন এবং নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে [অনুচ্ছেদ ১৭(ক)]। এছাড়াও ‘সমাজের প্রয়োজনের সংগে শিক্ষাকে সংগতিপূর্ণ করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’-এর কথাও মহান সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে [অনুচ্ছেদ ১৭(খ)]। আমাদের সংবিধান ‘ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদে বা জন্মস্থানের কারনে .. .. কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিকের কোন রকম অসমতা, বাধ্যবাধকতা বা শর্তের অধীন করা যাবে না বলে বিধিনিষেধ নির্ধারণ করে দিয়েছে [অনুচ্ছেদ ২৮(৩)] । 
 সরকারী বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কৌশলপত্রে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী শিশুদের স্ব স্ব মাতৃভাষার মাধ্যমে গুণগত মৌলিক শিক্ষার অধিকার অর্জনের নানা অভিপ্রায় আমরা দেখতে পাই। ১৯৯৭ সনে সম্পাদিত পাবর্ত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, ১৯৯৭-এ ‘মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা’ [ধারা ৩৩(খ)(২)] দানের কথা বলা হয়েছে। ১৯৯৮ সনে গৃহীত রাঙ্গামাটি ঘোষনাপত্রেও মাতৃভাষার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী শিশুদের শিক্ষাদানের বিষয় উল্লেখ রয়েছে (রাঙ্গামাটি ঘোষনাপত্র, ১৯৯৮; শিক্ষা: ৫৩)। দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্রে (২০০৫) আদিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য তাদের নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের সুযোগ সম্বলিত পাঠ্যসূচী প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ((PRSP ২০০৫, পৃষ্ঠা ১৫২-৫৩) । দ্বিতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’র অধীনে ‘ট্রাইবেল শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার পরিস্থিতি বিশ্লেষন, কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা’ নামে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এ কর্ম পরিকল্পনায় আদিবাসী শিশুদের মধ্যে শিক্ষায় প্রবেশাধিকারের ক্রম-বৃদ্ধি, শিক্ষার মানের উন্নয়ন এবং তাদের মধ্যে শিক্ষার বিস্তরনের জন্য শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে তাদের স্ব স্ব মাতৃভাষার ব্যবহারের গুরুত্বকে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। পার্বত্য জনগোষ্ঠির শিশুরা যাতে নিশ্চিতভাবে শিক্ষা লাভ করতে পারে তার জন্য এটিই প্রথম সরকারী পরিকল্পনা, যেখানে- স্থানীয় ও আদিবাসী ভাষা জানা আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগ, নিয়োগকৃত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দান, প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, পাঠ্যসূচীতে আদিবাসী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সংযুক্ত করা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা এবং নতুন বিদ্যালয় স্থাপন করা, স্কুল ব্যবস্থাপনায় আদিবাসী অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা, স্কুলের পাঠক্রম তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ করা ও স্থানীয় পরিস্থিতির সংগে মানানসই স্কুল পঞ্জিকা প্রচলন । ২০১১ সালে গৃহিত এই কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনায়ও ‘জেন্ডার এন্ড ইনক্লুসিভ এডুকেশন একশন প্লান’ নামে প্রণীত বিশেষ পরিকল্পনায় আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সুনির্দ্দিষ্ট কিছু কর্মসূচী বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও নীতি হিসেবে আদিবাসীসহ সকল ক্ষুদ্রজাতিসত্তার ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো, আদিবাসী শিশুরা যাতে নিজেদের ভাষা(য়) শিখতে পারে সেজন্যে আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগ ও পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা করা এবং পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আদিবাসী জনগোষ্ঠিকে সম্পৃক্ত করা, আদিবাসী এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা, প্রাথমিক স্তরে আদিবাসীসহ সকল জাতিসত্তার জন্যে স্ব স্ব মাতৃভাষা(য়) শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা, যেসব এলাকায় হালকা জনবসতি রয়েছে প্রয়োজন হলে সেসব এলাকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং এলাকার জীবন-জীবিকা ও মৌসুম অনুসারে স্কুলপঞ্জিকা নির্ধারণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে। 
 
আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু করার টার্গেট করা হয়েছিল, কিন্তু না কারণে তা সম্ভব হয়নি। এরপর ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে তা শুরু করার জন্য আবারও টার্গেট করা হয়। কিন্তু এবারও এই উদ্যোগ আলোর মুখ দেখেনি। এখন আমাদের সামনে রয়েছে টার্গেট জানুয়ারি ২০১৬। এবার কিন্তু আমাদের আশাবাদী যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ২৬-২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে জাতীয়ভাবে আয়োজিত কর্মশালার মাধ্যমে ইতোমধ্যে এমএলই ব্রিজিং প্লান প্রণয়ন করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়কালে কয়েক দফায় পাঁচ আদিবাসী ভাষার লেখক-গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত লেখক প্যানেলের মাধ্যমে প্রাক প্রাথমিক পর্যায়ে শিখন শেখানো উপকরণ প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে কেবল প্রণীত উপকরণসমূহের যথার্থতা যাচাই, উপকরণ প্রকাশ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে ছেড়ে দেওয়া বা স্কুল পর্যায়ে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা। সংশ্লিষ্ট সকলে যদি সদিচ্ছা নিয়ে তাঁদের কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রাখেন, তাহলে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হওয়ার কোন কারণ থাকার কথা নয়। 
 তিনি তার প্রবন্ধের শেষে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো: শিক্ষা বাজেটের সুনির্দ্দিষ্ট কিছু অংশ আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ রাখা; ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে আদিবাসী ভাষার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক গঠিত বিভিন্ন কমিটি ও সাব-কমিটির কার্যক্রম জোরদার করা; জনঅংশগ্রহণের ভিত্তিতে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগলিক অবস্থার আলোকে জাতীয়ভাবে গৃহিত আইন, নীতি ও কৌশলের সুপারিশগুলোকে “স্থানীয়করণ” বা স্থানীয় আকাংখার সাথে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা সেভাবে বাস্তবায়ন করা; আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইন ও নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করা; প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার জন্য শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় (অন্তত চুড়ান্তরণের পর্যায়ে) পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত করা; জাতীয়ভাবে একটি ভাষানীতি প্রণয়ন করা, যেখানে বাংলা ভাষার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদিবাসীদের মাতৃভাষার ব্যবহার ও এসব ভাষার উৎকর্ষ সাধনের জন্য করণীয় দিকগুলোও উল্লেখ থাকবে; আদিবাসী ভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ে অব্যাহত গবেষণা পরিচালনার জন্য সরকার কর্তৃক প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা এবং সম্ভব হলে এই কার্য সম্পাদনের জন্য একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান/ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা; সরকারিভাবে শুরু করার ক্ষেত্রে কোন জটিলতা (আর্থিক, জনবল ইত্যাদি) থাকলে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মাধ্যমে পাইলটিং শুরু করা। 
 Source: http://www.chttoday.com/%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%80-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%83%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE/
Share:

আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা ত্বরান্বিত হোক

রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতে আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সেখানে আদিবাসী শিশুরা যাতে নিজেদের ভাষা শিখতে পারে সেই লক্ষ্যে তাদের জন্য আদিবাসী শিক্ষক ও পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণের ব্যাপারে আশান্বিত হয়েছিলেন। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৪ সাল থেকে যে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাদান কর্মসূচি চালু হয়েছে, সেখানে বিভিন্ন ভাষার আদিবাসী শিশুদের শুধু তাদের ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কার্যক্রমও হাতে নিয়েছিল। কিন্তু ২০১৫ পেরিয়ে ২০১৬ সালেও সরকারের সে প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটেনি, যা খুবই হতাশার।
এটা এখন সর্বজন স্বীকৃত যে, মাতৃভাষার মাধ্যমে লেখাপড়া শুরু হওয়াই শিশুর মেধা বিকাশের সবচেয়ে সহায়। শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের পর্যবেক্ষণেও দেখা গেছে, মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের সম্পর্ক প্রত্যক্ষ। অথচ এ দেশে ৪৫টি আদিবাসী গোষ্ঠী ২০ লাখেরও বেশি মানুষ মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের আগে আদিবাসীদের মাতৃভাষার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। পার্বত্য চুক্তির খ খণ্ডের ৩৩ নম্বর ক্রমিকের খ (২) নম্বর উপ-অনুচ্ছেদে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের কথা উল্লেখ থাকায় বাংলা ভিন্ন অন্যান্য ভাষাভাষীর মাতৃৃভাষা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। কিন্তু সেই চুক্তির একযুগের মধ্যেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। গত ২০১০ সালে যে যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়, সেখানে এ দেশের আদিবাসী তথা সরকারি ভাষায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়টি গুরুত্বসহ অন্তর্ভুক্ত হয়। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের শুরুতেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগী হয় প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে আদিবাসীদের জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির। এ বিষয়ে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ২০১২ সালে গঠিত হয় একটি জাতীয় কমিটি। সেই কমিটির সুপারিশে প্রাথমিকভাবে ছয়টি (চাকমা, মারমা, ককবোরক, মান্দি, সাঁওতালি ও সাদরি) ভাষায় পাঠ্যপুস্তক তৈরি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়। এর মাঝে লিপির প্রশ্নে সাঁওতাল সম্প্রদায় এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় সাঁওতালি ভাষায় পাঠ্যপুস্তক তৈরির বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখা হয়। সূচনাবর্ষে (২০১৪ বা ২০১৫) পাঁচটি আদিবাসী ভাষা এবং পরবর্তী বর্ষে আরো কিছু ভাষা এভাবে ক্রমান্বয়ে সম্ভাব্য সব আদিবাসীর মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু সে প্রক্রিয়ায় তেমন কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হচ্ছে না। স্বাভাবিক কারণেই তা আদিবাসীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার করছে। আমরা লক্ষ্য করছি আদিবাসী বিভিন্ন সংগঠন এ দাবিতে ধর্মঘটের মতো কর্মসূচিও পালন করছেন।
উল্লেখ করা দরকার যে, সরকারি উদ্যোগের অনুপস্থিতিতেও কিছু এনজিও এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশের আদিবাসীদের মধ্যে চাকমা, মারমা, মণিপুরী ও ম্রোদের নিজস্ব লিপি আছে, যা দ্বারা পাঠ্যপুস্তক তৈরি করে উন্নয়ন সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সত্যি কথা হলো সরকারি উদ্যোগ ছাড়া বৃহত্তর পরিসরে এই কাজটি সুচারুভাবে করা সম্ভব নয়। এনজিওর এ যাবৎকালের কার্যক্রম সরকারি উদ্যোগে সহয়ক হিসেবে কাজ করারই কথা। পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও শিক্ষানীতির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। এটি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা অনুচিত। ইতোমধ্যে অনেকটা সময়ক্ষেপণ হয়ে গেছে। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্টরা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে এ কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবেন, আমলাতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক কোনো জটিলতা যেন এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক না হয়।

উৎস: http://www.bhorerkagoj.net/print-edition/2016/02/14/75405.php
Share:

আদিবাসীদের স্টল বইমেলায়

নিজস্ব সংবাদদাতা

রাঁচি, ২৫ নভেম্বর, ২০১৫, ০৩:২১:৩০  

জামশেদপুরে বইমেলা। ছবি: পার্থ চক্রবর্তী।
শুধু বাংলা, ইংরাজি, হিন্দি নয় সাওতালি, গুরুমুখি ভাষার বইয়ের স্টলও খুলেছে জামশেদপুর বইমেলায়। জামশেদপুর রবীন্দ্রভবন মাঠে বইমেলা শুরু হয়েছে শনিবার থেকে। চলবে ২৯ তারিখ পর্যন্ত। মেলার সংগঠক জামশেদপুর টেগোর সোসাইটির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক আশিস চৌধুরী জানিয়েছেন, এ বার বইমেলার থিম শান্তি একতা ও ভালবাসা। মোট স্টল থাকবে ২০৫টি। ৭১ জন প্রকাশক মেলায় এসেছেন। মেলার সুরক্ষায় সিসিটিভি, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। বইমেলা ঘিরে শুধু জামশেদপুর নয় আশপাশের জেলার মানুষদেরও খুব উৎসাহ থাকে, জানালেন আশিসবাবু। বইমেলায় অাসা জামশেদপুরের বাঙালি অর্নিবাণ কুণ্ডু বলেন, ‘‘শুধু বড়দের নয়, ছোটদের স্টলগুলোও খুব ভাল। পাঠ্যবই ছাড়া গল্পের বই, কমিকসের ভাল স্টক রয়েছে।’’ মেলায় রয়েছে খাবারেরর স্টলও।
 

 

Share:

ধীরেন্দ্রনাথ বাস্কে : আদিবাসী সমাজের এক বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব

অরুণ চৌধুরী

ধীরেন্দ্রনাথ বাস্কের গত ২১শে ফেব্রুয়ারি জীবনাবসান হয়েছে। তাঁর জন্ম ১৯৩০ সালে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। অবিভক্ত মেদিনীপুরের লালগড়ের ভীমপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। ভীমপুর গ্রামের খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রতিষ্ঠিত হাইস্কুলে তাঁর বাবা শিক্ষকতা করতেন। ধীরেন বাস্কের লেখাপড়া ঐ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পরে সে উচ্চশিক্ষার জন্য আসে শ্রীরামপুর কলেজে। শ্রীরামপুর কলেজ বিখ্যাত খ্রিস্টান মিশনারি উইলিয়াম কেরী মার্শ মেন ওয়ার্ড দ্বারা ১৮১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে খ্রিস্টানদের ধর্মশাস্ত্র পড়ার জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও ছিল। তাছাড়া সাধারণ বিভিন্ন বিষয়েও পড়ানো হতো। খ্রিস্টান ছাত্রদের পড়াশোনার সুযোগ ছিল। ধীরেন বাস্কে সেই হিসাবেই এখানে পড়তে আসে। থাকত ‍হস্টেলে, সেখানে কিছু ছাত্র তাঁর প্রতি অবহেলা ও অত্যাচার করতো। ক্লাসেও তাঁকে এক বেঞ্চে বসতে দিত না। হস্টেলে সমর বসু নামক এক সহপাঠী ছিল। সমর বসুর বাবা শ্রীহট্টের এক চা বাগানের ম্যানেজার ছিলেন। সমর বসু এবং আমি ধীরেন বাস্কেকে প্রথম বেঞ্চে বসার সু‍‌যোগ করে দেই। হস্টেলে ধীরেনের উপর অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে সমর সবসময় ধীরেনের পাশে দাঁড়াত। তখন কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন এঙ্গাস নামে একজন স্কটিশ। আমরা একদিন ধীরেনের উপরে অত্যাচার নিয়ে অধ্যক্ষের কাছে নালিশ করতে বাধ্য হই। হস্টেল সুপার ছিলেন অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ দাস, তাঁর কাছেও আমরা নালিশ করি। যার ফলে, ধীরেনের উপর অত্যাচার বন্ধ হয়। ধীরেন শ্রীরামপুর কলেজ থেকে স্নাতক হয়ে শিক্ষকতার জীবন গ্রহণ করে। কিছুদিন শিক্ষকতা করার পর ধীরেন রাজ্য সরকারের তথ্য বিভাগে চাকরি নেয়। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ তৈরি হলে, ‘পশ্চিমবঙ্গ’ পত্রিকার একটি সাঁওতালি সংস্করণও প্রকাশিত হয়। ধীরেন ঐ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী কল্যাণ বিভাগের উন্নয়ন নিগমের প্রকাশনার দায়িত্ব তাঁর উপর অর্পিত হয়েছিল। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে রাজ্য লোক সংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি পর্ষদের জন্ম হলে, ধীরেন তার অন্যতম সদস্য হয়।

বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সাঁওতাল আকাদেমি প্রতিষ্ঠিত হলে ধীরেনকে তার সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। বামফ্রন্ট সরকারের আদিবাসী কল্যাণমন্ত্রী উপেন কিসকু ছিলেন সভাপতি। ঐ দায়িত্ব পাবার পরে ধীরেন উপেন কিসকুর সহায়তায় নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে সেখানে বিশ্ববিখ্যাত সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতির পণ্ডিত, পি ও, বোডিং-এর যেসব মূল্যবান সংগ্রহ আছে তার ফটোকপি ঐ আকাদেমিতে আনার ব্যবস্থা করে। ঐ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেন অধ্যাপক ড. এন্ডারসন। পরবর্তীকালে রাজ্য সরকার তার কিছু অংশ প্রকাশের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু বামফ্রন্ট সরকারের পরবর্তীকালে সেই কাজ এক বিন্দু অগ্রসর হয়নি। রাজ্য সরকার কর্তৃক সাঁওতালি ভাষা সম্পর্কে যে পবিত্র সরকার কমিশন গঠিত হয়েছিল তারও অন্যতম সদস্য ছিল ধীরেন বাস্কে। সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সারা জীবনব্যাপী ধীরেন বাস্কে গবেষণা করেছেন। সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিহাস, সাঁওতাল গণসংগ্রাম তার অবিস্মরণীয় কীর্তি। তাছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ অধিবাসী সমাজ (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড) সাঁওতালি ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস বঙ্গ সংস্কৃতিতে প্রাক্‌বৈদিক সমাজ, সাঁওতালি মেন কথা আত ভেনতা কথা সাঁওতালি বিন্‌তি, কারাম বিনতি হড় রড় বায়ান তৌদি (সাঁওতালি ব্যাকরণ), সাঁওতাল গণসংগ্রামের নারী সমাজের ভূমিকা। বিয়াল্লিশের আগস্ট আন্দোলনে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী হড় বাপলা সেরেঞ পুঁথি, আদিবাসী রূপকথা প্রভৃতি গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন।

তিনি বীরষা মুণ্ডা পুরস্কার, সাধুরাম চাঁদ মুর্মু পুরস্কার, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন পুরস্কার। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্মানিক ডি-লিট, তাপসী বসু স্মৃতি পুরস্কার, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডি-লিট, রাজ্য সরকারের লোক সংস্কৃতি উৎসব, ২০০৭-সহ বিবিধ সম্মানে তিনি সম্মানিত হয়েছেন।

তিনি তফসিলী সমাজের এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী অনিতা বাস্কে শিক্ষিকা ছিলেন। কয়েকবছর আগে তাঁর স্ত্রী-বিয়োগ হয়। তাদের কোনো সন্তান ছিল না। তাঁরা ঝাড়খন্ডের এক আদিবাসী শিশুকে পুত্রবৎ লালনপালন করেন। তাকে লেখাপড়া শেখান এবং বিয়েও দেন। তার কলকাতার টালিগঞ্জের রানীকুঠির বাড়িতে। বহু আদিবাসী ছেলেরা থেকে পড়াশোনা করতো।

১৯৪৭-৪৮’এ আমরা এক সঙ্গে পড়াশোনা করি। তারপর আমি চলে যাই বঙ্গবাসী কলেজে। ধীরেন শ্রীরামপুর কলেজেই রইলো। সেখান থেকেই বি এ পাস করলো। তারপর তার শিক্ষক জীবন শুরু। সে প্রথমে ভীমপুর হাইস্কুলে পরে বিষ্ণুপুর হাইস্কুলে শিক্ষকতা করে। তারপর সে রাজ্য সরকারের অধীনে চাকরি নেয়। তার চাকরি জীবনের ইতিবৃত্ত আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি।

ছাত্র জীবনে তার সাথে ছাড়াছাড়ি হবার পরেও আমাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। মাঝখানে কিছুদিন বাদ দিলেও সেই যোগাযোগ স্থাপিত হয় সত্তরের দশকের মাঝামাঝি। সে তখন সাঁওতাল গণসংগ্রামের ইতিহাস রচনা করে। তা দেখে তাকে আমি চিঠি লিখি। সে উত্তর দেয়। এভাবেই আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ঝালাই হয়।

১৯৭৭ সালে রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো। শ্রদ্ধেয় সুধীপ্রধানের উদ্যোগে রাজ্য সরকার গড়লো রাজ্য লোকসংস্কৃতি পর্ষদ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তখন তথ্যমন্ত্রী। আমাকে ঐ পর্ষদের সদস্য করা হলো। সদস্য তালিকায় দেখলাম ধীরেন্দ্রনাথ বাস্কের নামও আছে। উভয়ে ফের দেখা হলো। এর পরবর্তীকালে রাজ্য লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপিত হয়। ধীরেন্দ্র বাস্কে তারও সদস্য হয়। আমিও সেই কেন্দ্রের অন্যতম সদস্য ছিলাম। সেজন্য বিভিন্ন সভায় ও অনুষ্ঠানে দেখা হতো।

আমরা সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মরণে ১৯৮০ সালে সিউড়িতে সিধু কানু উপজাতি সংস্কৃতি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করি। ঐ সংস্কৃতি কেন্দ্র পরবর্তীকালে সিধু কানু সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হিসাবে পরিণত হয়। সিউড়ির পুরানো সার্কিট হাউসে ঐ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসু। ১৯৮০ সালের ৩০শে জুন ঐ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতিবছর ৩০শে জুন ও ১লা জুলাই ঐ কেন্দ্রে ‘হুল দিবস’ উদ্‌যাপিত হয়। নব্বইয়ের দশকে হুল দিবসের অনুষ্ঠানে ধীরেন্দ্র বাস্কে উদ্বোধক হিসাবে সস্ত্রীক সিউড়ি আসে। ১৯৯৫ সালে ধীরেন সিধু কানুর জন্মস্থান দেখার জন্য আমার সহযাত্রী হয়। ঐ যাত্রায় আমরা সস্ত্রীক যাই। প্রথম যাই পাকুড়ে। সাঁওতাল বিদ্রোহের কাহিনীর প্রথম ভারতীয় রচয়িতা প্রয়াত দিগম্বর চক্রবর্তীর বাড়িতে আমরা অতিথি হই। সেখান থেকে আমরা ভগনাডিহিও পাঁচকেঠিয়ায় যাই। ফেরার পথে আমরা আমবাড়ি ও পাড়ের কোলা হয়ে সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত মহেশপুরে আসি। আমবাড়িতে পুরানো ভুঁইয়া রাজাদের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ আছে। আছে বিস্তীর্ণ আমবাগান। পাড়েরকোলায় সাঁওতাল বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক শ্যামপরগনায়েতের বাড়ি তার কয়েকবিঘাব্যাপী দুর্গের মতো খড়ের বাড়ি।। ঐ বাড়িতেই শ্যামপরগনায়েত ব্রিটিশ বাহিনীর হাতে গুলি বিদ্ধ হয়ে নিহত হন। শ্যামপরগনায়েতের গুলিবিদ্ধ বিপুল বপু দেখে বীরভূমের তদানীন্তন কালেক্টর ইডেন স্তম্ভিত হয়েছিলেন। ইডেন তার হাতের বন্দুক নামিয়ে রেখে শ্যামপরগনায়েতকে সেলাম জানান।

সাঁওতাল বিদ্রোহের সময়ে বর্তমান সাঁওতালদের সমস্ত বাড়িঘর ভস্মীভূত বা ধূলিসাৎ করা হয়। কিন্তু শ্যামপরগনায়ে‌তের ঘরবাড়ি পোড়াতে বাধা দেন ইডেন। যার ফলে সেই ঘরবাড়ি এখনও বলবৎ আছে। তাই, সেদিনের একমাত্র স্মারক।

স্ত্রী-বিয়োগের পরে ধীরেন মনবেদনায় লেখাজোকা ছেড়ে দেয়। তারপর লেখাজোকা করার জন্য তাকে বহুবার বলি। এরপর তার আবার লেখাজোকা শুরু হয়। দেশহিতৈষীতে ‘কলিকাতার সাঁওতাল সমাজ’ নামক এক মূল্যবান প্রবন্ধ লেখে।

ধীরেনের কলম থেমে গেল। আর কোনোদিন তাঁর দ্বারা লেখা হবে না। কিন্তু তাঁর পাণ্ডুলিপি রইলো। রইলো বহুসংগ্রহ। কিভাবে সেগুলি রক্ষিত হবে, তা আমাদের ভাবা দরকার।

ধীরেন প্রত্যক্ষ রাজনীতি কখনও করেনি। সে ছিল উদারমনা একজন গণতান্ত্রিক মানুষ। জঙ্গলমহলের রক্তাক্ত ঘটনায় সে ব্যথিত হয়। প্রচারের প্রভাবে সে বামফ্রন্ট সরকারের প্রতি বীতরাগও হয়। তারপর আবার বামফ্রন্ট সরকারের প্রতি তার বিশ্বাস ফিরে আসে। ঐ নিয়ে শেষ জীবনে আমার সাথে নিয়মিত কথাবার্তা হতো। ২০১০ সালে আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কলকাতার এস এস কে এম হাসপাতালে একমাস শয্যাশায়ী থাকার সময় সে আমাকে দেখতে আসে। সেই শেষ দেখা। ২০১১ সালের নির্বাচনের পরে রাজ্য লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটে। ধীরেন ও আমি উভয়েই সদস্যপদ ত্যাগ করি। তাই, সেখানকার দেখা সাক্ষাতেরও সু‍‌যোগ রইলো না। তার মতো একজন উদারমনা গণতান্ত্রিক মানুষের বিয়োগব্যথায় মনে লাগছে। তাঁর স্মৃতির প্রতি আমার শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তাঁর মতো ভারতের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া সমাজের একজন বিদগ্ধ মানুষ বিরল।

 Source: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=52584

Share:

Jauna Murmu Adivasi Sprinter from Odisha bagged Two Gold Medal in 12th South Asian Games-2016

Among the many one Adivasi sprinter Jauna Murmu from Mayurbhanj district of Odisha leading the Adivasi in athletic. Jauna Murmu bagged gold medal in women’s 400m hurdles at the ongoing 12th South Asian Games-2016, in Guwahati on February 11, 2016. Later, on the same day Jauna along with Ashwani Akunj, Sini Jose and Poovamma won Gold Medal in 1600m relay in athletics.

In women's 400m hurdles Jauna Murmu finished ahead of former Asian champion Ashwini Akkunji for the gold medal. Jauna delivered her best timing after 2010 as she clocked 57.69 secs for the gold, while Ashwini clocked 58.92 for the silver ahead of Sri Lankan Kawshalya (59.87s).

Jauna has multiple International and national achievements:
International
  • Finished 4th in 400m hurdles in 2010 Asian Games held in Guangzhou, China.
  • Won one gold medal in women’s 400 metre hurdles event, clocking 57.39 seconds and claimed one bronze in 400 metres sprint with a timing of 53.17 seconds in the 3rd Asian All Star Athletics Meet, which concluded at New Delhi on July 30, 2010.
National

Won the silver medal in women's 400m event of the National Inter-State Senior Athletics Championship, clocking 52.78 seconds at Patiala, Punjab on August 6, 2010.

Share:

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি না দিয়ে ভুল করেছি: বিমানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৪


আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বইটির নাম ‘পার্লামেন্টারি ককাস অন ইনডিজিনিয়াস পিপলস: অ্যা জেনেসিস অব পার্লামেন্টারি অ্যাডভোকেসি ইন বাংলাদেশ’। বইটি সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক মেজবাহ কামাল।

বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘স্বাধীনতার উষালগ্নে আমরা আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি না দিয়ে ভুল করেছি। সেই ভুল যেন আর না করি। শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে হতাশা বিরাজ করছে। এভাবে চললে বিক্ষোভ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ তৈরি হতে পারে। দেশের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হবে বলে নিরাপত্তার চশমা দিয়ে আদিবাসী সমস্যাকে দেখলে ভুল করা হয়।’
মেজবাহ কামাল বলেন, ‘পাঞ্জাবিরা যেমন আমাদের বাঙালিত্ব হরণ করতে চেয়েছিল, তেমনি আমরা আদিবাসীদের জোর করে বাঙালি বানানোর চেষ্টা করছি। এ জন্য আমাদের সংবিধানে তাদের জায়গা নেই। তারা আবার সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করেছে।’
সাংসদ মৃণাল কান্তি দাসের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাংসদ কাজী রোজী, সাবেক সাংসদ রওশন জাহান সাথী ও আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং।
Source: http://m.prothom-alo.com/bangladesh/article/398101
Share:
Copyright © The Santal Resources Page | Powered by Blogger Theme by Ronangelo